বাংলা ঈদ মোবারক পিকচার | নতুন ঈদ মোবারক পিকচার

বাংলা ঈদ মোবারক পিকচার আপনি যদি খুঁজে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনাকে সহায়তা করবে। কারণ এখানে আপনি নতুন ঈদ মোবারক পিকচার পেয়ে যাবেন। এই সুন্দর সুন্দর ঈদ মোবারক ছবিগুলো আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিবেন।
বাংলা-ঈদ-মোবারক-পিকচার
ঈদের সময় আসলে আমাদের ঈদ মোবারক পিকচার এর প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভালো কোয়ালিটির ঈদ মোবারক ফটো আপনারা খুঁজে পান না। এজন্যই আমি আপনাদের সাথে আজকে এইচডি কোয়ালিটির ঈদ মোবারক পিকচার শেয়ার করব।

সূচিপত্রঃ বাংলা ঈদ মোবারক পিকচার | নতুন ঈদ মোবারক পিকচার

এই ব্লক পোষ্ট থেকে আপনি যে সমস্ত তথ্য পাবেন তা দেখে নিন-

বাংলা ঈদ মোবারক পিকচার | নতুন ঈদ মোবারক পিকচার

আজকে আপনি এই আর্টিকেলে যে সমস্ত ঈদের ফটো গুলো পাবেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এই ফটোগুলো দেখলে আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।


এই পিকচার গুলো ফটোশপ থেকে তৈরি করা হয়েছে তাই এই ফটোগুলো সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সুন্দর। সবার জীবনে ঈদ নিয়ে আসুক স্মৃতি মধুর এবং আনন্দময়।
নতুন-ঈদ-মোবারক-পিকচার
এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যে সমস্ত ঈদের ফটোগুলো পাবেন তা দেখে নিন-
তাহলে চলুন আমরা এখন পর্যায়ক্রমিকভাবে উপরের সমস্ত ঈদের ফটোগুলো দেখে নিই।

বাংলা ঈদ মোবারক পিকচার নিম্নরূপঃ

1বাংলা-ঈদ-মোবারক-পিকচার
2বাংলা-ঈদ-মোবারক-পিকচার
3বাংলা-ঈদ-মোবারক-পিকচার
4বাংলা-ঈদ-মোবারক-পিকচার

নতুন ঈদ মোবারক পিকচার নিম্নরূপঃ

1নতুন-ঈদ-মোবারক-পিকচার
2নতুন-ঈদ-মোবারক-পিকচার
3নতুন-ঈদ-মোবারক-পিকচার
4নতুন-ঈদ-মোবারক-পিকচার

অগ্রিম ঈদ মোবারক পিকচার নিম্নরূপঃ

অগ্রিম-ঈদ-মোবারক-পিকচার
1অগ্রিম-ঈদ-মোবারক-পিকচার
2অগ্রিম-ঈদ-মোবারক-পিকচার
3অগ্রিম-ঈদ-মোবারক-পিকচার
4অগ্রিম-ঈদ-মোবারক-পিকচার

লাভ ঈদ মোবারক পিকচার নিম্নরূপঃ

লাভ-ঈদ-মোবারক-পিকচার
1লাভ-ঈদ-মোবারক-পিকচার
2লাভ-ঈদ-মোবারক-পিকচার
3লাভ-ঈদ-মোবারক-পিকচার
4লাভ-ঈদ-মোবারক-পিকচার

ঈদুল ফিতর পিকচার নিম্নরূপঃ

ঈদুল-ফিতর-পিকচার
1ঈদুল-ফিতর-পিকচার
3ঈদুল-ফিতর-পিকচার

ঈদুল আযহা পিকচার নিম্নরূপঃ

ঈদুল-আযহা-পিকচার
1ঈদুল-আযহা-পিকচার
2ঈদুল-আযহা-পিকচার
3ঈদুল-আযহা-পিকচার
4ঈদুল-আযহা-পিকচার

ঈদ কি?

