মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা | মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে

মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা আপনারা যদি জানতে চান তাহলে আজকে ঠিক জায়গায় এসেছেন। কারণ এখানে আমি এমন কিছু খাবারের তালিকা তুলে ধরব যেগুলোর জন্য আপনাকে বেশি খরচ করতে হবে না অর্থাৎ আপনার বাসার খাবার গুলো দিয়ে আপনি নিজেকে মোটা করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

মোটা-হওয়ার-উপায়-খাবার-তালিকা
এছাড়া মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে যদি জানতে চান তাহলে আপনাকে আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা এবং বিভিন্ন টিপস এবং ট্রিক্স আমি বিস্তারিতভাবে এখানে শেয়ার করব। সম্মানিত পাঠকগণ তাহলে চলুন আজকের মূল আলোচনা শুরু করি।

সূচিপত্রঃ মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা | মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে

মোটা হওয়ার খাবার তালিকা এবং ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি এই আর্টিকেলে যে সমস্ত তথ্যগুলো পাবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা

মোটা হওয়ার জন্য বেশ কিছু উপায় রয়েছে। এছাড়া শুধু এই উপায়গুলো মানলেই হবে না আপনাকে আপনার খাবার তালিকা ও ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ মোটা হওয়ার উপায় এবং খাবার তালিকা দুইটা মেনে চললে আপনি খুব সহজেই কিছুদিনের মধ্যেই মোটা হতে পারবেন।

যে সমস্ত খাবারে ক্যালরি রয়েছে সেই সমস্ত খাবার আপনাকে খেতে খেতে হবে যদি আপনি দ্রুত মোটা হতে চান। ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আপনাকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। আপনি খাবার ঠিকমতো খেলেন কিন্তু ঘুমালেন না, তাহলে আপনি কখনো মোটা হতে পারবেন না।

মোটা হওয়ার জন্য আরেকটি উপযুক্ত খাবার হচ্ছে প্রোটিন শেক। এই শেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান দিয়ে, মোটা হওয়ার জন্য একটি পারফেক্ট কম্বিনেশন তৈরি করা হয়। আমি এই আর্টিকেলের মধ্যে আপনাদের বলে দিব কিভাবে আপনারা বাসায় বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রোটিন শেক বা মিল্ক শেক তৈরি করবেন।


ব্যায়াম করার দুই ধরনের নিয়োম রয়েছে। ব্যায়াম করে আপনি চিকন হতে পারবেন আবার মোটা হতে পারবেন। বিভিন্ন জিম প্রতিষ্ঠানের ট্রেনারদের সাথে যোগাযোগ করে জিমে ভর্তি হন অথবা বাসাতে ব্যায়াম করে আমার এই আর্টিকেলে দেওয়া খাবারগুলো গ্রহণ করুন। তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি মোটা হতে পারবেন।

আপনাকে ঘন ঘন খাবার খেতে হবে যেমন চার থেকে পাঁচ বার। পাশাপাশি আপনাকে ঘনঘন পানি খেতে হবে অল্প অল্প করে। প্রতিদিন আপনাকে অবশ্যই ৫০০ থেকে ১০০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতেই হবে। তবে মনে রাখবেন আপনাকে জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলতে হবে যদি আপনি সম্পূর্ণ ন্যাচারাল উপায়ে মোটা হতে চান।

দ্রুত মোটা হওয়ার খাদ্য তালিকা | মোটা হওয়ার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা

এখন আমি আপনাদের সাথে যে খাদ্য তালিকা টি শেয়ার করব সেটি যদি আপনি প্রতিদিন মেনে চলতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মোটা হতে পারবেন। আমি এখন আপনাদের সাত দিনের একটি খাবার তালিকা প্রদান করছি। আপনারা প্রত্যেকটা দিন এই তালিকা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করুন।

মনে রাখবেন আপনি যেহেতু ন্যাচারাল ভাবে মোটা হতে যাচ্ছেন সেহেতু এই খাবারগুলো কিনতে আপনার কিছু খরচ হতে পারে। বাজারের বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খেয়ে শরীরের ক্ষতি করার চেয়ে নিচের এই প্রাকৃতিক খাবার গুলো গ্রহণ করা অনেক ভালো।

