ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা

ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা এখন খুব সহজ। আপনার কোনো টাকা ছাড়াই প্রফেশনাল ব্লগিং শুরু করতে পারবেন। গুগলের ফ্রি Blogger প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিনিটেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
তাই এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আজই শুরু করুন ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রথম যাত্রা।

ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি
গুগল ব্লগার এ ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ। যে কেউ বর্তমানে ব্লগারে ওয়েবসাইট খুলতে পারে। কিন্তু ওয়েবসাইট খুললেই কি ইনকাম শুরু হলো? না বিষয়টি তেমন না। এই ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে ইনকাম করতে হলে অনেকগুলো বিষয় শিখতে হবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যা কিছু জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা

ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে আপনাকে আপনার ইমেইলের পাসওয়ার্ডটি মনে রাখতে হবে। কারণ আমরা একটি ইমেইলের সাহায্যে ফ্রিতে ব্লগার একাউন্ট তৈরি করব। আপনারা অনেকে রয়েছেন যারা মোবাইলে বা পিসিতে ইমেইল ব্যবহার করেন কিন্তু ইমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে যান। 

আপনি যদি আপনার ইমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়ে থাকেন তাহলে নতুন একটি ইমেইল খুলে ব্লগার একাউন্ট খুলবেন। এছাড়া ভুলে যাওয়া ইমেইলের পাসওয়ার্ড রিসেট করে সেই ইমেইলেটি ব্যবহার করুন।

ওয়েবসাইট কয়ভাবে খোলা যায়?

ওয়েবসাইট সাধারণত ৬ ভাবে তৈরি করা যায়।

যেমনঃ
  • Google blogger
  • Wordprerss
  • Weebly
  • Wix.com
  • Webstarts.ai
  • Squarespace
এই কয়টা মাধ্যম দিয়ে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন শুধুমাত্র গুগল ব্লগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস খুবই জনপ্রিয় দুইটি মাধ্যম ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য। অন্য যে মাধ্যমগুলো রয়েছে সে মাধ্যমগুলো দিয়ে কেউ ওয়েবসাইট তৈরি করে না অর্থাৎ এগুলো ভ্যালুলেছ।

ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না। এবং ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই আপনারা যারা একদম নতুন ব্লগিং করে ইনকাম করতে চাচ্ছেন এবং ব্লগিং শিখতে চাচ্ছেন তারা সর্বপ্রথম গুগলের ব্লগে অ্যাকাউন্ট খুলে প্র্যাকটিস করবেন।

মনে রাখবেন আপনি যদি গুগল ব্লগার এড়িয়ে গিয়ে প্রথম অবস্থায় ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করেন তাহলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এজন্য আপনাকে সর্বপ্রথম ব্লগারে ব্লগিং শিখতে হবে। আপনি কিভাবে ব্লগার এটুজেড শিখতে পারবেন তা আমি স্টেপ বাই স্টেপ আপনাদের ফ্রি কোর্সের মাধ্যমে শেখাবো।

ব্লগারের ফ্রী কোর্সটি শেষ হয়ে গেলে তারপর আমি আপনাদের ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রী কোর্স শেখাবো। কোন কিছু শিখতে গেলে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়।

যেমনঃ

আমরা যখন পড়াশোনা করি তখন ক্লাস ওয়ানে আগে ভর্তি হই, তারপর ক্লাস টুতে, তারপর ক্লাস থ্রিতে এভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আমরা বেশি পড়াশোনার দিকে এগিয়ে যাই।

ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে আপনাকে বেসিক থেকে শিখতে হবে। আপনার বেসিক যদি ক্লিয়ার না থাকে তাহলে আপনি অ্যাডভান্স লেভেলের কাজগুলো বুঝতে পারবেন না।

ব্লগার ভালো না ওয়ার্ডপ্রেস ভালো?

