সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কাকে বলে? SEO সম্পর্কে বিস্তারিত গাইড

এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে অনেক সহায়তা করবে কারণ। এই আর্টিকেলে আমি আজকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের খুঁটিনাটি সকল বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব। এই আর্টিকেলে আপনি আরো জানবেন অন-পেজ, অফ-পেজ, টেকনিকাল SEO এবং লোকাল এসইও সম্পর্কে। সহজে আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং বৃদ্ধি করার কৌশল শিখুন আজকের আলোচনা থেকে।
সার্চ-ইঞ্জিন-অপটিমাইজেশন-(SEO)
আশা করছি যারা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছেন তারা আজকের এই ব্লগ পোষ্ট থেকে অনেক উপকৃত হবেন। এছাড়া যারা নতুন এসইও সেক্টরে কাজ করছেন তাদের ক্ষেত্রেও আজকের এই ব্লগ পোস্টটি অনেক তথ্য প্রদান করবে। আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা SEO-এর মূল ধারণা, এর বিভিন্ন প্রকার এবং প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করব খুব সহজভাবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের আলোচনা।

পোস্ট সূচিপত্রঃ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)

এই আর্টিকেল থেকে আপনি যা কিছু শিখতে পারবেন তা একনজরে দেখে নিন-

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য খুঁজতে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেন। ওয়েবসাইটগুলোর জন্য এই সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্কিং পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার ওয়েবসাইট এবং আপনার ব্লগ পোস্ট ভালোভাবে এসইও করা না থাকলে আপনার আর্টিকেল কখনো গুগলের প্রথম পেজের র‍্যাংক করবে না।
সার্চ-ইঞ্জিন-অপটিমাইজেশন-(SEO)গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার জন্য যেই কৌশল বা প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, সেটি হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা সংক্ষেপে SEO। এটি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আপনার ব্যবসার বিকাশ ও ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এসইও (SEO) কাকে বলে?

এসইও (SEO) হচ্ছে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা আপনার ওয়েবসাইটে গুগলের অর্গানিক ভিজিটর আনতে সহায়তা করে। আপনি যদি ভালোভাবে আপনার আর্টিকেলটি অপটিমাইজেশন করতে না পারেন তাহলে আপনি গুগল থেকে অর্গানিকভাবে ভালো ভিজিটর পাবেন না যার ফলে গুগলের কাছে আপনার ওয়েবসাইটের মর্যাদা কমে যাবে।


SEO এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা হয়। যার ফলে যে ব্যক্তি কোন বিষয় নিয়ে সার্চ করে সেই ব্যক্তির কাছে সেই বিষয় দেখানো হয়। যার ওয়েবসাইটে যত ভালো এসইও করা থাকবে তার ওয়েবসাইটের পোস্টগুলো তত বেশি সেই সমস্ত সার্চ কৃত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাবে।
  • উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি গুগলে "সেরা মোবাইল ফোন" লিখে সার্চ করেন, তাহলে যে ওয়েবসাইটগুলো শীর্ষে আসে, সেগুলো SEO কৌশল ভালোভাবে ব্যবহার করেছে এবং ভালো কনটেন্ট লিখেছে।
SEO-এর উদ্দেশ্য হলো ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করা, অর্গানিক ভিজিটর আনা এবং ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা অর্গানিকভাবে বৃদ্ধি করা।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কত প্রকার ও কি কি?

এসইও (SEO) কে চার ভাগে ভাগ করা যায়। তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রথম তিনটি প্রকারভেদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ
  • অন-পেজ SEO (On-Page SEO)
  • অফ-পেজ SEO (Off-Page SEO)
  • টেকনিকাল SEO (Technical SEO)
চতুর্থ নম্বর প্রকারভেদ হচ্ছে লোকাল এসইও। অনেকে রয়েছেন যারা লোকাল এসইও কে এসইও এর প্রকারভেদের মধ্যে রাখেন না কিন্তু আমার মতে লোকাল এসইও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই লোকাল SEO (Local SEO)-কে আলাদা প্রকার হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ এই এসিও শুধুমাত্র স্পেসিফিক জায়গার ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। নিচে প্রতিটি এসইও প্রকারভেদের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।

১) অন-পেজ SEO (On-Page SEO)

