২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার


২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার আপনারা এই আর্টিকেল থেকে পেয়ে যাবেন। ২০২৫ সাল সবার জীবনে দুঃখ ভুলে সুখ নিয়ে আসুক এই কামনা করি। আপনারা এই আর্টিকেলে ২০২৫ সালের ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার ও ২০২৫ সালের বাংলা মাসের ক্যালেন্ডার পাওয়ার পাশাপাশি, ২০২৫ সালের সরকারি ছুটি জানতে পারবেন।

২০২৫-সালের-বাংলা-ও-ইংরেজি-মাসের-ক্যালেন্ডার
এই আর্টিকেলে আপনারা ২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের একদম ক্লিয়ার প্রিন্ট পেয়ে যাবেন। তাই আপনারা এই আর্টিকেল থেকে ছবিগুলো প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। অথবা চাইলে আপনারা স্ক্রিনশট দিয়ে রেখে দিতে পারেন।

সূচিপত্রঃ ২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যা যা জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

২০২৫ সালের ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার

চলুন প্রথমে আমরা জেনে দেখে নিই ২০২৫ সালের ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডারঃ

জানুয়ারি মাস

জানুয়ারি

জানুয়ারি মাসের ছুটিঃ
  • ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কোন সরকারি ছুটি নেই।

ফেব্রুয়ারি মাস

ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি মাসের ছুটিঃ
  • শবে বরাত ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি।

মার্চ মাস

মার্চ

মার্চ মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • স্বাধীনতা দিবস ২৬ শে মার্চ।
  • জুম্মাতুল বিদা ও শবে কদর ২৮ মার্চ।
  • ঈদুল ফিতরের ছুটির ২৯ ও ৩১ মার্চ। চাঁদ দেখার উপরে সময় ১-২ দিন কম বেশি হতে পারে।

এপ্রিল মাস

এপ্রিল

এপ্রিল মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • ঈদের ছুটি এক থেকে দুই তারিখ হতে পারে। চাঁদ দেখার উপরে এক থেকে দুই দিন কম বেশি হতে পারে।
  • বাংলা নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল।

মে মাস

মে

মে মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • শ্রমিক দিবস পহেলা মে।
  • বৌদ্ধ পূর্ণিমা ১১ মে।

জুন মাস

জুন

জুন মাসের ছুটিঃ
  • ঈদুল আযহা ৫  থেকে ১০ জুন। চাঁদ দেখার উপরের দুই একদিন কম বেশি হতে পারে।

জুলাই মাস

জুলাই

জুলাই মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • আশুরা ছয় জুলাই।

আগস্ট মাস

আগস্ট

আগস্ট মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • জন্মাষ্টমী ১৬ ই আগস্ট।

সেপ্টেম্বর মাস

সেপ্টেম্বর

সেপ্টেম্বর মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • ঈদে মিলাদুন্নবী ৫ সেপ্টেম্বর।

অক্টোবর মাস

অক্টোবর

অক্টোবর মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • দুর্গাপূজা এক ও দুই অক্টোবর।

নভেম্বর মাস

নভেম্বর

নভেম্বর মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের সরকারি ছুটি নেই।

ডিসেম্বর মাস

ডিসেম্বর

ডিসেম্বর মাসের সরকারি ছুটিঃ
  • বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর
  • বড়দিন ২৫ ডিসেম্বর