ইনকাম করার জন্য ব্লগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস দুইটাই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। তবে যারা একটু এডভান্স তারা সাধারণত ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে। আপনারা যেহেতু এডভান্স না সেহেতু প্রথমে ব্লগার ব্যবহার করবেন। কারণ ব্লগার এ টাকা খরচ হয় না। ব্লগারের শুধুমাত্র একটি ডোমেইন কেনার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করতে হলে আপনাকে হোস্টিং এবং কাস্টম ডোমেইন দুইটাই কিনতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে।

ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে আপনাকে আরো কয়েকটি বিষয় জানতে হবে। 

যেমনঃ
  • হোস্টিং কি?
  • ডোমেইন কি?
    • কাস্টম ডোমেইন কি?
  • ব্যান্ডউইথ কি?
  • ফাইল সার্ভার কি?
  • নিশ কি এবং কত প্রকার?
  • ওয়েবসাইট কত ধরনের হতে পারে?
ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে উপরের এই বেসিক বিষয়গুলো আমাদের জেনে নিতে হবে। তাহলে চলুন আমরা এখন এই বেসিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

১) হোস্টিং কি?

হোস্টিংঃ হোস্টিং হচ্ছে একটি জায়গা যে জায়গায় আপনার ওয়েবসাইটে আপলোড করা সকল ফাইলপত্র সংরক্ষণ করা থাকবে। গুগল ব্লগার এ ওয়েবসাইট তৈরি করে কাজ করলে হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই কারণ Google নিজেই ফ্রিতে হোস্টিং প্রদান করে।

গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ ব্লগার এ ওয়েবসাইট খুললে গুগল আপনাকে ডিফল্টভাবে ১৫ জিবি প্রদান করবে। এই ১৫ জিবি যখন শেষ হয়ে যাবে তখন আপনি পুনরায় অন্য একটি ইমেইল আপনার ওয়েবসাইটের সার্ভারে বা এডমিন প্যানেলে যুক্ত করতে পারবেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের হোস্টিং পুনরায় ১৫ জিবি বাড়িয়ে নিতে পারবেন। বুঝতে পারছেন ব্লগারের ওয়েবসাইট খুললে হোস্টিং নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। ব্লগারে ওয়েবসাইট খুলে ব্লগিং করলে আপনি ১০ বছরেও আপনার ১৫ জিবি শেষ করতে পারবেন না। কারন লেখালেখি করে খুব বেশি জিবির প্রয়োজন হয়না।

উদাহরণঃ ধরুন আপনার একটি মেমোরি কার্ড রয়েছে এবং আপনি আপনার মেমোরি কার্ডে বিভিন্ন ধরনের ফটো, অডিও এবং ভিডিও রেখেছেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার মেমোরি কার্ডের জায়গা আস্তে আস্তে লোড হয়ে যাবে। ঠিক তেমনি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যখন কোন ফটো, ভিডিও, অডিও আপলোড করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটের হোস্টিং এর জায়গা বৃদ্ধি পাবে।

মনে রাখবেন ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট খুলতে হলে ৫ থেকে ১০ জিবি হোস্টিং এর জন্য আপনাকে বাৎসরিক ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে যা খুবই ব্যয়বহুল। আপনি প্রথম অবস্থায় ব্লগিং সম্পর্কে কিছু জানলেন না অথচ এত টাকা দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য হোস্টিং কিনলেন তাহলে আপনি অনেক বড় ভুল কাজ করবেন। তাই সর্বপ্রথম গুগলের ব্লগার এ আমার সাথে ফ্রিতে সবকিছু শিখে এক্সপার্ট হয়ে যাওয়ার পর এবং ইনকাম শুরু হওয়ার পর ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করুন।

আরো কিছু তথ্যঃ

সুতরাং আপনারা বুঝতে পারছেন- ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করলে ব্লগার আনলিমিটেড হোস্টিং প্রদান করে। তাই আপনার ওয়েবসাইটের ফাইলপত্র রাখার জায়গা আনলিমিটেড থাকবে। অর্থাৎ এখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি ব্লগারে ব্লগিং করতে হলে শুধুমাত্র কাস্টম ডোমেইন কেনা লাগবে এবং হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে ওয়ার্ডপ্রেস এ ব্লগিং করতে হলে আপনাকে হোস্টিং কিনতে হবে এবং কাস্টম ডোমেইন কিনতে হবে। অর্থাৎ আপনি ওয়ার্ডপ্রেস এ যখন ব্লগিং করবেন তখন আপনার সকল ধরনের ফাইলপত্র রাখার জন্য টাকা দিয়ে হোস্টিং কিনতে হবে।


