NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমি হাজির হয়েছি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র সম্পর্কে যতগুলো সমস্যা রয়েছে সেই সমস্ত সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য। আজকে আপনারা এই একটি ব্লগ পোস্ট থেকেই বাংলাদেশের NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই এই সমস্ত কিছু নিজে নিজেই ঘরে বসে করতে পারবেন।
NID-আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই
আমি আপনাদের যেভাবে যে পদ্ধতিতে শেখাবো এটি সবচাইতে সহজ পদ্ধতি। তাই আর্টিকেলটি আপনাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে, যদি আপনি NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই খুব সহজভাবে শিখতে চান। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের আলোচনা।

সূচিপত্রঃ NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই

এই ব্লগ পোস্ট থেকে আপনি যা কিছু শিখতে পারবেন তা এক নজরে চোখ বুলিয়ে নিন-

NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই

NID আবেদন-সংশোধন-ডাউনলোড-যাচাই অনেক বড় একটি প্রসেস। এজন্য আমি এই একটি আর্টিকেলে সমস্ত প্রসেস এক জায়গায় করেছি। যেন আপনাদের আলাদা আলাদা প্রসেসের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে না হয়। অর্থাৎ এই একটি জায়গা থেকেই আপনারা আজকে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সমস্ত সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছেন।

চলুন প্রথমে আমরা জেনে নেই আপনি এই আর্টিকেল থেকে কি কি শিখতে পারবেন সে সম্পর্কে-
উপরের এই সমস্ত বিষয় আপনি খুব সহজভাবে ইনশাআল্লাহ আজকে শিখতে পারবেন। এনআইডি কার্ড বিষয়ে সকল বিস্তারিত এ টু জেড তথ্য জেনে আপনি এখন থেকে নিজে নিজেই বাসায় বসে মোবাইলের মাধ্যমে বা কম্পিউটারের মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

এনআইডি আবেদন | NID আবেদন

আপনারা যারা নতুন ভোটার হতে যাচ্ছেন কিন্তু কিভাবে এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন তা বুঝতে পারছেন না তাদের আমি আজকে একটি সহজ সমাধান দিব। আমি যেভাবে আপনাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড আবেদন করা শিখাবো আপনি যদি এভাবে আবেদন করেন তাহলে আপনার কোন কম্পিউটারের দোকানে যাওয়া লাগবে না। NID আবেদন শেখার জন্য নিচের লিংক এর উপরে ক্লিক করুন। 👇

এনআইডি সংশোধন | NID সংশোধন

অনেক সময় দেখা যায় আমাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ডে ভুল থাকে। ন্যাশনাল আইডি কার্ড আবেদন করার সময় আমরা ভুল করে থাকি অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভুল করে থাকে এজন্যই ন্যাশনাল আইডি কার্ডে ভুল হয়। আপনাদের আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ পালন করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ গুলো আপনি যদি ভালভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার NID সংশোধন করে ফেলতে পারবেন।

আপনার নাম জনিত ভুল অথবা আপনার ঠিকানা জনিত ভুল অথবা আপনার জন্ম তারিখ জনিত ভুল ইত্যাদি যে কোনজনিত জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল আপনি এখন থেকে বাসায় বসেই সমাধান করতে পারবেন। মোবাইল দিয়ে বা কম্পিউটার দিয়ে কিভাবে সহজে আপনি এই কাজটি করবেন তা জানার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

এনআইডি ডাউনলোড | NID ডাউনলোড

আপনারা যারা নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো ভোটার আইডি কার্ড হাতে পাননি, তাদের অনেক সময় অনলাইন এনআইডি ডাউনলোড কপির প্রয়োজন পড়ে। আপনি যতদিন পর্যন্ত অরজিনাল এনআইডি কার্ড হাতে পাবেন না ততদিন আপনি অনলাইনের এই ডাউনলোড কপিটি ব্যবহার করে আপনার প্রয়োজনীয় সকল কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন। 

আপনার অরজিনাল ন্যাশনাল আইডি কার্ডটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আপনি কিভাবে আপনার NID ডাউনলোড করবেন তার প্রসেস নিচে দেখে নিন। 👇

