রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার

রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা প্রয়োজন কারণ এই সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। রাতের সময় ভালোভাবে ঘুম না হলে দিনের বেলা কোন কিছুই ভালো লাগেনা। এজন্য আপনাকে জানতে হবে রাতে ঘুম না আসার কারণ কি এবং এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে।

রাতে-ঘুম না-আসার-কারণ-ও-প্রতিকার
রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। তাহলে আপনি বিস্তারিতভাবে সকল বিষয়ে জেনে যাবেন এবং এখন থেকে আপনার রাতে ভালো ঘুম হবে ইনশাআল্লাহ।

পোস্ট সূচিপত্রঃ রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার

এই ব্লক পোস্ট থেকে আপনি যা কিছু শিখতে পারবেন তা এক নজরে চোখ বুলিয়ে নিন-

রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার

রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার এই দুটি বিষয়ে আমরা এখন সম্পূর্ণ জানব। রাতের ঘুম আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি পরিপূর্ণ ঘুম দিনের বেলায় আপনাকে এনার্জি প্রদান করে। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন রাতে ঘুম ভালো না হলে দিনের বেলা কোন কাজে মন বসে না। তাই আপনি যদি সারাদিন প্রাণবন্ত থাকতে চান তাহলে রাতের ঘুম অবশ্যই আপনার প্রয়োজন।

রাতে ঘুম না আসার কারণঃ

সারারাত ঘুম না আসার কারণ অনেকগুলো রয়েছে। চলুন আমরা এখন একটা একটা করে সকল কারণগুলো জেনে নিই-
  • রাত্রে ঘুম না আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে দিনের বেলা শরীর দুর্বল অনুভব করা।
  • দিনের বেলা ঘুমালে রাতে ঘুম আসে না।
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে রাতে ঘুম হবে না।
  • বিভিন্ন ধরনের মাদক যেমন মদ, গাঁজা, তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন করলে রাতে ঘুম হবে না। যদিও রাতে ঘুম আসে তাদের ঘুম হবে পাতলা।
  • দিনের বেলা পানি কম খেলে রাতে ঘুম হবে না।
  • বর্তমানে রাতে ঘুম না আসার আরেকটা অন্যতম কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন ব্যবহার করা।
  • রাত বারোটার আগে না ঘুমালে সারারাত ঘুম আসতে চায় না।
  • টাকা পয়সার চিন্তা করলে রাতে ঘুম হয় না।
  • গোসল না করলে রাতে ঘুম হয় না।
  • ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আরেকটি অন্যতম কারণ রাতে ঘুম না হওয়ার জন্য।
সাধারণত উপরের এই কারণ গুলোর জন্য রাতে ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার অনেকগুলো উপায় রয়েছে।