ঈদ শব্দের অর্থ হচ্ছে পুনরাগমন বা পুনরায় ফিরে আসা। ঈদ শব্দটি আরবি "আওদ" (عَوْدٌ) শব্দ থেকে এসেছে। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা মুসলমানদের জন্য একটি উৎসবমুখর সামাজিক এবং ধর্মীয় উৎসব। মুসলমানরা বছরে দুইবার ঈদ পালন করে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে।

ঈদুল ফিতরঃ পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পরে যে ঈদ অনুষ্ঠিত হয় সেই ঈদকে বলা হয় ঈদুল ফিতর।

ঈদুল আযহাঃ নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মত্যাগ এবং আনুগত্যের ফলে যে ঈদ প্রতি বছর পালিত হয় সেদিনকে বলা হয় ঈদুল ফিতর।

পবিত্র মাহে রমজানে এক মাস সিয়াম সাধনার পর আত্মসংগ্রাম এবং তাকওয়ার পুরস্কার স্বরূপ ঈদুল ফিতর প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে ঈদুল আযহা হচ্ছে ত্যাগের প্রতীক। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশেষ নামাজ আদায় করা হয়।

এই সময়ে সামাজিক এবং পারিবারিক একটি আনন্দময় পরিবেশ গড়ে ওঠে। প্রতিটি পরিবারে আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী মিলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান করে। এই সময় ছোটরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করে।

বছরের দুইটি ঈদ অর্থনীতিতে অনেক পরিবর্তন ফেলে কারণ এই দুই ঈদের আগে মানুষজন নতুন নতুন পোশাক-আশাক, খাবার, উপহার সামগ্রির কেনাবেচার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। প্রত্যেক পরিবারের আলাদা আলাদা মানুষদের জন্য নতুন নতুন পোশাক নেওয়া হয়। 

দৈনন্দিন জীবনের মতো ঈদের দিনগুলো একই রকম হয় না। কারণ ঈদের সময় মুসলমানরা চেষ্টা করে নতুন আঙ্গিকে উৎসবমুখর জীবন গড়ে তুলতে।

ঈদের সময় গরিব-দুঃখীদের খাবার এবং পোশাক আশাক দিয়ে সাহায্য করতে হয়। এটা ইসলামের একটি নিয়ম অর্থাৎ ঈদের সময় ধনী-গরিবদের মধ্যে কোন বিভেদ থাকে না। কিন্তু তারপরেও গরিবরা হয়তো মন মত ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না। বছরের দুইটা ঈদ আমাদের মানসিক সুস্থতা এবং আনন্দ প্রদান করে।

ঈদের সময় মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ায় এবং বিষন্নতা কমাতে সহায়তা করে। ঈদের সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। যেমনঃ
  • তুরস্কে "Bayram" উৎসব।
  • ইন্দোনেশিয়ায় "Lebaran" উৎসব।
  • মালয়েশিয়ায় "Hari Raya" উৎসব।

ঈদের ইতিহাস ও উৎপত্তি

ঈদের ইতিহাস এবং উৎপত্তি অনেক পুরনো এবং সেই সময় থেকেই এখন পর্যন্ত এটি পালিত হয়ে আসছে। পৃথিবী যত দিন বেঁচে থাকবে ততদিন এটি হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের জন্য দুটি ঈদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী- মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) দেখেন, সেখানে মানুষ দুইটি দিন উৎসব হিসেবে পালন করত। 

তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- "আল্লাহ এই দুটি উৎসবের পরিবর্তে তোমাদের জন্য আরও উত্তম দুটি দিন উৎসবের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর এবং অপরটি হচ্ছে ঈদুল আযহা।" (আবু দাউদ: ১১৩৪)

