ব্লগারে গুগল কনটেন্ট পলিসি মেনে কাজ করার নিয়ম

একটি ওয়েবসাইট তৈরির পর সেই ওয়েবসাইটে কনটেন্ট লিখে ইনকাম করার আগে আপনাকে গুগল কনটেন্ট পলিসি সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। আমরা যেহেতু কনটেন্ট বা আর্টিকেল ওয়েবসাইটে পাবলিশ করার মাধ্যমে ইনকাম করব সেহেতু আমাদের গুগলের নিয়ম নীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখা আবশ্যক।

গুগল-কনটেন্ট-পলিসি
তাই এখানে আমি সহজ ভাষায় গুগলের কনটেন্ট পলিসি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব। যেন আপনারা ব্লগার এ কাজ শুরু করার পূর্বে নিয়ম-নীতিগুলো জেনে কাজ করতে পারেন।

সূচিপত্রঃ ব্লগারে গুগল কনটেন্ট পলিসি মেনে কাজ করার নিয়ম

কনটেন্ট পলিসি সম্পর্কে আপনি যা যা তথ্য জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

ভূমিকাঃ গুগল কনটেন্ট পলিসি

কনটেন্ট পলিসি গুগলের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। এটি কনটেন্ট বা আর্টিকেল রাইটারদের জন্য শুধু নয় বরং পাঠকদের জন্যও এটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান নিশ্চিত করে। আপনি যদি একজন ব্লগার, ওয়েব সাইটের মালিক অথবা ডিজিটাল মার্কেটার হন, তাহলে গুগলের কনটেন্ট পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা অবশ্যই জরুরি।

তাই আজ আমরা গুগল এর কনটেন্ট পলিসির প্রধান দিকগুলো বিশ্লেষণ করব এবং দেখব কিভাবে এটি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারেন।

গুগল কনটেন্ট পলিসি কী?

এটি হলো গুগল কতৃক নির্ধারিত একটি নির্দেশিকা, যে নির্দেশিকা গুলো মেনে কনটেন্ট লিখলে সেই কনটেন্ট বা আর্টিকেলটি গুগলে সবচেয়ে ভালো রেঙ্ক করে। কনটেন্ট পলিসি বিচার বিবেচনা করে ওয়েবসাইটের সকল ধরনের তথ্য ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য এবং স্প্যাম মুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করে গুগল।


সুতরাং বুঝতে পারছেন আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বা আর্টিকেল গুলো যদি গুগল এর কনটেন্ট পলিসি মেনে লেখা হয়, তাহলে সেই কনটেন্ট গুলো গুগল নিজেই ব্যবহারকারীদের কাছে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে পৌঁছে দিবে। 

কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট বা আর্টিকেল যদি গুগলের নীতিমালা মেনে না হয় তাহলে সেই কনটেন্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সার্চকৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিবেনা। বরং আপনার আর্টিকেলের র‍্যাংক পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইট এর র‍্যাংক পিছিয়ে যাবে।

গুগলের কনটেন্ট পলিসির ১৭টি নীতিমালা
১) প্রাপ্ত বয়স্কদের কনটেন্ট
২) বাচ্চাদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ
৩) বিপজ্জনক ও বেআইনি অ্যাক্টিভিটি
৪) উত্ত্যক্ত করা, হয়রানি করা ও হুমকি দেওয়া
৫) ঘৃণাত্মক বক্তব্য
৬) কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া ও মিথ্যা বর্ণনা করা
৭) ম্যালওয়্যার ও একই ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট
৮) প্রতারিত, বিভ্রান্ত ছড়ানো বিষয়ক কনটেন্ট
৯) সম্মতি-বিহীন অনুপযুক্ত ছবি (এনসিইআই)
১০) ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য
১১) ফিশিং
১২) নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও পরিষেবা
১৩) স্প্যাম
১৪) হিংসাত্মক উপায় অবলম্বন করা, সংগঠন ও হিংসাত্মক আন্দোলন
১৫) অপ্রাপ্তবয়স্কদের অননুমোদিত ছবি
১৬) হিংসা ও রক্তপাত
১৭) কপিরাইট