রাতে ঘুম আসার উপায়ঃ

যাদের রাতে ঘুম আসে না তাদের রাতে ঘুম আসার জন্য কিছু প্রতিকার জেনে নিন-
  • প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম প্রতিদিন পালন করতে হবে। যেমন মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে।
  • রাতে ঘুমানোর আগে ঘুমের দোয়া পড়ে ঘুমাতে হবে। ঘুম থেকে ওঠার দোয়া পড়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে। রাতে ঘুমানোর দোয়া এবং ঘুম থেকে উঠার দোয়া আমি এই আলোচনার শেষেই নিচে দিয়ে দিব।
  • ঘুমের সময় ডানকাত হয়ে অর্থাৎ ডান দিকে ঘুরে ঘুমাতে চেষ্টা করবেন।
  • যদি কোন দুশ্চিন্তা থাকে তাহলে সেই দুশ্চিন্তা করা যাবে না, কারণ আল্লাহ আপনার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছে সেটাই হবে।
  • দিনের বেলা ঘুমানো যাবে না।
  • বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে এবং রাতে আটটার পর আর পানি খাওয়া যাবে না।
  • রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন বন্ধ করে রাখতে হবে।
  • রাত বারোটার ভেতরে আপনাকে শুয়ে পড়তে হবে।
  • রাতে সর্বনিম্ন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতেই হবে।
  • ধার দেনা এবং ঋণ করা যাবে না।
  • প্রতিদিন গোসল করতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
  • যদি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেটি পরিত্যাগ করতে হবে।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
  • দিনের বেলায় নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে।
  • প্রতিদিন মেডিটেশন করতে হবে।
  • রাতে শোবার সময় ঘরের পরিবেশ অন্ধকার রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং বিশৃঙ্খলা করা যাবে না কারো সাথে।
  • খুবই সাধারণ একটি জীবন যাপন করতে হবে অর্থাৎ বিলাসিতা করা যাবে না।
  • বাবা-মার সাথে থাকতে হবে এবং বাবা-মার দেখাশোনা করতে হবে।
উপরের এই নিয়মগুলো মেনে চললে, আপনি বিশ্বাস করেন আপনার আর কোন ওষুধ খাওয়া লাগবে না। রাতে ভাল ঘুম হওয়ার জন্য ঘুমের ওষুধ খাওয়া কোন ভাল কাজ নয়। একটি জিনিস লক্ষ্য রাখবেন ডাক্তার যখন প্রেসক্রিপশনে ঘুমের ওষুধ লিখে থাকে তখন কয়েকদিনের জন্য লিখে।


তাই ঘুম না হওয়ার জন্য যেসব খারাপ অভ্যাসগুলো রয়েছে সেগুলো পরিত্যাগ করুন। তাহলে আপনি রাতে ঘুম না হওয়ার জন্য প্রতিকার পাবেন ইনশাল্লাহ।

ঘুমানোর আগের দোয়াঃ source: kalbela.com

اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

বাংলা উচ্চারণঃ ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে ঘুমাই এবং তোমার নামে জাগ্রত হই।’

সহিহ বুখারিঃ ৩৩১৪ - হজরত হুজাইফাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলায় ঘুমানোর পূর্বে এই দোয়া পড়ে ঘুমাতেন।

ঘুম থেকে জাগার পরের দোয়াঃ source: kalbela.com

لْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

বাংলা উচ্চারণঃ ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়া না বা’দা মা আমা তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।’

অর্থঃ ‘সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তাআলার, যিনি ঘুমের পর আমাদের জাগ্রত করেছেন এবং আমাদের তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।’

সহিহ বুখারিঃ ৬৩১২ - আমাদের মহানবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে ওঠার পরে এই দোয়া পড়ে উঠতেন।

হঠাৎ করে ঘুম না আসার কারণ

ধরুন আপনার প্রতিদিন ভালো ঘুম হয় কিন্তু হঠাৎ করে আপনার ঘুম আসছে না তাহলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণত হঠাৎ করে কোন চিন্তাই পড়ে গেলে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।
হঠাৎ-করে-ঘুম-না-আসার-কারণ
আপনি যদি মনে করেন এটি অতিরিক্ত চিন্তার কারণে হচ্ছে তাহলে সে চিন্তা বাদ দিন। কারণ আমি পূর্বেই বলেছি আপনার ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে, অযথা টেনশন করে কোন লাভ নেই।

কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করেন আপনার শারীরিক অবস্থার জন্য আপনার রাতে হঠাৎ করে ঘুম আসছে না, তাহলে অবশ্যই ভালো একটি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সব কিছু খুলে বলুন। কারণ হঠাৎ করে আপনার ঘুম না আসলে আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দিবে।

দিনে ঘুম না আসার কারণ

সাধারণত রাতে ভালো ঘুম হলে দিনে ঘুম হবে না এটাই স্বাভাবিক। আর আমার মতে দিনে না ঘুমানো ভালো। ঘুমের সঠিক সময় হলো রাত। তারপরেও আপনি যদি দিনে ঘুমাতে চান তাহলে আপনাকে আপনার রুমে আলো বাতাস আসতে দেওয়া যাবে না। রুমে যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে এজন্য রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমাবেন।

