রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান | রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার সমুহ
রাজশাহী
জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান অনেকগুলো রয়েছে। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশের
সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী। সম্পূর্ণ বাংলাদেশের মধ্যে
রাজশাহী বর্তমানে ক্লিন সিটি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। আপনি রাজশাহীতে ভ্রমণে আসলে
এখানকার সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখলে মন জুড়ে যাবে।
রাজশাহীতে দিনের বেলায় সৌন্দর্যের একরকম প্রতিমা এবং রাতের বেলায় সৌন্দর্যের
অন্য প্রতিমা লক্ষ্য করা যায়। রাতের বেলায় রাজশাহীর রাস্তা গুলোতে রঙিন রঙিন
বাতিতে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে। যার ফলে রাস্তা গুলো দেখতে আরো সুন্দর লাগে। এখানকার
রাস্তা গুলোর মাঝখানে ফুলের গাছ রয়েছে এবং রাস্তাগুলো একদম ধুলাবালি মুক্ত।
কাজেই আপনারা যদি ভ্রমণের জন্য রাজশাহীতে আসতে চান তাহলে আপনাদের সেই ভ্রমণ বৃথা
যাবে না ১০০% নিশ্চিত। রাজশাহীতে বেড়াতে আসার আগে আপনাকে রাজশাহীর দর্শনীয়
স্থানগুলোর নাম জানতে হবে। আপনি যদি এই স্থানগুলোর নাম ও ঠিকানা জানেন, তাহলে
আপনি সময় মেইনটেইন করে রাজশাহীতে ভ্রমণে আসতে পারবেন।
সূচিপত্রঃ রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান | রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার সমুহ
আপনারা এই আর্টিকেল থেকে যে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান গুলো এত সুন্দর যে অনেক দূর দূর থেকে মানুষজন
রাজশাহীতে ঘুরতে আসে। বর্তমান সময়ে অনেক নাটক এর শুটিং হচ্ছে রাজশাহীর বিভিন্ন
দর্শনীয় স্থানগুলোতে। রাজশাহীর এই দর্ষণীয় স্থানগুলোতে গেলে প্রতিনিয়ত
মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। আপনি ইউটিউব অথবা ফেসবুকে রাজশাহী লিখে সার্চ
দিলেই, রাজশাহীর সৌন্দর্যের সামান্য কিছু উদাহরণ দেখতে পাবেন।
আরো পড়ুনঃ রাজশাহী জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মোবাইলে রাজশাহীর এই সৌন্দর্য দেখার চেয়ে আপনি যদি সরাসরি রাজশাহী এসে রাজশাহীর
সৌন্দর্য উপভোগ করেন তাহলে আপনার মন প্রাণ মনোমুগ্ধকর সবুজ পরিবেশের সাথে হারিয়ে
যাবে।
দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান সমূহ নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হলঃ
- রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়/ পদ্মা নদীর তীর
- রাজশাহী টি বাঁধ পর্যটন কেন্দ্র
- রাজশাহী আই বাধ পর্যটন কেন্দ্র
- রাজশাহী শিশু পার্ক
- রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা
- রাজশাহী সাফিনা পার্ক
- রাজশাহী উৎসব পার্ক
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী কলেজ
- রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘর
- রুয়েট/রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা
- রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার(শুধুমাত্র বই প্রেমী মানুষদের জন্য)
- রাজশাহী বিহাস, বুধপাড়া, মোহোনপুর ওভারব্রিজ
- রাজশাহী বাঘা মসজিদ
- রাজশাহী বাগধানী মসজিদ
- হাজার দুয়ারি জমিদারবাড়ি