২০২৫ সালের বাংলা মাসের ক্যালেন্ডার

২০২৫ সালের বাংলা মাসের ক্যালেন্ডার চলুন এখন আমরা জেনে নিইঃ

বৈশাখ মাস

বৈশাখ

জ্যৈষ্ঠ মাস

জ্যৈষ্ঠ

আষাঢ় মাস

আষাঢ়

শ্রাবণ মাস

শ্রাবণ

ভাদ্র মাস

ভাদ্র

আশ্বিন মাস

আশ্বিন

কার্তিক মাস

কার্তিক

অগ্রহায়ণ মাস

অগ্রহায়ণ

পৌষ মাস

পৌষ

মাঘ মাস

মাঘ

ফাল্গুন মাস

ফাল্গুন

চৈত্র মাস

চৈত্র

২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার একসাথে দেখুন

এখন এখানে যে ক্যালেন্ডার গুলো পাবেন, এগুলো বাংলা ও ইংরেজি সালের ক্যালেন্ডার একসাথে দেওয়া হবে একদম ক্লিন প্রিন্ট এ। উপরের বাংলা ক্যালেন্ডার থেকে বুঝতে যদি সমস্যা হয় তাহলে এই ক্যালেন্ডার গুলো দেখুন।

জানুয়ারি মাস

January

ফেব্রুয়ারি মাস

February

মার্চ মাস

March

এপ্রিল মাস

April

মে মাস

May

জুন মাস

June

জুলাই মাস

July

আগস্ট মাস

August

সেপ্টেম্বর মাস

September

অক্টোবর মাস

October

নভেম্বর মাস

November

ডিসেম্বর মাস

December

ইংরেজি সনের ইতিহাস

ইংরেজি সন এর মাধ্যমে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই সাল গণনা করা হয়। প্রত্যেক দেশে প্রথম অবস্থায় সন গণনার পদ্ধতি একই রকম ছিল না। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আসার পরে, এটি পৃথিবী জুড়ে সন গণনার পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত ইংরেজি সনের ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। এজন্য চলুন আমরা এখন জেনে আসি কিভাবে ইংরেজি সনের ইতিহাস শুরু হয়েছিল।

ইংরেজি সনের সূচনা

ইংরেজি ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৫৮২ সাল থেকে। সেই সময় পোপ গ্রেগরি XIII রোমান ক্যাথলিক চার্চের অধীনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলন করেছিলেন। তবে এর পূর্বে ইউরোপ অঞ্চলে অন্য একটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হতো যার নাম ছিল “জুলিয়ান ক্যালেন্ডার”।

জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতি চার বছর পর পর একটি অতিরিক্ত দিন ধার্য করা হতো অর্থাৎ লিপ ইয়ার ধার্য করা হতো। কিন্তু এই ক্যালেন্ডারের অনেকগুলো সমস্যা বা ত্রুটি ছিল যার কারণে সেই সময় প্রত্যেক বছর দিনের তারতম্য ঘটতো। তখনকার সময়ে এই সমস্যার কারণে শীতকাল এবং গ্রীষ্মকাল সময় নির্ধারণ করতে সমস্যা হচ্ছিল।

ঠিক এজন্যই গ্রেগরি XIII এর নেতৃত্বে নতুন একটি ক্যালেন্ডার আবিষ্কার করা হয় যা ছিল মূলত সূর্য ভিত্তিক একটি গণনা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে এক বছরের দৈর্ঘ্য ৩৬৫.২৪২ দিন নির্ধারণ করে একটি সত্যিকারের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করা হয়। যা মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে দিন-রাত ভিত্তিক ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গ্রেগরিয়ান এর এই ক্যালেন্ডারের মৌলিক ধারণা ছিল সূর্যের উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণন ও সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে গণনা পদ্ধতি নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেগরিয়ান এর ক্যালেন্ডার পদ্ধতি আবিষ্কারের পরে একটি সঠিক পঞ্জিকা পাওয়া গিয়েছিল এবং খ্রিস্টান ধর্মে উৎসবের সময়ের মধ্যে যে অসংগতি ও ত্রুটি ছিল তা দূর হয়ে গেছিল। ঠিক এরপর থেকেই ৩১ ডিসেম্বর তারিখে বছর শেষ হয়ে যায় এবং নতুন বছর শুরু হয় ১ জানুয়ারি তারিখে।

