চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস | ভাইভা পরীক্ষায় কমন কিছু প্রশ্ন

চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস আজকে আমি এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। ভাইভা পরীক্ষায় কমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে যা আপনাকে ভাইভাতে ধরবেই ১০০% সিওর। ভাই আপনাকে অবশ্যই এই কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর পারতে হবে।

চাকরির-ভাইভা-পরীক্ষার-টিপস
ভাইবা বোর্ডে প্রথমেই আপনাকে এই প্রশ্নগুলো করবে এবং প্রথমে যদি আপনি এই প্রশ্নগুলো না পারেন তাহলে আপনার ভাইবা কখনোই ভালো হবে না এবং স্যারেরাও আপনার প্রতি নেগেটিভ চিন্তাভাবনা করবে। তাই আমার এই আর্টিকেল থেকে চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস গুলো জেনে নিন এবং ভাইভা পরীক্ষার কমন কিছু প্রশ্ন জেনে সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস

আপনি এই আর্টিকেলে যেসমস্ত বিষয় জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস | ভাইভা পরীক্ষায় কমন কিছু প্রশ্ন

ভাইভা বোর্ড যে সমস্ত কমন প্রশ্নগুলো করে, সে সমস্ত কমন প্রশ্নগুলো এই আর্টিকেল থেকে জানার পরে আপনি একটি খাতায় নোট করে রাখুন। আপনি কিভাবে স্যারদের সামনে এই কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর উপস্থাপনা করবেন তা আগে থেকে নোট করে মুখস্ত করে ফেলুন।

চাকরির ভাইভা পরীক্ষার টিপস এবং ভাইভা পরীক্ষায় কমন কিছু প্রশ্ন সমূহ আপনারা এই আর্টিকেল থেকে পাওয়ার সাথে সাথে, আপনাদের বিষয় ভিত্তিক সাবজেক্ট গুলোর ভাইভা প্রশ্ন গুলো এই আর্টিকেল থেকে পেয়ে যাবেন। তাই মনোযোগ দিয়ে এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
ভাইভা-পরীক্ষায়-কমন-কিছু-প্রশ্ন

ভাইভা পরীক্ষার কমন কিছু প্রশ্ন নিম্নে নিচে দেওয়া হলঃ

১) প্রথমেই আপনাকে স্যারেরা বলবে নিজের সম্পর্কে বলুন ( Introduce yourself )।

দেখুন আপনি যখন ভাইভাতে ঢুকবেন তখন স্যারেরা আপনার সিভি প্রথমে দেখবে। তো আপনার সিভিতে আপনার বিষয়ে সব কিছুই লেখা আছে তারপরেও স্যারেরা কেন আপনাকে প্রশ্ন করে নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে? আসলে স্যারেরা এই প্রশ্নের মাধ্যমে আপনাকে যাচাই করে আপনার কথা বলা এবং আপনার পার্সোনালিটি কেমন। কারণ আপনি যত ভালোভাবে আপনার নিজেকে বর্ণনা করতে পারবেন স্যারেরা তত পজিটিভ মনোভাব আপনার উপর পোষণ করবে।


মূলত স্যারেরা এই প্রশ্নটি করার উপরে দেখতে চায় আপনার আত্মবিশ্বাস টা কেমন এবং আপনি নিজের সম্পর্কে কতটুকু ভালো জানেন। তারপর এই প্রশ্নটি করার আরেকটি মূল অন্য কারণ হচ্ছে আপনি কেমন গুছিয়ে কথা বলতে পারেন।

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন এই প্রশ্নের উত্তরে আপনারা অনেকেই বলতে শুরু করেন- আমার নাম ফারুক, আমার বাবার নাম তারেক, আমার মায়ের নাম আমিনা, আমার বাসা এই গ্রামে, আমি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করি, আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, আমি ঘুমাতে পছন্দ করি, আমি ওই কাজ করতে পছন্দ করি, আমি এখানে লেখাপড়া করেছি ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এই সমস্ত উত্তর কখনোই বলা যাবে না। স্যারেরা আপনার কাছে এগুলো শুনতে চায়নি। কারণ স্যারদের সামনে আপনার সিভি আছে। এই সমস্ত তথ্যগুলো স্যারেরা সিভিতেই দেখছে। তাই আপনার সম্পর্কে এমন কিছু এক্সট্রা তথ্য এড করুন যা শুনে ভাইভা বোর্ডের স্যারেরা পজিটিভ নেই। আপনার নিজের বর্ণনা দেওয়ার সময় আপনার নাম এবং এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন সংক্ষেপে বলুন। যেমন আপনি প্রাইমারি স্কুলে পড়েছেন, আপনি হাই স্কুলে পড়েছেন এগুলো না বলে আপনার শেষ ডিগ্রি সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু বলুন।

