বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ | বেশি ঘুমালে কি মোটা হয়
অতিরিক্ত ঘুম কি কোন
রোগের লক্ষণ? নাকি অন্য কোন কারণে বেশি ঘুম আসে? বর্তমান সময়ে ঘুম নিয়ে
সমস্যায় রয়েছেন প্রত্যেকেই। দেখুন ঘুম তখনই ভাল হবে যখন আপনার জীবনে মানসিক
শান্তি থাকবে। কিন্তু তারপরেও ঘুম না আসার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। আমরা আজকে
এই আর্টিকেলে সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।
তাই আপনারা যদি বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ এবং বেশি ঘুমালে কি মোটা হয় তা জানতে চান
তাহলে এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কারণ এখান থেকে
আপনারা ঘুম সম্পর্কে অনেক কিছু আজ শিখতে পারবেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ | বেশি ঘুমালে কি মোটা হয়
এই আর্টিকেল থেকে আপনি যে সমস্ত বিষয় জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন অথবা
আপনি যেখান থেকে পড়তে চান সেখানে ক্লিক করুন-
- বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ | বেশি ঘুম হওয়ার কারণ কি
- বেশি ঘুমালে কি মোটা হয়
- বেশি ঘুমালে কি হয়
- বেশি ঘুমালে কি ক্ষতি হয় | অতিরিক্ত ঘুমালে কি ক্ষতি হয়
- বেশি ঘুমানোর উপকারিতা
- অতিরিক্ত ঘুমানোর অপকারিতা
- অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির ঔষধ
- প্রেগনেন্সিতে ঘুম কম নাকি বেশি এটি কিসের লক্ষণ
- সকালে বেশি ঘুমালে কি হয়
- ঘুম না আসা কিসের লক্ষণ
- FAQs
- শেষ আলোচনা
বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ | বেশি ঘুম হওয়ার কারণ কি
ঘুম প্রত্যেকটি মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিমাণ মতো না ঘুম
হলে শরীর ভালো থাকে না। তাই আপনার শরীর ভালো রাখার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরী।
কিন্তু তাই বলে অতিরিক্ত ঘুম ভালো নয়। বেশি ঘুমের কারণ কি তা আপনারা অনেকেই
জানতে চেয়েছেন। বেশি ঘুম কেন আসে সেটি বিভিন্ন ব্যক্তির উপর আলাদা আলাদা কারণ
হতে পারে।
যেমন যে ব্যক্তির জীবনে কোন দুশ্চিন্তা নেই এবং বসে বসে আরামে দিন চলে যাচ্ছে এ
সমস্ত ব্যক্তিদের রাতে ঘুম ভালো হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আরো একটি কারণে ঘুম
বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণটি হচ্ছে হাইপারসোমনিয়া।
হাইপারসোমনিয়া এমন একটি রোগ, যারা এই রোগে ভুগে থাকে তাদের রাতের বেলায়
অতিরিক্ত ঘুম হয় এবং দিনের বেলাতেও ঘুম আসে।
আপনি যদি রাতের বেলায় ভালোভাবে ঘুমান এবং দিনের বেলা আপনার ঘুম ঘুম ভাব না হয়
তাহলে বুঝতে হবে আপনার এই রোগটি নেই। কিন্তু আপনি যদি রাতের বেলাতেও ঘুমান এবং
দিনের বেলাতেও ঘুমান তাহলে বুঝতে হবে আপনার এই রোগটি হয়েছে। তবে মনে রাখবেন এই
রোগটি চিহ্নিত করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
আরো পড়ুনঃ রাতে ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার
হাইপারসোমনিয়ার কারণঃ হাইপারসোমনিয়া মূল কারণ হচ্ছে মানসিক বিষন্নতা, মানসিক
চাপে থাকা, মদ্যপান করা এবং কোন কারনে চিন্তিত থাকা। সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে
আপনার সাথে যদি মানসিকভাবে এই সমস্ত কারণগুলো ঘটতে থাকে তাহলে আপনার
হাইপারসোমনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হাইপারসোমনিয়া হওয়ার লক্ষণঃ আপনি যখন দেখবেন রাতে আপনার ৯ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুম
হচ্ছে এবং দিনের বেলায় আবার আপনার ঘুম পাচ্ছে এবং আপনি না ঘুমিয়ে থাকতে পারছেন
না তাহলে বুঝতে হবে আপনার হাইপারসোমনিয়া হয়েছে। সাধারণত রাতের বেলায় সাত থেকে
আট ঘন্টা ঘুমালেই দিনের বেলায় আর ঘুমের প্রয়োজন হয় না।
