উইন্ডোজের সেরা ২৫টি অ্যাপ | Windows software এর সমাহার
উইন্ডোজের সেরা
২৫টি অ্যাপস সম্পর্কে আপনি কি জানতে চান? আমি আজকে আপনাদের সাথে সাথে যে সমস্ত
সফটওয়্যার গুলো নিয়ে আলোচনা করব, এই সফটওয়্যার গুলো আপনার প্রতিদিনের দৈনন্দিন
প্রয়োজনীয় কাজগুলোকে আরো সহজ করে দিবে।
এই আর্টিকেল থেকে আপনি উইন্ডোজের সেরা ২৫টি অ্যাপ পাবেন, এছাড়াও আপনি আরো অনেক
প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পাবেন যেগুলো আপনার কম্পিউটারের কাজকে আরো দ্রুত করে দিতে
সহায়তা করবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের টপিক।
সূচিপত্রঃ উইন্ডোজের সেরা ২৫টি অ্যাপ | Windows software এর সমাহার
এই আর্টিকেল থেকে আপনি যা কিছু জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-
উইন্ডোজের সেরা ২৫টি অ্যাপ
আজকে আমরা প্রথমে উইন্ডোজের সেরা ১০টি অ্যাপ সম্পর্কে জানব। এরপর আমরা উইন্ডোজ এর
আরো বিভিন্ন অ্যাপ সম্পর্কে আলোচনা করব। চলুন প্রথমে আমরা উইন্ডোজের সেরা ১০টি
সফটওয়্যার সম্পর্কে জেনে আসি।
উইন্ডোজের সেরা প্রথম ১০টি অ্যাপ
Rufus:
আপনারা যদি আপনাদের পেনড্রাইভ বা মেমোরিকে বুটেবল করতে চান তাহলে Rufus এই
অ্যাপটি ব্যবহার করুন। এই অ্যাপসটি ওপেন করার পরে আপনারা আপনাদের পেনড্রাইভ
কানেক্ট করবেন এবং আইওএস লোড করে ওকে করে দিবেন।
যেভাবে ডিফল্ট সেটিং থাকবে সেভাবেই রাখবেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন আপনার
পেন্ড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড বুটেবল হয়ে গেছে। এখন আপনি এই পেনড্রাইভ বা
মেমোরি কার্ড দিয়ে যে কোন কম্পিউটারে উইন্ডোজ দিতে পারবেন অনায়াসেই।
FXSound:
উইন্ডোজে সাউন্ড কাস্টমাইজেশন করা খুব ভালো হয় না। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি
একজন মিউজিক লাভার হয়ে থাকেন এবং আপনি জরে গান বাজাতে পছন্দ করেন তাহলে এই
সফটওয়্যারটি আপনাকে আপনার গান শোনার এক্সপেরিয়েন্সকে আরও বাড়িয়ে দিবে
অনেক গুণ বেশি।
QuickLook:
আপনারা সবাই জানেন ম্যাকবকে কুইক প্রিভিউ রয়েছে, যার জন্য ম্যাকবকের
সফটওয়্যার খোলার স্পিড অনেক স্মুথলি কাজ করে। আপনারা যদি উইন্ডজেও
ম্যাকবুকের মত কুইক রিভিউ এর মজা পেতে চান তাহলে QuickLook এই সফটওয়্যারটি
ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এতে করে আপনার উইন্ডোজ ব্যবহার করার এক্সপেরিয়েন্স
বহুগুনে উন্নত হয়ে যাবে।
WinRar:
যেকোনো ধরনের জিপ ফাইল ওপেন করার জন্য অথবা যেকোনো ধরনের ফাইল জিপ করার জন্য এই
সফটওয়্যারটি প্রতিটি কম্পিউটারে ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে। জিপ তৈরি করার জন্য
আপনি 7zip সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু সেই সফটওয়্যারে বেশি ফিচার
নেই। আপনি যদি WinRar ব্যবহার করেন তাহলে Zip, Rar, Tar, Jar ইত্যাদি ফাইলগুলো
খুব সহজেই ওপেন করতে পারবেন।
Notepad++ / Sublime Text Editor:
বিভিন্ন ধরনের লেখা এবং কোডিং করার জন্য উইন্ডোজের ডিফল্ট নোটপ্যাড ব্যবহার না
করে যদি আপনি Notepad++ ব্যবহার করেন তাহলে আপনার সমস্ত কোড অথবা টেক্সট খুব
