লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার ২০+ কৌশল

আপনি যদি ব্লগার নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল আপনাকে অবশ্যই শিখতে হবে। কারণ বর্তমান সময়ে গুগলের অ্যালগরিদম লো ভ্যালু কনটেন্টের কারণে প্রতিটি ওয়েবসাইটের এডসেন্স বাতিল করে দিচ্ছে।

লো-ভ্যালু-কন্টেন্ট-ফিক্স-করার-কৌশল
আপনারা যদি এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে খুব সহজেই লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল বুঝতে পারবেন এবং এই কৌশল গুলো আপনার ওয়েবসাইটে প্রয়োগ করে আপনি এডসেন্সের আবেদন পাবেন।

সূচিপত্রঃ লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল

এই আর্টিকেল থেকে লো ভ্যালু কন্টেন্ট সম্পর্কে আপনি যে সমস্ত কৌশল গুলো শিখতে পারবেন তা এক নজরে চোখ বুলিয়ে নিন-

লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল

আমরা যারা ব্লগিং করে ইনকাম করতে চাই তাদের গুগল এডসেন্স ছাড়া ইনকাম করা সম্ভব নয়। কিন্তু Google এডসেন্সে আবেদন করার সময় লো ভ্যালু কনটেন্ট দেখিয়ে, গুগল এডসেন্স রিজেক্ট করে দেয়। এমন অবস্থায় আপনি কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না কি করবেন। কারণ গুগল সরাসরি আপনাকে বলে দেয় না আপনার ওয়েবসাইটের কোন কন্টেন্টে সমস্যা রয়েছে। 
Easy-way-to-fix-low-value-content
তাই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট এর কন্টেন্ট খুঁজে খুঁজে সেগুলো ফিক্স করার প্রয়োজন পড়ে। প্রথমেই জেনে নিন লো ভ্যালু কন্টেন্ট বিভিন্ন কারণে আসতে পারে। অর্থাৎ আপনার কনটেন্টের সমস্যা না থাকলেও আপনার এডসেন্স এ লো ভ্যালু কন্টেন্ট সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমরা এখানে লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার ২০+ কার্যকর কৌশল শিখব।

আপনি যদি আমার এই আর্টিকেল থেকে এই ২০+ কৌশল শিখে আপনার ওয়েবসাইটে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ আপনি লো ভ্যালু কন্টেন্ট এর সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। অনলাইনে এবং ইউটিউবে অনেকেই লো ভ্যালু কনটেন্ট এর সমস্যা দিয়ে থাকে কিন্তু সে সমস্ত তথ্য থেকে আসলে তেমন কোন উপকার পাওয়া যায় না। আমি আজকে এখানে আপনাদের যে কৌশলটি শিখাবো এটি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করব।

লো ভ্যালু কনটেন্ট সমাধান করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে আমি এখানে তুলে ধরব। কারণ এমন কিছু ছোট ছোট বিষয় রয়েছে যেগুলোর জন্য ওয়েবসাইটে লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসে। তাহলে চলুন আমরা এখন স্টেপ বাই স্টেপ প্রতিটি নিয়ম শিখে আসি, যে নিয়ম গুলো আপনাকে Google এডসেন্স এর লো ভ্যালু কন্টেন্ট সলভ করতে সহায়তা করবে।

মানসম্পন্ন কনটেন্ট

লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসার প্রধান কারণ হচ্ছে মানসম্পন্ন কনটেন্ট না লেখা। অর্থাৎ আপনি গবেষণা না করেই কনটেন্ট এর মধ্যে হাবিজাবি বিষয় লিখে দিলেই সেটি আর্টিকেল হবে না। একজন পাঠক কোন বিষয় সার্চ করে যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে কোন তথ্য না পায় তাহলে সেই পাঠকের কোন লাভ নেই। 