হোস্টিং কেনার সময় অবশ্যই আপনাকে এসএসডি(SSD) হোস্টিং কিনতে হবে। যেমনঃ কম্পিউটারে এসএসডি(SSD) হার্ডডিস্ক বেশি স্পিড প্রদান করে এবং এইচডিডি(HDD) হার্ডডিস্ক কম স্পিড প্রদান করে। ঠিক তেমনি হোস্টিং এর ক্ষেত্রেও এসএসডি(SSD) হোস্টিং বেশি স্পিড প্রদান করে।

আমরা প্রথম অবস্থায় টাকা দিয়ে হোস্টিং এবং ডোমেইন কিনে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগিং করবো না। গুগলের ব্লগারে ব্লগিং শিখে এক্সপার্ট হয়ে যাওয়ার পরে আমরা যখন ইনকাম শুরু করব তখন আমরা সেই ইনকাম থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করব। এ বিষয়টি অবশ্যই আপনার মাথায় আজকেই গেথে নিন।

কারণ অনলাইন প্লাটফর্মে আপনি যখন গুগল ব্লগার VS ওয়ার্ডপ্রেস বিষয় নিয়ে সার্চ করবেন, তখন বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বলবে ওয়ার্ডপ্রেস ভালো। আমিও বলছি হ্যাঁ অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস ভালো কিন্তু সেটি শুধুমাত্র অ্যাডভান্স লেভেলের ব্লগার এক্সপার্টদের জন্য। আপনারা যেহেতু নতুন এবং বেসিক অবস্থা থেকে ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করতে চাচ্ছেন সেহেতু আপনারা প্রথম অবস্থায় কখনো ভুলেও ওয়ার্ডপ্রেস এ যাবেন না।

আমাদের ব্লগার ফ্রী কোর্সটি শেষ হয়ে গেলে, আমি আপনাদের ফ্রিতে ওয়ার্ডপ্রেস এ ব্লগিং করা শেখাবো। তাই আজ থেকে অন্য কোন দিকে না তাকিয়ে ব্লগার এ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করুন। আপনার যতটুকু সাহায্য দরকার আমি আমার তরফ থেকে আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করব।

২) ডোমেইন কি?

ডোমেইনঃ ডোমেইন হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের একটি নাম। আপনি যখন আপনার Google ব্লগার ওয়েবসাইটে ফ্রিতে একটি ব্লগার একাউন্ট খুলবেন, তখন আপনাকে একটি নাম দিয়ে খুলতে হবে। ব্লগার এ আপনি আপনার ওয়েবসাইটের যে নামটি দিবেন সেটি একটি ফ্রি ডোমেইন নাম।

এই ফ্রি ডোমেইন গুলো দিয়ে ওয়েবসাইটকে খুব বেশি র‍্যাঙ্ক করানো যায় না। তাই ফ্রিতে গুগল ব্লগার এ ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আমরা একটি কাস্টম ডোমেইন কিনব।

ফ্রি ডোমাইন এর উদাহরণ।

যেমনঃ
  • www.sarwarinfo.blogspot.com (যে সমস্ত ডোমেইনে blogspot লেখাটি দেখতে পাবেন সেটি একটি ফ্রি ডোমাইন)
কাস্টম ডোমেইন কি?

কাস্টম ডোমেইনঃ আমরা পূর্বে জেনেছি ডোমেইন অর্থ হলো ওয়েবসাইটের একটি নাম যা গুগল ব্লগার ফ্রিতে প্রদান করে। আর, কাস্টম ডোমেইন হলো সেই নাম যা কিনে ব্যবহার করতে হয়। কাস্টম ডোমেইন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের পেইড কাস্টম ডোমেইন এর উদাহরণ। 

যেমনঃ

.com (www.sarwarinfo.com) সবচেয়ে ভালো ডোমেইন হল ডট কম ডোমেইন। ডটকম ডোমেইন গুলোকে টপ লেভেল ডোমেইন বলা হয়।