- পুঠিয়া রাজবাড়ী
- পুঠিয়া বড় আহ্নিক মন্দির, পুঠিয়া শিবমন্দির, পুঠিয়া দোলমন্দির, পুঠিয়া গোবিন্দ মন্দির,
- হাওয়াখানা
- রাজশাহী শাহ্ মখদুমের মাজার
- রাজশাহী দুই গম্বুজবিশিষ্ট কিসমত মাড়িয়া মসজিদ
- রাজশাহী এক গম্বুজবিশিষ্ট রুইপাড়া (দূর্গাপুর) জামে মসজিদ
- রাজশাহী জুটমিল
- রাজশাহী সুগার মিল
- রাজশাহী মুক্ত মঞ্চ
- রাজশাহী বিজিবি
রাজশাহী বিভাগের দর্শনীয় স্থান তৈরি হলে এখানে সেই স্থান আপডেট করে দেওয়া
হবে।
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানগুলোর ঠিকানা
দর্শনীয় ভ্রমণ স্থানগুলোর ঠিকানা নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হলঃ
১) রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়/ পদ্মা নদীর তীর
- ঠিকানাঃ রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে দশ মিনিট দক্ষিণ দিকে হাঁটলেই আপনারা রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড় পেয়ে যাবেন। প্রায় ১২ কিলোমিটার জায়গা বিশিষ্ট রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে মানুষজন বিনোদনের জন্য কিছু ভালো সময় কাটাতে আসে। বাংলাদেশের যেকোনো ঋতুতে আপনারা পদ্মা নদীর তীরে এসে বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন।
২) রাজশাহী টি বাঁধ পর্যটন কেন্দ্র
- ঠিকানাঃ শ্রীরামপুর , টি বাঁধ ,রাজশাহী। এটাও রাজশাহী পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত।
৩) রাজশাহী আই বাধ পর্যটন কেন্দ্র
- ঠিকানাঃ রাজশাহী বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের পাশেই আপনারা এই পর্যটন কেন্দ্র পেয়ে যাবেন। এটাও রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত অপরূপ এক জায়গা।
৪) রাজশাহী শিশু পার্ক/শহীদ জিয়া শিশু পার্ক
- ঠিকানাঃ বড় বনগ্রাম, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
৫) রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা/শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
ঠিকানাঃ রাজশাহী শহর থেকে চার কিলোমিটার পশ্চিম দিকে, রাজশাহী
কমিশনারের কার্যালয় বা পুলিশ লাইনের পূর্ব দিকে এই চিড়িয়াখানা টি অবস্থিত।
এটিও রাজশাহী পদ্মা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। এই চিড়িয়াখানাটি এক সময়ে
রেসকোর্স ময়দান ছিল পরবর্তীতে এটিকে চিড়িয়াখানা হিসেবে তৈরি করা হয়।
প্রায় ৩২.৭৬ একর জমির উপরে এই চিড়িয়াখানাটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে আসলে
আপনি সবুজের প্রাকৃতিক রাজ্যে হারিয়ে যাবেন। সেই সাথে পদ্মা নদীর অপরূপ
দৃশ্য তো আছেই।
৬) রাজশাহী সাফিনা পার্ক
- ঠিকানাঃ গোদাগাড়ী, আমরুনা রোড, রাজশাহী।
৭) রাজশাহী উৎসব পার্ক
- ঠিকানাঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলাতে, বাঘা দিঘির পাড়ে এই উৎসব পার্কটি অবস্থিত। অত্যন্ত সুন্দর একটি পরিবেশ এখানে আপনারা পেয়ে যাবেন। প্রায় ৮০ বিঘা জমির উপরে গ্রামীণ এক সুন্দর প্রাকৃতিক নির্মল পরিবেশ দেখতে চাইলে এখানে আপনারা যেতে পারেন।
৮) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- ঠিকানাঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী শহর থেকে সাত থেকে আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে, বিনোদপুর এবং কাজলায় অবস্থিত।