এনআইডি যাচাই | NID যাচাই

আপনি যে আইডি কার্ডটি হাতে পেয়েছেন সেই ন্যাশনাল আইডি কার্ডটি অরিজিনাল কিনা সেটা কিভাবে যাচাই করবেন? টেনশন করার কোন কারণ নেই কারণ আমি এখন আপনাদের এমন একটি পদ্ধতি শিখাব যে পদ্ধতি জেনে আপনারা এখন থেকে চেক করতে পারবেন আপনার এন আই ডি কার্ড টি আসল না নকল।

বর্তমান সময়ে অনেকেরই দেখা যাচ্ছে ন্যাশনাল আইডি কার্ড নকল। তাই আপনাকে এখন থেকে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করে তারপর সেটি ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আর দেরি কেন? NID যাচাই করা শিখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

আবেদন সংশোধন ডাউনলোড যাচাই সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

দেখুন ন্যাশনাল আইডি কার্ডের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সংশোধন করার জন্য বিভিন্ন প্রসেস অবলম্বন করতে হয়। তাই একটি আর্টিকেল এর মাধ্যমে সমস্ত প্রসেস গুলো বোঝানো সম্ভব নয়। ঠিক এজন্যই আমি এই আর্টিকেলের মধ্যে আপনাদের এনআইডি আবেদন, সংশোধন, ডাউনলোড, যাচাই এর সকল লিংক গুলো একসঙ্গে দিয়ে দিয়েছি। আপনারা এখন একটি একটি করে পদ্ধতি গুলো শিখে ফেলুন।

ভোটার আইডি কার্ড করতে কত টাকা লাগে?

ভোটার আইডি কার্ড করতে কোন টাকা খরচ হয় না। আপনি যদি কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেন তাহলে সর্বোচ্চ আপনার ২০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হবে। আর আপনি যদি মনে করেন নিজেই বাসায় বসে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন তাহলে আপনার কোন টাকা খরচ হবে না।

সরকারের একটি ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ টাকা খরচ হয়। বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ড গুলো লেমিনেটিং করে প্রদান করা হয়।

ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে?

ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন করার পর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য দেওয়ার জন্য একটি তারিখ দিয়ে দেওয়া হয়। এই তারিখের মধ্যে নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ছবি তোলা সহ বায়োমেট্রিক সকল তথ্য দিতে হয়। যেমন ছবি তোলা, চোখের আইরিশ, আঙ্গুলের ছাপ, স্বাক্ষর ইত্যাদি।

এরপরে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ অথবা দুই মাস থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে স্মার্ট এনআইডি কার্ডটি হস্তান্তর করার জন্য। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়। 

মনে রাখবেন অনলাইন থেকে আসল এনআইডি কপি সংগ্রহ করা সম্ভব নয় তবে আপনি অনলাইন থেকে এনআইডি কপি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় সকল কাজ করতে পারবেন।

আপনার এনআইডি কার্ডটি সম্পন্ন হয়ে গেলে ১০৫ নাম্বার থেকে আপনার নাম্বারে এসএমএস দিয়ে জানিয়ে দিবে। এরপরে আপনি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আপনার স্মার্ট কার্ড টি সংগ্রহ করবেন। অথবা আপনি অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করে জানতে পারবেন আপনার স্মার্ট কার্ড টি সার্ভারে সংযুক্ত হয়েছে কিনা।

স্মার্ট কার্ড বিতরণ একসাথে করা হয়?

স্মার্ট কার্ড বিতরণ সাধারণত একসাথে করা হয় না। বিভিন্ন এলাকা ভেদে আলাদা আলাদা সময়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। তবে স্মার্ট কার্ড একসঙ্গে প্রদান করবে কিনা তার সম্পূর্ণ বিষয় নির্ভর করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ওপর। তাই তারা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সেভাবেই স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।

জাতীয় পরিচয় পত্রের মেয়াদ কত বছর?

জাতীয় পরিচয় পত্রের কোন মেয়াদ নেই অর্থাৎ আপনি যত বছর বেঁচে থাকবেন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র তত বছর থাকবে। তবে জাতীয় পরিচয় পত্র বাংলাদেশ সরকার যদি পরিবর্তন করতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে পুরনো জাতীয় পরিচয় পত্র পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে হবে। যেমন বর্তমানে স্মার্ট এনআইডি কার্ড নতুন করে চালু করা হয়েছে।

নতুন এনআইডি স্মার্ট কার্ড এ কি কি প্রতীক বা চিহ্ন রয়েছে?

বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ডে বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এছাড়া আরো কিছু দেশীয় ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমনঃ বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, দোয়েল পাখি, শাপলা ফুল,বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছাড়াও, চা পাতার চিহ্ন রয়েছে নতুন স্মার্ট কার্ডে।

জাতীয় পরিচয় পত্র কেন প্রয়োজন?

একটি দেশের নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে হলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে। দেশের নাগরিক হিসেবে সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া আপনি কোন ধরনের কার্যকলাপ সম্পন্ন করতে পারবেন না। 

যেমনঃ সিম রেজিস্ট্রেশন করতে, চাকরির আবেদন করতে, পাসপোর্ট ও ভিসা করতে, ব্যাংক একাউন্ট খুলতে এছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি যে কোন কাজে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন।

NID হেল্পলাইন নাম্বার

ন্যাশনাল আইডি কার্ড বিষয়ক যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য এবং কাস্টমার কেয়ারের সাথে কথা বলার জন্য ১০৫ নম্বরে আপনি কল করতে পারেন। সাধারণত সকাল ১০.০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৬.০০ ঘটিকা পর্যন্ত এই নাম্বারে আপনি সরাসরি কথা বলতে পারবেন।

এছাড়া তাদের একটি টেলিফোন নাম্বার রয়েছে সেই নাম্বারে আপনারা দেশ বিদেশ থেকে কল দিতে পারেন। জাতীয় পরিচয় পত্র হেল্পলাইন টেলিফোন নাম্বার +৮৮ ০১৭০৮-৫০১২৬১।

এছাড়া আপনারা যদি টেলিফোন নম্বর বা ১০৫ এ কল করে যোগাযোগ করতে না পারেন তাহলে তাদের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করবেন ০১৭০৮৫০১২৬১।

আপনারা যদি ইমেইলে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান তাহলে তাদের মিল করুন info@nidw.gov.bd এই ঠিকানায়।

source: nidbd.org

FAQ

১) ভোটার আইডি কার্ড করতে কত বছর লাগে?
উত্তরঃ ভোটার আইডি কার্ড করতে সর্বোচ্চ এক মাস থেকে দুই মাস সময় লাগে।

২) জাতীয় পরিচয় পত্র কিভাবে চেক করব?
উত্তরঃ জাতীয় পরিচয় পত্র চেক করার জন্য আপনি https://land.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন অথবা ভূমি উন্নয়ন কর (LDTX) এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে পারেন। 

৩) স্মার্ট nid কার্ড কিভাবে পাবো?
উত্তরঃ স্মার্ট এনআইডি কার্ড পাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে এবং এই ফর্ম এর সাথে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।

৪) বাংলাদেশের নতুন স্মার্ট কার্ড কোন দেশ থেকে তৈরি হয়েছে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের নতুন এনআইডি স্মার্ট কার্ড তৈরি করেছে ফ্রান্স।

৫) NIDW এর অর্থ কি?
উত্তরঃ NIDW এর অর্থ হচ্ছে- জাতীয় পরিচয় উইং।

৬) বাংলাদেশে এনআইডি কার্ড নিবন্ধন এবং বিতরণের দায়িত্বে কে ছিল?
উত্তরঃ বাংলাদেশে এনআইডি কার্ড নিবন্ধন এবং বিতরণের দায়িত্বে ছিল- NIDW বা জাতীয় পরিচয় উইং।

৭) ন্যাশনাল আইডি কার্ডের প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তরঃ ন্যাশনাল আইডি কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ১৯৯০ সাল থেকে।

৮) বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম কবে ন্যাশনাল আইডি কার্ড বিতরণ শুরু হয়? 
উত্তরঃ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে ন্যাশনাল আইডি কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

শেষ আলোচনা

আমি আশা করছি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সমস্ত বিষয়গুলো এ টু জেড জানতে পারবেন। দেখুন এই ধরনের কাজগুলো একটু আস্তে ধীরে করতে হয় তাই আপনারা আমার পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে আসতে ধীরে প্রসেস গুলো পালন করবেন। তাহলে দেখবেন ন্যাশনাল আইডি কার্ড সম্পর্কে যে কোন বিষয়ে আপনার আর কারো কাছে সাহায্য নেওয়া লাগবে না। 

আপনাদের যদি আরো কোন বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজন পড়ে তাহলে আমাদের জানাবেন। এছাড়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড সম্পর্কে আরো কোনো তথ্য চাইলে আমাদের অবগত করবেন। আজ এই পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url