প্রথমে আপনি যেখানে ভাইবা দিতে যাবেন সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে নিন। তারপর নিজের সম্পর্কে এমনভাবে গুছিয়ে বলুন যেন সে কোম্পানির কার্যকলাপের সাথে আপনার বিষয়গুলো অ্যাটাস হয়। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভাইবা দিতে যাবেন, সেই প্রতিষ্ঠানে আপনি কোন সেক্টরের জন্য চাকরির ভাইবা দিতে গেছেন এবং সেই সেক্টরের কাজটা কি সেই সম্পর্কিত আপনার নিজের এক্সপেরিয়েন্স এবং স্কিল গুলো তুলে ধরুন।

এছাড়া ভাইবা বোর্ডে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে অনেক সময় জানতে চায়। তাই স্যারদের সামনে আপনার নিজেকে ইন্ট্রোডিউস করার সময়, আপনার নিজের দক্ষতা গুলো গুছিয়ে বলে ফেলুন।অবশ্যই এই কথাগুলো আপনাকে গুছিয়ে বলতে হবে, তাই বাসায় আগে থেকেই প্র্যাকটিস করে যাবেন।

যেমন আপনার দক্ষতা গুলো সম্পর্কে আপনি বলতে পারেন-
  • আমার সবচেয়ে বড় দক্ষতা হলো আমি যে কোন জায়গায় সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। আমি হার্ডওয়ার্ক করতে পছন্দ করি এবং প্রত্যেকটি জায়গায় সৎ ও সঠিক পথে কাজ করতে পছন্দ করি। আমি সব সময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করি এবং পজিটিভ চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করি। কারণ যারা ব্যর্থ হয় তারা সবসময় নেগেটিভ চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে। পজিটিভ চিন্তাভাবনা করলে এবং পরিশ্রম অনুযায়ী সৎ থেকে কাজ করলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।
  • আপনি যদি পূর্বে কোন একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে জব করে থাকেন তাহলে সেটি তুলে ধরুন। আমি আগেও বলেছি এবং আবারো বলছি, আপনার নিজের বর্ণনা খুব সংক্ষেপে এক মিনিটের মধ্যে দিবেন। আশা করছি আপনারা ক্লিয়ার ভাবে বুঝতে পেরেছেন Introduce yourself এ প্রশ্নের উত্তরে কি বলতে হয় সে সম্পর্কে।
২) আপনি এই প্রতিষ্ঠানে যে সেক্টরের জন্য ভাইবা দিতে এসেছেন সেই সেক্টর সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন বলুন?

আপনি যখন কোন একটি ক্যাটাগরির জন্য ভাইভা দিতে যাবেন, তখন সেই ক্যাটাগরি সম্পর্কে আপনাকে ধারণা রেখে ভাইভা দিতে হবে। কারণ আপনি যেখানে যে ক্যাটাগরিতে চাকরি করবেন, সেই ক্যাটাগরি সম্পর্কে যদি না জানেন তাহলে স্যারেরা আপনাকে চাকরির জন্য নিবে না। তাই যেখানেই ভাইভা দিতে যাবেন এবং যে ক্যাটাগরিতে ভাইভা দিতে যাবেন তা অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিবেন।

আপনি চাইলেই ইন্টারনেট থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তারিখ, সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ গুলো নিয়ে একটি সামারি তৈরি করে রাখতে পারেন।

৩) আপনি কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান? অথবা কেন আমরা আপনাকে নিব?