ঠিক এই ঘটনার পরেই ইসলামে প্রতিবছর আনুষ্ঠানিকভাবে দুইটি ঈদ উদযাপন করা হয়।

ঈদুল ফিতরের উৎপত্তি ও ইতিহাসঃ ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, ২য় হিজরির (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) শাওয়াল মাসে সর্বপ্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। মূলত টানা ৩০ দিন অর্থাৎ একমাস রোজা রাখার পর আনন্দ উদযাপন করার জন্য ঈদুল ফিতরের উদ্ভব। ঈদুল ফিতরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গরিব-দুঃখীদের সাহায্য সহযোগিতা করা। এ কারণেই সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) এর প্রবর্তন হয়েছে।

ঈদুল আযহার উৎপত্তি ও ইতিহাসঃ ঈদুল আযহার ইতিহাস নবী ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.) এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, যা কুরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আল্লাহর নির্দেশে নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হন ঠিক তখনই আল্লাহতালা খুশি হয়ে তার ছেলের পরিবর্তে দুম্বা পাঠিয়ে দেন।

যার ফলে হযরত ইব্রাহিম আঃ এর পুত্রের পরিবর্তে দুম্বা বা উট কোরবানি হয়ে যায়। এই থেকেই ইসলাম ধর্মে কোরবানি ঈদের প্রচলন শুরু হয় যা আমরা ঈদুল আযহা হিসেবে জানি। এই ঘটনার জন্যই আমরা প্রতিবছর ঈদুল আযহাতে গরু, ছাগল, ভেড়া, উট কোরবানি করে থাকি।

ঈদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ঈদ শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য আনন্দ উপভোগের বিষয় নয় বরং এটি একটি মুসলিম উম্মার ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। ঈদুল ফিতরের ইতিহাস বদর যুদ্ধের সাথে জড়িত। কারণ ঈদুল ফিতরের প্রথম উদযাপন শুরু হয়েছিল বদর যুদ্ধের পরেই। ২য় হিজরির ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো।

এই যুদ্ধে মুসলমানরা ৩১৩ জন সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিল মক্কার শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে মুসলমানরা জয় লাভের পরে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছিল দ্বিগুণ আনন্দের সাথে। এরপর আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ মদিনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার পর, আরো সুসংগঠিত ভাবে ঈদ উদযাপন এর আনন্দ শুরু হয়।

ঈদের প্রসার ও বিশ্বব্যাপী উদযাপন

ঈদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ইসলামের প্রসারের মধ্য দিয়ে এটি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে উদযাপন শুরু হয়। তবে ঈদ উদযাপনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল দুটি, সেই দুটি হচ্ছে গরিব দুঃখীদের সাহায্য করা এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ বাড়ানো।

উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খিলাফতের সময় ঈদের আনন্দ উদযাপন আরও জামকভাবে শুরু হয়েছিল। তখনকার সময়ে খলিফারা ঈদ উদযাপনের জন্য প্রজাদের একসঙ্গে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতেন এবং গরিবদের মধ্যে দান-খয়রাত করতেন।

আবার অটোমান সাম্রাজ্যের সময় ঈদের উদযাপন পালিত হয় অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে। সেই সময় ঈদের দিন জনসাধারণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

আবার ভারতবর্ষের মোগল সাম্রাজ্যের সময় ঈদ এর আয়োজন করা হতো বিশাল উৎসবের মাধ্যমে। কারণ সে সময় রাজা-বাদশারা ঈদের আনন্দ জনসাধারণের সাথে উপভোগ করতেন। সেই সময়ই রাজা-বাদছাড়াও গরিব দরিদ্রের মাঝে খাদ্য-বস্ত্র বিতরণ করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেন।