source: google content policy

ব্লগারে গুগল কনটেন্ট পলিসি মেনে কাজ করার নিয়ম

১) আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট থাকতে হবে।

২) আপনি আপনার কনটেন্টে এমন কোন লেখা, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন না যেগুলো বাচ্চাদের যৌন নির্যাতন বিষয়ক হয়ে থাকে। এছাড়া আপনি বাচ্চাদের নির্যাতন এবং বাচ্চা পাচার সংক্রান্ত কোনো তথ্য আপনার ওয়েবসাইট এ শেয়ার করতে পারবেন না।
ব্লগারে-গুগল-কনটেন্ট-পলিসি-মেনে-কাজ-করার-নিয়ম
৩) সকল দেশের আইনি ব্যবস্থা একরকম হয় না। অর্থাৎ আপনি যে দেশে বসবাস করছেন সেই দেশের আইনবিরোধী কোন কাজ করলে গুগল সেটিকে কনটেন্ট পলিসির আওতায় ফেলবে।

৪) আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এমন একটি কনটেন্ট লিখলেন যে কনটেন্ট এর মধ্যে কাউকে উত্ত্যক্ত করা বা হয়রানি করা বা হুমকি দেওয়া বোঝাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে গুগল এটিকে কনটেন্ট পলিসির আওতায় ফেলবে।

৫) আপনি আপনার ওয়েবসাইটে কোন বিষয় নিয়ে ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রকাশ করতে বা শেয়ার করতে পারবেন না।

৬) আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোন তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না যে তথ্য কোন ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয় বা মিথ্যা ধারণা দেয়। তাই আপনি যে বিষয় নিয়ে জানবেন না সে বিষয়ে কনটেন্ট লিখবেন না।

৭) আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোন কনটেন্ট লিখতে পারবেন না যে সমস্ত কনটেন্টের মধ্যে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা লিংক থাকে।

৮) আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোন কনটেন্ট লেখা যাবে না যে সমস্ত কনটেন্ট গুলো মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়ায়। অর্থাৎ যে বিষয়ে কোন কিছু ঘটেনি, কিন্তু আপনি ভিজিটর বেশি পাওয়ার জন্য যদি সে বিষয়ে কোন বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট পাবলিশ করেন, তাহলে গুগল আপনার ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

৯) আপনি যদি কোন একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত সেই ব্যক্তির কোন তথ্য বা ছবি বা ভিডিও গোপনে আপনার ওয়েবসাইটে শেয়ার করেন তাহলে এটি এনসিইআই এর আওতাভুক্ত হবে।

১০) আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোন তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না যে তথ্য কোন ব্যক্তির গোপন কোন কিছু প্রকাশ করে।

১১) ধরুন আপনি একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন কোন তথ্য জানার জন্য। এখন সেই ওয়েবসাইটে আপনাকে একটি লিংক দিল এবং আপনাকে বলল যে- আপনি যে তথ্যটি চাচ্ছেন সেটা পাওয়ার জন্য আগে এই লিংকে ঢুকে আপনার ফেসবুকে লগইন করুন।


এখন আপনি আপনার তথ্যটি জানার জন্য যদি সেই ব্যক্তির ওয়েবসাইটে লিংকে ঢুকে ফেসবুকে লগইন করেন, তাহলে আপনার লগইন ইমেইল+মোবাইল নাম্বার+পাসওয়ার্ড সেই ব্যক্তির কাছে চলে যাবে। কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না। এটাকেই বলা হয় ফিশিং যা কখনোই ওয়েবসাইটে করা যাবে না।

১২) আপনি যে দেশে বসবাস করবেন সে দেশের কিছু নিয়ন্ত্রিত পণ্য বা পরিষেবা রয়েছে। এই সমস্ত পণ্য এবং সেগুলোর পরিষেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদান করা যাবে না। মনে রাখবেন প্রত্যেকটি দেশের কিছু না কিছু নিয়ন্ত্রিত পণ্য থাকে এবং প্রত্যেক দেশের নিয়ন্ত্রিত পণ্য এবং পরিষেবা একরকম হয় না।
    ১৩) একটি বিষয় ওয়েবসাইটে বিভিন্ন জায়গায় বারবার লেখা বা বারবার কমেন্ট করা স্প্যাম এর আওতায় পড়ে। স্প্যাম হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই কোনো পরিশ্রম ছাড়াই অটোমেটেড প্রোগ্রামের সাহায্যে কোন কাজ সহজেই করিয়ে নিতে পারবেন, যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট দিয়ে কনটেন্ট লেখা। অবৈধ উপায়ে ওয়েবসাইটের স্বাভাবিক নিয়ে আসা স্প্যামের আওতায় পড়ে।