আরো রয়েছে,
  • .net (www.sarwarinfo.net)
  • .info (www.sarwarinfo.info)
  • .top (www.sarwarinfo.top)
  • .org (www.sarwarinfo.org)
  • .ai (www.sarwarinfo.ai)
  • .gg (www.sarwarinfo.gg)
  • .dev (www.sarwarinfo.dev)
  • .io (www.sarwarinfo.io)
  • .app (www.sarwarinfo.app)
  • .inc (www.sarwarinfo.inc)
  • .me (www.sarwarinfo.me)
  • .pro (www.sarwarinfo.pro)
  • .live (www.sarwarinfo.live)
  • .online (www.sarwarinfo.online)
  • .tech (www.sarwarinfo.tech)
  • .art (www.sarwarinfo.art)
  • .store (www.sarwarinfo.store)
  • .site (www.sarwarinfo.site)
  • .blog (www.sarwarinfo.blog)
  • .ink (www.sarwarinfo.ink)
  • .is (www.sarwarinfo.is)
  • .cc (www.sarwarinfo.cc)
  • .so (www.sarwarinfo.so)
  • .ac (www.sarwarinfo.ac)
  • .cx (www.sarwarinfo.cx) etc.
মনে রাখবেন,
  • sarwarinfo = এটি হচ্ছে ডোমেইন এর নাম
  • (.net), (.com) = এটি হচ্ছে এক্সটেনশন
সাধারণত ডট কম ডোমেইন গুলোর দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। যেমনঃ ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। তবে আপনারা যেহেতু নতুন ব্লগিং শিখছেন সেহেতু এত টাকা খরচ করার কোন প্রয়োজন নেই।

এজন্য আপনারা প্রথম অবস্থায় সস্তায় একটি ডোমেইন কিনে কাজ করবেন। পরবর্তীতে যখন এক্সপার্ট হয়ে যাবেন তখন আপনি নিজেই ডট কম ডোমেন দিয়ে ব্লগ শুরু করবেন। কিন্তু এখন শেখার জন্য কম দামের মধ্যে একটি ডোমেইন কিনে, ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে ব্লগিংয়ের এটুজেট বিষয় আপনাকে শিখতে হবে।

একটি ব্লগের জন্য কাস্টম ডোমেইন কিনতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে তা আমি আমার এই কোর্সে বলে দিব।

৩) ব্যান্ডউইথ কি?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ব্লগার এ ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন নেই।ব্যান্ডউইথ শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর জন্য প্রযোজ্য। কারণ হোস্টিং এর সাথে ব্যান্ডউইথ জড়িত। যেহেতু Google এর ব্লগারে হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই, সেহেতু গুগলে হোস্টিং এবং ব্যান্ডউইথ এই ২টি আনলিমিটেড ফ্রিতে প্রদান করে। তাই নিচের ব্যান্ডউইথ সম্পর্কে আলোচনা গুলো শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য।

ব্যান্ডউইথঃ ব্যান্ডউইথ বিষয়টিকে বুঝতে হলে আপনাকে একটি উদাহরণে সাহায্য নিতে হবে। তাহলে চলুন আমরা এখন উদাহরণের সাহায্যে জেনে নিই ব্যান্ডউইথ কি সে সম্পর্কে।

উদাহরণ-

আপনার মোবাইলে ডাটা না থাকলে আপনি যেমন ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারেন না ঠিক তেমনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব সাইটে ব্যান্ডউইথ না থাকলে কোন ভিজিটর সেই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন না।

আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটে অনেকগুলো পেজ থাকবে। এই পেজগুলো ১ থেকে ২ এমবি হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তি যখন আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে তখন সেই পেজের ১ থেকে ২ এমবি আপনার ওয়েবসাইটের ব্যান্ডউইথ থেকে খরচ হবে এবং যিনি ভিজিট করবেন তারও ১ থেকে ২ এমবি ডাটা খরচ হবে। আপনার ওয়েবসাইটে যদি ব্যান্ডউইথ না থাকে তাহলে কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ডাটা খরচ করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবে না।

আপনি যখন আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনবেন তখন সেই কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের সাথে ডিফল্টভাবে ব্যান্ডউইথ দিয়ে দিবে। আপনি যখন এক বছরের জন্য কোন কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য কিনবেন তখন সেই ডোমেইন এবং হোস্টিং এর সাথে প্রতি মাসে ১০০ জিবি করে ব্যান্ডউইথ আপনাকে ফ্রিতে প্রদান করবে। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট প্রতি মাসে ১০০ জিবি পর্যন্ত খরচ করতে পারবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনলে প্রতি মাসে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের ব্যান্ডউইথ ডিফল্টভাবে রিনিউ হয়ে যাবে অর্থাৎ প্রতি মাসে আপনি পাচ্ছেন ১০০ জিবি করে।

এখন প্রশ্ন হল আপনার ওয়েবসাইটে যদি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভিজিটর আসে তাহলে আপনি কি করবেন?