বিশ্বব্যাপী ঈদের উদযাপন

সৌদি আরবে ঈদের উদযাপন হয় অত্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিবেশের মাধ্যমে। এই সময়ই লাখো লাখো মুসল্লি কাবা শরীফ অথবা মসজিদে উপস্থিত হয় এবং সবার সাথে ঈদের নামাজ আদায় করে। এরপর পরিবার আত্মীয়স্বজন সঙ্গে নিয়ে ভালো সময় কাটায় ও উপহার বিনিময় করে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থা করে। যেমনঃ কুনাফা, মানসাফ, কবসা ইত্যাদি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত অর্থাৎ দুবাই এবং আবুধাবিতে ঈদ মানেই চারিদিকে আলোকসজ্জা। ঈদের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বুর্জ খলিফা এবং অন্যান্য বড় বড় অট্টালিকাতে আতশবাজির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন মরুভূমিতে পরিবারগুলো একসাথে ক্যাম্পিং করে আনন্দ উপভোগ করে। আরো রয়েছে বিশেষ বিশেষ বড় বড় হোটেল যেখানে রমরমা ব্যবসা শুরু হয়।

তুরস্কতে ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মিষ্টির ঈদ অর্থাৎ এই সময় তুরস্কতে খুব সুস্বাদু এবং আকর্ষণীয় দেখতে মিষ্টি এবং চকলেট তৈরি করা হয়। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সকল মিষ্টি এবং চকলেট গুলো সংগ্রহ করে। তুরস্ক তে প্রত্যেকটি পরিবার কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের ঈদ উদযাপন হয় অত্যন্ত আনন্দের সাথে। বাংলাদেশের ঈদ উদযাপনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নতুন পোশাক পড়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং সকলের সাথে নামাজ আদায় করে কোলাকুলি করা। 

এছাড়াও মুসলমানদের ঈদগাহে মেলার আয়োজন করা হয় যেখানে বিভিন্ন হরেক রকমের দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যায়। অনেকেই এই মেলা কে ঈদ যাত্রা বলেও আখ্যায়িত করে। এই ঈদ যাত্রায় খাবার থেকে শুরু করে খেলনা পর্যন্ত সকল ধরনের দ্রব্য সামগ্রী পাওয়া যায়।

নামাজ আদায় এবং ঈদ যাত্রার পর বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে মানুষজন একত্রিত হয়। আত্মীয়স্বজনরা তাদের পরিচিত পরিবার জনদের সাথে আনন্দঘন সময় কাটায়। এই সময় বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে ভালো ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়। যেমনঃ সেমাই, পোলাও, মাংসের রোস্ট বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি, ঝাল জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি।

দক্ষিণ এশিয়ার ভারতের মুসলমানরা ঈদকে মিঠাই ঈদ হিসেবে আখ্যায়িত করে। কারণ এই সময় ভারতের মুসলমান পরিবারে সেমাই, দুধ, খেজুর ও বাদাম দিয়ে তৈরি মিষ্টি তৈরি হয়। ভারতের দিল্লিতে জামা মসজিদ, লখনৌতে বড় ইমামবাড়া এবং হায়দ্রাবাদের মসজিদে সবচাইতে বেশি ঈদের আনন্দ পরিলক্ষিত হয়। ভারতে রথ যাত্রার মতই ঈদের মেলা দেখা যায় যেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার, খেলনা এবং পোশাক বিক্রি হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তানের ঈদ মানেই উপহার বিতরণ। অর্থাৎ পাকিস্তানের ঈদের সময় ঈদের উপহার বিতরণ করা হয়, যাকে বলা হয় “ঈদি বিতরণ”। ঈদের সময় পাকিস্তানের বড়রা ছোটদের ঈদের সেলামি প্রদান করে। এটা বাংলাদেশেও প্রচলিত রয়েছে। ঈদের সেলামি প্রদান করার সময় ছোট ছোট বাচ্চাদের আশীর্বাদ করা হয়। পাকিস্তানের ঈদের সময় জনপ্রিয় খাবারগুলো হচ্ছে- "নিহারি", "বিরিয়ানি", "শির খুরমা"।

ইন্দোনেশিয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহর থেকে গ্রামে ফিরে যায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য। ইন্দোনেশিয়াতে এই রীতিকে বলা হয় "মুদিক"। ঠিক যেমন বাংলাদেশের ঢাকা শহর থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ গ্রামের দিকে যায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য।

