গ্রামের শীতের সকালের ৪৫+ ছবি | গ্রাম বাংলার শীতের সকালের ছবি
গ্রামের শীতের সকালের ছবি- শীতের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে মূলত গ্রামের দিকে। তাই আমরা
যারা শহরের দিকে থাকি তারা শীতের সকালের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি না। তাই
এখন আমরা মনোমুগ্ধকর গ্রাম বাংলার শীতের সকালের ছবিগুলো এখন দেখব। এই ছবিগুলো
দেখলে আপনার মন হারিয়ে যাবে গ্রামের শীতের সকালের অজানা এক রাজ্যে।

আপনারা যদি গ্রামের শীতের সকালের ছবিগুলো পর্যায়ক্রমিক ভাবে দেখতে চান তাহলে এই
আর্টিকেলটি আপনাদের সহায়তা করবে। এছাড়া শীতকালীন বিষয়ক স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু
টিপস আমি এই আর্টিকেলে আলোচনা করব।
সূচিপত্রঃ গ্রামের শীতের সকালের ছবি | গ্রাম বাংলার শীতের সকালের ছবি
এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যা কিছু জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-
গ্রামের শীতের সকালের ছবি
শীতের সকালের প্রথম সূর্যরশ্মি যখন গ্রামের মাটিতে পড়ে, তখন প্রকৃতি যেন নতুন
করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। বাতাসে মিষ্টি কুয়াশার ছোঁয়া, আর দূরে ভেসে আসে পাখিদের
পাখা ঝাঁপানোর শব্দ। গ্রামের ছোট ছোট বাড়ির ছাদে জমে থাকা শিশিরের দানা সূর্যের
আলোতে চকচক করে।
আরো পড়ুনঃ শৈত্যপ্রবাহ কখন হয় ও কত দিন থাকে
মানুষজন তাজা বাতাসে প্রাণপ্রিয়ভাবে হাঁটতে বের হয়, যেন শীতের শান্ত পরিবেশে
হারিয়ে যায় সব দুশ্চিন্তা। শীতের সকালের এই দৃশ্য গ্রামের জীবনযাত্রার এক
অমূল্য ছবি, যা মনকে শান্তি ও তৃপ্তির অনুভূতি দেয়।
গ্রামের শীতের সকালের ছবি দেখুনঃ
গ্রাম বাংলার শীতের সকালের ছবি
শহরের শীতের সকালের পরিবেশ
শীতে শরীরের পরিবর্তন ও যত্ন
যে কোন ঋতু পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে মানুষদের শরীরের ওপরেও প্রভাব ফেলে। ঠিক
এজন্যই শীত ঋতুর সময় মানুষদের শরীরের উপর বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে।
তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের কার্যক্রম ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন
লক্ষ্য করা যায়।
এজন্য শীতে শারীরিক অঙ্গ পতঙ্গের উপর বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত কারণ শরীরের
ত্বক, হাড় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শীতের সময় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
শীতের আগমনের সাথে মানিয়ে নিয়ে কিভাবে আপনার শরীরের পরিবর্তন আনবেন ও যত্ন
নিবেন তা নিম্নে নিচে দেওয়া হল-
ত্বকের শুষ্কতা ও কেরাটিনের বৃদ্ধি
শীতকাল মানে ত্বকের সুষ্কতা বেড়ে যাওয়া ও ক্যারোটিন বৃদ্ধি পাওয়া। শীতকালে
আমাদের দেহের ত্বকের প্রাকৃতিক আদ্রতা হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে বায়ুর
আদ্রতা কমে যাওয়া। সাধারণত শীতের তাপমাত্রা কমে গেলে বায়ুর আদ্রতাও কমে
যায়।
ঠিক এই কারণেই আমাদের ত্বকের রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময় ত্বকে
ময়েশ্চারাইজিং রাখতে হলে ক্রিম ও তেল দিয়ে সঠিকভাবে ত্বকের রত্ন নিতে হবে।