উত্তরঃ সাধারণত একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য মাসে ১০০ জিবি ব্যান্ডউইথ যথেষ্ট। অর্থাৎ ১০০ জিবি থাকলেই আপনার আর এক্সট্রা করে কোন ব্যান্ডউইথ কেনা লাগবে না। সাধারণত সেই সমস্ত ওয়েবসাইটগুলোই ব্যান্ডউইথ কিনে থাকে, যে সমস্ত ওয়েবসাইটগুলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। কারণ সে সমস্ত ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে কোটি কোটি মানুষ ভিজিট করে যার কারণে তাদের বেশি ব্যান্ডউইথ এর প্রয়োজন হয়।

আপনার যদি একটি ওয়ার্ড প্রেস ওয়েবসাইট থাকে এবং আপনি যদি মনে করেন আপনার ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর আসছে এবং আপনার ওয়েবসাইট স্লো হয়ে যাচ্ছে, তখন আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে নিতে পারেন। ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে কাস্টম ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনেছেন সেখানে যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে কিছু টাকার বিনিময়ে ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে দিবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ গুগলের ব্লগার থেকে ওয়েবসাইট তৈরি করলে, মাসে লক্ষ লক্ষ ভিজিটর আসুক অথবা কোটি কোটি টাকা আসুক তাতেও আপনার ওয়েবসাইটের কোন সমস্যা হবে না।

৪) ফাইল সার্ভার কি?

ফাইল সার্ভারঃ ফাইল সার্ভার হচ্ছে সেই জায়গা যে জায়গায় আমরা বড় বড় ফাইল রাখার পাশাপাশি, ছবি, অডিও, ভিডিও রাখতে পারব। আরো ভালোভাবে বুঝতে হলে-

যখন আপনি ওয়েবসাইটের বাইরে কোন একটি সার্ভারে আপনার বিভিন্ন ফাইলপত্র রেখে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করে দিবেন, তখন এটিকে বলা হবে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল সার্ভার।

আমরা পূর্বে জেনেছি ওয়েবসাইটে ফাইলপত্র রাখার জন্য হোস্টিং কিনতে হয়। ফাইল সার্ভার এবং হোস্টিং এক জিনিস নয়। হোস্টিং হচ্ছে সরাসরি বা ডাইরেক্ট ভাবে ওয়েবসাইটে ফাইলপত্র রাখার সিস্টেম এবং হোস্টিং এর মাধ্যমেই মূলত আপনার ওয়েবসাইট চলে।

কিন্তু ফাইল সার্ভার হচ্ছে ইনডাইরেক্ট ফাইলপত্র রাখার সিস্টেম। অর্থাৎ আপনি অন্য কোন একটি সার্ভারে আপনার ফাইলপত্র রাখবেন এবং সেই অন্য কোন সার্ভারের ফাইলপত্র রাখার লিংক আপনার ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করে দিবেন, এটাই হচ্ছে ফাইল সার্ভার।

সাধারণত যারা ওয়েবসাইটে মুভি পাবলিশ করে তারা ফাইল সার্ভার ব্যবহার করে কাজ করে। একটি ওয়েবসাইটে আপনি ডাইরেক্ট ভাবে বেশি মুভি আপলোড করতে পারবেন না, বেশি মুভি আপলোড করলে আপনার ওয়েবসাইটের হোস্টিং ফুল হয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে আপনি যদি একটি আলাদা ফাইল সার্ভারে সমস্ত মুভিগুলো আপলোড দিয়ে, সেই ফাইল সার্ভারের লিংক আপনার ওয়েবসাইটের সাথে লিংক করে দেন, তাহলে আপনি খুব সহজেই হাজার হাজার মুভি আপলোড করতে পারছেন।

৫) নিশ কি এবং কত প্রকার?