ভালোভাবে স্ক্রিনের উপরে দেখতে পারবেন। যারা অ্যাডভান্স কোডিং করেন তারা
Notepad++ ব্যবহার না করে Sublime Text Editor ব্যবহার করবেন।
LocalSend:
আপনারা অনেকেই রয়েছেন যারা এন্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ, লিনাক্স কিংবা
অন্যকোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন। এই সবগুলো অপারেটিং সিস্টেমে ফাইল
ট্রান্সফার করার জন্য LocalSend ব্যবহার করুন।
সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এই একটি অ্যাপ রয়েছে যে অ্যাপ দিয়ে আপনি যেকোনো ধরনের
অপারেটিং সিস্টেমে যেকোনো ধরনের ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন মুহূর্তের
মাধ্যেই, কারণ এই সফটওয়্যারটি অনেক ফাস্ট। আমরা জানি ম্যাকবুক থেকে উইন্ডোজ
বা উইন্ডোজ থেকে ম্যাকবুক বা আইওএস থেকে আন্ড্রয়েড এর ফাইল ট্রান্সফার
করতে হলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
আরো পড়ুন:
সেরা ১৫+ ক্রোম এক্সটেনসন
কিন্তু আপনার কাছে যদি এই সফটওয়্যারটি থাকে তাহলে আপনি এক মুহূর্তেই যে কোন
সফটওয়্যার ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন। এখানে যে কোন অপারেটিং সিস্টেম সমান
ভাবে কাজ করে। আরেকটি মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সফটওয়্যার কানেক্ট করতে কোন
ইন্টারনেট বা থার্ড পার্টি কোন কানেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
Microsoft PC Manager:
আপনারা অনেকেই আপনাদের পিসি ক্লিন রাখার জন্য সিসি ক্লিনার বা অন্যান্য
যেকোনো ধরনের থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করেন। এখন থেকে আপনাদের আর কোন
থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করা লাগবে না, কারণ মাইক্রোসফট অফিসিয়ালি তাদের
নিজস্ব একটি সফটওয়্যার নিয়ে এসেছে যার নাম হচ্ছে Microsoft PC Manager।
আপনি অন্যান্য বুস্টিং বা ক্লিনার সফটওয়্যার এর চেয়ে মাইক্রোফট এর এই
সফটওয়্যারটিতে অনেক ভাল পারফরম্যান্স পাবেন।
এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটার বুস্টিং করে স্পিড বাড়াতে
পারবেন। বিভিন্ন ধরনের অপ্রয়োজনীয় ফাইলসমূহ যা কম্পিউটারের লোকাল ড্রাইভে
জমা হয়ে থাকে। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনারা ডিলিট করে দিতে পারবেন সকল
অপ্রয়োজনীয় জমা হয়ে থাকা ফাইলগুলো।
LightShot:
আপনি Win+Shift+S একসঙ্গে প্রেস করে যে কোন কম্পিউটার বা ল্যাপটপে স্ক্রিনশট
নিতে পারবেন। কিন্তু সেই স্ক্রিনশটটিকে আপনি এডিট বা মডিফাই করতে পারবেন না।
আপনি যদি স্ক্রিনশট তোলার সাথে সাথেই সেই স্ক্রিনশট থেকে নিজের মত করে মডিফাই
করতে চান তাহলে ব্যবহার করুন LightShot সফটওয়্যারটি। এই সফটওয়্যারটি
ইন্সটল করার সাথে সাথে আপনার সিস্টেম Tray তে চলে আসবে।
Avro Keyboard:
আপনি ইংলিশ লিখলেই বাংলা হয়ে যাবে। আপনার মোবাইলে আপনি যেভাবে দ্রুত ইংলিশ
লিখে বাংলায় টাইপ করেন ঠিক সেম পদ্ধতিতে আপনি যদি কম্পিউটারে টাইপ করতে চান
তাহলে ব্যবহার করুন অভ্র কিবোর্ড।
Twinkle Tray:
ডেক্সটপ ইউজারদের মনিটরের ব্রাইটনেস বাড়ানো কমানোর জন্য এই সফটওয়্যারটি খুবই