আপনি ভাইভা বোর্ডে ভাইভা দিতে গেলে এই প্রশ্নটি আপনাকে করবেই। তাই আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দিতে যাবেন সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে, নিজের মত করে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজের কোয়ালিটি এবং এক্সপেরিয়েন্স গুলো তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর বলার সময় অবশ্যই আপনাকে সেই প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির প্রশংসা করতে হবে।

আপনি নিজের বর্ণনা দেওয়ার সময় যে দক্ষতা গুলো বলেছেন সেই দক্ষতা গুলো চাইলে এখানে পুনরায় সংক্ষিপ্তভাবে বলতে পারেন।

যেমন আপনি বলতে পারেন-
  • আমাদের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটা সৌভাগ্যের বিষয় নিয়ে আপনারা আমাদের জন্য চাকরির সুব্যবস্থা করেছেন। আমরা খুবই ধন্য আপনাদের মত স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে আমাদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি মনে করি আমার যে কোয়ালিফিকেশন এবং স্কিল রয়েছে এই কোয়ালিফিকেশন এবং স্কেল গুলোর মধ্যে আপনাদের প্রতিষ্ঠানকে উন্নত করার জন্য সাহায্য করতে পারব এবং আমি সম্মান এবং নির্ভরতার সহিত নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। আমি বিশ্বাস করি আমি যদি এখানে সুযোগ পাই তাহলে আমি আমার মেধা এবং শ্রম কে কাজে লাগিয়ে কাজটি করতে পারবো।
৪) আপনার জেলার নাম কি ও আপনার জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত এবং আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম?

আপনার নিজের সম্পর্কে বলা হয়ে গেলে স্যারেরা আপনাকে আপনার নিজ জেলা সম্পর্কে প্রশ্ন করবেই। তাই আপনার নিজ জেলা সম্পর্কে অবশ্যই পড়ে যাবেন। বিশেষ করে আপনার জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত। আপনার জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য। আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনারা দেখে যাবেন।

৫) আপনার পঠিত কয়েকটি বইয়ের নাম বলুন যা আপনার পড়তে অনেক ভালো লেগেছে।

স্যারেরা এই প্রশ্নটি করার মাধ্যমেও আপনাকে যাচায় করে আপনি কেমন পারসোনালিটির মানুষ। কারণ জ্ঞানী মানুষ সবসময়ই ভালো বই পড়ে। আপনি যে বই কখনো পড়েননি সেই বইয়ের নাম কখনো বলতে যাবেন না। কারণ আপনি যদি কোন বই না পড়েন কিন্তু সেই বই সম্পর্কে বলেন, তাহলে সেই বই থেকে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে। তাই আপনি যে বই পড়েছেন শুধু সেই বইগুলোর নামই বলবেন। যেনো সেই বইগুলো থেকে প্রশ্ন করলে আপনি ভাইভা বোর্ড উত্তর দিতে পারেন।

৬) আপনি কোন পত্রিকা পড়েন?

ঠিক এর পরেই স্যারেরা আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে আপনি কোন পত্রিকা পড়েন এবং সেই পত্রিকার সম্পাদকের নাম কি। এছাড়া আপনি যেদিন ভাইবা দিতে যাবেন সেদিন পত্রিকার হেডলাইনে কি শিরোনাম রয়েছে সেটাও জিজ্ঞেস করতে পারে। তাই অবশ্যই আপনি যে পেপার বা পত্রিকা পড়েন সে সম্পর্কে জেনে যাবেন।

৭) আপনার এলাকার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী এমপির নাম কি?

অনেক সময় আপনার এলাকার এমপি, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের নাম জানতে চায়। বেশি ঘুরিয়ে পিছিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোজা সংক্ষিপ্তভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিবেন। আপনি যদি বেশি ঘুরিয়ে বেঁচে উত্তর দেন তাহলে স্যারেরা রাজনৈতিক বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে। আর আপনি যদি রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু না জানেন তাহলে তখন আপনার ভাইবা খারাপ হয়ে যাবে। তাই চেষ্টা করুন ভাইবার প্রশ্নগুলোর উত্তর কৌশলে সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়ার।

৮) আপনার দুর্বলতা গুলো কি কি?