বাচ্চাদের ঘুম না আসার কারণ

বাচ্চারা যেহেতু কথা বলতে পারেনা সেহেতু রাতে না ঘুমালে কান্না করে। বাচ্চারা যদি রাতে না ঘুমায় তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে ডক্টর দেখাতে হবে। কারণ বাচ্চার ভেতরে কি হচ্ছে সেটা আমি আপনি বলতে পারবো না। এটা একমাত্র ডাক্তার পরীক্ষা করেই বলতে পারবে। রাতে বাচ্চার পাশে যখন শুবেন তখন বাচ্চার দুই পাশে ছোট বালিশ দিয়ে দিবেন, যেন ঘুমের সময় ভুল করে তার শরীরে আঘাত না লাগে। 

বাচ্চার মাথার নিচে বেশি উচা বালিশ ব্যবহার করবেন না, এতে করে তার ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। বাচ্চা কোন কারণে রাতে না ঘুমালে বাচ্চার শরীর অসুস্থ কিনা সেটা চেক করুন এবং শরীরের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে চেক করুন।

ঘুম কমানোর উপায় কি

আপনাকে অতিরিক্ত ঘুম হয়? আপনার অতিরিক্ত ঘুম হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আপনার শরীরের দুর্বলতা। সাধারণত এটির প্রধান কারণ অতিরিক্ত ঘুম হওয়ার জন্য। যাদের অতিরিক্ত ঘুম হয় তাদের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে না এবং দিনে বেশি ঘুম হয়।

আপনি যদি বেশি ঘুমানোর জন্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম টাইম মেইনটেইন করে সঠিক সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সঠিক সময় উঠতে হবে। যেমন ধরুন আপনাকে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে।

ঘুম থেকে ওঠার পরে আপনাকে সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে অথবা পড়াশোনা করতে হবে। এই সময় আপনার ঘুম পেলেও কখনোই ঘুমানো যাবে না। তাহলে দেখবেন রাতে তাড়াতাড়ি আপনার ঘুম চলে আসছে এবং সকাল সকাল আপনি উঠতে পারছেন।

এভাবে আপনি টানা এক সপ্তাহ প্র্যাকটিস করে দেখুন ইনশাল্লাহ এক সপ্তাহ পরে দেখবেন আপনার সময় মত ঘুম হচ্ছে এবং বেশি ঘুম ঘুম ভাব কেটে গেছে। সাধারণত রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার কারণে বেশি ঘুম ঘুম অনুভূতি দেখা দেয়।

দিনে ঘুম কমানোর উপায় কি

যারা কর্মঠ ব্যক্তি রয়েছেন তারা অনেকদিন ধরে বসে থাকলে দিনে ঘুম বেশি আসে। আবার অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল কলেজ যখন বন্ধ থাকে তখন দিনের সময় ঘুম বেশি আসে। আপনি একটি জিনিস লক্ষ্য রাখবেন- কাজ করার সময় দিনের বেলা ব্যস্ত থাকেন তাই দিনের বেলা ঘুম আসে না, কিন্তু আপনি পরের দিন কাজে না গিয়ে বাসায় থাকুন দেখবেন আপনার দিনের বেলায় ঘুম আসবে।
দিনে-ঘুম-কমানোর-উপায়-কি
ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। যেমন স্কুল-কলেজ যখন থাকে তখন যেহেতু বিকালে ছুটি হয় সেহেতু আপনি পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু আপনার যেদিন ছুটি থাকবে সেদিন দেখবেন দুপুরে আপনার ঘুম আসছে।

সুতরাং বুঝতে পারছেন শেষ কথা হচ্ছে দিনের বেলা আপনাকে আপনার নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে, তাহলে আপনি দিনের বেলায় ঘুম কমাতে পারবেন। যারা সব সময় বাসায় বসে থাকে তাদেরই সাধারণত দিনের বেলায় বেশি ঘুম আসে।