কিন্তু আপনি রাতের বেলায় নয় থেকে দশ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও আপনার দিনের বেলায় ঘুম
আসছে এর মূল কারণ হচ্ছে হাইপারসোমনিয়া।
হাইপারসনিয়ার চিকিৎসাঃ অনেকে রয়েছেন যারা অনলাইন থেকে বুঝতে পারেন যে আপনার
হাইপারসোমনিয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বপ্রথম আপনাকে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। কারণ আপনি মনে করছেন আপনার হাইপারসোমনিয়া হয়েছে
কিন্তু বাস্তবে আপনার হাইপারসোমনিয়া নাও হতে পারে।
এজন্য সর্বপ্রথম আপনাকে একটি ভালো ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং পরামর্শ গ্রহণ
করতে হবে। বাসায় বসে একা একা ওষুধ সেবন করা যাবে না। অনেকেই রয়েছেন ঘুম কমানোর
জন্য চা-কফি সেবন করে থাকেন। কিন্তু আপনার যদি হাইপারসোমনিয়া হয় তাহলে এসব চা
কফি খেলে আপনার শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কারন আমাদের শরীর কোন
রোবট নয় আমরা রক্তমাংসের গড়া মানুষ।
যাদের ঘুম আসে না তাদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেমন ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত
নয়, ঠিক তেমনি যাদের ঘুম বেশি আসে তাদেরকেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া
উচিত নয়।
বেশি ঘুমালে কি মোটা হয়
হ্যাঁ বেশি ঘুমালে মোটা হওয়া যায় কিন্তু এটা সবার ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না কারণ
সবার শরীরের কার্যক্ষমতা একই রকম থাকে না। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন ১ ব্যক্তি বেশি
ঘুমালে মোটা হচ্ছে আবার ১ ব্যক্তি বেশি ঘুমালেও মোটা হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে
শরীরের কার্যক্ষমতা। যে ব্যক্তি বেশি ঘুমানোর ফলে শরীর মোটা হচ্ছে তার শরীরের
কার্যক্ষমতা কম অন্যদিকে যে ব্যক্তি বেশি ঘুমালেও মোটা হচ্ছে না সে ব্যক্তির
শরীরের কার্যক্ষমতা বেশি।
মোটা হওয়া মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। শরীর মোটা হয়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ
বালাই বাসা বাঁধে। তাই মোটা হওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো তবে আপনি স্বাভাবিক মোটা
হতে পারেন। সাধারণত দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার পর ঘুমালে মানুষের মোটা হওয়ার
সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আবার একজন শারীরিক কর্মক্ষম ব্যক্তি যদি দুপুরে ঘুমায় তাহলে সে মোটা হবে না কারণ
সে হঠাৎ করে দুপুরে ঘুমাচ্ছে। দুপুরে যদি রেগুলার ঘুমানো যায় তাহলে মোটা হওয়া
আসলেই সম্ভব। কিন্তু দুপুরে ঘুমানোর পর আপনি যদি শারীরিক পরিশ্রম করেন তাহলে আপনি
মোটা হবেন না। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ঘুমের সাথে মোটা হওয়ার সম্পর্ক ফিফটি
পার্সেন্ট নির্ভর করে আপনার নিজের ওপর এবং ফিফটি পার্সেন্ট নির্ভর করে আপনার
ডেইলি রুটিনের উপর।
বেশি ঘুমালে কি হয়
বেশি ঘুমালে শরীর ক্লান্ত থাকে এটা আপনাকে মানতেই হবে। প্রয়োজনের তুলনায়
অতিরিক্ত যখন ঘুমাবেন তখন দেখবেন আপনার শরীরের ঘুম আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাই আপনার যতটুকু প্রয়োজন শুধুমাত্র ততটুকু ঘুমাবেন।
বেশি ঘুমালে আপনার শরীর ভালো থাকবে না, ঠিক তেমনি কম ঘুমালেও আপনার শরীর ভালো
থাকবে না। তাই আপনার শরীরের জন্য কতটুকু ঘুম প্রয়োজন সেটি আপনি নির্ধারণ করে
নিন। এরপর সেই নির্ধারিত টাইমে আপনার ঘুম হয়ে গেলে সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে
পড়ুন। তাহলে দেখবেন বেশি ঘুমের সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পাবেন।
বেশি ঘুমালে কি ক্ষতি হয় | অতিরিক্ত ঘুমালে কি ক্ষতি হয়
বেশি ঘুমালে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে যেমন আপনার শরীর পূর্বের তুলনায় অনেক