আমরা জানি পূর্বে ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। পূর্বে যখন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ছিল তখন সেই ক্যালেন্ডারের সাথে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১০ দিনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৫৮২ সালে সর্বপ্রথম ৪ অক্টোবরকে সরাসরি ১৫ অক্টোবরে নিয়ে আসা হয়। ঠিক এজন্যই এর মাঝখানের ১০ দিন হারিয়ে যায়।

কিন্তু প্রথম অবস্থায় এটি সারা বিশ্বে গৃহীত হয়েছিল না। আস্তে আস্তে এটি সারা বিশ্বে গৃহীত হয়েছিল। প্রথম অবস্থায় এই পরিবর্তনটি করেছিল পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহ। এরপরে ইংল্যান্ড ১৭৫২ সালে, সুইডেন ১৮৪৪ সালে এবং রাশিয়া ১৯১৮ সালে এই ক্যালেন্ডারটি গ্রহণ করে।

সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি ইংরেজি সন প্রথমে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যবহৃত হলেও যত সময় এগোতে থাকে তত এটি অন্যান্য অঞ্চলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। বিশেষত ব্রিটেন এবং তার উপনিবেশ যেমন নিউজিল্যান্ড, ইন্ডিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি অঞ্চলে এটি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। তবে মনে রাখবেন- সারা পৃথিবীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছড়িয়ে পড়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতির সময়।

আমরা জানি বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় বিশ শতকের দিকে। তখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটি আরও বেশি প্রসার বিস্তার লাভ করে। কিছু কিছু দেশ এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত না, বিশ শতকের পরে সেই সমস্ত দেশগুলোও এই ক্যালেন্ডারটি ব্যবহার শুরু করে। এরপরে আস্তে আস্তে এবং বর্তমান পর্যন্ত এই ক্যালেন্ডারটি সারা বিশ্বব্যাপী মানুষ ব্যবহার করছে।

ইংরেজি সনের বৈশিষ্ট্য

ইংরেজি সনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্যান্য ক্যালেন্ডার থেকে এটি আলাদা করে। কি কি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অন্যান্য ক্যালেন্ডার থেকে আলাদা চলুন আমরা এখন তা জেনে আসি-

লিপ ইয়ারঃ
আমরা জানি ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনে শেষ হয়। কিন্তু যে বছর লিপ ইয়ার থাকে সে বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনে শেষ হয়। আরো জেনে রাখুন যে বছরের লিপ ইয়ার হয় সেই বছর ৩৬৬ দিন গণনা করা হয়। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনের সাথে ১ দিন যোগ করে ৩৬৫ থেকে ৩৬৬ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। লিপ ইয়ারের এই গণনার ফলে একটি সঠিক বাৎসরিক হিসাব চলতে থাকে।

তবে মনে রাখবেন- লিপ ইয়ার চার বছর পরপর হলেও এই লিপ ইয়ার গণনার ক্ষেত্রে একটি সূত্র রয়েছে। যেমনঃ
  • যে বছর ৪ দ্বারা বিভাজ্য হয়, সেটি সাধারণত লিপ ইয়ার হয়।
  • যে বছর ১০০ দ্বারা বিভাজ্য হয়, সেটি লিপ ইয়ার নয়।
  • যে বছর ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য, সেটি অবশ্যই লিপ ইয়ার হয়।
উদাহরণের সাহায্যে বুঝে নিন-
  • ২০২০ সাল লিপ ইয়ার ছিল কারণ এটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য।
  • ২০০০ সাল লিপ ইয়ার ছিল কারণ এটি ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য।
  • ২০২৪ সাল লিপ ইয়ার ছিল কারণ এটি ৪ দ্বারা বিভাজ্য।
  • ১৯০০ লিপ ইয়ার নয় কারণ এটি ১০০ দ্বারা বিভাজ্য কিন্তু ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য নয়।
১২ মাসের ব্যবস্থাঃ 
ইংরেজি সালে মোট ১২টি মাস রয়েছে। এই ১২ টি মাসের মধ্যে কোন কোন মাস ৩১ দিনে শেষ হয়, আবার কোন কোন মাস ৩০ দিনে শেষ হয়, আবার কোন কোন মাস ২৮ বা ২৯ দিনে শেষ হয়।