আর গুগলের অ্যালগরিদম বুঝতে পারে আপনার কন্টেন্টের মধ্যে তথ্য রয়েছে কিনা। তাই কনটেন্ট এর মধ্যে মূল্যবান তথ্যগুলো দিয়ে মান সম্পন্ন করতে হবে।

কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট

আমরা সকলেই জানি কপিরাইট কন্টেন্ট লিখলে Google লো ভ্যালু কনটেন্ট দেখায়। আপনি অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে সাহায্য নিতে পারবেন কিন্তু কপি করতে পারবেন না। অর্থাৎ আপনি আর্টিকেল লেখার সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে ঘুরে তথ্য নিয়ে নিজের ভাষায় ভয়েস টাইপিং করে লিখবেন।

AI জেনারেটেড ফ্রি কন্টেন্ট

যারা এআই দিয়ে আর্টিকেল লিখে তাদের কন্টেন গুলো লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট দিয়ে আপনি আর্টিকেল লিখতে পারবেন কিন্তু সরাসরি কপি করা যাবে না। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি এআই দিয়ে লেখা আর্টিকেলগুলো আপনাকে নিজের মতো করে মানুষের ভাষা ব্যবহার করে লিখতে হবে। 

আর্টিকেল লেখার জন্য এআইকে আপনি সাহায্যকারী একটি ওয়েবসাইট হিসেবে ধরতে পারেন। কিন্তু তাই বলে AI থেকে সরাসরি তথ্য নিয়ে কপি পেস্ট করে আর্টিকেল লেখা যাবে না।

সর্বনিম্ন ১০টি H2 ব্যবহার

আর্টিকেলের মধ্যে দশটা h2 হেডিং ব্যবহার করে আর্টিকেল লিখতে হবে। প্রথম হেডিং এ সূচনা এবং শেষ হেডিং এ শেষ আলোচনা থাকতে হবে। মাঝখানের ৮টি h2 হেডিং এ আর্টিকেল রিলেটেড কীওয়ার্ড গুলো রাখতে হবে এবং সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হবে।

আর্টিকেলের ওয়ার্ড সংখ্যা

Google এডসেন্স পাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই ১৫০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখতে হবে। এডসেন্স পাওয়ার পরে আপনি আপনার ইচ্ছা মতো ৫০০ কিংবা এক হাজার ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখতে পারেন। কিন্তু এডসেন্স পাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই সবগুলো আর্টিকেল ১৫০০ ওয়ার্ডের হতে হবে। 

আপনি যখন উপরের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আর্টিকেলে দশটি h2 হেডিং ব্যবহার করবেন তখন দেখবেন অটোমেটিক্যালি আপনার আর্টিকেল ১৫০০ ওয়ার্ডের হয়ে গেছে বা তার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

ইন্টার্নাল লিংকিং

আর্টিকেলের মধ্যে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্ট ইন্টার্নাল লিংকিং করতে হবে। যে আর্টিকেলের মধ্যে কোন লিংকিং করা থাকে না, সে আর্টিকেলটি গুগল ভ্যালু নাই হিসেবে গণনা করতে পারে। তাই আপনার আর্টিকেলের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য ব্লগ পোস্ট, আর্টিকেলের মধ্যে সংযুক্ত করে দিবেন।

ব্রকেন লিঙ্ক

আর্টিকেলের মধ্যে আপনি এমন একটি লিংক প্রদান করেছেন যে লিংক বর্তমানে কাজ করছে না। এক্ষেত্রে এটাকেই বলা হয় ব্রকেন লিঙ্ক। এডসেন্সের আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত অকার্যকর লিংক গুলো ডিলিট করে দিতে হবে।

ক্রেডিট প্রদান

আপনি যদি অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি কোন তথ্য কপি করেন অর্থাৎ আপনার নিজের ভাষায় না লিখে সরাসরি কোন তথ্য আপনার ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেন তাহলে আপনাকে ক্রেডিট প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়েছেন সেই ওয়েবসাইটের নাম নিচে বসিয়ে দিবেন। আর্টিকেলের নিচে সোর্স লিখে সেই ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে দিবেন তাহলেই হবে। এক্ষেত্রে লিংকিং করার প্রয়োজন নেই। যেমন- ক্রেডিট/সোর্সঃ www.website.com।