সময় খাবার তালিকা
সকালের নাস্তা (৮:০০ - ৯:০০ AM) ২টি সিদ্ধ ডিম বা অমলেট, ২টি কলা বা আম, ২ পিস পাউরুটি / পরোটা / ওটস, ১ গ্লাস দুধ (বাদাম বা মধু মিশিয়ে নিতে পারেন)
বেলা ১১টার স্ন্যাকস ১ মুঠো বাদাম (কাজু, আমন্ড, পেস্তাবাদাম), ১ গ্লাস ফলের জুস বা স্মুদি (কলা+দুধ+মধু)
দুপুরের খাবার (১:০০ - ২:০০ PM) ১.৫ - ২ কাপ ভাত, ১ টুকরা মাছ/মাংস/ডিম, ১ বাটি ডাল, ১ বাটি সবজি, ১ টুকরা মিষ্টি (রসগোল্লা বা চমচম), ১ গ্লাস লাচ্ছি বা টক দই
বিকেলের নাস্তা (৫:০০ - ৬:০০ PM) ১ প্লেট চিড়া + কলা + দুধ, বা স্যান্ডউইচ (পনির, মাখন ও চিকেন দিয়ে), ১ কাপ দুধ বা চা
রাতের খাবার (৮:৩০ - ৯:৩০ PM) ১.৫ - ২ কাপ ভাত, মুরগি/গরুর মাংস/ডিম, ডাল ও সবজি, ১ গ্লাস দুধ (ঘুমানোর আগে)

মোটা হওয়ার সহজ উপায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে | মোটা হওয়ার ঘরোয়া উপায়

এখন আমরা মোটা হওয়ার একটি সহজ ঘরোয়া উপায় আলোচনা করব। আমরা জানি মিল্কশেক খেলে খুব সহজেই মোটা হওয়া যায়। কিন্তু বাজারের মিল্ক সেগুলো অনেক দাম বেশি এবং উপাদান হিসেবে কি দেওয়া আছে তা আমরা জানিনা। আবার সেই সমস্ত মিল্ক শেখ খেয়ে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য বাসাতেই কিভাবে আপনারা অল্প খরচে মিল্ক শেক তৈরি করবেন তা আমি এখন শেখাবো।
মোটা-হওয়ার-সহজ-উপায়-ঘরোয়া-পদ্ধতিতে
মিল্ক শেক তৈরি করার জন্য আপনার সর্বপ্রথম প্রয়োজন হবে কলা। তবে সাগর কলা বাদ দিয়ে অন্য কলা কিনবেন কারণ সাগর কলায় এসিডিটির সমস্যা হতে পারে।

এছাড়া মিল্ক শেক তৈরি করতে আরো প্রয়োজন হবে-
  • দুধ
  • বাদাম
  • চকলেট পাউডার
  • দুধ ও দইযুক্ত স্মুদি এবং 
  • এনার্জি প্লাস বিস্কুট
আপনি চকলেট পাউডারের পরিবর্তে ক্রিমফিলস চকলেট অথবা ফিলো চকলেট ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার আরো প্রয়োজন হবে হরলিক্স এবং কমপ্ল্যান। তবে হরলিক্স এবং কমপ্ল্যান আপনি দিতেও পারেন না দিতেও পারেন। আপনি শুধু একবার এই উপাদান গুলো কিনে নিয়ে রেখে দিবেন। তাহলে দেখবেন এই উপাদানগুলো দিয়ে আপনি অনেক দিন মিল্ক শেক বানাতে পারবেন এবং খেতে পারবেন। এতে করে আপনার খরচ কম হবে এবং কম খরচে আপনি অনেক দিন মিল্ক শেক খেতে পারবেন।

প্রতিদিন ব্লেন্ডারে এই উপাদান গুলো দিয়ে আপনাকে একদিনের জন্য তিন গ্লাস মিল্কশেক বানাতে হবে। এভাবে প্রতিদিন তিন গ্লাস করে বানিয়ে যদি আপনি নিয়মিত খান তাহলে দেখবেন আপনি খুব তাড়াতাড়ি মোটা হয়ে গেছেন।

ব্লেন্ডারের মধ্যে এমনভাবে উপরের উপাদানগুলো নিবেন যেন তিন গ্লাস মিল্কশেক তৈরি হয়। উপাদানগুলো দেওয়ার পরে অবশ্যই এক থেকে দেড় গ্লাস পানি দিয়ে দিবেন এরপরে মিশ্রণ করবেন। যদি মিল্কশেকের ভেতরে মধু এবং কালিজিরা দিতে পারেন তাহলে আরো ভালো হয়।