পাওয়ারফুল। দেখুন ডেক্সটপ ইউজারদের মনিটরে ব্রাইটনেস বাড়ানোর জন্য মনিটরের
পেছনে হাত দিতে হয়। খুঁজে খুঁজে বের করতে হয় ব্রাইটনেস কমানোর বাটনটি। কিন্তু
আপনি আজকে থেকে যদি Twinkle Tray এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেন তাহলে আপনি
স্ক্রিন থেকেই আপনার ব্রাইটনেস স্মুথলি বাড়াতে কমাতে পারবেন।
এছাড়া আপনি এই সফটওয়্যার থেকে কনট্রাস্ট, স্যাচুরেশন এ সমস্ত জিনিসগুলো
কন্ট্রোল করতে পারবেন। সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার পর এটি আপনি আপনার কম্পিউটারের
বা ল্যাপটপের সিস্টেম ট্রেতে খুঁজে পাবেন।
Twinkle Tray এর বিকল্প হিসেবে একটি সফটওয়্যার রয়েছে। সে সফটওয়্যারটির নাম
হচ্ছে Monitorian। আপনি চাইলে এই সফটওয়্যারটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে
রাখবেন, Twinkle Tray তে যে সমস্ত ফিচার আপনি পাবেন সে সমস্ত ফিচার এর তুলনায়
Monitorian এ কম ফিচার রয়েছে।
উইন্ডোজের সেরা দ্বিতীয় ১০টি অ্যাপ
ShutUp10++:
অনেক সময় দেখা যায় আমাদের কম্পিউটারে কিছু অ্যাপস বিল্ড ইন দেওয়া থাকে। এই
বিল্ড ইন সফটওয়্যার গুলো সাধারণত Microsoft এর সমস্ত সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যার
গুলো মাঝে মাঝেই পপ আপ হয়ে আমাদের স্ক্রিনে চলে আসে। এগুলোকে বলা হয় এনোয়িং
সফটওয়্যার যা আমাদের কাজে অত্যন্ত ব্যাঘাত ঘটায়।
আপনি যদি আপনার কাজের সময় এই সমস্ত পপ আপ মেসেজগুলো না চান তাহলে আপনি
ShutUp10++ ব্যবহার করে সেই সমস্ত অ্যাপস গুলোর পপ আপ সিস্টেমকে বন্ধ করে রাখতে
পারেন।
EarTrumpet:
এই সফটওয়্যারটি মূলত একটি ভলিউম কন্ট্রোল করার সফটওয়্যার। কম্পিউটারে বিল্ড ইন
ভলিউম বাড়ানোর কমানোর সহজ সিস্টেম রয়েছে, তবে এই সফটওয়্যার দিয়ে আপনি আরও
এক্সট্রা কিছু কাজ করতে পারবেন। যেমন আপনি স্পেসিফিক ভাবে সফটওয়্যার এর ভলিউম
বাড়াতে কমাতে পারবেন। আপনি যে সফটওয়্যারে যেমন সাউন্ড রাখতে চান সেভাবে সেট করে
দিয়ে রাখবেন তাহলেই হবে।
এমনকি আরো সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আপনার কম্পিউটারে যদি দুইটা সাউন্ড সিস্টেম
থাকে তাহলে আপনি আলাদা আলাদা ভাবে দুইটার সাউন্ড সিস্টেম বাড়াতে কমাতে পারবেন, যা
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ডিফল্টভাবে দেওয়া নেই।
United Sets:
আপনি যদি কম্পিউটারের কাজকে আরো দ্রুত এবং সহজ করার জন্য একটি ট্যাবের ভেতরে
মাল্টিপল অ্যাপস গুলো রেখে দিতে চান তাহলে এই সফটওয়্যারটি আপনাকে অনেক সহায়তা
করবে। আমরা বিভিন্ন ব্রাউজের মধ্যে মাল্টিপল ট্যাব খুলতে পারি।
এতে করে আমাদের ব্রাউজিং করা যেমন সহজ হয় ঠিক তেমনি আপনি যদি একটি ট্যাবের
মাধ্যমে আপনার ইউজ করা সফটওয়্যার গুলো রেখে দেন তাহলে আপনার স্বাভাবিক কাজের
তুলনায় আরো দ্রুত কাজ হবে।
Recuva:
ভুলবশত আমরা অনেক সময় আমাদের মেমরি বা পেনড্রাইভ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফাইল
ডিলিট করে ফেলি। আমরা যদি সেই ফাইলগুলো ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে কেমন হয়?