৯) রাজশাহী কলেজ
- ঠিকানাঃ রাজশাহী শহরে সোনা দিঘির মোড় এর পূর্বপাশেই আপনারা রাজশাহী কলেজ পেয়ে যাবেন। এই কলেজটি পদ্মা নদীর পাশে তৈরি করা হয়েছে। তাই আপনারা কলেজের ভেতরের সবুজ গাছপালায় সমৃদ্ধ সৌন্দর্য এবং নদীর ফ্রেশ বাতাস গ্রহণ করতে চাইলে রাজশাহী কলেজে আসতে পারেন।
১০) রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘর
- ঠিকানাঃ রাজশাহী সিটি থেকে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ মিটার পশ্চিম দিকে এই বরেন্দ্র জাদুঘর অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অনেক পুরনো একটি জাদুঘর।
১১) রুয়েট/রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- ঠিকানাঃ স্টেশন রোড, তালাইমারী, রাজশাহী।
১২) রাজশাহী শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা
- ঠিকানাঃ বাংলাদেশের সর্ব প্রথম মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক সংগ্রহশালা হচ্ছে রাজশাহী শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা। এটি রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত।
১৩) রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার(শুধুমাত্র বই প্রেমী মানুষদের জন্য)
- ঠিকানাঃ রাজশাহী নগরীর মিয়া পাড়ায় এই গ্রন্থাগারটি অবস্থিত
১৪) রাজশাহী বিহাস, বুধপাড়া, মোহোনপুর ওভারব্রিজ
- ঠিকানাঃ রাজশাহী ধান গবেষণা এবং গম গবেষণার উত্তর-পূর্ব পাশে এবং বিহাশ থেকে উত্তর দিকে এটি অবস্থিত।
১৫) রাজশাহী বাঘা মসজিদ
- ঠিকানাঃ রাজশাহী বাঘা উপজেলায় এটি অবস্থিত। রাজশাহী থেকে এটি ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বদিকে অবস্থিত।
১৬) রাজশাহী বাগধানী মসজিদ
- ঠিকানাঃ রাজশাহী নওহাটা পৌরসভাতে এটি অবস্থিত।
১৭) হাজার দুয়ারি জমিদারবাড়ি
- ঠিকানাঃ রাজশাহী বাগমারা সীমান্তের শেষ দিকে যোগীপাড়া ইউনিয়নের এটি অবস্থিত।
১৮) পুঠিয়া রাজবাড়ী
- ঠিকানাঃ রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলাতে এটি অবস্থিত।
১৯) পুঠিয়া বড় আহ্নিক মন্দির, পুঠিয়া শিবমন্দির, পুঠিয়া দোলমন্দির, পুঠিয়া
গোবিন্দ মন্দির,
হাওয়াখানা
হাওয়াখানা
- ঠিকানাঃ রাজশাহী উপজেলাতে এগুলো অবস্থিত। আপনারা যদি পঠিয়া রাজবাড়ী দেখতে জান তাহলে এগুলো দেখে চলে আসতে পারবেন কারণ এগুলোর দূরত্ব খুব কাছাকাছি।
২০) রাজশাহী শাহ্ মখদুমের মাজার
- ঠিকানাঃ এটি রাজশাহী শহরের পাশেই পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। আপনারা রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে ঘুরতে গেলে এই জায়গাটি দেখে আসতে পারেন।
২১) রাজশাহী দুই গম্বুজবিশিষ্ট কিসমত মাড়িয়া মসজিদ
- ঠিকানাঃ এটি মাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত।
২২) রাজশাহী এক গম্বুজবিশিষ্ট রুইপাড়া (দূর্গাপুর) জামে মসজিদ
- ঠিকানাঃ এটি রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবস্থিত।
২৩) রাজশাহী জুট মিল
- ঠিকানাঃ এটা রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভা তে অবস্থিত।
২৪) রাজশাহী সুগার মিল
- ঠিকানাঃ এটি রাজশাহী কাটাখালি থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার উত্তর দিকে হরিয়ানে অবস্থিত।
২৫) রাজশাহী মুক্ত মঞ্চ
- ঠিকানাঃ বিজিবি, লালন শাহ পার্ক, রাজশাহী ৬০০০।