সকালের ঘুম কমানোর উপায়

সকালের ঘুম কমানোর উপায় খুবই সহজ। আপনি সকালে বেশি ঘুমান তার মানে আপনি রাত জাগেন এটা আপনাকে মানতেই হবে। তাহলে সকালে ঘুম কমানোর প্রথম ওষুধ হচ্ছে আপনাকে রাত জাগা বন্ধ করতে হবে। আপনি আরেকটা কাজ করতে পারেন সেটা হচ্ছে সকালে এলার্ম দিয়ে রাখবেন।

একসঙ্গে দুই থেকে তিনটা অ্যালার্ম দিয়ে রাখবেন কারণ অনেক সময় আমরা অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে যাই। মনে রাখবেন অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে আপনাকে উঠে পড়তে হবে। অ্যালার্ম বন্ধ করে আপনি যদি আবার শুয়ে পড়েন তাহলে আপনি কখনো সকালে ঘুম কমাতে পারবেন না।

পড়তে বসলে ঘুম আসে কেন

পড়তে বসে ঘুম আসার প্রধান কারণ হচ্ছে আপনি পড়ায় মনোযোগী নন। এই কারণেই মূলত পড়তে বসলে ঘুম আসে। একটানা অনেক ঘন্টা পড়া কখনো উচিত নয়। আপনি যখন একটানা অনেক ঘন্টা ধরে পড়বেন তখন আপনার ঘুম আসবে। তাই পড়ার সময় অবশ্যই বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়ুন।

বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়লে আপনার পড়া গুলো অনেকক্ষণ মনে থাকবে এবং এনার্জি আসবে। পড়ার সময় যখন ঘুম আসবে তখন আপনি উঠে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসবেন। এরপর ১০-১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার পড়তে বসবেন।

যতটুকুই পড়বেন ততটুকুই অনেক গুরুত্বসহকারে মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। তাহলে দেখবেন আপনার পড়ার সময় ঘুমের সমস্যা কেটে গেছে।

পড়ার সময় ঘুম না আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে- আপনি তখন যে বিষয়টি পড়ছেন সেটা আপনার মাথায় ঢুকছেনা অর্থাৎ আপনি বুঝতে পারছেন না। আপনি দেখবেন কোন কিছু পড়তে যখন ভালো লাগে অথবা আমরা যখন কোন কিছু পারি তখন সেটি পড়ার সময় ঘুম আসে না। আমরা সাধারণত যে বিষয়টি বুঝতে পারি না সেটি পড়ার সময় আমাদের ঘুম আসে।

তাই আপনি যে বিষয়টি বুঝতে পারবেন না সেটি তখন বিরতি দিয়ে রাখবেন। পুনরায় ১০-১৫ মিনিট ঘুরে এসে ইউটিউবে আপনার পঠিত বিষয়টি সার্চ দিবেন। কারণ ইউটিউবে অনেক বিষয় সহজভাবে দেওয়া থাকে, এখান থেকে আপনি পড়লে বুঝতে পারবেন।

আপনি যদি এই নিয়মগুলো অবলম্বন করে পড়াশোনা করেন তাহলে দেখবেন আপনার ঘুমের সময় অলসতা ভাব বা ঘুমঘুম ভাব কেটে গেছে।

পড়ার সময় ঘুম তাড়ানোর উপায়

পড়ার সময় ঘুম থেকে পরিত্রাণের উপায় হচ্ছে আপনাকে টেবিল চেয়ারে পড়তে হবে। আমরা অনেকেই টেবিল চেয়ারে পড়াশোনা না করে বিছানায় পড়াশোনা করি। এই কাজ কখনো করা যাবে না। কারণ পড়াশোনা করতে হলে একটি পরিবেশ দরকার। বিছানায় সেই পরিবেশ থাকে না। আপনি জানালার পাশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে জানালা দিয়ে তাকালে সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা ফাঁকা জায়গা দেখা যায়।