আবার আপনি যদি অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন ছবি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে প্রদান করেন তাহলে সে ক্ষেত্রেও আপনাকে ছবির নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিতে হবে।

ফিচার ইমেজ

একটি আর্টিকেলের মধ্যে দুই থেকে তিনটা ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। তবে তিনটা ফিচার ইমেজ ব্যবহার করা সবচাইতে ভালো। আর্টিকেলের মধ্যে কোন ফিচার ইমেজ না থাকলে সেই আর্টিকেলটি লো ভ্যালু কন্টেন্ট হিসেবে কাউন্ট হতে পারে।

AI দিয়ে ফিচার ইমেজ তৈরি

অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে ছবি না নিয়ে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করার চেষ্টা করবেন। এআই দিয়ে তৈরি করা ছবিটি পুনরায় Canva তে নিয়ে গিয়ে এডিট করতে হবে। এই ছবিগুলো ওয়েবসাইটের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

কিওয়ার্ড স্টাফিং

একটি আর্টিকেল এর মধ্যে বারবার কিওয়ার্ড বসানো যাবে না। আপনি যখন একটি আর্টিকেলের ভেতরে এক লাইন দুই লাইন বা কিছু লাইন পরপর কিওয়ার্ড বসাবেন তখন সেই কন্টেন্ট লো ভ্যালু কন্টেন্ট হিসেবে গণনা হতে পারে। তাই কিওয়ার্ড সর্বোচ্চ সাত থেকে আটটি দিতে হবে এবং কিওয়ার্ডগুলো এমন ভাবে বসাতে হবে যেন বাক্যগুলোর অর্থ ঠিক থাকে।

মনে রাখবেন আপনাকে সর্বপ্রথম ভিজিটরদের জন্য কনটেন্ট লিখতে হবে এরপরে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য কনটেন্ট অপটিমাইজেশন করতে হবে।

গোল্ডেন কিওয়ার্ড রিসার্চ

গুগল এডসেন্স পাওয়ার আগে আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চের দিকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে। কারণ আপনি একটি আর্টিকেলকে তখনই র‍্যাংক করাতে পারবেন যখন আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ ভালো হবে। আর আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ সাথে যত ভালো হবে আপনি তত তাড়াতাড়ি গুগল এডসেন্স পাবেন।


আর আপনার কিওয়ার্ড রিচার্জ করা যত খারাপ হবে আপনার আর্টিকেলে লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসবে। এজন্য চেষ্টা করবেন যে সমস্ত কিওয়ার্ড নিয়ে কেউ লেখালেখি করেনি সে সমস্ত কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে কাজ করার।

অন পেজ SEO

আর্টিকেলকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। অর্থাৎ আর্টিকেল ভালোভাবে অন পেজ এসইও করতে হবে। আপনি যখন আর্টিকেল ভালোভাবে অন পেজ এসইও করবেন তখন অটোমেটিক্যালি আপনার আর্টিকেলটি অপটিমাইজড হয়ে যাবে।

কিভাবে একটি আর্টিকেল এসইও করতে হয় তা জানার জন্য এই আর্টিকেলটি পড়ুন 👇

গুগল সার্চ কনসোল

গুগল এডসেন্সে আবেদন করার আগে আপনার ওয়েবসাইটকে অবশ্যই গুগল সার্চ কনসোলের সাথে কানেক্ট করে রাখতে হবে। তাহলে গুগলের Robot সমূহ বুঝতে পারবে আপনার ওয়েবসাইটে কেমন ক্লিক রয়েছে এবং কতগুলো পোস্ট গুগলের রেঙ্কে রয়েছে।