নিশঃ নিশ হচ্ছে কোন বিষয় বা সাবজেক্ট। 

নিশ ২ প্রকার।

যেমনঃ
  • এক্সাক্ট নিশ এবং 
  • র‍্যানডম নিশ
এক্স্যাক্ট নিশঃ আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যখন কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লেখালেখি করবেন তখন সেটি হচ্ছে এক্স্যাক্ট নিশ।

উদাহরণঃ আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র শিক্ষা বিষয়ক কন্টেন্ট পাবলিশ করেন তাহলে এটি হবে এক্স্যাক্ট নিশ। অথবা আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যদি চাকরি রিলেটেড কোন তথ্য প্রকাশ করেন তাহলে এটি হবে এক্স্যাক্ট নিশ। অথবা আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে নিউজ সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেন তাহলে এটি হবে এক্স্যাক্ট নিশ অথবা আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে অ্যান্ড্রয়েড বিষয়ে তথ্য পাবলিশ করেন তাহলে এটি হবে এক্স্যাক্ট নিশ।

র‍্যানডম নিশঃ আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে লেখালেখি করবেন তখন এটি হবে র‍্যানডম নিশ।

উদাহরণঃ ধরুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে শিক্ষা বিষয়ক কন্টেন্ট+চাকরি বিষয়ক কনটেন্ট+ এন্ড্রয়েড বিষয়ক কন্টেন্ট+বিভিন্ন টেকনোলজি বিষয়ক কন্টেন্ট ছাড়াও আরো অন্যান্য কনটেন্ট পাবলিশ করলেন। তাহলে এটাকে বলা হবে র‍্যানডম নিশ।

এখন প্রশ্ন হল আপনি কোন নিস নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে কাজ করবেন?

আপনি যদি কোন একটি স্পেসিফিক বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন তাহলে আপনি চেষ্টা করবেন সেই স্পেসিফিক বিষয়ে লেখালেখি করার। সাধারণত এক্স্যাক্ট নিশ নিয়ে কাজ করলে ওয়েবসাইট খুব তাড়াতাড়ি গ্রো হয়।

এখন প্রশ্ন হল যারা কোন একটি স্পেসিফিক বিষয়ে দক্ষ নয় তারা কিভাবে ওয়েব সাইটে কাজ করবেন?

উত্তর হল- আপনারা আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করবেন অর্থাৎ র‍্যানডম নিশ নিয়ে কাজ করবেন। বাংলাদেশের অনেক ব্লগার রয়েছে যারা তাদের ওয়েবসাইটে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে ইনকাম করছে। র‍্যানডম নিশ সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনি যখন কন্টেন্ট লিখবেন, তখন এক্স্যাক্ট নিশ নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইটের তুলনায় আপনার ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর আসবে।

তাই আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করে কোন বিষয়ে লেখালেখি করবেন সে সম্পর্কিত তথ্য আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

৬) ওয়েবসাইট কত ধরনের হতে পারে?

ওয়েবসাইট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

যেমনঃ

১) ব্লগ ওয়েবসাইট (Blog Website)
  • ব্যক্তিগত মতামত বা তথ্য শেয়ার করার জন্য।
  • উদাহরণ: WordPress, ব্লগ।
আমরা এই ওয়েবসাইট তৈরি করব এবং এই ওয়েবসাইটে আমাদের নিজস্ব মতামত লেখালেখি করার মাধ্যমে, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে পাবলিশ করার মাধ্যমে, গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করব।

২) ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট (Personal Website)
  • ব্যক্তি বা তাদের সৃজনশীল কাজ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
  • উদাহরণ: ব্লগ, পোর্টফোলিও সাইট।
৩) ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট (Business Website)
  • কোনো কোম্পানি বা ব্যবসার পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের জন্য।
  • উদাহরণ: Amazon, Flipkart।
৪) ই-কমার্স ওয়েবসাইট (E-commerce Website)
  • পণ্য ও সেবা অনলাইনে কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: eBay, Daraz।
৫) শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট (Educational Website)
  • শিক্ষামূলক কন্টেন্ট প্রদান করে।
  • উদাহরণ: Coursera, Khan Academy, 10 min School
৬) সংবাদ ওয়েবসাইট (News Website)
  • সাম্প্রতিক খবর এবং তথ্য প্রদান করে।
  • উদাহরণ: BBC, Prothom Alo।
৭) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবসাইট (Social Media Website)
  • মানুষকে সংযোগ স্থাপন ও যোগাযোগের সুযোগ দেয়।
  • উদাহরণ: Facebook, Twitter।
৮) বিনোদনমূলক ওয়েবসাইট (Entertainment Website)
  • মুভি, মিউজিক, গেমস, ইত্যাদি বিনোদনের জন্য।
  • উদাহরণ: YouTube, Netflix।
৯) সরকারি ওয়েবসাইট (Government Website)
  • সরকারি সেবা এবং তথ্য প্রদান করে।
  • উদাহরণ: বাংলাদেশ সরকারের পোর্টাল (bangladesh.gov.bd)।
১০) স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ওয়েবসাইট (Health and Wellness Website)
  • স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে।
  • উদাহরণ: WebMD, Mayo Clinic।
১১) ফোরাম বা কমিউনিটি ওয়েবসাইট (Forum/Community Website)
  • ব্যবহারকারীরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
  • উদাহরণ: Reddit, Quora।
১২) পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট (Portfolio Website)
  • কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ প্রদর্শনের জন্য।
  • উদাহরণ: ডিজাইনার বা ফটোগ্রাফারের পোর্টফোলিও সাইট।
১৩) অনুসন্ধান ইঞ্জিন (Search Engine)
  • ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
  • উদাহরণ: Google, Bing, Yahoo, Baidu, Yandex
১৪) নন-প্রফিট বা দাতব্য ওয়েবসাইট (Non-profit Website)
  • দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা সমাজসেবামূলক কাজের প্রচারের জন্য।
  • উদাহরণ: UNICEF, BRAC।
ওয়েবসাইটের প্রকারভেদ সম্পর্কে অতিরিক্ত কিছু তথ্যঃ

