মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি চাকরির পরীক্ষাতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন হবেই। তাই আপনাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। আপনার যদি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নাও থাকে তবুও আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ে বেসিক ধারণা পেয়ে যাবেন।
মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত-সাধারণ-জ্ঞান
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নগুলো শুধু চাকরির পরীক্ষার জন্য নয় বরং বিভিন্ন চাকরির ভাইভা পরীক্ষাতেও আপনাকে ধরবে ১০০%। তাই অবশ্যই আপনাকে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে বেসিক ধারণা রাখতে হবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যা কিছু শিখতে পারবেন এবং জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নগুলো আমি এই আর্টিকেলে স্টেপ বাই স্টেপ হ্যান্ড নোট আকারে প্রদান করব। আপনাদের যদি পূর্বেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে হ্যান্ড নোট করা থাকে তাহলেও আপনারা এই আর্টিকেলটি পড়ুন। কারণ আপনার তৈরি করা নোটে যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছাড়া পড়ে যায় তাহলে আপনারা এই আর্টিকেল থেকে সেই তথ্যগুলো সংযোজন করে নিন।


তাহলে চলুন আমরা এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান গুলো জেনে নিই-

#অসহযোগ আন্দোলন#

অসহযোগ আন্দোলন শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে শুরু হয়েছিল। অসহযোগ আন্দোলনের সময়কাল ছিল ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৩ দিন।

১ মার্চ ১৯৭১ সালঃ 
  • ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল।
২ মার্চ ১৯৭১ সালঃ
  • অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
  • স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়েছিল।
  • প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
৩ মার্চ ১৯৭১ সালঃ 
  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক।
  • আমার সোনার বাংলা জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয় পূর্ব বাংলার জন্য।
  • শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল ( আ স ম আঃ রব )।
৭ মার্চ ১৯৭১ সালঃ
  • বঙ্গবন্ধুর জাতির উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিল রেসকোর্স ময়দানে (এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম)।
২৩ মার্চ ১৯৭১ সালঃ 
  • পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস পালন হয়েছিল।
  • এই দিন বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে ইয়াহিয়া খান বলেছিল-লোকটি ও তার দল পাকিস্তানের শত্রু এবং তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না।
  • স্বাধীনতার ঘোষণা করার মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলন শেষ হয়েছিল।

#স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ#
  • ২ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গঠন হয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
  • মোট ৪ জন নেতা মিলিয়ে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল-
    • নুর আলম সিদ্দিকী (ছাত্রলীগ সভাপতি)।
    • শাহজাহান সিরাজ (ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক)।
    • আ স ম আব্দুর রব (ডাকসু সভাপতি)।
    • আব্দুল কুদ্দুস মাখন (ডাকসু সাধারণ সম্পাদক)।
#স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা#
  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে।
  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেছিল স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল পল্টন ময়দানে।
  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে ওই দিন জাতীয় সংগীত নির্বাচন করা হয়েছিল।
  • স্বাধীনতার ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন-
  • সাত মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমান।
  • ৭ ই মার্চের ভাষণ প্রদান করা হয়েছিল রেসকোর্স ময়দানে।
  • রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী ময়দান।
  • সেই সময় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইয়াহিয়া খান।
  • বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসার আহবান করেছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি।
  • ৭ই মার্চ ছিল রবিবার।
  • দ্বিতীয়বার এসেম্বলি কল করার কথা বলা হয় ২৫ মার্চ।
  • হরতাল হয়েছিল ৭ দিন এবং সেই হরতালে বলা হয়েছিল ব্যাংক খোলা থাকবে ২ ঘন্টা।
  • ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণে বিষয়বস্তু ছিল সর্বমোট ৪টি। যেমনঃ
    • চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার।
    • সৈন্যদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
    • গণহত্যা তদন্ত করা।
    • নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
  • ৭ মার্চের ভাষণে অহিংস আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
  • সাত মার্চের ভাষণটি শুরু হয়েছিল বিকাল ৩ ঘটিকায়।
  • ৭ ই মার্চের ভাষণের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৮ থেকে ১৯ মিনিট।
  • ৭ ই মার্চ ভাষণের সর্বমোট শব্দ সংখ্যা ১১০৮ টি।
  • ৭ই মার্চ ভাষনের শেষ কথা ছিল জয় বাংলা।
  • পাকিস্তানের সৈন্যরা জয়দেবপুরে হামলা চালায় ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে।
  • ৭ই মার্চের ভিডিও রেকর্ড করেন আবুল খায়ের।
  • আবুল খায়ের ২০১৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন।
#৭ই মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি#
  • বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (Memory of the World Register) হিসেবে ঘোষণা করা হয় ৭ই মার্চের ভাষণকে। 
  • ৭ই মার্চের ভাষণকে World Documentary heritage এই স্বীকৃতিটি দেয় ইউনেস্কো।
  • ৭ ই মার্চের ভাষণটি অনূদিত হয়েছে ১২ টি ভাষায়।
  • ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে ১৫০ এর ২ অনুচ্ছেদ।