    ১৪) ধরুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আন্দোলন করার জন্য এমন একটি সংগঠন তৈরি করলেন বা এমন একটি সংগঠন নিয়ে লিখলেন, যে সংগঠনের দ্বারা দেশের ক্ষতি হতে পারে এবং দেশের মানুষের ক্ষতি হতে পারে।

    ১৫) যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক তাদের কোন ছবি বা ভিডিও আপনি আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে পারবেন না। যদি পাবলিশ করতে চান তাহলে সেই অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিটির বাবা মার অনুমতি নিতে হবে।

    ১৬) ধরুন কোথাও দুর্ঘটনা হয়েছে এবং সেখানে মানুষের হাত কেটে গেছে, পা কেটে গেছে, গলা কেটে গেছে এবং প্রচুর রক্ত দেখা যাচ্ছে। আপনি এই সমস্ত ছবি বা ভিডিও আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবেন না। আবার আপনি দেখলেন কোথাও মারামারি হচ্ছে এবং সেখানে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে রক্তপাত করা হচ্ছে। এই সমস্ত ভিডিও এবং ছবিগুলো আপনি আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন না।

    ১৭) ধরুন আপনি কোন একটি বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন। এজন্য আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সরাসরি কপি করে আপনার ওয়েবসাইটে পেস্ট করলেন। এছাড়া আপনি সেই সমস্ত ওয়েবসাইট থেকে ছবিগুলো  এবং ভিডিওগুলো নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করলেন। এটাই হচ্ছে কপিরাইট।

    গুগল কনটেন্ট পলিসির গুরুত্ব

    মানসম্মত কনটেন্ট প্রদানঃ গুগল নিশ্চিত করে যে ব্যবহারকারীরা মানসম্মত ও নির্ভুল তথ্য পায়।
    স্প্যাম প্রতিরোধঃ এটি স্প্যাম কনটেন্ট ব্লক করতে সাহায্য করে।
    বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিঃ কনটেন্টের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
    মিথ্যা প্রতিরোধ ও সত্য প্রচারঃ কনটেন্ট পলিসির কারনে মিথ্যা সহজে প্রতিরোধ করা যায়।
    মানুষদের ব্যক্তিগত সিকিউরিটিঃ গুগলের কনটেন্ট পলিসি সিকিউরিটির দিক দিয়ে খুব বেশি কঠোর। তাই গুগল তাদের কনটেন্ট পলিসের মাধ্যমে মানুষদের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এবং সিকিউরিটি দেওয়ার চেষ্টা করে।

    গুগল কনটেন্ট পলিসির প্রধান দিক

    গুগল সবসময় উচ্চমানসম্পন্ন, তথ্যসমৃদ্ধ এবং মৌলিক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেয়।
    ইইএটি (EEAT)= Expertise, Authoritativeness and Trustworthiness (জ্ঞান, কর্তৃত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা) কনটেন্ট এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা।
    গুগলের কনটেন্ট পলিসি না মেনে কপিরাইট কনটেন্ট লেখা গুগল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তাই কনটেন্ট তৈরির সময় সৃজনশীলতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে হবে।
    বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এবং অপ্রাসঙ্গিক লিংক ব্যবহার করলে গুগলের রোবটসমূহ ক্লিকবেট এড়িয়ে যায়, ফলে ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং কমে যায়।
    গুগলের কনটেন্ট পলিসি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে স্প্যাম কনটেন্ট, অবৈধ ও খারাপ লিংক শনাক্ত করে।
    গুগল সবসময় আপডেটেড কনটেন্টকে গুরুত্ব দেয়। তাই পুরনো তথ্য নিয়মিত আপডেট করুন।

    গুগল কনটেন্ট পলিসি অনুসরণ করার উপায়

    ১) কীওয়ার্ড রিসার্চঃ গুগলের বর্তমান অ্যালগরিদম অনুযায়ী কীওয়ার্ড রিসার্চ করুন। সঠিক কীওয়ার্ড ব্যবহারে কনটেন্ট সহজেই র‍্যাংক করবে।