নতুন বছরের সূচনা এবং বছর শেষঃ 
প্রতিবছর এক জানুয়ারি নতুন বছরের সূচনা হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর  এর মধ্য দিয়ে বছরটি শেষ হয়, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।

ইংরেজি সনের আধুনিক ব্যবহার

ইংরেজি ক্যালেন্ডার শুধুমাত্র বর্তমান সময়ে গণনার কাজে ব্যবহৃত হয় বিষয়টি এমন নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক মান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় নির্ধারণের জন্য ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক সকল হিসাব কার্য এই ক্যালেন্ডারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

ইংরেজি সনের সংস্কৃতির সাথে সম্পর্ক

ইংরেজি সন প্রবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো এই ক্যালেন্ডার অনুসারে নির্ধারণ করা হয় এবং সারা বিশ্বে প্রচার করা হয়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের মানুষদের উৎসব উদযাপন যেমনঃ ঈদ, নববর্ষ, ক্রিসমাস, ইস্টার সানডে, থার্টি ফাস্ট নাইট ইত্যাদি উৎসব সমূহ ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে নির্ধারণ করা হয় এবং পালন করা হয়। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ইংরেজি সনের প্রবর্তনের ফলে পৃথিবীর মানুষজন একই সময়ে তাদের নিজস্ব কালচারে সংস্কৃতি ও সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করতে পারছে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম গ্রেগরিয়ান পদ্ধতিতে সময় গণনার নতুন পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে সভ্যতার উন্নতি এবং বৈশ্বিক সংহতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার শুধুমাত্র পশ্চিমা বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বিষয়টি এমন নয়, বরং সারা পৃথিবীতেই এর গ্রহণযোগ্যতা খুব দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে যা আগামী ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।

বাংলা সনের ইতিহাস

বাংলা সনের অপর নাম হচ্ছে বাংলা পঞ্জিকা, যা মূলত বাংলাদেশের এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ছাড়াও অন্যান্য বাংলা ভাষাভাষী যে সমস্ত অঞ্চলগুলো রয়েছে, তাদের একটি ঐতিহ্যবাহী গণনার পদ্ধতি। বাংলা সন আবিষ্কারের ইতিহাস খুবই দীর্ঘ এবং ঐতিহ্যবাহী।

এটি কৃষিকাজ এবং সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। আপনি যদি বাংলা সনের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে নিজের লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আশা করছি অনেক কিছু জানতে পারবেন।

বাংলা সনের উৎপত্তি

বাংলা পঞ্জিকা উৎপত্তি হয়েছিল মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে, তখন ছিল ১৫৫৬ সাল। সেই সময় সম্রাট আকবর এমন একটি ক্যালেন্ডার ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছিল যার নাম দেওয়া হয়েছিল ফসলী সন। ফসলী সন নাম দেওয়ার কারণ হচ্ছে, সেই সময় এই ক্যালেন্ডার আবিষ্কার এর উদ্দেশ্য ছিল- কৃষি কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়াদির সময় গণনা করা।

সেই সময় মুঘল সম্রাট আকবর কৃষকদের সুবিধার জন্য ফসল কাটার সঠিক সময় এবং বীজ বপনের সঠিক সময় নির্ধারণ করেছিল এই পঞ্জিকার মাধ্যমে। মনে রাখবেন এই পঞ্জিকাটি শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে সারা বাংলা অঞ্চলে ব্যবহার শুরু হয়।