ঝিমিয়ে যাবে, আপনি আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না,
বেশি ঘুমালে আপনি পড়াশোনায় ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারবেন না ফলে আপনার রেজাল্ট
খারাপ হবে। এছাড়া বেশি ঘুমালে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
আপনি যদি বেশি ঘুমান তাহলে আপনার খিদা কম লাগবে কারণ আমরা জানি কাজে ব্যস্ত থাকলে
খিদা বেশি লাগে। আপনি যদি বেশি ঘুমান তাহলে আপনার পানির পিপাসা কমে যাবে। তাই
নিজেকে অতিরিক্ত ঘুমানো থেকে বিরত রাখুন এবং কাজে ব্যস্ত রাখুন।
বেশি ঘুমানোর উপকারিতা
শরীর সুস্থ রাখার জন্য ঘুম প্রত্যেকটি প্রাণীর উপরেই প্রভাব বিস্তার করে। শুধু
মানুষ নয় প্রত্যেকটি প্রাণীরই নিজের শরীরের জন্য ঘুম প্রয়োজন। আমরা জানি মাছ
পানির নিচে চোখ খুলে ঘুমায়। লক্ষ্য করুন চোখ খুলে হলেও মাছ কিন্তু ঘুমায়। কারণ
ঘুম ছাড়া আপনি সুস্থ থাকবেন না।
নিজেকে সুস্থ সবল রাখার জন্য এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আপনাকে প্রতিদিন রাতে টাইম
টু টাইম ঘুমাতে হবে। আপনি কয়েকদিন না ঘুমিয়ে দেখুন আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের
অসুখ বাসা বাঁধবে কিন্তু আপনি কয়েকদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে দেখুন আপনার
শরীরের অন্যান্য আসুক গুলো দূর হয়ে যাবে।
নিজেকে একবার পরীক্ষা করে দেখুন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন বেশি ঘুমের উপকারিতা কি।
তবে বেশি ঘুম বলতে আমি অতিরিক্ত ঘুম কে বোঝাচ্ছি না। কারণ অতিরিক্ত ঘুম শরীরের
পক্ষে ভালো নয়।
অতিরিক্ত ঘুমানোর অপকারিতা
আমরা পূর্বেই জেনেছি বেশি ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমানো শরীরের
পক্ষে অপকারিতা সৃষ্টি করতে পারে। মানুষের রাতে ছয় ঘন্টা ঘুম হলেই সারাদিন মানুষ
সুস্থ সবল ভাবে থাকতে পারে, তাই ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রত্যেকটি মানুষের জন্য সবচেয়ে
পারফেক্ট। আপনি যদি ৮ ঘন্টার চেয়ে বেশি ঘুমান অর্থাৎ ১০ ঘণ্টা, ১১ ঘণ্টা বা ১২
ঘণ্টা ঘুমান তাহলে এটি হবে অতিরিক্ত ঘুম।
এই অতিরিক্ত ঘুম শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। আপনি যদি অতিরিক্ত ঘুমান তাহলে
সর্বপ্রথম আপনার শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। আপনার কোন কাজেই মন বসবে না এবং বেশি
ঘুমানোর পরেও মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে।
অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিবে তখন আপনাকে
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আপনার অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ
করে অতিরিক্ত ঘুম হলে আপনি ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন না এবং ইনকাম করতে পারবেন না
তখন আপনার পরিবারে ধার দেনা সৃষ্টি হবে।
তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে শুধু ঘুমাবেন, বেশি ঘুমানো যাবে না। আপনি যদি দেখেন
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর পরেও আপনার ঘুমের সমস্যা হচ্ছে তাহলে ডাক্তারের কাছে
যান এবং আপনি সমস্ত সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে খুলে বলুন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার
পরে আপনার যদি হাইপারসোমনিয়া রোগ হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
নিয়মকানুন মেনে চলুন এবং ওষুধ খান।
অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির ঔষধ
অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ওষুধ না বুঝে খাওয়া উচিত নয়। তাই অতিরিক্ত ঘুম
হলে অনলাইন থেকে পরামর্শ নিয়ে কখনো ওষুধ খাবেন না অথবা দোকানে গিয়ে নিজের
ইচ্ছামত ওষুধ কিনে খাবেন না। মনে রাখবেন বেশি ঘুম থেকে মুক্তির ঔষধ একটাই সেটা