অনেক সময় ভাইবা বোর্ডে এই প্রশ্নটি করে থাকে তাই এটি আপনাকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত উত্তর দিতে হবে। 

যেমন আপনি এভাবে বলতে পারেন-
  • আপনি প্রতিটি কাজ অত্যন্ত নিখুত ভাবে করতে পছন্দ করেন, কারণ আপনি অত্যন্ত খুতখুতে স্বভাবের একজন মানুষ। কোন কাজ করতে আমার একটু সময় বেশি লাগে কারণ প্রতিটি কাজ আমি পারফেক্ট ভাবে শেষ করতে চেষ্টা করি। যদি কেউ ভুল করে থাকে তাহলে আমি সরাসরি এবং সত্য কথা বলতে পছন্দ করি। যার কারণে অনেকেরই মন খারাপ হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
৮) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন

আপনি যদি চাকরির পরীক্ষার ভাইভা গুলো দিতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত পাঁচ থেকে ছয়টি প্রশ্ন করবেই করবে। আমি আমার এই আর্টিকেলে নিচের দিকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্নগুলো দিয়ে দিব। আপনারা সেখান থেকে পড়ে নিবেন।

৯) সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন

ভাইভা বোর্ডে আপনাকে সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে বেসিক প্রশ্নগুলো করতে পারে। সাধারণত দেশ রাজধানী মুদ্রা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো ভাইভা পরীক্ষায় ধরা হয়ে থাকে। আবার নিজ জেলার ঐতিহ্য এবং ইতিহাস নিয়েও ভাইভা বোর্ডের সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন করে থাকে। এই আর্টিকেলে নিচের দিকে আপনারা সাধারণ জ্ঞানের বেসিক ভাইবা বোর্ডের প্রশ্নগুলো পেয়ে যাবেন।

১০) সাম্প্রতিক প্রশ্ন সমূহ

আপনি ভাইবা বোর্ডে ভাইভা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেশ এবং দেশের বাইরের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ে যাবেন। কারণ সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে ভাইভা বোর্ডে আপনাকে প্রশ্ন ধরবেই।

১১) আপনি কেন জব চেঞ্জ বা পরিবর্তন করতে চান?

আপনি যখন পূর্বে কোন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন এবং নতুন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। তখন স্যারেরা আপনাকে অবশ্যই প্রশ্ন করবে আপনি কেন আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নতুন এই চাকরিটি নিবেন? অথবা আপনি কেন আপনার চাকরিটি পরিবর্তন করতে চান? এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে আস্তে আস্তে খুব সাবধানতার সহিত দিতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি অবশ্যই আগের কোম্পানির কোন বদনাম করবেন না। অর্থাৎ আপনি যে কোম্পানিতে চাকরি করতেন সেই কোম্পানির কোন রকম বদনাম করা যাবে না।

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলতে পারেন-
  • আমি একটি ভাল চাকরির অপরচুনিটি খুঁজছি যা আপনাদের প্রতিষ্ঠান থেকে আমি পেতে পারি। আমি আমার জবটি পরিবর্তন করার মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন কিছু শিখতে চাই এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। ঠিক এজন্যই আমি আমার জবটির পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।
১২) আপনি ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

অনেক সময় ভাইভা বোর্ডে শেষের দিকে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে- আপনি পাঁচ বছর পরে বা ১০ বছর পরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? আসলে এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে ভাইভা বোর্ডে স্যারেরা আপনার কাছ থেকে জানতে চায়, আপনি নিজেকে নিয়ে কতটা ভেবেছেন এবং নিজেকে নিয়ে কতটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। 

তাই এই প্রশ্নের উত্তর গুলো গুছিয়ে বলার জন্য ভালোভাবে আগে থেকেই শিখে যাবেন। আপনার কথার মাধ্যমে ভাইভা বোর্ডের স্যারেরা বুঝতে পারবে আপনি লং টার্ম তাদের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান কিনা। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সহিত এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দিবেন।