কিভাবে পানি খেলে মোটা হওয়া যায়

পানি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। আপনাকে এই নিয়মগুলো জানতে হবে। পানি কিভাবে খেলে মোটা হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। শুধুমাত্র একটি উপায় অবলম্বন করলেই আপনি পানি খাওয়ার মাধ্যমেও মোটা হতে পারবেন। ভাত খাওয়ার পরে আমরা সবাই পানি পান করি।

কিন্তু আপনারা যদি মোটা হতে চান তাহলে ভাত খাওয়ার পরে বেশি পানি খাবেন না। ভাত খাওয়ার ঠিক এক থেকে দেড় ঘন্টা পরে পানি খাবেন। এই পানি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি মোটা হতে পারবেন। তবে বেশি পানি খাবেন না। ভাত খাওয়ার এক থেকে দেড় ঘন্টা পর আপনি এক থেকে দেড় গ্লাস পানি খাবেন।

ভাত খাওয়ার পর সাথে সাথে পানি খেলে আমাদের পেটের ভেতরে খাবার হজম হতে বিলম্ব হতে পারে। আর খাবার ঠিকমতো হজম না হলে আপনি মোটা হতে পারবেন না। তাই ভাত খাওয়ার এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা পর পানি খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। বসে থেকে পানি খেতে হবে এবং তিন নিঃশ্বাসে খেতে হবে। পানি খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং পানি খাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ বলতে হবে।

ইসলামে মোটা হওয়ার উপায়

ইসলাম সবসময় সমর্থন করে স্বাস্থ্যসম্মত শরীরকে। ইসলামে যেভাবে খাবারের নিয়ম কানুন মেনে চলতে বলেছে এভাবে মেনে চললে শরীর সুস্থ সবল থাকবে। কিন্তু তারপরেও আপনি যদি ইসলামিক উপায়ে খাবার গ্রহণ করতে চান এবং মোটা হতে চান তাহলে নিচের পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করতে পারেন।

সুন্নত অনুসারে খাওয়াঃ

সুন্নত অনুসারে খাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে বিসমিল্লাহ বলে খাওয়ার শুরু করতে হবে এবং ডান হাত দিয়ে খেতে হবে। খাওয়ার পরে অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ বলতে হবে। খাবার তিন ভাগে ভাগ করে খেতে হবে। যেমন পেটে একভাগ খাবার, একভাগ পানি এবং এক ভাগ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।

আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মানুষের জন্য শুধুমাত্র কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট যেন সেই ব্যক্তি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। (তিরমিজি: ২৩৮০)

মোটা হওয়ার জন্য ইসলামিক খাদ্য তালিকাঃ 

আমাদের শেষ নবী কিছু খাবার খেতেন যে খাবার গুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপনি এই খাবারগুলো গ্রহণ করে দেখতে পারেন। যেমনঃ

দুধ ও খেজুর প্রচুর ক্যালরিযুক্ত খাবার
মধু শারীরিক শক্তি ও হজমশক্তি বাড়ায়
যব (বার্লি) ও গম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কালোজিরা মৃত্যুব্যতীত সকল রোগের ওষুধ

আল্লাহর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া করাঃ 

আল্লাহর কাছে সব সময় সুস্থতা নিয়ে দোয়া করবেন তাহলে দেখবেন আল্লাহ আপনাকে ভালো রেখেছে এবং আপনি স্বাস্থ্যবান হতে হলে অবশ্যই এই কাজটি করতে হবে।

কোন ভিটামিন খেলে মোটা হওয়া যায়

কিছু কিছু ভিটামিন রয়েছে যে সমস্ত ভিটামিন গুলো বিভিন্ন খাদ্যের মধ্যে বা ফলমূলের মধ্যে পাওয়া যায়। এই ভিটামিন গুলোর মাধ্যমেও আপনি মোটা হতে পারেন। যেমনঃ