অন পেজ এসইও বলতে সহজভাবে বলা যায়- ব্লগ পোস্টের ভেতরের বিভিন্ন বিষয়বস্তুগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজেশন করাকে বলা হয় অন পেজ এসইও। 

যেমন ব্লগ পোস্টের ভেতরের লেখা, ব্লগ পোস্টের ভেতরের ইমেজ, ব্লগ পোস্টের ভেতরে হেডিং ট্যাগ, ব্লগ পোষ্টের ভেতরের পারমালিংক, ব্লগ পোষ্টের সার্চ ডেসক্রিপশন, ব্লগ পোষ্টের লেভেল বা ক্যাটাগরি ইত্যাদি অপটিমাইজেশন করাই হচ্ছে অন পেজ এসইও।

অন পেজ এসইওর কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হল-

অন-পেজ SEO উদাহরণ
কীওয়ার্ড রিসার্চ ও অপটিমাইজেশনঃ ব্যবহারকারীরা কোন কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছেন তা বুঝে কনটেন্ট তৈরি করা।
টাইটেল ট্যাগ ও মেটা ডেসক্রিপশনঃ প্রতিটি পেজের টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন অপটিমাইজ করা।
ইন্টারনাল লিঙ্কিংঃ একটি পোষ্টের মধ্যে, সেই ওয়েবসাইটের অন্য একটি পোষ্ট লিংকিং করা।
ইমেজ অপটিমাইজেশনঃ ইমেজের ফাইল সাইজ কমানো এবং টাইটেল ট্যাগ+অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করা।
URL স্ট্রাকচারঃ ব্লগ পোস্টের সাথে মিল রেখে সহজ এবং রিলেভেন্ট URL বা পারমালিংক তৈরি করা।
 
অন-পেজ SEO এর মূল উদ্দেশ্য হলো- ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু এমনভাবে তৈরি করা যাতে এটি ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণ করে। অর্থাৎ অন্যভাবে বলতে গেলে ব্যবহারকারী যেন পরিপূর্ণ তথ্য পায়।

২) অফ-পেজ SEO (Off-Page SEO)

আমরা পূর্বে জেনেছি অন পেজ এসইও হচ্ছে একটি পোষ্টের ভেতরের বিষয়বস্তুগুলোকে অপটিমাইজেশন করা। কিন্তু অফ পেজ এসইও হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের বাইরের কার্যক্রম।

অর্থাৎ সহজ ভাবে বলতে গেলে আপনি যে ব্লগ পোস্ট লিখবেন সেই ব্লগ পোষ্টের লিংক যদি বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়াতে বা অন্য কোন ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সেটাই হচ্ছে অফ পেজ এসইও। বিভিন্নভাবে অফ পেজ এসইও করা যায়। তার কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হল।

অফ-পেজ SEO উদাহরণ
ব্যাকলিঙ্কঃ অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে লিঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে ব্যাকলিংক। গুণগত এবং মানসম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নিলে আপনার ওয়েবসাইটের রেংকিং এবং আপনার ব্লক পোষ্টের রেংকিং বৃদ্ধি পাবে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংঃ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট শেয়ার করা।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংঃ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট প্রচার করা।
গেস্ট ব্লগিংঃ অন্যান্য ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে আপনার ওয়েবসাইটে লিঙ্ক নেওয়া হচ্ছে গেস্ট ব্লগিং। সাধারণত ওয়েবসাইটে যখন অনেক ভেজিটর আসে এবং ওয়েবসাইট পুরনো হয়ে যায় তখন গেস্ট পোস্টিং করা ভালো।

অফ-পেজ SEO-এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কাছে প্রয়জনীয় তথ্য দিয়ে ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করার একটি প্রক্রিয়া।

৩) টেকনিকাল SEO (Technical SEO)

টেকনিক্যাল এসইও হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্লগ পোস্ট ইনডেক্স করাতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটে টেকনিক্যাল জনিত সমস্যা থাকলে আপনি আপনার ব্লগ পোস্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিনে দেখাতে পারবেন না। 

সহজ ভাবে বলতে গেলে আপনার পোস্টগুলো গুগলে পাবলিশ হবে না। ওয়েবসাইটের টেকনিক্যাল এসইও ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিচে দেওয়া হল।