১৩) আপনার বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন

এরপর সবকিছু জানা হয়ে গেলে আপনাকে স্যারেরা বলবে আপনি কোন সাবজেক্ট থেকে অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করেছেন। আপনি যে সাবজেক্ট থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেছেন সেই সাবজেক্টের বেসিক প্রশ্নগুলো স্যারেরা আপনাকে ধরতে শুরু করবে। এই প্রশ্নগুলো উত্তর পারার জন্য আপনাকে সম্পূর্ণ বই পড়ার প্রয়োজন নেই। 

এই প্রশ্নগুলো সাধারণত একটি সম্পূর্ণ বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেসিক প্রশ্নগুলো করে থাকে। নিজের বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্ট থেকে সাধারণত দশটি প্রশ্নের মতো করে থাকে তাই এই দশটি প্রশ্নের জন্য সম্পূর্ণ বই পড়া যাবে না। তাছাড়া সম্পূর্ণ বই পড়ে আপনি কোন তথ্যই মনে রাখতে পারবেন না।

তাই বাংলাদেশের সকল সাবজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ বেসিক প্রশ্নগুলো আমি এখন আপনাদের নিচে দিয়ে দিচ্ছি। আপনারা নিচের লিংক গুলোর উপরে ক্লিক করে আপনার সাবজেক্টের বেসিক ভাইভা প্রশ্নগুলো পড়ে নিবেন।

বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্টের অনার্স এবং মাস্টার্সের গুরুত্বপূর্ণ কমন ভাইভা প্রশ্ন

আপনারা যদি অনার্স এবং মাস্টার্সে ভাইভা গুলো দিতে চান তাহলে স্যারেরা আপনার বিষয়ে ভিত্তিক সাবজেক্টের প্রশ্নগুলো আপনাকে ধরার আগে, আপনাকে কিছু কমন প্রশ্ন অবশ্যই করবে। 

যেমনঃ ভাইভা বোর্ড অতি গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি কমন প্রশ্ন
  • তোমার নামের অর্থ কি এবং তোমার নামের কোন বিখ্যাত ব্যক্তি আছে?
  • তুমি চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সে কতগুলো কোর্সে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছো?
  • চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সে তোমার পঠিত কোর্স গুলোর কোড বলো?
  • চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সে তোমার পঠিত কোর্স গুলোর শিরোনাম কি?
  • চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সে মোট কত নাম্বারের পরীক্ষা দিয়েছো?
  • মৌখিক পরীক্ষার কোর্স কোড কত?
  • জিপিএ ও সিজিপিএ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
  • যেকোনো কোর্স থেকে কোন মূল বই পড়ে থাকলে তার শিরোনাম ও লেখকের নাম কি?
  • বিভাগীয় শিক্ষক মন্ডলী ও অধ্যক্ষ মহোদয়ের নাম কি কি?
  • কোন কোর্সে ভালো পরীক্ষা দিয়েছো?
এই প্রশ্নগুলো করা হয়ে গেলে আপনাকে আপনার বিষয় ভিত্তিক সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন করা শুরু করবে। আমি এখন নিচে বাংলাদেশের সকল সাবজেক্টের বিষয়ভিত্তিক বেসিক ভাইভা প্রশ্ন গুলোর লিংক দিয়ে দিব। আপনারা এই লিংকের উপরে ক্লিক করে আপনার বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্টের বেসিক ভাইভা প্রশ্ন গুলো পড়ে নিবেন। কারণ আপনার বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্ট থেকে এই প্রশ্নগুলো ১০০% আপনাকে ভাইভা বোর্ডে ধরবেই।
বিষয়ভিত্তিক-সাবজেক্টের-গুরুত্বপূর্ণ-কমন-ভাইভা-প্রশ্ন

বিষয় ভিত্তিক সকল সাবজেক্টের ভাইভা পরীক্ষার কমন কিছু প্রশ্ন

বাংলাদেশের সকল সাবজেক্টের বইগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেসিক ভাইভা প্রশ্ন গুলো নিম্নে নিচে দেওয়া হলঃ
সকল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিচের ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে-
এই আর্টিকেলটি আপডেটের কাজ চলছে। প্রতিদিন এখানে বাংলাদেশের সকল সাবজেক্টের ভাইবা প্রশ্নগুলো সংযোজন করা হয়।

আপনি কেমন বেতন আশা করেন বা আপনার এক্সপেক্টেড স্যালারি কত?

