পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায় | পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম
পেটের অতিরিক্ত মেদ
কমানোর ঘরোয়া উপায়সমূহ আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন এজন্য আজকে আপনাদের সঙ্গে
এই আর্টিকেলে আলোচনা করব কিভাবে আপনারা ঘরে বসে আপনার অতিরিক্ত মেদ গুলো কমিয়ে
ফেলতে পারবেন।
এই আর্টিকেলটি আপনি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে নিয়ে, পেটের অতিরিক্ত মেদ
কমানোর ঘরোয়া উপায় পাওয়ার পাশাপাশি, পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম সমূহ
জেনে যাবেন।
সূচিপত্রঃ পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায় | পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম
এই আর্টিকেল থেকে আপনি যা কিছু জানবেন তা এক নজরে দেখে নিন এবং আপনি যেখান থেকে
পড়তে চান সেখানে ক্লিক করুন-
- পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায়
- পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম
- পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম ছবিসহ
- মেদ ভুড়ি কমানোর ঔষধ | পেটের মেদ কমানোর মেডিসিন
- কোমরের মেদ কমানোর উপায় কি
- বুকের মেদ কমানোর উপায় কি
- মুখের মেদ কমানোর উপায় কি
- শরীরের মেদ কমানোর উপায় কি
- মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায়
- FAQs
- শেষ আলোচনা
পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায়
আমরা সবাই নিজেকে সুন্দরভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপনা করতে চাই। সৌন্দর্য নির্ভর
করে শরীরের গঠন এবং বাহ্যিক স্ট্রাকচারের উপর। ফর্সা হলেই যে আপনাকে সুন্দর লাগবে
বিষয়টি এমন নয়। নিজেকে সুন্দর দেখাতে হলে আপনাকে স্লিম এবং ফিট থাকতে হবে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে সকলেরই পেটের মেদ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাহ্যিক সৌন্দর্য
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাই আমি আজকে আপনাদের সঙ্গে এমন একটি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করব, যদি আপনি এটি মেনে
চলেন তাহলে ইনশাল্লাহ ১৫ দিনের মধ্যে ভালো একটি ফলাফল পাবেন।
মেদ মানে কি?
মেদ অর্থ হচ্ছে চর্বি অর্থাৎ মানুষের শরীরে চামড়ার নিচে একটি আস্তরণ থাকে এই
আস্তরণে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বি জমা হয় তখনই মেদের সৃষ্টি হয় অথবা পেটে যখন
চর্বি বা ভুড়ি বেড়ে যায় তখন মেদ সৃষ্টি হয়।
যারা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া বেশি করবেন তাদের মেদ বেশি হবে
এবং যারা প্রয়োজনের তুলনায় খাওয়া-দাওয়া কম করবেন তাদের মেদ কম হবে এই ধারণাটি
ভুল। তাই এই ধারণাটি সর্বপ্রথম মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন কারণ যার মেদ হওয়া শুরু
করবে সে যত খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করুক তবুও তার মেদ বেড়ে যাবে।
শুধুমাত্র একটি রুটিন অবলম্বন করলেই আপনি আপনার পেটের মেদ কমাতে পারবেন। রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর এম এ বারি (ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ) এর