রক্ত সঞ্চালন ও শিরা সংকোচন
শীতকালে ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজমান থাকার কারণে শরীরের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে
যায়। আর শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালন ধীরে প্রবাহিত
হতে থাকে। এজন্য শীতের সময় অনেকেরই শরীরে ঠান্ডা বেশি লাগে।
আবার কারো কারো খিঁচুনি দেখা দেয়। অনেক সময় এই খিঁচুনি শরীরের কিছু অংশে হতে
পারে। তাই এই সময় সঠিক পোশাক পরিধান করতে হবে, হালকা ব্যায়াম করতে হবে ও গরম
পানি গ্রহণ করতে হবে।
শ্বাস প্রশ্বাসে পরিবর্তন
শীতকালে যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হতে
পারে। এই সময়ে ঠান্ডা ও শুকনো বাতাস শ্বাসনালীকে শুষ্ক রাখে যার ফলে কাশি
বেড়ে যায়। কাশি বেড়ে যাওয়ার ফলে আস্তে আস্তে শ্বাসকষ্ট শুরু হতে থাকে।
এজন্য আপনারা শীতের সময় গরম পানি খাবেন, মেডিটেশন করবেন, মেডিটেশন করার সময়
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করবেন।
হাড় ও মাংসপেশীর অবস্থা
শীতকালে আপনার শরীরের হাড় ও মাংসপেশিতে কিছুটা সংকোচন হতে পারে। যখন শীতকালে
এই ধরনের সমস্যা হবে তখন আপনার জয়েন্ট পেইন বা মাংসপেশিতে টান লাগা অনুভব হতে
পারে।
যদি শীতকালে এই ধরনের সমস্যা হয় তাহলেও আপনাকে নিয়মিত সকালে হাটাহাটি করতে
হবে। যদি ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে আরো ভালো হয়। এছাড়াও ভিটামিন ডি গ্রহণ
করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন
শীতের সময় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। এজন্য আমাদের শরীর ঠান্ডা আবহাওয়াতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াতে আক্রমণ হতে
পারে। শীতের সময় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন, নিয়মিত ঘুমাবেন এবং পানি
গ্রহণ করবেন তাহলেই এই সমস্যা থেকে সমাধান পেতে পারেন।
শীতের সময় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
শীতের সময় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরী। তাপমাত্রা কমে গেলে মানুষের শরীরে
আরো বেশি ক্যালরির প্রয়োজন পড়ে। এজন্য এ সময় চর্বি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু তাই বলে বেশি তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করা যাবে না। চর্বি ও
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
মানসিক পরিবর্তন
এই সময় মানসিক বিষন্নতা দেখা দিতে পারে। আর মানসিক বিষন্নতা থেকে মানসিক
অবস্থার পরিবর্তন হয়। শীতের সময় দিনের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ার কারণে এবং আলো কম
থাকার কারণে হঠাৎ করেই শরীরের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
এটাকে বলা হয় "সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার" (SAD)। এটি যখন হয় তখন বিষন্নতা
ও অবসন্নতা অনুভব হয়। এ অবস্থায় কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া যায় না।
শীতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখা
শীতের সময় শরীরের ভেতরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এই সময়