আপনি যখন ভাইভাতে ভালো করবেন এবং স্যারেরা আপনার প্রতি ইম্প্রেসড হবে, তখনই শেষের দিকে আপনাকে স্যারেরা প্রশ্ন করতে পারে আপনি কেমন বেতন আশা করেন সে সম্পর্কে।

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনাকে বলতে হবে-
  • আপনাদের কোম্পানির রুলস বা নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত সদস্যদের যে বেতনের প্যাকেজ রয়েছে আমি সেই বেতন পেলে সন্তুষ্ট।
আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনি বলতে পারেন-
  • আপনাদের কোম্পানিতে রুলস বা নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত বেতনের প্যাকেজ রয়েছে আমি সেই বেতন পেলে সন্তুষ্ট। কিন্তু আমি পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে জব করতাম সেখানে আমার বেতনের এই প্যাকেজটি ছিল।
অর্থাৎ আপনি পূর্বে মান্থলি কত বেতন পেতেন তা কৌশলে এভাবে উল্লেখ করুন। আপনি যদি একজন যোগ্য অভিজ্ঞ সম্পন্ন ব্যক্তি হন তাহলে স্যারেরা আপনার বেতনটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মনে রাখবেন প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর আপনাকে সৎ ভাবে উত্তর দিতে হবে এবং ইউনিক ভাবে উত্তর দিতে হবে। কারণ ভাইভা বোর্ডের শুধু আপনি আসবেন না, আপনার সাথে আরও অনেকে ক্যান্ডিডেট ভাইভা দিতে আসবে। তাই আপনার উত্তর গুলো যদি অন্যান্য ক্যান্ডিডেটের চেয়ে ইউনিক হয় তাহলে ভাইভা বোর্ডের স্যারেরা আপনাকে বেশি প্রাধান্য দিবে।

আমি এই আর্টিকেলে যে সমস্ত টিপস গুলো দিয়েছি এগুলোই আপনাকে ভাইভা বোর্ডে বলতে হবে এর কোন মানে নেই। আপনারা সকলেই যদি আমার এই আর্টিকেলের ভাইভার প্রশ্নের উত্তর বলার টিপস গুলো স্যারকে বলেন, তাহলে উত্তরগুলো একই হয়ে যাবে। তাই আপনারা নিজের সম্পর্কে এমন ভাবে উত্তর গুলো বলুন যেন আপনার সমস্ত উত্তর গুলো অন্যান্য ক্যান্ডিডেটের চেয়ে আলাদা বা ইউনিক হয়। 

কারণ স্যারেরা ইউনিক পছন্দ করে। আপনারা সবাই যদি একই রকম উত্তর দেন তাহলে স্যারেরা বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। আমি এখানে উত্তরগুলো দিয়ে দেওয়ার কারণ হচ্ছে, আপনারা যেন কিছুটা হলেও ধারণা পান কিভাবে এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দিতে হয়। আপনারা এই ধারণাগুলো নিয়ে নিজের মত করে ভাইভার জন্য নোট তৈরি করবেন এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার ভাইভা ভালো হবে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস ভাইভা বোর্ডে নার্ভাস হওয়া যাবেনা

ভাইভা বোর্ডে কখনোই নার্ভাস হওয়া যাবেনা। কারণ নার্ভাস মানুষ কোন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজাররা চায়না। তাই প্রথম থেকেই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে ভাইভা রুমে প্রবেশ করুন এবং প্রথম থেকেই কনফিডেন্টলি উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। ভাইভা বোর্ডের স্যারেরা আপনাকে খেয়ে ফেলবে না মেরে ফেলবে? তাহলে আপনি ভয় কেন পাবেন? 

শুনুন আপনার ভাগ্যে আল্লাহ যেটা লিখে রেখেছে সেটাই হবে তাই ভাইবা বোর্ডের জন্য অযথা টেনশন করে ভাইভা পরীক্ষাটি খারাপ করবেন না। আপনার ভাগ্যে যেটা রয়েছে সেটাই হবে তাই চেষ্টা করুন ভাইভা বোর্ডে স্যারদের সাথে কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপ করার। তাহলে দেখবেন আপনার ভাইভা এমনিতেই ভালো হবে।

ভাইবা বোর্ডে ছেলেদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?