মতে- আপনাকে পেটের মেদ কমানোর জন্য প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী চলতে হবে।
তার মতে মেদ কমানোর উপায়গুলো কি কি চলুন আমরা একটি টেবিলের মাধ্যমে জেনে নিই-
দিন/বার | সকাল | দুপুর | রাত |
---|---|---|---|
শুক্রবার | একটি রুটি+অর্ধেক ডিম | এক প্লেট গরম ভাত+সবজি+ ২ পিচ মাংস | রুটি+সবজি+১ পিচ মাংস |
শনিবার | একটি রুটি+করলা ভাজি | এক প্লেট গরম ভাত+লাউ অথবা পেঁপে সবজির তরকারি | লাউ এবং পেঁপের তরকারি দিয়ে রুটি খেতে হবে |
রবিবার | একটি রুটি এবং কলা | এক পিস মাছ দিয়ে ভাত+অথবা ছোট মাছ | রুটি এবং কলা |
সোমবার | একটি রুটি গাজর আলু এবং সবজি মিশিয়ে | শসা রান্না করে ভাতের সাথে খেতে হবে | রান্না করা শসার সাথে রুটি খেতে হবে |
মঙ্গলবার | রুটি মিষ্টি দিয়ে খেতে পারেন | ভাতের সাথে বিভিন্ন ধরনের গরম ভর্তা | রুটি ও সবজি |
বুধবার | নরম খিচুড়ি | রুটি খাবেন ভাজি অথবা ডিম দিয়ে | এক প্লেট ভাত সবজি দিয়ে |
বৃহস্পতিবার | রুটি+বেগুন+আলু ভাজি | দুপুরে ডাউল, বাঁধাকপি, ফুলকপি সবজি দিয়ে ভাত | বাঁধাকপি এবং ফুলকপি দিয়ে রুটি |
শুক্রবার যেহেতু আপনার অফিস অথবা স্কুল কলেজ ছুটি থাকবে সেহেতু বৃহস্পতিবারে রাতে
আপনি ভাত খেতে পারেন এবং রাতে খাবার টেবিলে পরিবারের সাথে কিছু ভালো সময় কাটাতে
পারেন।
আমি এখানে আপনাদের যে রুটিন দিয়েছি এটি একদমই সাধারন একটি রুটিন। এই রুটিন
অনুযায়ী আপনি যদি চলেন তাহলে আপনার অতিরিক্ত কোন ব্যয় করা লাগবে না। আমরা
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রুটিন গুলো দেখিয়ে যেগুলো মেনে চলতে
আমাদের অনেক খরচ করতে হয়।
কিন্তু পরিবার-পরিজন এবং মাসিক বেতনের উপর লক্ষ্য রেখে আপনি যদি এই রুটিন
অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করেন তাহলে আপনার খরচ আগের মতই থাকবে এবং আপনি নিজের মেদ
ভূড়ি কমাতে পারবেন।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে আপনাকে দিনে দুইবার রুটি খেতে হবে এবং
একবার ভাত খেতে হবে। আপনার যদি ডায়াবেটিকস থাকে তাহলে মিষ্টি পরিহার করতে হবে।
পেটের মেদ কমানোর জন্য আরও কিছু দিকনির্দেশনা-
- সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করতে হবে এবং হালকা ব্যায়াম করতে হবে প্রতিদিন।
- বিভিন্ন সালাদ তৈরি করতে হবে এবং খেতে হবে।
- বেশি বেশি কাঁচা এবং পাকা পেঁপে খেতে হবে।
- সপ্তাহে একবার মাংস খেতে হবে এবং মাছ খেতে হবে।
- প্রতিদিন খাবারে সবজির আইটেম রাখতে হবে।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
- বেশি হাঁটাহাঁটি করতে হবে।
মনে রাখবেন তিন দিনে বা সাত দিনে পেটের মেদ কমানো কখনোই সম্ভব নয়। আপনি যদি অল্প
সময়ে পেটের মেদ কমানোর জন্য খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে আপনার প্রেসার কমে
যেতে পারে। তখন আপনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়বেন এবং দুর্বলতা অনুভব করবেন। তাই জোর
করে খাওয়া বন্ধ না করে তিন বেলা টাইম টু টাইম খাবেন অল্প করে।
আপনার পেটের মেদ ভূড়ি এক দিনে বা দুইদিনে তৈরি হয়নি। এটি দিনে দিনে তৈরি হয়েছে
সুতরাং এটিকে আপনাকে দিনে দিনেই কমাতে হবে। হঠাৎ করে আপনি এই মেদ ভুঁড়ি কমাতে
পারবেন না এটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