#প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ#
  • ৭ই মার্চের ভাষণের পর বাঙ্গালীদের আন্দোলন দুর্বল করার জন্য জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল প্রেসিডেন্ট বাঙালি সৈন্যদের কৌশলে নিরস্ত্র করার জন্য অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা বলেন।
  • মুক্তিকামী বাঙালি সৈন্য ও সাধারণ জনতা সড়ক অবরোধ করে। চান্দিনা মোড় থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল।
  • সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে।

অপারেশন সার্চলাইট

১৯৭১ সালের অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন-
  • পাকিস্তানের সৈন্য কর্তৃক ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালের রাতে যে গণহত্যা চালানো হয় তা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
  • ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার।
  • অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয় রাত ১১ঃ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করার মাধ্যমে।
  • অপারেশনের দায়িত্ব পালন করে মেজর জেনারেল রাও ফারমান আলী। এই অপারেশনটি ঢাকা শহরে হয়েছিল।
  • ২০১৭ সাল থেকে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

মহান স্বাধীনতার ঘোষণা

মহান স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন-
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর। অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
  • বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি ২৬ মার্চ সকালে বিবিসি প্রভাতী অধিবেশনে প্রচার করা হয়।
  • স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয় ওয়ারলেস এর মাধ্যমে।
  • ইংরেজি ভাষায় স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় যাতে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হয়।
  • স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুবাদ করেন ডঃ মনজুলা আনয়ার।
  • বঙ্গবন্ধুর পক্ষে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রচার করেন ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে।
  • বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার অপারেশনের নাম বিগ বার্ড। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছিল মেজর জহির আলম।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ।
  • ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৮০ সালে।
  • বাংলাদেশ ছাড়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আছে যুক্তরাষ্ট্রের।
  • স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে সংযত হয় পঞ্চদশ সংশোধনীতে।
  • স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানে ষষ্ঠ তফসিল (১৫০), ২ অনুচ্ছেদে রয়েছে।
  • স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সপ্তম তফসিল।
  • আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা পত্র পাঠ করা হয় ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
  • স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র টি পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
  • স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি পাঠ করা হয় মুজিবনগরে।

মুজিব নগর সরকার

মুজিব নগর সরকার গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন-
  • মুজিব নগর সরকার গঠন হয়েছিল ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
  • মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
  • মুজিবনগর সরকার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন জনাব আব্দুল মান্নান।
  • মুজিবনগর সরকার পরিচিত (প্রবাসী সরকার) ও (অস্থায়ী বিপ্লবী) সরকার এই দুটি নামে।
  • মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে অবস্থিত।
#মুজিবনগর সরকার মন্ত্রী পরিষদঃ