ভাইবা বোর্ডে অবশ্যই আপনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে যেতে হবে।  পুরনো পোশাক বা নতুন পোশাক এই বিষয়টি ভাইভা বোর্ডে ম্যাটার করে না। সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি ম্যাটার করে সেটি হচ্ছে আপনার পোশাকের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং আপনার শরীরের হাত, পা, মুখ, চুল ইত্যাদি বাহ্যিক  জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। 

আপনারা ছেলেরা যারা বড় দাড়ি রেখেছেন তারা চেষ্টা করবেন দাড়িগুলো সুন্দরভাবে সাইজ করে তারপর ভাইভাতে যাওয়ার। এছাড়া যাদের ছোট ছোট দাড়ি রয়েছে তারা এই ছোট দাড়ি নিয়ে কখনোই ভাইভা মৌখিক পরীক্ষা দিতে যাবেন না।  ভাইভা পরীক্ষা দিতে গেলে আপনাদের অবশ্যই ক্লিন সেভ করে যেতে হবে। 

ভাইভাতে অবশ্যই হালকা কালারের পোশাক পরে যাবেন এবং ইন করে ও জুতা পরে ভাইবা দিতে যাবেন। কোন ধরনের রং চঙ্গা কাপড় পরিধান করা যাবে না। চুল ছোট বড় এই বিষয়টি ভাইভাতে ম্যাটার করে না। ভাইভাতে যে বিষয়টি ম্যাটার করে সেটা হচ্ছে- আপনার চুলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কিনা এবং আপনাকে আপনার চুলের সাথে আপনার চেহারা ভালো দেখাচ্ছে কিনা। 

আপনাকে যদি বড় চুলে ভালো দেখায় তাহলে চুল হালকা বড় রাখবেন এবং আপনাদের যদি ছোট ছেলে ভালো দেখায় তাহলে চুল একটু ছোট রাখবেন। এই বিষয়টি একেক জনের চেহারার উপর নির্ভর করে। তাই আপনার চেহারায় কোনটি মানান করে সেটি আপনাকে বুঝতে হবে।

মনে রাখবেন, আপনার জুতার কালার যদি কালো হয় তাহলে বেল্টের কালার অবশ্যই কালো হতে হবে। আবার আপনার জুতার কালার যদি কাঁঠালি হয় তাহলে আপনার বেল্টের কালার কাঁঠালি হতে হবে।

ভাইবা বোর্ডে টাই বা স্যুট পড়ে যেতে হবে এ ধারণাটি ভুল। তবে হ্যাঁ, আপনার যদি টাই বা স্যুট থাকে তাহলে আপনি পরতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে আপনি টাই এবং স্যুট এড়িয়ে যেতে পারেন। এতে আপনার ভাইবার ১ মার্ক ও কমবে না। তাই চেষ্টা করবেন রুচিশীল সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে যেনো স্যারেরা পছন্দ করে। আশা করছি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

ভাইভা বোর্ডে মেয়েদের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?

মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডের স্যারেরা যে বিষয়টি সবচেয়ে প্রথমে লক্ষ্য করে সেটি হচ্ছে পোশাকের শালীনতা। অর্থাৎ আপনি শাড়ি পরেন কিংবা থ্রি পিস পরেন এটা মেইন ফ্যাক্টর না। মেইন ফ্যাক্টর হচ্ছে আপনি যেই পোশাক পরেছেন সেই পোশাকটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা এবং আপনার পোশাকের শালীনতা রক্ষা হয়েছে কিনা। 

মেয়েরা মেকআপ করতে ভালবাসেন কিন্তু ভাইভার দিনে এমন কোন মেকআপ করবেন না যা দেখে বোঝা যায় যে আপনি মেকআপ করেছেন। অর্থাৎ আপনাকে সিম্পল একটি লুক নিয়ে ভাইভা বোর্ডে যেতে হবে। হ্যাঁ আপনি হালকা-পাতলা মেকআপ করতে পারেন কিন্তু সেটা যেন বোঝা না যায়।