ইন্দোনেশিয়াতে ঈদের সময় চাল দিয়ে এক ধরনের কেক তৈরি করা হয়, যা তাদের ভাষায় Ketupat নামে পরিচিত। এছাড়া মাংসের মসলাযুক্ত তরকারি তৈরি করা হয়, যা তাদের ভাষায় Rendang নামে পরিচিত।

মালয়েশিয়াতে ঈদের দিন একটি বিশেষ রীতি রয়েছে। যেমন এই সময় ছোট ছোট বাচ্চারা বড়দের কাছে গিয়ে ক্ষমা চায় এবং দোয়া গ্রহণ করে। মালয়েশিয়াতে ঈদের সময় প্রধান কিছু খাবার গুলো হচ্ছে- গ্রিল করা মাংস যা তাদের ভাষায় Satay বলা হয়। আরো একটি প্রধান খাবার হচ্ছে- বাঁশের ভেতর রান্না করা চাল যা তাদের ভাষায় Lemang বলা হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার মত মালয়েশিয়াতেও Rendang খাবারের প্রচলন রয়েছে।

আফ্রিকার দেশ মিশরে ঈদের সময় শহরজুড়ে ব্যাপক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয় এবং নীলনদ ও পার্কের আশেপাশে পরিবার মিলে পিকনিকের ব্যবস্থা করা হয়। মিশরে ঈদের প্রধান খাবার হচ্ছে সকালের "কাহ্ক"। কাহ্ক এক ধরনের বাটার কুকি।

নাইজেরিয়াতে ও ঈদ আনন্দ উদযাপন করা হয় গ্রামে গ্রামে এবং শহরে শহরে। এই সময় প্রতিটি গ্রাম এবং শহরে বড় ভোগের আয়োজন করা হয়। এখানকার ঈদের সময়ের প্রধান কিছু খাবার গুলো হচ্ছে গ্রিলড মাংস, শুকনো মাছের পুডিং ইত্যাদি।

পশ্চিমা দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যেও ঈদের আনন্দ উদযাপিত হয় কিন্তু এক্ষেত্রে এখানে একটি গেট টুগেদার আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমান মানুষজন যেহেতু এখানে বসবাস করে সেহেতু তারা শুধুমাত্র এই গেট টুগেদারের আয়োজন করে। এই সময় একে অপরকে তারা বাসায় খাবার নিমন্ত্রণ জানায়।

অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাতেও অনেক মুসলমান রয়েছে এজন্য অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাতে যখন ঈদ পালিত হয় তখন বড় বড় স্টেডিয়াম এবং পার্কে হাজারো মুসলিম একসাথে জড় হয় এবং নামাজ আদায় করে। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাতে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যে পার্ক অথবা স্টেডিয়ামের আয়োজন করা হয় এটাকে বলা হয় Open House।

FAQs

Q) ইন্দোনেশিয়াতে ঈদকে কি বলা হয়?
A) ইন্দোনেশিয়াতে ঈদকে বলা হয় Lebaran।

Q) মালয়েশিয়াতে ঈদকে কি বলা হয়?
A) মালয়েশিয়াতে ঈদকে বলা হয়-  Hari Raya Aidilfitri।

Q) নাইজেরিয়াতে ঈদকে কি বলা হয়?
A) নাইজেরিয়াতে ঈদকে বলা হয় "সালাহ"।

Q) তুরস্কতে ঈদকে কি বলা হয়?
A) তুরস্কে ঈদকে বলা হয় Bayram (Bayramı)।

শেষ মন্তব্য

আমি আশা করছি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে উপকৃত হয়েছেন। এই আর্টিকেলের ফটোগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করা হবে তাই আপনাদের যদি আরো ঈদের ফটো প্রয়োজন হয় তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনাদের সহায়তা করবে। আপনাদের কোন ধরনের ফটো প্রয়োজন সেটা আমাকে কমেন্টে জানাবেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url