গুগল এনালাইটিক্স

গুগল সার্চ কনসোল ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করার পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই গুগল এনালাইটিক্স ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করে নিতে হবে। কারণ গুগল এনালাইটিক্স এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইটে কেমন পারফর্ম করছে এবং কেমন ভিজিটর রয়েছে তা দেখা যায়। অর্থাৎ গুগল এনালাইটিক্স এর কাজ হচ্ছে রিয়াল টাইম তথ্য প্রদান করা।

সাইট ম্যাপ

আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই সাইট ম্যাপ পেজ যুক্ত করতে হবে। সাইট ম্যাপ পেজ আপনি ওয়েবসাইটের উপরের নেভিগেশনে অথবা ফুটারে যেকোন এক জায়গায় রেখে দিবেন। এই সাইট ম্যাপটি ওয়েবসাইটে এড করার মাধ্যমে গুগলের রোবট সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের সবকিছু ক্রল করতে পারবে এবং আপনার এডসেন্স পেতে সুবিধা হবে।

যোগাযোগ ও নীতিমালা পেজ

আপনার ওয়েবসাইটের ফুটারে যোগাযোগ ও নীতিমালা পেজ সমূহ যুক্ত করতে হবে। যেমনঃ
  • About Us Page
  • Contact Us Page
  • Privacy Policy Page
  • Disclaimer Page
  • Terms & Conditions Page
সাধারণত এই পাঁচটা পেজ যুক্ত করলেই যথেষ্ট।

সোশ্যাল মিডিয়া লিংক

আপনার যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়াগুলো রয়েছে সেই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার লিংকগুলো ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ওয়েবসাইটের ফুটারে অথবা সাইড বারে এই লিংকগুলো দিয়ে দিতে পারেন।

নেভিগেশন

আপনার ওয়েবসাইটের নেভিগেশনে ভিজিটরা যেন সব কিছু খুঁজে পায়। অর্থাৎ আপনি নেভিগেশন দিয়ে রাখলেন অথচ নেভিগেশনে কোন লিংকিং করা নাই তাহলে আপনার লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসবে। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের মেনু গুলো খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে।

ক্যাটাগরি

আপনার ওয়েবসাইটে এডসেন্সের আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই দশটা সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি রাখতে হবে। অনেকেই কম ক্যাটাগরিতে এডসেন্স পায় কিন্তু দশটা ক্যাটাগরি থাকলে এডসেন্স পেতে সুবিধা হয়।। তাই চেষ্টা করবেন ওয়েবসাইটে দশটা ক্যাটাগরি তৈরি করে, সেই ক্যাটাগরি গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য।

কনটেন্ট সংখ্যা

ওয়েবসাইটে দশটা ক্যাটাগরিতে দশটা করে আর্টিকেল থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি ক্যাটাগরিতে দশটা করে আর্টিকেল থাকলে, দশটা ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ১০০টা আর্টিকেল হচ্ছে। ১০০ টা আর্টিকেল এর মধ্যে যদি ৮০টা বা ৭০ টা আর্টিকেল গুগলে ইনডেক্স থাকে তাহলে আপনার এডসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাই আর্টিকেল লিখার পরে অবশ্যই গুগল সার্চ কনসোলের মাধ্যমে মাধ্যমে পোস্টগুলো ইনডেক্স করে নিবেন।

অনেকেই বলে ৫ থেকে ২০ টা কনটেন্ট লিখলে এডসেন্স পাওয়া যায়। হ্যাঁ কথাটা সত্য কিন্তু সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটটি একটি নিশের উপরে হতে হবে।  আপনার ওয়েবসাইটে যদি মাল্টিপল ক্যাটাগরির আর্টিকেল লেখা থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে একশটা আর্টিকেল লেখার পরে আবেদন করতে হবে।