শীতকালীন গরম কাপড় পড়তে হবে। ঘরের ভেতরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
খাবার সমূহ গরম করে খেতে হবে। তাহলে আপনারা এই সময় শরীরের সঠিক তাপমাত্রা
বজায় রাখতে পারবেন।
শীতকালীন ঘুম ও বিশ্রাম
শীতের সময় মানুষকে বেশি ঘুমানোর জন্য আকর্ষিত করে। যেহেতু এই সময়ে শরীরের
তাপমাত্রা কমে যায় সেহেতু এ সময় অতিরিক্ত ঘুমানোর অনুভূতি জাগতে পারে।
কিন্তু তাই বলে শীতের সময় অতিরিক্ত ঘুমানো যাবে না। পর্যাপ্ত পরিমাণে ও
মানসম্মত ঘুম দিতে হবে। তবেই আপনার শরীর শীতের সময় সক্রিয় এবং পুনরুজ্জীবিত
থাকবে।
শীতে পর্যাপ্ত পানি পান
শীতের সময় পানির পিপাসা কম লাগে এজন্য সকলের পানি খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
মনে রাখবেন শীতের সময়ও আপনার শরীরের আদ্রতা বজায় রাখা জরুরি এজন্য
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। তাহলে আপনার শরীর এবং ত্বক দুটোই ভালো
থাকবে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে শীতের সময় আবহাওয়া শরীরের উপর বিপরীত
প্রভাব ফেললেও সঠিক যত্ন এবং সাবধানতা আপনাকে শীতের সময়ে অসুস্থতার হাত থেকে
রক্ষা করতে পারে। আপনি যদি একটু যত্নশীল হন তাহলে আপনি শীতকালেও নিজেকে ভালো
রাখতে পারবেন।
শীতকালে খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ থাকার উপায়
শীতের সময় খাদ্যাভ্যাস এর উপর সঠিকভাবে মনোযোগ দিলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।
শীতের সময় খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে নিজের আলোচনাটুকু পড়ুন।
উষ্ণ খাবারের প্রতি মনোযোগ দিন
শীতের সময় সব সময় উষ্ণ খাবারের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। চেষ্টা করবেন খাবার
গরম করে খেতে। বিশেষ করে এই সময় গরম ভাত, গরম স্যুপ, গরম দুধ ইত্যাদি খাবার
গুলো খেতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে।
গরম পানীয় যেমন চা এবং কফি
শীতকালে আপনি আধা চা, দারুচিনি চা অথবা লেবু-শাহি চা পান করতে পারেন কারণ এগুলো
শীতের আবহাওয়া খুবই উপকারী। এগুলো আপনার শরীরকে শীতের সময়েও উষ্ণ রাখবে ও
ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখবে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার
এ সময় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ কমলা, কিউই, পেঁপে এবং লেবু খেতে পারেন।
কারণ এই খাবারগুলো শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। তাছাড়া শীতকালে
সর্দি কাশির প্রবণতা কমাতে ভিটামিন সি খুবই উপকারী।
প্রোটিনের সমৃদ্ধ খাবার
এছাড়া শীতকালে আপনাকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ ডাল, মাংস, ডিম এবং বাদাম
খেতে হবে কারণ এগুলো আমাদের শরীরের নতুন পেশী তৈরিতে সহায়তা করে। আবার প্রোটিন
আমাদের শরীরের তাপ উৎপাদন করতে সহায়তা করে যা শীতের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে
ভূমিকা রাখে।
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটস
কিছু কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটস সমৃদ্ধ খাবার রয়েছে যেমনঃ ব্রাউন রাইস, ওটমিল,