ফসলী সন ও বাংলা সন

আপনি কি জানেন বাংলা সন কোন মাস থেকে শুরু হয়? বাংলা সন শুরু হয় অক্টোবর মাস থেকে। তার কারণ হলো এই সময় বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা ফসল কাটার জন্য পরবর্তী সময়ে প্রবেশ করে। ফসলি সন বারো মাসের ভিত্তিতে এবং ৩৬৫ দিনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। মনে রাখবেন এই ক্যালেন্ডারটি পৃথিবীর অন্যান্য ক্যালেন্ডারের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কারণ এটি পৃথিবীর বলয়কে কেন্দ্র করে গণনা না করে ও কৃষি চক্রের সঙ্গে গণনা করে হিসাব করা হয়। মূলকথা হচ্ছে ফসলী সন ও বাংলা সন ক্যালেন্ডারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের কৃষিকাজের পরিকল্পনা জন্য সঠিক সময় প্রদান করা।

বাংলা সনের মাসগুলো

বাংলা সনের ১২টি মাসের নাম হলোঃ
বাংলা মাস সমূহ
বৈশাখ (এপ্রিল - মে)
জ্যৈষ্ঠ (মে - জুন)
আষাঢ় (জুন - জুলাই)
শ্রাবণ (জুলাই - আগস্ট)
ভাদ্র (আগস্ট - সেপ্টেম্বর)
আশ্বিন (সেপ্টেম্বর - অক্টোবর)
কার্তিক (অক্টোবর - নভেম্বর)
অগ্রহায়ণ (নভেম্বর - ডিসেম্বর)
পৌষ (ডিসেম্বর - জানুয়ারি)
মাঘ (জানুয়ারি - ফেব্রুয়ারি)
ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি - মার্চ)
চৈত্র (মার্চ - এপ্রিল)

উপরের এই বারো মাস তখনকার সময় থেকেই কৃষি চক্রের ভিত্তিতে সুবিন্যস্ত ভাবে সাজানো ছিল এবং এটি বর্তমান পর্যন্ত চলতে আছে।

বাঙালি নববর্ষ ও তার ঐতিহ্য

বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিনের নাম হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বাঙালিরা এটিকে শুভ নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করে। পহেলা বৈশাখের দিন প্রতিটি ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা খোলা মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লক্ষ্য করা যায়। ছেলে-মেয়েরা শাড়ি এবং পাঞ্জাবি পরে এই দিনটিকে উদযাপন করে।

বাঙ্গালীদের জন্য পহেলা বৈশাখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি একটি বাংলা নতুন বছরের সূচনা। এই দিনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করা হয় যেমনঃ বৈশাখী মেলা। কোন কোন জায়গায় দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। 

এই সময় ঘরে ঘরে পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়। এই সময় বিভিন্ন ধরনের রংবেরঙের জামা কাপড় পরিধান করে বাঙ্গালীরা নববর্ষ উদযাপন করে এবং এটি এখন পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে।

বাংলা সনের সংস্কৃতিগত প্রভাব

বাংলা সন শুধু একটি সময় গণনার পদ্ধতি নয় বরং এটি একটি বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। কারণ বাংলা সনের মাধ্যমেই বাঙালি মানুষজন তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, কৃষি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে একত্রিত করতে পেরেছে। 

মুসলমান বাঙালি কিংবা হিন্দু বাঙালিরা তাদের নিজ নিজ ধর্মের সংস্কৃতি অনুযায়ী উৎসব অনুষ্ঠান পালন করার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ পালন করে। মুসলমানরা ঈদের সময় যেমন আনন্দ করে অথবা হিন্দুরা যেমন দুর্গা পূজার সময় আনন্দ করে, ঠিক তেমনি বাংলা নববর্ষের সময়েও সম্পূর্ণ বাঙালি একই ধরনের আনন্দ উপভোগ করে।

বাংলা সনের আধুনিক ব্যবহার

বর্তমান আধুনিক সময়ে বাংলা সন একটি জাতীয় উৎসবের রূপ নিয়েছে কারণ প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের দিনে বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে বর্তমান সময়েও বাংলা সন বাঙ্গালীদের জন্য একটি ঐতিহ্য।