ক্লিকের পরিমাণ

গুগল সার্চ কনসোলের তথ্য মোতাবেক প্রতিদিন ১০০ এর বেশি ভিজিটর যখন আসবে তখন এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। কারণ ভিজিটর, এডসেন্স পাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভিজিটর না আসে তাহলে গুগল আপনাকে এডসেন্স দিয়ে কি করবে? তাই ভিজিটর ১০০ এর বেশি না হওয়া পর্যন্ত এডসেন্স এর আবেদন করবেন না।

অর্গানিক ভিজিটর

আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই প্রতিদিন অর্গানিক ভিজিটর আসতে হবে। অর্থাৎ গুগল থেকে সরাসরি সার্চ দিয়ে যে সমস্ত ভিজিটর গুলো আসবে সেগুলোই হচ্ছে অর্গানিক ভিজিটর। আপনি যদি কোন জায়গা থেকে ভিজিটর কিনে আপনার ওয়েবসাইটে ক্লিক বাড়িয়ে তারপর এডসেন্সের জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনি কখনোই এডসেন্সের আবেদন পাবেন না। 

এক্ষেত্রে গুগল আপনার ওয়েবসাইট  লক করে দিতেও পারে। তাই কোনভাবেই অবৈধ উপায়ে টাকা খরচ করে ভিজিটর নেওয়া যাবে না।

থিম ডিজাইন

একটি ওয়েবসাইটের এডসেন্স পাওয়ার জন্য থিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে থিমটি ব্যবহার করেন না কেন অবশ্যই থিমটি অন্যান্য ওয়েবসাইটের চেয়ে আলাদাভাবে ডিজাইন করবেন। কারণ গুগলের রোবট আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন যখন অন্য একটি ওয়েবসাইটের সাথে সাদৃশ্য পাবে, তখন আপনার লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসতে পারে।

এজন্য আমি বলব আপনারা যারা ব্লগারে রয়েছেন তারা অবশ্যই জেড থিম ব্যবহার করবেন এবং আপনারা যারা ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছেন তারা জেনারেট প্রেস থিম ব্যবহার করবেন এবং নিজের মত করে কাস্টমাইজেশন করে তারপর এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন।

থিম ডিজাইন করার সময় থিমের স্ট্রাকচার খুব সিম্পল রাখবেন। অর্থাৎ থিমের ডিজাইন খুবই নরমাল রাখতে হবে। কোনরকম হাবিজাবি ডিজাইন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা যাবে না। এডসেন্স পাওয়ার পরে আপনি আপনার নিজের মত করে ডিজাইন করতে পারেন কোন সমস্যা নেই, কিন্তু এডসেন্স পাওয়ার আগে আপনাকে আপনার থিমের ডিজাইন সিম্পল রাখতে হবে।

গুগল কন্টেন্ট পলিসি

গুগল কন্টেন্ট পলিসি মেনে আপনাকে ওয়েব সাইটে কাজ করতে হবে। গুগলের সাথে কাজ করার জন্য তাদের নীতিমালা গুলো মেনে যদি আপনি কাজ করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে কখনো কোন সমস্যা হবে না। এজন্য আমি সর্বপ্রথম বলতে চাই ব্লগার এ কাজ করার আগে গুগলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে গুগল কন্টেন্ট পলিসি গুলো পড়ে আসুন।

প্রতিদিন কনটেন্ট লেখা

উপরের সমস্ত বিষয় ঠিক করার পরেও অনেক সময় লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসে। এক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই কারণ গুগলের রোবট কখন কাকে এডসেন্স দিবে সেটা আমরা বলতে পারব না। তাই আপনার এডসেন্স যখন বারবার রিজেক্ট করে দিবে, আপনি কয়েকদিন পর পর আবার আবেদন করবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন কনটেন্ট লিখে যেতে হবে।

আপনি যদি কন্টেন্ট লেখা বন্ধ করে শুধু কয়েকদিন পর পর আবেদন করেন তাহলে আপনি বারবার রিজেক্ট খাবেন। আর আপনি যদি প্রতিদিন কনটেন্ট লিখেন এবং কিছুদিন পর পর আবেদন করেন তাহলে একদিন না একদিন গুগল আপনাকে এডসেন্স দিবেই দিবে দিবে ১০০% সিওর।