নাম পদবী মন্ত্রণালয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি -
সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপতি -
তাজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মন্ত্রী অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প
খন্দকার মোস্তাক আলী মন্ত্রী পররাষ্ট্র, আইন
এ এইচ এম কামরুজ্জামান মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, কৃষি
  • মুজিবনগর সরকারের শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
  • মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিব ছিলেন হোসেন তৌফিক ইমাম (H T Imam)।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছিল ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা কার্যকর হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা পত্রে ৩জন আওয়ামীলীগ নেতার নাম রয়েছে। যেমনঃ শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং ইউসুফ আলী।
  • বিদেশি মিশনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের কলকাতায়।
  • বিদেশী মিশনে প্রথম পতাকা উত্তোলন করে- এম হোসেন আলী।
  • মুজিবনগর অবস্থিত কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর ভবের পাড়া বৈদ্যনাথ তলা গ্রামে ।
  • বর্তমান মুজিব নগরের পূর্ব নাম ছিল ভবের পাড়া।
  • বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর।
  • বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আগড়তলায় গঠিত হয়েছিল।
  • বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সমূহ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং এই ১১ টি সেক্টরের দায়িত্ব বিভিন্ন মানুষকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এগারোটি সেক্টর ভাগ করার মূল কারণ ছিল গুছিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।


বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সেক্টর সমূহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিত্রের মাধ্যমে জেনে নিন-
মুক্তিযুদ্ধের-সেক্টর-সমূহ

সাত (৭) জন বীরশ্রেষ্ঠ

বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সহজ ভাবে জানতে হলে আপনাকে নিচের  ছবিটি লক্ষ্য করতে হবে। বইয়ে মুখস্ত করার চেয়ে এই ছবির মাধ্যমে মুখস্ত করলে, আপনার সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের তথ্যগুলো ভালো মনে থাকবে।

সাত (৭) জন বীরশ্রেষ্ঠ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি চিত্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সহজভাবে জেনে নিন-
সাত-(৭)-জন-বীরশ্রেষ্ঠ

FAQ

১) মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ ধারণা কীভাবে পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সকল ধারণা পাওয়ার জন্য আপনাকে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ইতিহাসগুলো পড়তে হবে।

২) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কোনটি?
উত্তরঃ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা। এই দিনগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

৩) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রেরণার উৎস। এই ভাষণটি জাতিকে একত্রিত করে, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ঠিক এই কারণে ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

৪) মুজিবনগর সরকার গঠনের গুরুত্ব কী?
উত্তরঃ ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার হিসেবে গঠন করা হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পথ তৈরি করে।

৫) মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কয়টা ছিল?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে একটি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যারা বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতেন।

৬) ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনী কি অপারেশন পরিচালনা করেছিল?
উত্তরঃ ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে গণহত্যা, ধরপাকড় এবং নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাচার ছিল।

৭) স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কী?
উত্তরঃ স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৯৭১ সালে গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া। এর সদস্যরা ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র নেতা, যাদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।

৮) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা কিভাবে হয়েছিল?
উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে। ২৬ মার্চ সকালে, বিবিসি'তে প্রচারিত হয় এই ঘোষণাটি।

৯) ৭ মার্চের ভাষণ কয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে? 
উত্তরঃ ৭ মার্চের ভাষণটি ইউনেস্কো কর্তৃক "বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য" হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং এটি ১২টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১০) মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান কিভাবে পাবো?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান জানতে হলে বিভিন্ন ধরনের মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক বইগুলো পড়তে হবে।

শেষ মন্তব্য

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান এর এই প্রশ্নগুলো প্রতিটি চাকরির পরীক্ষার জন্য তো ইম্পরট্যান্ট বটেই আবার প্রতিটি ভাইভার ক্ষেত্রেও অনেক অনেক ইম্পর্টেন্ট। তাই আপনাদের পড়ার সুবিধার জন্য আমি এখন ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল তথ্যের pdf শেয়ার করব।

এই আর্টিকেল এর তথ্যগুলো পিডিএফ এর সাথে মিল নেই কারণ পিডিএফ এ বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে। কিন্তু এই আর্টিকেলে শুধুমাত্র চাকরির পরীক্ষা এবং ভাইভাতে যে প্রশ্নগুলো বেশি আসে সেই বিষয়গুলো দেওয়া আছে। যারা বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন এবং ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তারা পিডিএফ টি সংগ্রহ করে পড়তে পারেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url