বাজারে সবজির দোকানে বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যায়। যখন যে সময়ে যে সকল
সবজিগুলো পাওয়া যায় সেগুলো বাসায় এনে রেখে দিবেন এবং সেগুলো রান্না করে খাবেন।
তেল জাতীয় ও চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করে চলবেন। তাহলেই আপনি একটি নির্দিষ্ট
সময় পরে শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।
পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ব্যায়াম
সাধারণত অলসতা বেড়ে গেলে এবং কাজকর্ম না করলে পেটের মেদ বেড়ে যায়। আপনি লক্ষ্য
করবেন যে সমস্ত মানুষজন শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের কখনো পেটে মেদ জমা হয় না।
সুতরাং আপনি যদি পেটের মেদ প্রাকৃতিকভাবে কমাতে চান তাহলে দিনের বেলা বসে না থেকে
কাজকর্ম করুন।
আপনার যদি কোন কাজকর্ম না থাকে তাহলে আপনি দিনের বেলা ব্যায়াম করতে পারেন।
ব্যায়াম শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক
প্রতিদিন যদি আধা ঘন্টা ব্যায়াম করা হয় তাহলে আপনি আপনার শরীরের পার্থক্য নিজেই
বুঝতে পারবেন।
আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন আপনি যতই খাওয়া দাওয়া করেন না কেন আপনার মেদ বেড়ে
যাবে না। কিন্তু আপনি যখন বসে বসে শুধু খাবেন আর ঘুমাবেন তখন দেখবেন আপনার মেদ
বেড়ে গেছে।
সাধারণত একটু বয়স বেড়ে গেলে মানুষের মেদ বেড়ে যায় এজন্য যাদের বয়স একটু বেশি
তারা আস্তে আস্তে দৌড়াদৌড়ি করবেন। বিভিন্ন পার্কে অথবা রাস্তায় আস্তে আস্তে
হাঁটাহাঁটি করবেন। কিন্তু যারা ইয়ং ব্যক্তি রয়েছেন তারা জিম করতে পারেন। অথবা
বাসাতে জিম করা সরঞ্জাম তৈরি করে নিজে নিজেই এক্সারসাইজ করতে পারেন।
ব্যায়াম করে শরীরের মেদ কমানোর সবচেয়ে দুটি কার্যকর উপায় হচ্ছে দৌড়াদৌড়ি বা
হাটাহাটি করা এবং দড়ি খেলা। এ ছাড়া আপনি যে কোন উপায়ে শরীরের ঘামগুলো
পরিশ্রমের মাধ্যমে বের করে দিতে পারলেই আপনার মেদগুলো কমে যাবে। তাই এমনভাবে
ব্যায়াম করুন যেন আপনার শরীর থেকে ঘাম বের হয়।
পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম ছবিসহ
ব্যায়াম করার নিয়ম সকলের একই জন্য ছেলেদের পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম এবং
মেয়েদের পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম নিয়ম একই হবে। যেহেতু আমরা মুসলমান যেহেতু
মেয়েদের ব্যায়াম করার ফটো আমাদের দেখা উচিত নয় এজন্য আমরা এখানে চিত্রের
মাধ্যমে ব্যায়াম করার ফটোগুলো দেখব। এই ফটোগুলো দেখে আপনি নিজে নিজে ব্যায়াম
করবেন।
Abdominal Workout
পেটের মেদ কমাতে হলে এই ব্যায়ামগুলো করতে হবে
Chest Workout
বুকের মেদ কমাতে হলে এই ব্যায়ামগুলো করতে হবে
Back Workout
পেছনের মেদ কমাতে হলে এই ব্যায়ামগুলো করতে হবে
আপনি আপনার শরীর আরো আকর্ষণীয় করার জন্য নিজের এই ব্যায়ামগুলো করতে পারেন-
Triceps Workout👇
Biceps Workout👇
Biceps & forearms workout👇
Triceps Workout👇
Shoulder Workout👇
Dumbbell Workout👇
আপনি ঘরে ব্যায়াম করার যন্ত্র গুলো তৈরি করে বাসাতেই এই ব্যায়াম গুলো করতে পারেন
এই চিত্রের মাধ্যমে দেখে দেখে।
মেদ ভুড়ি কমানোর ঔষধ | পেটের মেদ কমানোর মেডিসিন