টেকনিকাল SEO উদাহরণ
ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশনঃ ওয়েবসাইটের পেজ ওপেন হওয়ার সময় লোডিং টাইম কমাতে হবে।
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইনঃ মোবাইল ডিভাইসে ওয়েবসাইট যেন ভালোভাবে দেখা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং এর জন্য ভালো একটি থিম ব্যবহার করতে হবে।
সাইটম্যাপ তৈরিঃ সার্চ ইঞ্জিনের জন্য গুগল সার্চ কনসোল থেকে Sitemap.xml তৈরি করা।
Robot.txt তৈরিঃ Robots.txt হল একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল যা আপনার ওয়েবসাইটে যুক্ত করার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারদের ওয়েবসাইটের কোন পেজগুলি ক্রল করতে হবে বা এবং কোন পেজগুলি ক্রল করতে হবে না, তা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
SSL সার্টিফিকেটঃ ওয়েবসাইটে HTTPS ব্যবহার। এটি একটি ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি ব্যবস্থা যা ওয়েবসাইট এর তথ্য চুরি বা হ্যাকারদের হাত থেকে আপনার ওয়েবসাইটকে রক্ষা করে।
ক্যানোনিকাল ট্যাগ ব্যবহারঃ ডুপ্লিকেট কনটেন্ট এর সমস্যার সমাধান করতে আপনার ওয়েবসাইটের হেডার সেকশনে ক্যানোনিকাল ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।।

এই Technical SEO গুলো ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইটের Technical SEO র‍্যাংকিং বৃদ্ধি পাবে এবং গুগলের রোবট আপনার পোস্টগুলো খুব দ্রুত ক্রল (Crawl) করবে যার ফলে আপনার পোস্ট গুলো খুব দ্রুত গুগলে ইনডেক্স হবে।
টেকনিকাল-SEO

টেকনিকাল SEO (Technical SEO) Error সমূহঃ

এছাড়া, টেকনিক্যাল SEO এর কিছু বিশেষ ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি থাকে, যেগুলো সার্চ ইঞ্জিনের ইনডেক্সিং এবং র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ত্রুটিগুলো শনাক্ত ও সমাধান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি টেকনিক্যাল ইস্যুজনিত সকল সমস্যা সমূহ গুগল সার্চ কনসোল থেকে দেখতে পারবেন। সেখানে যে সমস্ত সমস্যাগুলো থাকবে সেই সমস্যা গুলো সলভ করতে হবে। 

সাধারণত গুগল সার্চ কনসোলে যে সমস্ত টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো দেখা যায় তার সমস্ত উদাহরণ নিচে দেওয়া হল-