বাঙালির প্রতিটি মানুষ ইংরেজি সন গণনার পাশাপাশি বাংলা সন গণনা করে থাকে। এছাড়া যারা প্রবাসী রয়েছেন তারাও বাংলা ক্যালেন্ডার হিসাব রাখেন। এই আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে বর্তমানেও বাংলা ক্যালেন্ডার বাঙালিদের হৃদয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলা সনের বৈশ্বিক প্রভাব

বাংলা পঞ্জিকার প্রভাব শুধুই কি বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ? মোটেই না কারণ এটি বাংলাদেশ, ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ছাড়াও বিভিন্ন বাংলা ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যে বাংলা সনের ব্যবহার এখনো বৈশ্বিকভাবে রয়েছে । যেহেতু বাঙালিরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সেহেতু বাঙালিদের বাংলা সনের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব গুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বাংলা সনের ইতিহাস জাতিগতভাবে আমাদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত। সময় গণনার ভিত্তি হিসেবে বাংলা সনের আবির্ভাব হলেও এটি বাঙালি জনগণের জীবনযাত্রার ঐতিহ্যগত ও সাংস্কৃতিগত ভাবে জড়িয়ে গেছে। এছাড়া এটি বাঙালি জনগণের কৃষি এবং বাঙালি জনগণের ধর্মের বিভিন্ন উৎসবের ওপরেও প্রভাব ফেলেছে। 

বাংলা নববর্ষ এখন বাঙ্গালীদের জন্য একটি অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং সম্পদ। আধুনিক সময়েও বাংলা সন এবং এর ঐতিহ্য চিরকালীনভাবে বাঙালি সমাজে শক্তিশালীভাবে বিরাজমান করেছে। এটি ভবিষ্যতেও বাঙালি সংস্কৃতির একটি অনবদ্য অংশ হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।

বাংলা সন ও ইংরেজি সনের পার্থক্য

বাংলা-সন-ও-ইংরেজি-সনের-পার্থক্য

FAQs

Q. বাংলা নববর্ষ কি?
A. বাংলা নববর্ষ হচ্ছে বাংলা বর্ষপঞ্জিকার প্রথম দিন যা ১ বৈশাখ হয়ে থাকে।

Q. বাংলা নববর্ষ চালু করেন কে?
A. বাংলা নববর্ষের গণনা শুরু হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু সম্রাট আকবর রাজস্ব অধ্যায়ের সুবিধার্থে ১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করেন।

Q. বাংলা নববর্ষের মূল উদ্দেশ্য কি?
A. বাংলা নববর্ষের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকরা বছরের শেষ দিনে সকল ধরনের দেনা পরিশোধ করত। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা বছরের প্রথম দিনে হালখাতা উদযাপন করতো।

Q. থার্টি ফাস্ট নাইট কি?
A. থার্টিফার্স্ট নাইট বলতে ৩১শে ডিসেম্বর রাতকে বোঝায় কারণ এটি ইংরেজি বছরের শেষ রাত থাকে।

Q. থার্টিফার্স্ট নাইট কবে থেকে উদযাপন হয়?
A. রোমান সাম্রাজ্যে ১ জানুয়ারিকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারণের পর থেকেই ৩১ ডিসেম্বরকে থার্টি ফার্স্ট নাইট হিসেবে উদযাপন করা হয়।

শেষ মন্তব্য

আশা করছি আপনাদের এই আর্টিকেলটি থেকে অনেক উপকার হবে। আমি এখানে অনেক ধরনের ক্যালেন্ডার আপনাদের দিয়েছি। তাই আমি আশা করছি এই আর্টিকেল থেকে ২০২৫ সালের বাংলা ও ইংরেজি মাসের সকল ক্যালেন্ডার আপনারা মন মতো পেয়ে গেছেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url