এছাড়া আপনারা অথোরিটি ওয়েবসাইট বা ব্র্যান্ড ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় শুনতে পাবেন।

অথোরিটি ওয়েবসাইটঃ যখন কোন ওয়েবসাইট সম্পর্কে মানুষ রেফারেল প্রদান করে। অর্থাৎ ধরুন কোন একজন ব্যক্তি আপনাকে একটি ওয়েবসাইটের নাম বললো এবং আপনাকে এটাও বলল যে এই ওয়েবসাইটটি কোন একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য অনেক ভালো। সে ক্ষেত্রে এটি হবে অথরিটি ওয়েবসাইট।

মনে রাখবেন, আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত যখন কনটেন্ট লিখবেন এবং আপনার ওয়েবসাইট কয়েক বছর পর যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ওয়েবসাইট অথরিটি ওয়েবসাইটে পরিণত হবে।

ব্র্যান্ড ওয়েবসাইটঃ যেকোনো ধরনের ব্র্যান্ড যেমনঃ অ্যাপল, শাওমি, ভিভো, স্যামসাং এই সমস্ত ওয়েবসাইট গুলো ব্র্যান্ড ওয়েবসাইট।

এই বেসিক নলেজ গুলো আমাদের জানা শেষ। তাই এখন আমরা ওয়েবসাইট তৈরি করব। তাহলে চলুন আমরা এখন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য পরবর্তী স্টেপ গ্রহণ করি।

ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম

ব্লগারের ওয়েবসাইট তৈরি করার আগে অবশ্যই ইমেইল ভালো ভাবে চেক করে নিবেন। এমন কোন ইমেইল ব্যবহার করবেন না যে ইমেইলের পাসওয়ার্ড আপনি জানেন না। অথবা এমন কোন ইমেইল ব্যবহার করবেন না যে ইমেইলটি আপনার নিজের নয়। তাই আপনার যদি নিজের জিমেইল না থাকে তাহলে আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে জিমেইল খুলে নিবেন।

ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম একদম সহজ। আপনি মাত্র পাঁচ মিনিটে একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন গুগল ব্লগারের মাধ্যমে। আমরা আস্তে আস্তে এই ফ্রি ওয়েবসাইটকে এমন ভাবে তৈরি করব যেন আমরা এই ওয়েবসাইট থেকে ভবিষ্যতে ইনকাম করতে পারি। তাহলে চলুন আমরা এখন স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিই কিভাবে আপনি ব্লগারে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন সে সম্পর্কে।

স্টেপ ১ঃ

প্রথমে আপনাকে Google ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ করতে হবে “blogger” লিখে।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম
স্টেপ ২ঃ

এখন আপনার সামনে ব্লগারের ওয়েবসাইট খোলার লিংক আসবে। আপনি সেখানে ক্লিক করুন।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম

স্টেপ ৩ঃ

এখন “Creat Blog” আপশনে ক্লিক করুন।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম

স্টেপ ৪ঃ

এখন আপনার সামনে একটি পপ আপ উইন্ডো আসবে। এই পপ আপ উইন্ডোতে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের টাইটেল নাম দিতে হবে। এরপর আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যে নাম ঠিক করেছেন সেই নামটি টাইটেলে লিখুন। বুঝতে না পারলে স্ক্রিনশট দেখুন অথবা ভিডিও দেখুন।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম

স্টেপ ৫ঃ

এখন আপনার সামনে আরও একটি পপ আপ উইন্ডো আসবে এবং এখানে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের নাম কোন স্পেস ছাড়া বসাতে হবে। এখন আপনি এড্রেস বারে আপনার ওয়েবসাইটের নাম টি লিখে দিন। বুঝতে না পারলে স্ক্রিনশট দেখুন অথবা ভিডিও দেখুন।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম

আপনার কাজ শেষ। এখন সম্পূর্ণভাবে আপনি ফ্রিতে একটা নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করলেন।
ফ্রিতে-ব্লগার-ওয়েবসাইট-তৈরি-করার-নিয়ম

ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রসেস খুবই সিম্পল। আশা করছি আপনারা খুব সহজেই এই আর্টিকেলটি থেকে ব্লগার ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রতিটি তথ্য জানতে পেরেছেন এবং বিনামূল্যে একটি ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করতে পেরেছেন।

FAQ

১) গুগল ব্লগার দিয়ে কি আয় করা সম্ভব?
উত্তরঃ গুগল ব্লগার দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আয় করা যায়। কিন্তু এর জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং যদি শিখেন তাহলে বেশি উপকৃত হবেন। 

২) ব্লগার এবং WordPress এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ ব্লগার এবং WordPress দুটোই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম। ব্লগার দিয়ে আপনি শুধুমাত্র একটি কাস্টম ডোমেইন কিনে ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন কম খরচে। কিন্তু WordPress এ হোস্টিং এবং কাস্টম ডোমেইন কিনে তারপর তৈরি করতে হবে। ব্লগার নতুনদের জন্য ভালো, যদি আপনি অ্যাডভান্স লেভেল এর কাজ শিখে যান তাহলে WordPress ভালো।

৩) কাস্টম ডোমেইন কি এবং কেন প্রয়োজন?
উত্তরঃ কাস্টম ডোমেইন হলো আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেইড নাম- যেমন www.yoursite.com। এটি ব্লগার এবং WordPress ওয়েবসাইটের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং আপনার ওয়েবসাইটের বিশ্বস্ততা বাড়ায়। কাস্টম ডোমেইন ওয়েবসাইটকে পেশাদার করে তোলে এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ায়। কাস্টম ডোমেইন আপনাকে আরও বেশি ট্র্যাফিক এবং র‌্যাঙ্কিং নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

৪) কি কি ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়?
উত্তরঃ ওয়েবসাইট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমনঃ ব্লগ ওয়েবসাইট, ই-কমার্স সাইট, নিউজ ওয়েবসাইট, শিক্ষা সম্পর্কিত সাইট ইত্যাদি। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার নীশ বা কোন বিষয়ে আপনি ওয়েবসাইটে কাজ করবেন তা নির্ধারণ করতে হবে।

৫) ফ্রিল্যান্সিং কি ধরনের কাজের মধ্যে পড়ে?
উত্তরঃ আমার মতে ফ্রিল্যান্সিং স্বাধীন পেশার মধ্যে পড়ে, যেখানে থাকে না কোন মালিক, যেখানে থাকে না কারো কর্তৃত্ব। অর্থাৎ আপনার কাজের জগতে আপনিই মালিক আপনিই শ্রমিক। 

৬) ঘরে বসে ব্লগিং শেখা যায়?
উত্তরঃ বর্তমানে ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগে ঘরে বসে সবকিছু করা সম্ভব। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি ব্লগিং শেখার বিভিন্ন প্লাটফর্ম পেয়ে যাবেন। এই কোর্সগুলো আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন ঘরে বসে।

শেষ মন্তব্য

আমরা জানলাম ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ব্লগার আমাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমি নিজেও এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজে ব্লগ তৈরি করেছি।  নতুন অবস্থায় বিনা খরচে নিজের ওয়েবসাইট বানানো সত্যিই সকলের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হয়। গুগলের Blogger ব্যবহার করে সবারই চেষ্টা করা উচিত প্রথম অবস্থায় ব্লগিং শেখার জন্য।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url