২৬) রাজশাহী বিজিবি
- ঠিকানাঃ তালাইমারি, রাজশাহি।
এগুলোই হচ্ছে রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান সমূহ। রাজশাহীতে আরো নতুন
নতুন ভ্রমণ স্থান বের হলে এখানে সেই নতুন স্থান সংযোজন করে দেওয়া হবে।
রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার সমুহ
আপনারা রাজশাহী জেলায় ভ্রমণ করতে আসবেন অথচ রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার সমূহ
খেয়ে দেখবেন না তা কি হয়? মোটেই না এজন্য আমি এখন আপনাদের সাথে রাজশাহীর
বিখ্যাত খাবার সমূহ নিয়ে আলোচনা করব। রাজশাহীর এই বিখ্যাত খাবার সমূহ খাবার
সময় আপনি যে স্বাদ বা তৃপ্তি পাবেন তা আপনি বাংলাদেশের আর কোথাও পাবেন
না।
তাহলে চলুন আমরা এখন জেনে নেই রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার সমূহ কোনগুলো সে
সম্পর্কেঃ
১) রাজশাহীর কালাভুনা
রাজশাহীতে সবচেয়ে ভালো কালাভুনা পাওয়া যায় কাটাখালি পৌরসভা তে। রাজশাহী
শহর থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে কাটাখালি পৌরসভা পেয়ে যাবেন।
এখানে আপনারা ইব্রাহিম হোটেলের কালাভুনা এবং একতা হোটেলের কালাভুনা দুই ধরনের
টেস্ট পাবেন। তাই চেষ্টা করবেন দুই জায়গাতে কালাভুনা খাওয়ার জন্য কারণ এই
দুই জায়গার কালাভুনার যে স্বাদ পাবেন তা আপনি রাজশাহীর আর কোথাও পাবেন
না।
এছাড়া নওহাটার কালাভুনাও রাজশাহীতে অনেক জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করে রাজশাহী
কাটাখালির কালাভুনার চেয়ে নওহাটার কালাভুনা বেশি টেস্ট। তাই আমি
সাজেস্ট করব আপনারা রাজশাহীর কাটাখালি এবং নওহাটা দুই জায়গাতেই কালাভুনা
খেয়ে দেখবেন। তবে আমি শুনেছি নওহাটার হানিফের কালাভুনা সবচেয়ে
বেশি জনপ্রিয়।
কালাভুনার দামঃ আপনারা একবাটি কালাভুনা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়
পেয়ে যাবেন তবে সময়ের ভিত্তিতে এই দাম পরিবর্তন হতে পারে।
২) রাজশাহীর কালাই রুটি
রাজশাহী শহরের যে কোন জায়গায় বা রাস্তার আশেপাশে আপনারা কালাই রুটির দোকান
দেখতে পাবেন। রাজশাহীর সবগুলো দোকানের কালাই রুটির স্বাদ প্রায় একই রকম। মূলত
কালাই রুটি রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বিখ্যাত খাবারের নাম।
গরম গরম কালাই
রুটির সাথে বেগুন ভর্তা এবং ধনিয়া পাতার চাটনি কালাই রুটির স্বাদ দ্বিগুণ করে
তোলে। রাজশাহী নগরির বিভিন্ন জায়গায় আপনারা এই কালাই রুটির দোকান গুলো পেয়ে
যাবেন।
কালাই রুটির দামঃ রাজশাহীতে স্থান ভেদে কালাই রুটির দাম ভিন্ন হতে পারে
তবে সাধারণত ২৫ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে কালাই রুটি পাওয়া যায়।
৩) বাটার মোড়ের গরম গরম জিলাপি
আপনি যদি রাজশাহীতে বেড়াতে আসতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে রাজশাহী শহরের বাটার
মোড়ের গরম গরম জিলাপি খেতেই হবে।
জিলাপ এর দামঃ এই জিলাপি গুলো আপনারা ১২০ টাকা কেজি কিনতে পারবেন।
৪) রাজশাহীর গরম গরম মিষ্টি
এটি অবস্থিত রাজশাহীর সিএনবি মোড়ে। আপনারা যদি গরম গরম মিষ্টি খেতে চান তাহলে
আপনারা যেতে পারেন সিএনবির মোড় "রানা মিষ্টি ঘর" এই দোকানে। দোকানে যাওয়ার সাথে
সাথে মিষ্টির সুঘ্রাণ আপনাদের নাকে আসবে।
আর মিষ্টির দিকে তাকালে আপনারা না খেয়ে
থাকতে পারবেন না। এখানে আপনারা প্রতি কেজি মিষ্টি ২০০ টাকা দরে পেয়ে যাবেন।