    ২) মৌলিকতাঃ মৌলিক কনটেন্ট বা ইউনিক কনটেন্ট বা কপিরাইট মুক্ত কনটেন্ট প্রদান করতে হবে।

    ৩) ইউজার ইন্টারেস্টঃ ব্যবহারকারীর আগ্রহের বিষয় বিবেচনা করে কনটেন্ট তৈরি করুন। অর্থাৎ যে সমস্ত বিষয়ে মানুষের সার্চ করার প্রবণতা বেশি সেগুলো লেখালেখি করুন।

    ৪) সহজ ভাষা ব্যবহারঃ পাঠকদের সুবিধার জন্য সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখুন।

    ৫) ভিজ্যুয়াল কনটেন্টঃ ইমেজ, ভিডিও এবং গ্রাফিক্স ব্যবহার করুন, কারণ এগুলো ব্যবহার করলে কনটেন্ট বা আর্টিকেলের মান বৃদ্ধি পাবে।

    ৬) ওয়েবসাইটের মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইনঃ গুগলের অ্যালগরিদম মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটকে প্রাধান্য বেশি দেয়। তাই নিশ্চিত করুন আপনার ব্লগ মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত কিনা।

    ৭) সিমান্টিক এসইও (Semantic SEO): কনটেন্টকে গুগলের কাছে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার জন্য সিমান্টিক এসইও (Semantic SEO) করতে হবে।

    কনটেন্ট লেখার ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু ভুল

    ১) কপিপেস্ট কনটেন্টঃ কপিপেস্ট কনটেন্ট গুগলের র‍্যাংকিং নষ্ট করে। তাই কপি পেস্ট করা কনটেন্ট বা আর্টিকেল ব্লগ পোস্টে ব্যবহার করা যাবে না।
    ২) বানান ভুল করাঃ হাতে টাইপিং করতে অনেক সময় ব্যয় হয়, তাই নিজের অভিজ্ঞতাগুলো voice typing এর মাধ্যমে লিখে শেয়ার করুন। ভয়েস টাইপিং হয়ে গেলে বানান গুলো দেখে নিবেন।
    ৩) অতিরিক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহারঃ কীওয়ার্ড স্টাফিং গুগলের পলিসি লঙ্ঘন করে। একটি আর্টিকেলের মধ্যে একটু পর পর কিওয়ার্ড বসানো কে বলা হয় কিওয়ার্ড স্টাফিং।
    ৪) অপ্রাসঙ্গিক ব্যাকলিঙ্কঃ কোনভাবেই অপ্রাসঙ্গিক ব্যাকলিংক গ্রহণ করা যাবে না। আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে ভালো ভালো কনটেন্ট পাবলিশ করবেন তখন অটোমেটিক্যালি আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক বেড়ে যাবে। তাই ব্যাকলিংক বাড়ানোর জন্য, অমূল্যবান কোন ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক গ্রহণ করবেন না।
    ৫) প্রতিদিন কনটেন্ট পাবলিশ না করাঃ গুগলের কাছে আপনার ওয়েবসাইটের মর্যাদা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন কনটেন্ট অবশ্যই পাবলিশ করতে হবে। গ্যাপ দিয়ে কনটেন্ট পাবলিশ করা যাবে না।

    গুগলের কনটেন্ট পলিসি লংঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    গুগলের প্লাটফর্ম থেকে ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই গুগলের কনটেন্ট পলিসি লঙ্ঘন করা যাবে না। গুগল তাদের কনটেন্ট পলিসি নিয়ে খুবই গুরুত্ব প্রদান করছে। আপনি যদি গুগল এর কনটেন্ট পালসি লংঘন করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে বা আপনার ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে গুগল যে সমস্ত ব্যবস্থা নিতে পারে তা জেনে নিন।