টেকনিকাল SEO Error সমূহ উদাহরণ
Not Found 404 Error: যখন কোনও পেজ ডিলিট করে দেওয়া হয় বা পেজের URL পরিবর্তন করা হয়, তখন 404 এরর সৃষ্টি হয়। এই ত্রুটির কারণে ওয়েবসাইটের ভিজিটররা পেজটি দেখতে পান না, যা SEO এর জন্য আপনার ওয়েবসাইট গুগলের কাছে কম প্রাধান্য পায়।
Soft 404 Error: এটি তখন ঘটে যখন পেজটি বাস্তবে বিদ্যমান না থাকে, তবে সার্ভার 200 OK স্ট্যাটাস কোড প্রদান করে। এটি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সার্চ ইঞ্জিনে প্রভাব ফেলতে পারে। 404 error থেকে Soft 404 এর উৎপত্তি।
Page with Redirect Error: যখন একটি পেজ নতুন আরেকটি পেজে রিডাইরেক্ট করা হয়, তবে যদি রিডাইরেক্ট সঠিকভাবে কনফিগার করা না হয়, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলাররা এই পেজগুলোকে সঠিকভাবে ইনডেক্স করতে পারে না।
Excluded by No Index Tag Error: যদি কোনও পেজে "noindex" ট্যাগ যোগ করা থাকে, তবে সার্চ ইঞ্জিন সেই পেজকে ইনডেক্স করবে না। অনেকেই এটিকে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিংয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন। কিন্তু আমার মতে এটি কোন সমস্যা নয় কারণ অনেক সময় কিছু পেজ বা পোস্টে প্রাইভেসি জনিত কারণে "noindex" ট্যাগ যোগ করে রাখা হয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের মালিক ইচ্ছে করে তার কোন পেজ বা পোস্টকে নো ইনডেক্স করে রাখে যেন সেই পেজটি গুগলে Show না করে।
Crawled but Currently Not Indexed: সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যখন কোন পোস্ট বা পেজ ইনডেক্স করার জন্য ক্রল রিকোয়েস্ট করি কিন্তু যদি সেটি ইনডেক্স না হয়, তবে সেই পেজ সার্চ রেজাল্টে দেখানো হবে না।
Discovered but Currently Not Indexed: অনেক সময় আমরা কোন পোস্ট বা পেইজ লিখে রেখে দিই কিন্তু ইনডেক্স করিনা। কিন্তু এই পেজ গুগল ইনডেক্স না করলেও ডিসকভার করে। আবার Google এই পেজ ডিসকভার করলেও এটি ইনডেক্স করেনা। এই পেজগুলো বা পোস্টগুলো আমরা যখন ডিলিট করে দিই, তখন ডিলিট হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু গুগলের সার্ভারে ডিসকভার হয়ে থেকে যায়।
Blocked by robots.txt: যদি robots.txt ফাইলটি সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারদের নির্দিষ্ট পেজ বা পুরো সাইট ক্রল করতে নিষেধ করে, তবে সেই পেজগুলো ইনডেক্স হবে না। এটি robots.txt ফাইল এর মধ্যে ইমপ্লিমেন্ট করতে হয়। এটিও কোন এরর নয় কারণ এটি ওয়েবসাইটের মালিক নিজেই নির্দিষ্ট কোন পেজকে গুগলে Show না করার জন্য robots.txt ফাইলে কিছু কোড যুক্ত করে।
Blocked Due to Access Forbidden (403): 403 ত্রুটি তখন ঘটে যখন ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পেজের জন্য অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ থাকে। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলাররা পেজটি ইনডেক্স করতে পারে না। এই ত্রুটি নো ইনডেক্স ট্যাগ এর সাথে কানেক্টেড।
Alternative Page with Proper Canonical Tag: এটি তখন ঘটে যখন দুটি URL একই কনটেন্ট প্রদান করে, অর্থাৎ আপনি যখন দুইটি ইউআরএল নিয়ে গুগলে সার্চ দিবেন তখন একটি ফলাফল আসবে। Canonical tag সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে এই এরর গুলো আসে।
Duplicate without User Selected Canonical: Canonical Tag সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে Alternative Page with Proper Canonical Tag এর পাশাপাশি Duplicate without User Selected Canonical error শো করে।

এই সমস্ত এররগুলোর সঠিক সমাধান করতে পারলে আপনার ওয়েবসাইট একদম ফ্রেশ থাকবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত পোস্ট ইনডেক্স হবে। Google সার্চ কনসোল এর এরর গুলো সাধারণত কয়েক মাস পর পর পরিবর্তিত হয়। তাই এই এররগুলো নিয়ে আপনার টেনশন করার কোন কারণ নেই। 

অনেক সময় আপনার ওয়েবসাইটে সবকিছু ঠিক থাকলেও এই এরর গুলো আসে। এই এরর গুলো সাধারণত রোবোটিক ভাবেই তৈরি হয় আবার রোবটিক ভাবেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি কোন টেকনিক্যাল ইস্যু নিজে থেকেই তৈরি করেন তাহলে সেই ইস্যু আপনাকে অবশ্যই ঠিক করতে হবে।

টেকনিক্যাল এরর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি টেকনিক্যাল এসইও এর এই ইররগুলো একে অপরের সাথে কানেক্টেড। অর্থাৎ আপনি যখন কোন এরর ফিক্স করবেন তখন অটোমেটিক অন্যান্য এরোর গুলো ফিক্স হয়ে যাবে।


তাছাড়া এই এরর গুলোর মধ্যে থেকে সবগুলো এরর আপনার ওয়েবসাইটে খারাপ প্রভাব ফেলবে বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ ধরুন আপনি কোন পোস্ট বা পেজ গুগলে দেখাতে চাচ্ছেন না তাই আপনি সেটি নো ইনডেক্স করে রেখেছেন বা টিএক্সটি ফাইলে Disallow করে রেখেছেন। সে ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু ইচ্ছে করেই এই পেজগুলো নো ইনডেক্স বা Disallow করে রেখেছেন যেহেতু এগুলো কোন এরর না। কিন্তু গুগলের রোবট এগুলোকে এরর হিসেবে কাউন্ট করে কারণ সে একজন রোবট মানুষ নয়।

৪) লোকাল SEO (Local SEO)