আপনারা Recuva এই সফটওয়্যারটি দিয়ে খুব সহজেই আপনার মেমোরি বা পেনড্রাইভ এর
যে কোন ফাইল পুনরায় রিকভার করতে পারবেন।
QTtabBar:
আমরা গুগল ক্রোম ব্রাউজারে বা ফায়ারফক্স ব্রাউজারে বিভিন্ন ধরনের ট্যাব
ব্যবহার করে দ্রুত অনেক কাজ করতে পারি। কিন্তু আমরা আমাদের ডেক্সটপ এর ফাইল
বা ফোল্ডারগুলোকে সেভাবে ট্যাব আকারে ব্যবহার করতে পারিনা।
আপনি যদি আপনার কম্পিউটারে QTtabBar ইন্সটল করে রাখেন তাহলে আপনি ব্রাউজারের
মতোই আপনার ডেক্সটপ এর হোম স্ক্রিনে সবকিছু ট্যাব আকারে রাখতে পারবেন এবং
যেকোনো কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার পরে এনাবেল করার জন্য- ফাইল এক্সপ্লোরার থেকে
View>Option>QTTabBar এ ক্লিক করুন।
Unlocker:
অনেক সময় আমরা আমাদের কম্পিউটারে কিছু কিছু ফাইল বা ফোল্ডার দেখতে পাই যেগুলো
ডিলিট হয় না। আপনি যদি সেই সমস্ত ফাইল বা ফোল্ডারগুলো ডিলিট করতে চান তাহলে
ইউজ করুন Unlocker সফটওয়্যারটি। এই সফটওয়্যারটি দিয়ে আপনি সিস্টেমের সকল
ফোল্ডার ডিলিট করতে পারবেন।
তাই দয়া করে সিস্টেমের কোন ফোল্ডার ডিলেট করতে যাবেন না, তাহলে আপনার
উইন্ডোজটি ক্র্যাশ করবে। শুধুমাত্র আপনার নিজের তৈরি করা যে সমস্ত ফোল্ডার গুলো
বা ফাইলগুলো ডিলিট হচ্ছে না সেগুলো ডিলিট করার জন্য এটি ব্যবহার করুন।
TurboTop:
আমরা কম্পিউটারে বিভিন্ন উইন্ডো ব্যবহার করে থাকি। আমরা জানি একটি উইন্ডোর উপরে
ক্লিক করলে আরেকটি উইন্ডো উপর থেকে নিচে চলে যায়। ফলে আমাদের কাজ দ্রুত হয়
না। আমরা যদি কোন একটি উইন্ডোকে সবসময় উপরে রেখে দিতে চাই এবং যেকোনো ফাইলকে
খুব দ্রুত সেই উইন্ডোতে নিয়ে নিতে চাই তাহলে এই সফটওয়্যারটি অত্যন্ত কাজের।
আপনি শুধু একবার ব্যবহার করে দেখুন আপনি এই সফটওয়্যার এর ফ্যান হয়ে যাবেন।
Bulk Crap Uninstaller:
কম্পিউটারে আপনি যদি একসাথে অনেকগুলো সফটওয়্যার এক ক্লিকে আনইন্সটল করতে চান
তাহলে এই সফটওয়্যারটি আপনাকে অনেক সহযোগিতা করবে। আমরা যখন কম্পিউটারে বিভিন্ন
অ্যাপ গুলো আনইন্সটল করি তখন আমাদের বারবার নেক্সট নেক্সট ক্লিক করে
আনইন্সটল করতে হয়। এতে করে সময় অনেক ব্যয় হয়।
কিন্তু আপনি যদি চান এখন থেকে মাত্র একটা ক্লিকে সফটওয়্যার আনইনস্টল করে দিবেন
তাহলে Bulk Crap Uninstaller এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করুন।
আপনারা যখন কোন একটি সফটওয়্যার আনইন্সটল করবেন তখন সেই সফটওয়্যারের কিছু কিছু