এখানে যারা মিষ্টি খেতে আছে তারা পুরির সাথে মিষ্টি খায়। শুনেছি পুরি মিষ্টির
সেরার সাথে চুবিয়ে চুবিয়ে খাওয়ার জন্য রান্না মিষ্টি ঘর অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৫) রাজশাহীর বট পরোটা
রাজশাহীর বট পরোটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অত্যন্ত জনপ্রিয়
একটি খাবার। কারণ এই খাবারটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই তালাইমারিতে তৈরি
করা হয়। গরুর ভুড়ি বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করে মচমচে করে তোলা হয় এবং গরম
গরম পরোটা সাথে এই খাবার পরিবেশন করা হয়। রাজশাহীতে আসলে অবশ্যই এই খাবারটি
খাবেন।
বট পরোটার দামঃ এখানে আপনারা ৫০ টাকার এক প্লেট বট অথবা ২৫ টাকার হাফ
প্লেট বটের সাথে ১০ টাকা করে পরোটা পেয়ে যাবেন।
৬) সাজ্জাদ ভাইয়ের লেবুর পিনিক, বোম্বভাজা, লাড্ডুচুর, লেবুচুর
আপনি কি রাজশাহীতে এসে একটু ব্যতিক্রম ধর্মী খাবার খেতে চান? তাহলে চলে আসুন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাজ্জাদ ভাইয়ের ঝাল মুড়ির দোকানে।
এখানে আপনারা লেবুর পিনিক, বোম্বভাজা, লাড্ডুচুর, লেবুচুর এবং বারো ভাজা
পেয়ে যাবেন। বিশ্বাস করুন আপনি যদি একবার লেবুর পিনিক, বোম্বভাজা, লাড্ডুচুর,
লেবুচুর এবং বারো ভাজা মুখে দেন তাহলে আপনি চোখ বন্ধ করে খেতে থাকবেন।
৭) শিক কাবাব
রাজশাহীর ব্যতিক্রমধর্মী স্বাদের শিক কাবাব খেতে চান? তাহলে আপনাকে যেতে হবে
বিদ্যুতের হোটেলে।
৮) লুচি ও আলুর দম
রাজশাহীতে সবচেয়ে ভালো লুচি ও আলুর দম বানায় সুখীর রান্না ঘরে।
৯) আলু পুরি
আপনি যদি অসাধারণ টেস্টের আলু পুরি খেতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে রাজশাহী
সিটি কলেজের সামনে।
১০) সোনাদিঘী মোড়ের লেবু চা
রাজশাহীর সোনাদিঘী মোড়ে অসাধারণ স্বাদের লেবু চা বিক্রি করা হয়।
১১) বর্ণালীর দুধ চা
আপনি রাজশাহীতে আসবেন আর বর্ণালীর দুধ চা খাবেন না তা কখনো হতে পারে না।
১২) রাজশাহীর বার্গার
রাজশাহীতে বার্গার খুব সস্তায় পাওয়া যায়। ঢাকায় যে সমস্ত বার্গার গুলো ৩০০
টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয় ঠিক সেই ধরনের বার্গার আপনারা
রাজশাহীতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পেয়ে যাবেন। কোন কোন জায়গায় ১০০ টাকা
নিতে পারে।
১৩) নাটোরের কাঁচাগোল্লা ও বগুড়ার দই
আপনারা যদি রাজশাহী শহরে এসে নাটোরের কাঁচাগোল্লা ও বগুড়ার দই খেতে চান তাহলে
আপনাদের রাজশাহী জিরো পয়েন্টে যেতে হবে। সেখানে আপনারা চার থেকে পাঁচটি ভালো
ভালো মিষ্টির দোকান দেখতে পাবেন। এখানকার মিষ্টি গুলো নাটোর এবং বগুড়া থেকে
সংগ্রহ করা হয়।
রাজশাহীতে থাকা খাওয়ার খরচ কেমন | রাজশাহী আবাসিক হোটেলের নাম্বার
আপনারা যারা রাজশাহীতে ভ্রমণে আসবেন তাদের অবশ্যই রাজশাহীতে থাকা খাওয়ার খরচ
গুলো জেনে তারপর আসতে হবে। যদিও রাজশাহীতে থাকা খাওয়ার খরচ অন্যান্য জেলা
তুলনায় অনেক কম তবুও আপনারা যদি একটি হিসেব করে ভ্রমণ করতে আসেন তাহলে
আপনাদের সুবিধা হবে বলে আমি মনে করি।
রাজশাহীর থাকা খাওয়ার খরচ কেমন, আবাসিক হোটেল গুলোর সুবিধা এবং আবাসিক
হোটেল গুলোর মোবাইল নাম্বার সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন 👇
রাজশাহীর মানুষজন কেমন?