শিম এবং শাকসবজি। এগুলো শীতের সময় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটস শীতের সময় আমাদের শরীরের শক্তি প্রদান করে এবং
দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখে।
বিভিন্ন ধরনের মসলা
বিভিন্ন ধরনের মসলা যেমনঃ হলুদ, আদা, দারুচিনি, লং, কালোজিরা ইত্যাদি শীতের
সময় আমাদের খাওয়া উচিত কারণ এগুলো শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
আবার এই খাবারগুলো শরীরের তাপ উৎপাদনেও সহায়তা করে। এর পাশাপাশি আপনার পেটের
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এ মসলাগুলো খাওয়া প্রয়োজন।
পানি সঠিক পরিমাণে গ্রহণ
শীতের সময়ে পানির পিপাসা কম লাগলেও আমাদের কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি
খাওয়া উচিত। ১০ গ্লাস খেতে না পারলেও ৮ গ্লাস অবশ্যই খেতে হবে। তাহলে আপনার
ত্বকের শুষ্কতা রক্ষা পাবে।
ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার
কিছু ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ অ্যাভোকাডো, বাদাম, আখরোট এবং অলিভ অয়েল আমাদের
শরীরের তাপমাত্রার সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে। এজন্য এই খাবারগুলো আমাদের শরীরের
জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে যেহেতু এই খাবারগুলো ওজন বাড়াতে সাহায্য করে তাই
অতিরিক্ত পরিমাণে এগুলো খাওয়া উচিত নয়।
শাকসবজি-ফলমূল ও মাংসের ভারসাম্য
শীতের সময়ে কিছু শাকসবজি যেমনঃ পেঁয়াজ, রঙিন শাক, গাজর, ব্রকলি, ফুলকপি
ইত্যাদি বেশি খাওয়া উচিত। এর পাশাপাশি আমাদের মাঝে মাঝে মাংস খাওয়া উচিত যেন
শীতের সময় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়।
এছাড়াও আপনারা মাঝেমধ্যে ফলমূল খাবেন। দেশীয় ফলমূল বেশি করে খাবেন কারণ ফলমূল
আমাদের শরীরের খনিজ ও ভিটামিন সরবরাহ করে।
হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার
যে সমস্ত খাবারগুলো হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য সে সমস্ত খাবারগুলো খেতে হবে যেমনঃ
সুজি, খিচুরি, স্যুপ, দই ইত্যাদি। শীতের সময় এই খাবারগুলো আমাদের পরিপাকতন্ত্র
সহজ রাখে ফলে দ্রুত হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বিশ্বব্যাপী শীতকালীন উৎসব ও পার্বণ
শীতের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালন করতে দেখা
যায়। শীতের সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কেমন ধরনের উৎসব পালিত হয় তার
জানার জন্য নিচে পড়ুন।
ক্রিসমাস (Christmas): প্রতিবছর শীতের সময় ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস
উদযাপিত হয় এটি খ্রিস্টানদের একটি ধর্মীয় উৎসব। এছাড়াও এই সময় বাড়ি ও
রাস্তাঘাট বিভিন্ন রংবেরঙের লাইট দিয়ে সাজানো হয়। বিশেষ বিশেষ খাবারের আয়োজন
করা হয়।
হানুক্কাহ (Hanukkah): এটি ইহুদীদের একটি শীতকালীন উৎসব যা সাধারণত
ডিসেম্বর মাসে উদযাপিত হয়। এই উৎসবটি টানা আর দিন ধরে চলতে থাকে। এই উৎসবের
বিশেষ খাবার গুলো হচ্ছে- লাটকিস (পোট্যাটো প্যানকেকস) এবং সাফগানিওত (ডোনাটস)।
নিউ ইয়ার (New Year): প্রতি বছর শীতের সময়ে বিশ্বব্যাপী নতুন বছর পালন
করা হয়। কারণ ৩১শে ডিসেম্বরের পরেই নতুন বছর শুরু হয়। আর এই সময়ই প্রচন্ড