ফাইল আপনার লোকাল ড্রাইভে থেকে যায়। আপনারা যদি এই সমস্ত ফাইলগুলো পুরোপুরি
ডিলিট করতে চান তাহলে এই সফটওয়্যারটি আপনাদের অনেক সহায়তা করবে।
আবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হচ্ছে এই সফটওয়্যার দিয়ে আপনি আপনার উইন্ডোজ এর
সিস্টেম সফটওয়্যার গুলো আনইন্সটল করে দিতে পারবেন যা আপনি নরমালি উইন্ডোজ এর
ডিফল্ট সিস্টেম থেকে আনইন্সটল করতে পারবেন না।
AltSnap:
আপনারা যদি এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেন তাহলে আপনাদের অনেক উপকার হবে। এই
সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার পর আপনারা কি বোর্ডের অল্টার চেপে ধরে মাউস দিয়ে যে
কোন কিছু করতে পারবেন। যেমন আপনি বিভিন্ন উইন্ডো ট্রান্সপারেন্ট করতে পারবেন।
আপনি উইন্ডোজের যেকোন জায়গায় মাউস ধরে নড়াতে পারবেন।
উইন্ডোজের ডিফল্ট সিস্টেমে উইন্ডো গুলোকে যেকোনো জায়গায় ধরে সরানো যায় না
কিন্তু এই সফটওয়্যারটি ইন্সটল থাকলে আপনি যে কোন উইন্ডোজের যেকোনো জায়গায় ধরে
সরাতে পারবেন। এই ধরনের আরো অনেক ফিচার আছে এই সফটওয়্যারটিতে। তাই আপনারা
ডাউনলোড করে এখনই দেখে নিন কোনটি আপনার কাজের।
Windirstat:
আপনারা কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের ফোল্ডার গুলোর সাইজ কত তা দেখতে পারেন না।
অনেক সময় আমাদের বিভিন্ন ফোল্ডারে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো লোড হয়ে থাকে। তাই
আপনারা যদি সহজেই আপনার সম্পূর্ণ কম্পিউটারের কোন ফোল্ডারে কত জিবি জায়গা
নিয়ে আছে সেটি দেখতে চান এবং ডিলেট করতে চান তাহলে Windirstat এই সফটওয়্যারটি
ব্যবহার করুন।
আরো ৪টি উইন্ডোজের সেরা অ্যাপ সমূহ
TexTer:
আপনারা যারা সংক্ষেপে টাইপিং করতে পছন্দ করেন তাদের এই সফটওয়্যার টি কাজে
লাগবে। যেমন আমরা টাইপিং করার সময় Tomra না লিখে সময় বাঁচানোর জন্য Tmra লিখে
থাকি। এরকম অনেক ধরনের সংক্ষিপ্ত ওয়ার্ড আপনি এই সফটওয়্যার এর মধ্যে এসে
দিয়ে দিবেন এবং ওয়ার্ডটির আসল ফর্মটি বসিয়ে দিবেন। তাহলে আপনি টাইপিং করার
সাথে সাথে ভুল লিখলেও অটোমেটিক্যালি সঠিক লেখা উঠে যাবে।
EveryThing:
এই সফটওয়্যার এর কাজ হচ্ছে আপনার কম্পিউটারের কোন ফাইল সার্চ করা। আপনারা
কম্পিউটার দিয়ে ডিফল্টভাবে সার্চ করলে দেখবেন সেটি অনেক স্লো কাজ করে। অর্থাৎ
আমি বলতে চাচ্ছি কম্পিউটারে সার্চ করলে স্লো সার্চ হয়।