তাই আপনারা যারা লো ভ্যালু কন্টেন্টের কারণে গুগলের এডসেন্স পাচ্ছেন না তারা মন খারাপ করবেন না। আপনারা প্রতিদিন ভালো ভালো কনটেন্ট লিখতে থাকুন এবং কিছুদিন পরপর এডসেন্সের আবেদন করুন। আপনি যখন বেশি বেশি আর্টিকেল লিখতে থাকবেন এবং আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বেড়ে যেতে থাকবে তখন আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়তে থাকবে। 

এরপর Google নিজে থেকেই আপনাকে এডসেন্স দিয়ে দিবে। তখন আর কোন লো ভ্যালু কন্টেন্ট সমস্যা আসবে না। সুতরাং আমি বলব লো ভ্যালু কনটেন্ট ফিক্স করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিদিন মানসম্পন্ন এবং তথ্য নির্ভর কন্টেন্ট লিখে যাওয়া।

গুগল এডসেন্স নট এপ্রুভাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা

যখন গুগল এডসেন্স নট এপ্রুভাল দেখাবে তখন আপনি কন্টেন্ট আপডেট করে পুনরায় আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটটি গুগল এডসেন্স থেকে ডিলিট করে দিবেন। এরপর পুনরায় ওয়েবসাইট এড করে তারপর রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। আপনি যদি এভাবে বারবার রিকোয়েস্ট পাঠান তাহলে গুগল আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠানোর জন্য সময় লক করে দিবে না। 
গুগল-এডসেন্স-নট-এপ্রুভাল-সম্পর্কে-গুরুত্বপূর্ণ-কথা
আর আপনি যদি সরাসরি বারবার রিকোয়েস্ট রিভিউ করেন তাহলে গুগল একসময় আপনাকে টাইম লিমিট দিয়ে দিবে। অর্থাৎ Google যখন আপনাকে টাইম লিমিট দিয়ে দিবে তখন আপনি সেই সময়ের পূর্বে এডসেন্সের জন্য আর রিকোয়েস্ট দিতে পারবেন না।

FAQs

১) লো ভ্যালু কন্টেন্ট কি?
উত্তরঃ সাধারণ অর্থে লো ভ্যালু কনটেন্ট হলো যে কনটেন্ট এর মধ্যে কোন ভ্যালু নাই। কিন্তু লো ভ্যালু কন্টেন্ট ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও হতে পারে।

২) লো ভ্যালু কনটেন্ট কিভাবে ফিক্স করা যায়?
উত্তরঃ লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার জন্য আর্টিকেল গুলো আপডেট করতে হবে এবং ভালো ভালো আর্টিকেল প্রতিদিন পাবলিশ করতে হবে।

৩) লোক ভ্যালু কনটেন্ট কেন আসে?
উত্তরঃ লো ভ্যালু কন্টেন্ট বিভিন্ন কারণে আসতে পারে যেমন আর্টিকেলে সমস্যা, থিমের ডিজাইন, গুরুত্বপূর্ণ পেজ না থাকা, কপিরাইট ইস্যু ইত্যাদি।

শেষ আলোচনাঃ লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল

লো ভ্যালু কন্টেন্ট ফিক্স করার কৌশল কোন জটিল প্রসেস নয়। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে আর্টিকেলগুলো ভালোভাবে লিখলেই এই সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যায়। এছাড়া আর্টিকেল বাদেও যে সমস্ত কারণে লো ভ্যালু কন্টেন্ট আসে তা আমি এই আর্টিকেলে আলোচনা করে দিয়েছি। আপনারা যদি এ আর্টিকেলের কৌশল গুলো অবলম্বন করে সঠিকভাবে এডসেন্সের জন্য আবেদন করেন তাহলে অবশ্যই আজ না হোক কাল এডসেন্স পাবেন ইনশাল্লাহ।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url