শীত থাকে।
লোহরি (Lohri): এই উৎসবটি ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলের একটি জনপ্রিয়
শীতকালীন উৎসব। এই উৎসবের আরেক নাম হচ্ছে শস্যকাষাণের উৎসব। ভারতের পাঞ্জাব
অঞ্চলে এই উৎসবটি পালিত হয় জানুয়ারি মাসে। এটি মূলত সেখানকার কৃষকদের শস্য
কাটার সময়ে বিশেষ একটি উৎসব। এই সময় ভারতীয় পাঞ্জাবী কৃষকদের ঘরে ঘরে নাচ
গান হয়।
সন্তা ক্লজ (Santa Claus): শীতকালে ক্রিসমাস উৎসবের সময় বড় বড় উপহার
সামগ্রী বিতরণের জন্য সন্তা ক্লজ পালন করা হয়। সন্তা ক্লজ মূলত একটি চরিত্র যা
ছোট ছোটদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
দ্বাদশ রাত (Twelfth Night): এই উৎসবটি ইংরেজদের একটি প্রাচীনতম উৎসব
যা ক্রিসমাসের সময়ে ৫ জানুয়ারি উদযাপিত হয়। এই সময় সেখানকার মানুষজন
বিভিন্ন নাট্যমঞ্চ, সংগীত পরিবেশন করে। যেহেতু এটি একটি শেক্সপিয়রীও থিমেটিক
উৎসব সেহেতু এখানে হাস্যকর ও মজাদার নাটক পরিবেশন করা হয় বেশি।
শীতকালীন চাইনিজ নববর্ষ (Chinese New Year): শীতকালে চীনদের একটি উৎসব
রয়েছে যার নাম হচ্ছে চাইনিজ নববর্ষ। এটিও চীনাদের একটি পুরনো ঐতিহ্য।
চাইনিজদের এই নববর্ষটি তাদের ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন উদযাপিত হয়।
হোলি (Holi): এটি মূলত একটি বসন্তকালীন উৎসব। শীতের শেষ সময়ে এই
উৎসবটি হয়ে থাকে। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের রং দিয়ে এবং রং মুখে মাখিয়ে একে
অপরের সঙ্গে খেলা করা হয়।
থ্যাঙ্কসগিভিং (Thanksgiving): এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাতে
শীতকালীন একটি উৎসব। প্রতিবছর দেখা যায় নভেম্বরের শেষ দিকে পরিবার পরিজন
একত্রিত হয়ে এই উৎসবটি পালন করে। এই সময় সকলে একত্রে বসে খাওয়া-দাওয়া করা
হয় এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। এই উৎসবের বিশেষ কিছু খাবার হচ্ছে- টার্কি,
আলু, কুমড়া পাই এবং শাকসবজি।
বাংলাদেশের শীতকালীন উৎসব: বাংলাদেশের শীতের সময় ১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে
ফেব্রুয়ারি, থার্টিফার্স্ট নাইট এগুলোতে উৎসব আনন্দ করা হয়। যদিও একুশে
ফেব্রুয়ারীর সময়ে শীত তেমন বেশি থাকে না কারণ এই সময় বাংলাদেশ থেকে শীত চলে
যেতে থাকে। এছাড়া মুসলমানদের জন্য “মুহাররম” শীতকালে দেখা যায়।
FAQs
Q) শীতের ইংরেজি কি?
A) শীতের ইংরেজি হচ্ছে Winter।
Q) শীত শব্দের অর্থ কী?
A) শীত শব্দের অর্থ হচ্ছে ঠান্ডাভাব।
Q) কুয়াশা ইংরেজিতে কি?
A) কুয়াশাকে ইংরেজিতে বলা হয় Fog।
Q) Foggy মানে কী?
A) Foggy মানে হচ্ছে কুয়াশাচ্ছন্ন বা কুয়াশায় আবৃত।
Q) শিশির এর ইংরেজি কি?
A) শিশির এর ইংরেজি হচ্ছে- Dew।
শেষ মন্তব্য
মোটকথা শীত ঋতু আমাদের পরিবেশের এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ
ষড়ঋতুর দেশ এবং এই দেশে ছয়টি ঋতুতে ছয় ধরনের সৌন্দর্য পরিলক্ষিত হয়। তবে
শীতের সময়ের যে পরিবেশ তা একদমই ভিন্ন রকম আমেজ সৃষ্টি করে। গ্রামের শীতের
সকালের ছবি আপনারা যদি আরও পেতে চান তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমরা যদি
আরো শীতের সকালের ছবি কালেকশন করতে পারি তাহলে এখানে তা আপডেট করে দিব।