ভাইবা বোর্ডে রঙিন পোশাক এবং জুয়েলারি পরিধান করে যাবেন না। চেষ্টা করবেন হালকা লাইট কালারের ড্রেস গুলো পরতে যেন সেই রংটি চোখে না লাগে। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন। 

তাই ভাইভাতে মেয়েরা শাড়ি পরবেন নাকি থ্রি-পিস পড়বেন এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন না। মূল যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন সেটি হচ্ছে পোশাক শালীনতা এবং মার্জিত রুচিশীল কিনা।

FAQ

১) ভাইবা পরীক্ষা কি?
উত্তরঃ ভাইভা পরীক্ষা বলতে মৌখিক পরীক্ষা কে বোঝায়।

২) চাকরির ভাইভা পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেব?
উত্তরঃ চাকরির ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর শিখে যেতে হবে এবং নিজ সাবজেক্টের বেসিক বিষয় গুলো পড়ে যেতে হবে। 

৩) ভাইভা বোর্ডে সাধারণ জ্ঞান সংক্রান্ত প্রশ্ন কী ধরনের হয়?
উত্তরঃ ভাইভা বোর্ডে সাধারণত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি প্রশ্ন করা হয়।

৪) ভাইবা বোর্ডে জেলা সম্পর্কে কি কি প্রশ্ন করে?
উত্তরঃ ভাইবা বোর্ডে নিজ নিজ জেলার ঐতিহ্য, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।

৫) ভাইবা বোর্ডে নার্ভাস এড়ানোর উপায় কি?
উত্তরঃ ভাইভা বোর্ডে নিজেকে নার্ভাস এড়ানোর উপায় হচ্ছে শান্ত থাকা।

৬) কীভাবে ভাইভা পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায়?
উত্তরঃ ভাইভা পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে বাসায় প্রচুর পরিমাণে প্র্যাকটিস করতে হবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিতে হবে। সবশেষে আপনাকে পজিটিভ চিন্তাভাবনা নিয়ে ভাইভা বোর্ডে যেতে হবে।

৭) ভাইভা পরীক্ষায় পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
উত্তরঃ ভাইভা পরীক্ষায় পোশাক পরিষ্কার ও শালীন হওয়া উচিত যেন আপনাকে দেখে স্মার্ট পেশাদারী একজন ব্যক্তি মনে হয়।

৮) প্রাইমারি ভাইভাতে কত মার্ক থাকে?
উত্তরঃ প্রাইমারির ভাইভাতে সর্বমোট ২০ মার্ক থাকে।

৯) বিসিএস ভাইভা কত নাম্বার?
উত্তরঃ বিসিএস ভাইভাতে পূর্বে ২০০ নম্বর ছিল কিন্তু বর্তমানে ১০০ নম্বর ধার্য করা হয়েছে।

১০) ভাইভা কেন নেওয়া হয়?
উত্তরঃ আপনি আপনার একাডেমিক পরীক্ষায় পড়ালেখা করেছেন কিনা এবং আপনার উপস্থিত বুদ্ধি কেমন অথবা আপনি ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কেমন তা পরীক্ষা করার জন্যই মূলত ভাইবা নেওয়া হয়।

শেষ মন্তব্য

মনে রাখবেন চাকরির ভাইভা বোর্ডে নিজেকে বিক্রি করে সেই চাকরিটি নিয়ে আসার নামই হচ্ছে ভাইবা। অর্থাৎ আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে কি ভালো রয়েছে তা স্যারদের সামনে শো করুন এবং স্যারদেরকে বোঝান। 

আপনি যদি আপনার নিজের ইউনিক গুণগুলো স্যারদেরকে বোঝাতে পারেন তাহলে বিশ্বাস করুন আপনি ভাইভাতে প্রশ্নের উত্তর না পারলেও আপনি সেই ভাইভাতে টিকে যেতে পারেন। কারণ একাডেমিক রেজাল্ট এবং প্র্যাকটিক্যাল রেজাল্ট সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রাক্টিক্যালি আপনি স্যারদেরকে বোঝান যে আপনি এ সমস্ত বিষয়ে ভালো পারেন এবং এই সমস্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ একজন ব্যক্তি।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url