বাজারে পেটের মেদ ভুঁড়ি কমানোর অনেক ধরনের ঔষধ দেখতে পাওয়া যায় বা
সাপ্লিমেন্ট দেখতে পাওয়া যায়। এই সাপ্লিমেন্ট গুলো আপনি যদি বাজার থেকে কিনে
খেতে শুরু করেন তাহলে আপনার শরীরে সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে। তাই কখনো মেদ ভূড়ি
কমানোর জন্য এ সমস্ত সাপলিমেন্ট এবং ঔষধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
আপনি একটি জিনিস লক্ষ্য করুন- আপনি যখন মোটা হয়েছেন তখন কি আপনি ঔষধের মাধ্যমে
মোটা হয়েছেন? আপনি যেহেতু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মোটা হয়েছেন সেহেতু আপনাকে
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই এটি কমাতে হবে। তবুও আপনি যদি মেদ ভূড়ি কমানোর ঔষধ গ্রহণ
করতে চান তাহলে চিকিৎসরের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করুন।
কোমরের মেদ কমানোর উপায় কি
পেটের মেদ এবং কোমরের মেদ আলাদা আলাদা বিষয়। এজন্য আপনাকে দুটি ভিন্ন বিষয়
গ্রহণ করতে হবে যেমন পেটের মেদ কমানোর জন্য আপনাকে রুটিন অনুযায়ী খাওয়া-দাওয়া
করতে হবে যেটা আমি উপরে বলে দিয়েছি।
এছাড়া আপনার কোমরের মেদ কমানোর জন্য আপনাকে ব্যায়াম করতে হবে। তাহলে আপনি
একসাথে পেটের মেদ এবং কোমরের মেদ কমাতে পারবেন। মূলত পেটের মেদ বেড়ে যাওয়ার
কারণে কোমরের মেদ বেড়ে যায়।
বুকের মেদ কমানোর উপায় কি
বুকের মেদ বেড়ে গেলে ছেলেদের দেখতে খুব একটা ভালো লাগে না। এজন্য যাদের বুকের
মেদ বেড়ে যায় তারা অনেক দুশ্চিন্তায় থাকেন। বুকের মেদ কমানোর জন্য একটি
কার্যকর ব্যায়াম হচ্ছে পুশ আপ। বাংলায় যাকে বলা হয় বুক ডাউন। আপনি যদি
প্রতিদিন ১০০ টি করে বুক ডাউন দিতে পারেন তাহলে আপনার বুকের মেদ কমে যাবে।
প্রথম অবস্থায় আপনি ১০ থেকে ২০ টি পুশ আপ দিবেন কারণ প্রথম অবস্থায় আপনি বেশি
পুশ আপ দিতে পারবেন না। প্রথম প্রথম পুশ আপ দিলে আপনার বুকে অনেক ব্যাথা হবে। তাই
সর্বপ্রথম অল্প অল্প করে পুশ আপ দিন এবং আস্তে আস্তে পুশ আপের সংখ্যা বৃদ্ধি
করুন।
মুখের মেদ কমানোর উপায় কি
মুখে যখন মাংসের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন মুখ অনেক ফোলা ফোলা লাগে। অনেকেই এটিকে
মুখের মেদ বলে থাকে। সাধারণত কোন সাইড ইফেক্ট এর ফলে মানুষের মুখে মেদ বেড়ে যেতে
পারে। যেমন ধরুন আপনি দীর্ঘদিন ধরে কোন ওষুধ খাচ্ছেন অথবা হঠাৎ করে এমন কোন
ওষুধ খাচ্ছেন যে ওষুধে আপনার শরীরে সাইড ইফেক্ট ফেলেছে।
এই সমস্ত কারণে মানুষের মুখের ফোলা বেড়ে যায় এবং এটিকে সাধারণত মুখের মেদ বলা
হয়। যে ওষুধে আপনার সমস্যা হচ্ছে সে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিন এবং ডাক্তারের
পরামর্শ অনুযায়ী অন্য ওষুধ গ্রহণ করুন তাহলে দেখবেন মুখের মেদ কমে যাবে। এছাড়া
এক নিয়মিত ব্যায়াম করলে মুখের অতিরিক্ত মাংস বসে যায়।
শরীরের মেদ কমানোর উপায় কি
আপনি যদি আপনার সম্পূর্ণ শরীরের মেদ কমাতে চান তাহলে সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হচ্ছে
ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ। আপনাকে জিমে যেতে হবে এবং এক থেকে দেড় ঘন্টা শারীরিক
পরিশ্রম করতে হবে। যারা শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের শরীরে কোনরকম মেদ জমা হয় না।