    কনটেন্ট পলিসি লঙ্ঘনে গুগলের পদক্ষেপ
    ১) আপনার কোন আর্টিকেলে যদি সংবেদনশীল কোন কিছু থাকে তাহলে সেই আর্টিকেল ভিজিটরদের কাছে দেখানোর পূর্বে একটি সতর্কবার্তা নোটিশ প্রদান করবে।
    ২) অনেক সময় কোন একটি ব্লগ পোস্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে রিমুভ করে দেয়। এই অবস্থায় কেউ সার্চ দিয়ে আপনার ওই ব্লগ পোস্টটি পাবেনা। শুধুমাত্র ব্লগ পোস্টের মালিক ব্লগ পোস্টটি দেখতে পাবে।
    ৩) অনেক সময় কনটেন্ট পলিসি লঙ্ঘনের কারণে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিতে পারে।
    ৪) আবার কনটেন্ট পলিসির কারণে অনেকেরই দেখা যায় জিমেইল একাউন্ট এক্সেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
    ৫) দেশের আইন বিরোধী কোনো কাজ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করলে গুগল নিজে থেকেই আইন কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার আইন বিরোধী কাজের তথ্য দিয়ে দিতে পারে।

    কোন ব্লগ পোস্টে গুগলের নীতি নৈতিকতা বিরোধী কোন কাজ দেখলে গুগলের এই অফিশিয়াল লিংকে গিয়ে গুগলের কাছে অভিযোগ জানান= লিংক

    নীতি এনফোর্সমেন্ট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল

    ধরুন আপনি আপনার ব্লগ পোষ্টের একটি আর্টিকেল লিখেছেন এবং সেই আর্টিকেলটি কোন কারনে গুগল নীতিমালা বিরোধী কাজ উল্লেখ করে, গুগল আপনার আর্টিকেলটি ডিলিট করে দিয়েছে। যার কারনে আপনার সেই আর্টিকেলটি গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে সরিয়ে নিয়েছে অথবা ওই একটি আর্টিকেলের জন্য আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট লক করে দিয়েছে।
    নীতি-এনফোর্সমেন্ট-সংক্রান্ত-সিদ্ধান্তের-বিরুদ্ধে-আপিল-করা
    আপনি যদি মনে করেন আপনার আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ নিজের ইউনিক ছিল তাহলে আপনি পুনরায় গুগলের কাছে সেই আর্টিকেলটি সম্পর্কে আবেদন করতে পারেন। এই আবেদনটি করার উদ্দেশ্য হলো- 
    আপনি এই আবেদনটি করার মাধ্যমে গুগলকে জানাচ্ছেন আপনার আর্টিকেল টি কোন নীতিমালা লংঘন করেনি। আপনি যদি গুগলকে আবেদন করার সময় সঠিকভাবে প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে গুগল পুনরায় আপনার ওয়েবসাইট ফিরিয়ে দিবে এবং আর্টিকেল সার্চ ইঞ্জিনে শো করাবে।

    FAQs

    ১) কপিরাইট লঙ্ঘন কীভাবে এড়ানো যায়?
    উত্তরঃ সবসময় নিজস্ব এবং সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করতে হবে তাহলেই কপিরাইট লংঘন এড়ানো যাবে।

    ২) কীভাবে ক্লিকবেট এড়ানো যায়?
    উত্তরঃ সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক শিরোনাম ব্যবহার করতে হবে এবং শিরোনামের মূল বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে হবে তাহলেই ক্লিকবেট এড়ানো যাবে।

    ৩) আপডেটেড কনটেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তরঃ আপডেট কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ এবং নির্ভুল তথ্য প্রদান করে এবং গুগল র‍্যাংকিং-এ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এজন্য আপনার কনটেন্ট গুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হবে।

    ৪) মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
    উত্তরঃ মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করা খুব প্রয়োজন কারণ বর্তমানে মোবাইল দিয়ে ব্যবহারকারীরা বেশি ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে।

    ৫) গুগল কেন কপিরাইট লঙ্ঘনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে?
    উত্তরঃ গুগল কপিরাইট লক্ষণকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কারণ হচ্ছে সৃজনশীলতা এবং মৌলিকতাকে উৎসাহ প্রদান করা এবং কপিরাইট ধারককে ন্যায্য সুরক্ষা প্রদান করা।

    শেষ মন্তব্য

    গুগল এর কনটেন্ট পলিসি অনুসরণ করলে কনটেন্টের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিটি কনটেন্ট তৈরি করার সময় আপনাকে অবশ্যই এই নির্দেশনা গুলো মেনে আর্টিকেল লিখতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি গুগলের সমস্ত কনটেন্ট পলিসি মেনে চলে, আপনি কিভাবে মানসম্মত আর্টিকেল তৈরির সেরা গাইড পাবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার।
    এই পোস্ট শেয়ার করুন
    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url