লোকাল SEO হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা বা জায়গার জন্য ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করার একটি প্রক্রিয়া। এটি স্থানীয় ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য এটিকে লোকাল SEO (Local SEO) বলা হয়। সাধারণত কোন কোর্স বিক্রি, পণ্য ও সেবা বিক্রির জন্য এই এসইও করা হয়।

ধরুন আপনার কোন পোশাকের বিজনেস রয়েছে, আপনি এখন আপনার লোকাল এরিয়া থেকে কাস্টমার পেতে চান। সে ক্ষেত্রে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে লোকাল এসইও করতে হবে। তাহলে আপনি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশের এলাকা থেকে অনেক ক্রেতা পাবেন। এই ক্রেতা গুলো গুগলে সার্চ করার মাধ্যমে আপনার সার্ভিসগুলো খুঁজে পাবে।

লোকাল এসইও এর কিছু উদাহরণ লিখে দেওয়া হল-

লোকাল SEO উদাহরণ
Google My Business প্রোফাইল: আপনার ব্যবসার নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর Google My Business-এ যুক্ত করা।
লোকাল কীওয়ার্ড ব্যবহার: নির্দিষ্ট এলাকার কীওয়ার্ড দিয়ে কনটেন্ট তৈরি।
লোকাল রিভিউ: গ্রাহকদের কাছ থেকে পজিটিভ রিভিউ যা গুগল মাই বিজনেস থেকে সংগ্রহ করা।

লোকাল SEO-এর মাধ্যমে ব্যবসাগুলো স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারে।

SEO এর গুরুত্ব

SEO ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম শক্তিশালী একটি কৌশল কারণ এটি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে শীর্ষস্থানে আনার মাধ্যমে আরও বেশি ট্রাফিক আনতে সহায়তা করে এবং ব্যবসার প্রসার বাড়াতে সাহায্য করে। 

যেমনঃ
SEO এর গুরুত্ব
বিভিন্ন কাস্টমার আকর্ষণ করাঃ এটি আপনার সাইটে প্রাসঙ্গিক কাস্টমারদের সম্পূর্ণ অর্গানিকভাবে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিঃ ভালো SEO প্র্যাকটিস আপনার ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
লং-টার্ম ফলাফলঃ SEO কৌশল অবলম্বন করা একটু সময় সাপেক্ষ হলেও আপনি যদি একবার সঠিকভাবে সময় নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল পাবেন।

FAQ

১) অন-পেজ SEO-এর মূল কাজ কী?
উত্তরঃ অন-পেজ SEO-এর মূল কাজ হচ্ছে- ওয়েবপেজের কনটেন্টকে অপটিমাইজ করা এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বাড়ানো।

২) অফ-পেজ SEO-এর মূল কাজ কী?
উত্তরঃ অফ-পেজ SEO-এর মূল কাজ হচ্ছে- ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করা এবং ব্যাকলিঙ্ক বাড়ানো। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার ভিজিটর নিয়ে আসা এই এসইওর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

৩) টেকনিকাল SEO কীভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ টেকনিকাল SEO ভালো থাকলে এটি সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলারদের ওয়েবসাইটটি সঠিকভাবে বুঝতে এবং পর্যোবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। 

৪) লোকাল SEO কাদের জন্য প্রয়োজন?
উত্তরঃ লোকাল SEO স্থানীয় ব্যবসার জন্য প্রয়োজন।

৫) ব্যাকলিঙ্ক কী?
উত্তরঃ ব্যাকলিঙ্ক হচ্ছে অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটে লিঙ্ক তৈরি করার একটি প্রক্রিয়া।

৬) SSL সার্টিফিকেট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ SSL সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তথ্য চুরি হওয়া বা হ্যাকিং এর হাত থেকে ওয়েবসাইটকে রক্ষা করে।

শেষ মন্তব্য

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ডিজিটাল মার্কেটিং-এর প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। অন-পেজ SEO, অফ-পেজ SEO এবং টেকনিকাল SEO প্রতিটির নিজস্ব আলাদা আলাদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য। 

যেকোনো ওয়েবসাইটের সফলতা নির্ভর করে সঠিক SEO কৌশল প্রয়োগের উপর। তাই, SEO-এর প্রতিটি দিক ভালোভাবে বুঝে প্রয়োগ করলে ৭০% কন্টেন্ট সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষ র‍্যাঙ্কিং এ নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url