আপনি যখন টেবিল চেয়ারে মনোযোগ দিয়ে পড়বেন তখন আপনার ঘুম আসবে না। পড়তে যখন ভাল লাগবে না তখন জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখবেন ৫ মিনিট। এরপর আবার মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করবেন। এভাবে নিয়ম মেনে আপনি যদি টেবিল চেয়ারে বসে পড়তে পারেন তাহলে পড়ার সময় ঘুম তাড়ানো সম্ভব।

দুপুরে ঘুম তাড়ানোর উপায়

আপনার কি দুপুরে ভাত খাওয়ার পরে ঘুম আসে? আপনার দুপুরে ঘুম আসার প্রধান কারণ হচ্ছে আপনি ভাত খাওয়ার পরে বিছানায় শুয়ে পড়েন। দুপুরবেলা এই কারণেই সবার ঘুম আসে। দুপুর বেলা খাওয়া-দাওয়া করার পরে আপনি কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করবেন। তারপর এক জায়গায় বসে বই পড়তে পারেন অথবা পত্রিকা পড়তে পারেন।

এছাড়া আপনার যেটা ভালো লাগে সেটাই পড়বেন। দুপুরে ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে প্রতিদিন দুপুরে ঘুম আসে। তাই আপনাকে এই অভ্যাসটা সর্বপ্রথম পরিত্যাগ করতে হবে। প্রথম প্রথম দুপুর বেলা না ঘুমালে আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।

তারপরেও আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। মানুষ পারে না এমন কোন কাজ পৃথিবীতে নেই, তাই আপনিও এটা পারবেন। আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে দুপুরে খেয়ে পড়তে বসবেন। ভাত খাওয়ার পর সাথে সাথেই পড়তে বসবেন না অর্থাৎ কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে তারপর পড়তে বসবেন।

দুপুরবেলা রুমের পরিবেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন রাখবেন না। ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। এছাড়া আপনি দুপুরবেলা ঘুম কমানোর জন্য এক কাপ চা খেতে পারেন।

FAQs

১) ঘুম হওয়ার ঘরোয়া উপায় কি?
উত্তরঃ ভালো ঘুম হওয়ার ঘরোয়া উপায় হচ্ছে আপনাকে রুমের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে হবে এবং অন্ধকার রাখতে হবে। বেশি শব্দ হলে ঘুম আসতে চায় না তাই অবশ্যই পরিবেশ ঠাণ্ডা থাকা বাধ্যতামূলক। ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ করে ঘুমাবেন।

২) ঘুমের রোগের নাম কি?
উত্তরঃ ঘুমের রোগের নাম গুলো হচ্ছে- নারকোলেপসি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, সিনড্রোম (RLS)।

৩) বেশি ঘুমালে কি রোগ হয়?
উত্তরঃ প্রয়োজনের তুলনায় যাদের বেশি ঘুম হয় তাদের হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে।

৪) গভীর ঘুম কেন বেশি হয়?
উত্তরঃ গভীর ঘুম তখনই হয় যখন আপনার ঘুমের ঘাটতি থাকে।

৫) সারাদিন ঘুম পায় কেন?
উত্তরঃ সারাদিন ঘুম পাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে শরীরে দুর্বলতা অনুভব করা এবং রাতে ঘুম না আসা।

শেষ আলোচনা

আমি আশা করছি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করেছি সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে নরমালি কিভাবে ঘুমানো যায় তা আপনাদের বোঝানোর। আপনার যদি ঘুম না হয় তাহলে আপনি মেডিসিন গ্রহণ না করে আমার দেখানো এই পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করুন। ইনশাল্লাহ আপনি এক সপ্তাহের মধ্যে ভাল রেজাল্ট পাবেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url