তাই আপনি যেহেতু শারীরিক পরিশ্রম করেন না সেহেতু দিনে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময়
ব্যয় করে জিমে ভর্তি হন এবং জিম করতে শুরু করুন তাহলে দেখবেন আপনার সম্পূর্ণ
শরীরের মেদ ভুড়ি কমে যাবে।
মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায়
মহিলাদের সাধারণত বিয়ের পর, বাচ্চা হওয়ার পরে পেটের চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।
একটি সঠিক এবং পরিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস কেবল পারে আপনার পেটের মেদ কমাতে। একটি সঠিক
এবং পরিপূর্ণ খাদ্যাভাস ছাড়া আপনি পেটের মেদ কমাতে পারবেন না। তাই আপনাকে
নিয়মিত প্রতিদিন খেতে হবে সিজনাল শাকসবজি।
সব থেকে ভালো হয় যদি আপনি শাকসবজির সাথে লালা আটার রুটি খেতে পারেন। এখন থেকেই
চা অথবা কফি খাওয়ার পরিবর্তে গ্রিন টি খাওয়া শুরু করুন। যতই খিদে লাগুক দিনে ৩
টাইম ব্যতীত কখনোই খাওয়া যাবে না। যখনই আপনার খিদা লাগবে তখনই এক গ্লাস পানি
খেয়ে নেবেন।
ফলমূল খুব বেশি গ্রহণ করা যাবে না অর্থাৎ আপনাকে সীমিত ফলমূল খেতে হবে। চেষ্টা
করবেন দেশীয় ফলমূল খাওয়ার জন্য। যে সমস্ত খাবারের ফাইবার রয়েছে সে সমস্ত খাবার
গুলো বেশি খাবেন। বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ অথবা ছোট মাছ, খেজুর, কাঠবাদাম,
টমেটো, শসা, গাজর খেতে হবে।
FAQs
১) পেটের মেদ কমাতে সবচেয়ে উপকারী খাবার কোনটি?
উত্তরঃ পেটের মেদ কমাতে সবচেয়ে উপকারী খাবার হচ্ছে সালাদ।
২) গ্রিন টি পেটের মেদ কমায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, গ্রিন টি পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করে।
৩) পেটের মেদ কমাতে কোন মাছ খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ পেটের মেদ কমাতে যেকোনো ধরনের মাছ আপনি খেতে পারেন তবে সামুদ্রিক মাছ গুলো
সবচেয়ে ভালো। কিছু কিছু মাছ রয়েছে যেগুলোতে চর্বি রয়েছে এ সমস্ত মাছগুলো
পরিহার করতে হবে।
৪) কোন ধরনের খাবার গুলো পেটের মেদ কমায়?
উত্তরঃ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গুলো পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করে।
৫) কয় ঘন্টা ব্যায়াম করা উত্তম?
উত্তরঃ প্রতিদিন এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা অথবা সর্বোচ্চ দুই ঘন্টা ব্যয় করা
উত্তম।
৬) চিকন হতে কি ওষুধ গ্রহণ করব?
উত্তরঃ চিকন হওয়ার জন্য কোন ওষুধ গ্রহণ করার দরকার নেই। চিকন হওয়ার জন্য
শাকসবজি বেশি বেশি গ্রহণ করুন।
শেষ আলোচনা
দেখুন পেটের অতিরিক্ত মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায় মেনে চললে সহজেই পেটের মেদ কমানো
যায় কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। আপনি
যদি আমার এই আর্টিকেলের নিয়মগুলো মেনে চলেন কিন্তু আপনার খাদ্যাভাসের পরিবর্তন
না আনেন তাহলে আপনার পেটের মেদ কমবে না।
তাই আমি বলব আপনারা অবশ্যই রুটিন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন এবং কোন দিন
কোন খাবার খাবেন তা নির্ধারণ করুন। আপনি প্রতিদিন যে সমস্ত খাবারগুলো খান সেগুলো
দিয়েই আপনি রুটিন তৈরি করুন। খাদ্য তালিকায় শাকসবজি এবং সালাত বেশি করে রাখুন।
চেষ্টা করুন সকালে হালকা ব্যায়াম করতে। তাহলে ইনশাল্লাহ আপনার পেটের মেদ কমে
যাবে।