রাজশাহীর মানুষজন কেমন তা আপনাদের নিশ্চয়ই বলতে হবে না। আপনি বাংলাদেশের
বিভিন্ন প্রান্তে বেড়াতে যাবেন কিন্তু রাজশাহীর মানুষদের মতো আন্তরিক মনের
মানুষ আপনারা কোথাও পাবেন না। রাজশাহীতে এসে আপনারা যদি কোন বিপদে পড়েন এবং
রাস্তার কোন মানুষের কাছে হেল্প চান তাহলে সকলেই আপনাকে হেল্প করার জন্য
এগিয়ে আসবে।
তাই সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার দিক দিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে
না। কারণ আপনারা সকলে জানেন রাজশাহী একটি শান্তিপ্রিয় নগরী এবং শিক্ষা
নগরী।
FAQ
১) রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থান কী কী?
উত্তরঃ রাজশাহী জেলার মধ্যে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে পদ্মা নদীর পাড়,
রাজশাহী কলেজ, বরেন্দ্র জাদুঘর, পুঠিয়া রাজবাড়ী, সাফিনা পার্ক, উৎসব পার্ক,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও অনেক প্রাকৃতিক এবং ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে।
২) রাজশাহী জেলার বিখ্যাত খাবার কী কী?
উত্তরঃ রাজশাহী জেলায় বিখ্যাত খাবারগুলোর মধ্যে কালাভুনা, কালাই রুটি,
কাঁচা গোল্লা, দই, বট পরোটা, লেবুর পিনিক বিশেষভাবে বিখ্যাত।
৩) রাজশাহীর কথায় সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক বিষয় দেখা যায়?
উত্তরঃ পদ্মা নদীর পাড় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশ থেকে
রাজশাহীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
৪) রাজশাহী জেলার বিশেষ ঐতিহাসিক স্থান কি কি?
উত্তরঃ রাজশাহী জেলার বিশেষ ঐতিহাসিক স্থান গুলো হচ্ছে- নাটোর রাজবাড়ি,
পুঠিয়া রাজবাড়ী, হাজার দুয়ারি জমিদারবাড়ি এবং রাজশাহী শহীদ স্মৃতি
সংগ্রহশালা।
৫) রাজশাহী জেলার বিখ্যাত কালাভুনা কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ রাজশহীর বিখ্যাত কালাভুনা পাওয়া যায় কাটাখালি পৌরসভা এবং নওহাটা
পৌরসভায়।
৬) রাজশাহীর খাবারের দাম কেমন?
উত্তরঃ রাজশাহীতে খাবারের দাম বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক
কম।
৭) রাজশাহীর বিখ্যাত ফল কোনটি?
উত্তরঃ রাজশাহীর বিখ্যাত ফল দুইটি। ১) আম ২) লিচু।
৮) রাজশাহী শহরের নিরাপত্তা কেমন?
উত্তরঃ রাজশাহী শহর সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় এবং নিরাপদ একটি শহর। এখানকার
মানুষ খুবই সহানুভূতিশীল এবং সাহায্যকারী।
৯) রাজশাহী জেলার জনপ্রিয় পার্কগুলোর নাম কী কী?
উত্তরঃ রাজশাহীতে বেশ কিছু জনপ্রিয় পার্ক রয়েছে যেমন রাজশাহী শিশু পার্ক,
সাফিনা পার্ক, উৎসব পার্ক এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা।
১০) রাজশাহীর কোথায় থাকার ব্যবস্থা ভালো?
উত্তরঃ রাজশাহী শহরের আশেপাশেই বিভিন্ন ধরনের আবাসিক হোটেলে আপনারা পরিবার
সহ কোন ঝামেলা ছাড়াই থাকতে পারবেন।
শেষ মন্তব্য
আমি আশা করছি আপনারা রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান এবং রাজশাহীর
বিখ্যাত খাবার সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়ে গেছেন। আসলে আমি আপনাদের
যে ঠিকানা গুলো দিয়েছি এই ঠিকানা গুলো আপনারা নোট করে রাখবেন এবং রাজশাহী
শহরে এসে যে কোন মানুষ বা সিএনজি বা অটোরিক্সা চালককে বললেই আপনাকে সেই
স্থানে নিয়ে চলে যাবে। বলে রাখা ভালো রাজশাহীতে যাতায়াত খরচ অন্যান্য জেলার
তুলনায় অনেক কম।