ভিটামিন খাবার
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, কলা, বাদাম, ডাল, শাকসবজি
ভিটামিন ডি (Vitamin D) রোদ, ডিমের কুসুম, দুধ, মাছ (স্যামন, টুনা)
ভিটামিন সি (Vitamin C) কমলা, লেবু, আমলকি, টমেটো, পেয়ারা
ভিটামিন এ (Vitamin A) গাজর, পালং শাক, কুমড়া, দুধ, কলিজা
ভিটামিন ই (Vitamin E) বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, পালং শাক, অলিভ অয়েল
ভিটামিন K2 কলিজা, ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার

অতি তাড়াতাড়ি মোটা হওয়ার উপায়

অতি তাড়াতাড়ি কখনো মোটা হওয়া যায় না। মোটা হতে হলে অবশ্যই সময় প্রয়োজন। আমরা অনেক সময় অনলাইনে এমন কিছু প্রোডাক্ট দেখেন এবং সেগুলোতে লেখা থাকে দ্রুত সময়ে মোটা হওয়ার যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সমস্ত প্রোডাক্ট গুলো খেলে আপনার কিডনি খারাপ হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি মোটা হওয়ার জন্য সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট খাবেন।

আবার অনেকেই রয়েছেন অতি তাড়াতাড়ি মোটা হওয়ার জন্য ওষুধের দোকান থেকে ভিটামিন ফাইল কিনে খান। এই কাজটি করা উচিত কারণ যেকোনো ধরনের ওষুধ নিজে নিজে খাওয়া উচিত নয়। আপনি ভিটামিন ওষুধ খেলেও আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

আমি বলব অতি তাড়াতাড়ি মোটা হওয়ার চেষ্টা না করে আস্তে আস্তে মোটা হওয়ার চেষ্টা করুন। আমি যে সমস্ত খাবারের তালিকা গুলো দিয়েছি এবং যে সমস্ত ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের নাম গুলো দিয়েছি এগুলো খেয়ে মোটা হবার চেষ্টা করুন। এভাবে মোটা হওয়ার চেষ্টা করলে আপনার শরীরে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে না।

রোগা থেকে মোটা হওয়ার উপায়

একদম রোগা থেকে মোটা হওয়ার জন্য সবথেকে কার্যকরী খাবার হচ্ছে ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মোটা হওয়ার জন্য দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ ক্যালরি গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু আপনি যদি একদম চিকন এবং রোগা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচ্চতা এবং ওজন অনুযায়ী আপনাকে দৈনিক ১৫০০ থেকে ২০০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে।
রোগা-থেকে-মোটা-হওয়ার-উপায়
আপনি নিচের এই খাবারগুলো থেকে ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারেন-

ক্যালোরি বাড়ানোর কিছু খাবারঃ
  • কলা, আম, খেজুর, নারকেল, আভোকাডো
  • দুধ, ছানা, ঘি, মাখন, দই
  • বাদাম, চিনাবাদাম মাখন, কাজু, কাঠবাদাম
  • মুরগির মাংস, গরুর মাংস, মাছ, ডিম
  • ভাত, আলু, রুটি, ওটস

৭ দিনে মোটা হওয়ার সহজ উপায় | ১৫ দিনে মোটা হওয়ার উপায়

আমি পূর্বে বলেছি এবং এখনো বলছি, ৭ দিনে কিংবা ১৫ দিনে সম্পূর্ণ ন্যাচারাল ভাবে মোটা হওয়া সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ আপনি যদি এই আর্টিকেল এর নিয়ম কানুন মেনে চলেন এবং সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ করেন তাহলে আপনি ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন এবং হালকা মোটা হতে পারবেন।

খাওয়ার পরেও মোটা না হওয়ার কারণ

আপনি যদি ঠিকমত খাওয়া দাওয়া গ্রহণ করেন কিন্তু আপনার শরীরের উন্নতি হয় না তাহলে বুঝতে হবে আপনার সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে আমার সর্বপ্রথম পরামর্শ হচ্ছে আপনাকে আপনার শরীর পরীক্ষা করাতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে আপনার সমস্যার কথা বলতে হবে। কারণ শরীরের ভেতরে সমস্যা থাকলে বেশি খাওয়ার পরেও শরীরে কোন উন্নতি দেখা দেয় না। এছাড়া পেটের মধ্যে কৃমি থাকলেও আপনি বেশি খেলে মোটা হতে পারবেন না।