এক্ষেত্রে আপনারা যদি মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত কোন ফাইল সার্চ করে বের করতে চান
তাহলে EveryThing সফটওয়্যারটি আপনার অনেক কাজে দিবে। আপনি এই সফটওয়্যারটি দিয়ে
যেকোনো ধরনের লক করা ফাইল গুলো দেখতে পারবেন।
Unchecky:
আপনারা যখন কম্পিউটারে কোন সফটওয়্যার ইনস্টল করতে যান তখন বারবার বিভিন্ন বক্স
আসে এবং বারবার নেক্সট করতে বলে। এভাবে আপনারা একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করতে গিয়ে
বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করে ফেলেন।
এজন্য আপনারা যে সফটওয়্যারটি ইন্সটল করতে চাচ্ছেন, যদি শুধুমাত্র সেই
সফটওয়্যারটি ইন্সটল করতে চান তাহলে Unchecky সফটওয়্যারটি আপনার কম্পিউটারে
ইন্সটল করে রাখুন। এতে করে যে কোন সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করতে কোন
ঝামেলা হবে না।
Ditto:
কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমাদের বিভিন্ন লিখা কপি করে রাখতে হয়। কিন্তু নতুন
কোন কিছু কপি করলে আগের কপি করাটি হারিয়ে যায়। আপনারা যদি এরকম সমস্যাই ভুগে
থাকেন তাহলে ব্যবহার করুন Ditto। এই সফটওয়্যার টি ব্যবহার করলে আপনারা যা কপি
করবেন সবকিছু পেস্ট করার সময় আপনার সামনে শো করবে।
এছাড়া আপনারা সফটওয়্যার ব্যবহার না করেও কিবোর্ডে Win+V চেপে আপনার সমস্ত কপি
করা টেক্সট গুলো দেখতে পারেন।
Windows software এর সমাহার
Ninite.com: এখন আমি একটি ওয়েবসাইটের নাম শেয়ার করব যে ওয়েবসাইট থেকে আপনারা বিভিন্ন ধরনের
প্রয়োজনীয় ফ্রি সফটওয়্যার গুলো ডাউনলোড করতে পারবেন। উইন্ডোজ নতুনভাবে ইন্সটল দেওয়ার পরে আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো ডাউনলোড করে ইন্সটল করার প্রয়োজন পড়ে। অথবা
এই সফটওয়্যার গুলো আমরা কম্পিউটারে ব্যাকআপ দিয়ে রেখে দিই।
এখন থেকে আপনাদের আর ব্যাকআপ দেওয়া লাগবে না কারণ এই ওয়েবসাইটে গেলেই আপনারা
আপনাদের প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার জাস্ট এক ক্লিকে ইন্সটল করে নিতে পারবেন।
এখানে আপনি সবসময়ই লেটেস্ট ভার্সনের সফটওয়্যার গুলো পেয়ে যাবেন। তাই এখন
থেকে কম্পিউটারের যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় ফ্রি সফটওয়্যার ইনস্টল করতে আপনাকে সাহায্য
করবে Ninite.com ওয়েবসাইট।
FAQ
১) উইন্ডোজের সেরা অ্যাপস গুলো কী কী?