খাবার পরেও মোটা না হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে পরিমাণ মতো না ঘুমানো এবং পরিমাণ মতো বিশ্রাম গ্রহণ না করা। শরীরের জন্য খাবার খাওয়া যেমন জরুরী ঠিক তেমনি ঘুম এবং বিশ্রাম ততটাই জরুরী। শারীরিক পরিশ্রম করলে আপনি খাওয়া দাওয়া করার পরেও শরীর মোটা করতে পারবেন না। তবে মনে রাখবেন শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর ভালো থাকে কিন্তু অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর শুকিয়ে যায়।

মেয়েদের মোটা হওয়ার ব্যায়াম

মেয়েদের মোটা হওয়ার জন্য শুধু খাওয়ার গ্রহণ করলেই হবে না বরং ব্যায়াম করতেও হবে। তবে সব ব্যায়াম করার দরকার নেই। আপনাকে মাত্র ছয়টা ব্যায়াম করলেই আপনি আপনার শরীরের বিভিন্ন জায়গাকে মোটা করতে পারবেন। যেমনঃ

হিপ ও থাই মোটা করার জন্য দুই পা কাঁধসমান রেখে দাঁড়ান, ধীরে ধীরে বসার মতো নিচে যান (পিঠ সোজা রাখুন), ১০-১৫ বার করুন (৩-৪ সেট)
কোমর ও হিপ বড় করার জন্য মেঝেতে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করুন, কোমর ও নিতম্ব উপরের দিকে তুলুন, ১৫ বার করুন (৩-৪ সেট)
থাই ও লেগ মোটা করার জন্য দুই হাতে হালকা ডাম্বেল নিন, এক পা সামনে রেখে হাঁটু ভাঁজ করুন, প্রতিটি পায়ে ১০-১২ বার করুন (৩-৪ সেট)
হাত, বুক ও পিঠের জন্য দুই হাত কাঁধসমান রেখে মেঝেতে রাখুন, ধীরে ধীরে শরীর নামিয়ে তুলুন, ১০-১২ বার করুন (৩-৪ সেট)
পুরো শরীর আকৃতি সুন্দর করার জন্য দুই কনুই মাটিতে রেখে সোজা হয়ে থাকুন, ৩০-৬০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, দিনে ২-৩ বার করুন

FAQs

১) মোটা না হওয়ার কারণ কি?
উত্তরঃ মোটা না হওয়ার কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণ না করা।

২) মোটা হওয়ার কারণ কি?
উত্তরঃ মোটা হওয়ার কারণ হচ্ছে বসে বসে খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম না করা।

৩) সকালে খালি পেটে কি খেলে শরীর মোটা হয়?
উত্তরঃ সকালে খালি পেটে একটি খেজুর এবং এক গ্লাস পানির মধ্যে মধু মিশিয়ে খেলে শরীর মোটা হয়।

৪) দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি?
উত্তরঃ দ্রুত মোটা হওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে প্রতিদিন মিল্কশেক গ্রহণ করা।

৫) কি কি খাবার খেলে তাড়াতাড়ি মোটা হওয়া যায়?
উত্তরঃ প্রতিদিন দুধ, ডিম, কলা, খেজুর, বাটার, ঘি, কিশমিশ, বাদাম খেলে তাড়াতাড়ি মোটা হওয়া যায়।

৬) এক মাসে ১ কেজি ওজন বাড়ানোর উপায়?
উত্তরঃ এক মাসে এক কেজি শরীরের ওজন বাড়াতে হলে আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে এটি করতে হবে। অর্থাৎ কোন প্রকারের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান, ফলমূল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন বাড়াতে হবে।

শেষ আলোচনা

মোটা হওয়ার উপায় খাবার তালিকা সম্পর্কে এই ছিল বিস্তারিত আলোচনা। এখানে আমি যে খাবার গুলো দিয়েছি এগুলো শুধু শরীর মোটা করার জন্য নয় বরং শরীরের সুস্থতার জন্যও বেশ উপকারী। আমি এই ব্লগ পোস্টে যে সমস্ত ইনফরমেশন গুলো দিয়েছি এগুলো যদি আপনি মেনে চলতে পারেন এবং খাবার খেতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ মোটা হতে পারবেন। মোটা হওয়ার জন্য আপনার আর অন্য কোন তথ্যের প্রয়োজন হবে না যদি আপনি এই আর্টিকেলের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url