উত্তরঃ উইন্ডোজের সেরা অ্যাপস গুলোর মধ্যে Rufus, FXSound, QuickLook, WinRar,
Notepad++, LocalSend, Microsoft PC Manager, LightShot, Avro Keyboard এবং
Twinkle Tray অন্যতম। এই অ্যাপস গুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার কম্পিউটারের কাজকে
আরো সহজ ও দ্রুত করতে পারবেন।
২) Rufus অ্যাপসটি কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ Rufus অ্যাপসটি পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডকে বুটেবল করতে ব্যবহৃত হয়।
এটি ব্যবহার করে আপনি সহজেই উইন্ডোজ ইন্সটলেশন বা অন্য কোনো অপারেটিং সিস্টেম
ইন্সটল করতে পারবেন।
৩) FXSound অ্যাপসটি কেন ব্যবহার করবেন?
উত্তরঃ FXSound অ্যাপসটি সাউন্ড কাস্টমাইজেশনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি আপনার
গান শোনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করে এবং সাউন্ড কোয়ালিটি বাড়িয়ে দেয়।
৪) QuickLook অ্যাপসটি কী সুবিধা দেয়?
উত্তরঃ QuickLook অ্যাপসটি ম্যাকবুকের মতো দ্রুত ফাইল প্রিভিউ সুবিধা দেয়। এটি
ব্যবহার করে আপনি উইন্ডোজে ফাইল ওপেন না করেই দ্রুত প্রিভিউ দেখতে পারবেন।
৫) WinRar অ্যাপসটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ WinRar অ্যাপসটি জিপ, রার, টার এবং জার ফাইল ওপেন ও তৈরি করতে ব্যবহৃত
হয়। এটি কম্পিউটারে ফাইল কম্প্রেশন এবং এক্সট্রাকশনের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটি সফটওয়্যার।
৬) LocalSend অ্যাপসটি কী কাজে লাগে?
উত্তরঃ LocalSend অ্যাপসটি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম (উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স,
এন্ড্রয়েড, আইওএস) এর মধ্যে ফাইল ট্রান্সফার করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ইন্টারনেট
ছাড়াই দ্রুত ফাইল শেয়ার করতে সাহায্য করে।
৭) Microsoft PC Manager অ্যাপসটি কী কাজ করে?
উত্তরঃ Microsoft PC Manager অ্যাপসটি কম্পিউটার ক্লিন ও অপ্টিমাইজ করার জন্য
ব্যবহৃত হয়। এটি অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে এবং সিস্টেম পারফরম্যান্স বাড়ায়।
৮) LightShot অ্যাপসটি কেন ব্যবহার করতে হবে?
উত্তরঃ LightShot অ্যাপসটি স্ক্রিনশট নেওয়া এবং এডিট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি
ব্যবহার করে আপনি স্ক্রিনশট ক্যাপচার করে তাৎক্ষণিকভাবে এডিট করতে পারবেন।
৯) Avro Keyboard অ্যাপসটি কী সুবিধা দেয়?
উত্তরঃ Avro Keyboard অ্যাপসটি ইংরেজি থেকে বাংলা টাইপিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
এটি ব্যবহার করে আপনি দ্রুত ও সহজে বাংলা টাইপ করতে পারবেন।
১০) Twinkle Tray অ্যাপসটি কেন ব্যবহার করবেন?
উত্তরঃ Twinkle Tray অ্যাপসটি মনিটরের ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট এবং স্যাচুরেশন
কন্ট্রোল করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহার করে আপনি স্ক্রিন থেকেই ব্রাইটনেস
বাড়াতে বা কমাতে পারবেন।
শেষ আলোচনা
আমি উপরে যে সমস্ত সফটওয়্যারগুলো দিয়েছি এই সমস্ত সফটওয়্যার গুলো আপনাদের যদি
ব্যবহার করতে সমস্যা হয় তাহলে আমাদের অবশ্যই জানাবেন। তাহলে আমরা আপনাদের বলে
দিব কিভাবে আপনারা এই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। অথবা এই ব্লগ পোস্টের
কমেন্টে বলে দিবেন আপনি কোন সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারছেন না। আমি আপনাকে
রিপ্লাই করে সমাধান দিয়ে দিব।