হচ্ছে আপনাকে কর্মঠ ব্যক্তি হতে হবে এবং দিনের বেলা আপনার কাজগুলো সম্পন্ন করার
জন্য ব্যস্ত থাকতে হবে।
অযথা ওষুধ খেয়ে ঘুম বন্ধ করার কোন কারণ নেই। আপনার যত ধরনের কাজ রয়েছে সব কাজ
দিনের বেলা করে ফেলুন অর্থাৎ রাতের জন্য কোন কাজ ফেলে রাখবেন না কারণ রাত হচ্ছে
ঘুমানোর সময়।
আপনি যদি এভাবে প্রতিদিন মেনে চলেন তাহলে দেখবেন রাতের বেলায় আপনার ভালো ঘুম
হচ্ছে এবং দিনের বেলা আপনি কাজ করে সময় পার করে ফেলতে পারছেন। তাই অতিরিক্ত ঘুম
হলে নিজে নিজেই ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে যা
আমি ইতিমধ্যেই পূর্বে আলোচনা করেছি।
প্রেগনেন্সিতে ঘুম কম নাকি বেশি এটি কিসের লক্ষণ
মেয়েদের প্রেগনেন্সির সময় ঘুম কম হবে এটা স্বাভাবিক। তবে ঘুম যতই কম হোক না কেন
আপনাকে অবশ্যই রেস্টে থাকতে হবে এবং যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ঘুমাতে হবে। মেয়েদের
প্রেগনেন্সির সময় যেহেতু পেটের আকার বেড়ে যায় সেহেতু ঘুমের সময় সাইডে
নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়। এজন্য ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া মেয়েদের
প্রেগনেন্সির সময় যেহেতু অতিরিক্ত ঘন ঘন প্রস্রাব হয় সেহেতু এই কারণেও ঘুম কম
হতে পারে।
ঘুম যতই কম হোক আপনাকে সময় মেনটেন করে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ঘুমাতে হবে। মেইন
কথা হচ্ছে আপনাকে রেস্টে থাকতে হবে। কোন ধরনের ভারী কাজকর্ম করা যাবে না।
প্রেগনেন্সির সময় যত বাড়তে থাকবে আপনার পেটের ভেতরে বাচ্চা নড়াচড়া করবে,
বাচ্চা নড়াচড়া করার জন্য আপনার ঘুম কম হবে।
এছাড়া যেহেতু প্রেগনেন্সির সময় মেয়েদের বমি বমি ভাব হয় এবং বুকে জ্বালাপোড়া
করে সেহেতু ঘুম কম হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার যদি একবারে ঘুম কম হয় এবং
শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে বাসায় বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে
গিয়ে পেট পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসা করাতে হবে।
পরিবারের নতুন একটি সদস্য আসছে এই ভেবে হয়তো অনেক মেয়ে পারিবারিকভাবে
দুশ্চিন্তা করতে পারেন। এই কারণে অনেক মেয়ের রাতে ঘুম হয় না। তাদেরকে উদ্দেশ্য
করে বলতে চাই আল্লাহ আপনাকে আপনার পেটের ভেতরে একটি পুরস্কার দিয়েছে। এই
পুরস্কারটি গ্রহণ করুন এবং ভবিষ্যতে কিভাবে আপনার বাচ্চাকে মানুষ করবেন তা ভাবুন।
আপনি আপনার ভবিষ্যৎ গর্ভের বাচ্চাকে নিয়ে স্বপ্ন গড়ে তুলুন তাহলে দেখবেন আপনার
ঘুমের সমস্যা হবে না। অযথা পারিবারিক কথা চিন্তা করে স্ট্রেস বা উদ্বিগ্ন
বাড়াবেন না এতে করে আপনার এবং আপনার গর্ভের বাচ্চার উভয়ের ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়া প্রেগনেন্সির সময় পেট ব্যথা, পা কামড়ানো বাঁ পা নাড়াচাড়া হওয়ার
সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো খুবই নরমাল একটি বিষয়। মোট কথা হচ্ছে প্রেগনেন্সির সময়
আপনাকে নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং সম্পূর্ণ বেড রেস্ট থাকতে
হবে। ভালো ভালো পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেমন দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি।
সকালে বেশি ঘুমালে কি হয়
সকালে আপনি যতই ঘুমান আপনার ঘুম পূরণ হবে না কারণ রাতের ঘুম সকালে ঘুমিয়ে পূরণ
করা সম্ভব নয়। আপনি নিজেকে পরীক্ষা করে দেখুন- একদিন রাতে ছয় ঘন্টা ঘুমাবেন এবং
একদিন দিনের বেলা সকালে ছয় ঘন্টা ঘুমাবেন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন রাতে
ঘুমানোর কার্যকারিতা কতটুকু এবং সকালে ঘুমানোর কার্যকারিতা কতটুকু। রাতে
সঠিক সময় ঘুমালে শরীরের হরমোনের ব্যালেন্স ঠিক থাকে।
সকালে আপনি যখন ছয় ঘন্টা ঘুমাবেন তখন উঠে লক্ষ্য করবেন আপনার শরীর খারাপ করছে।
আর আপনি যদি রাতে ছয় ঘন্টা ঘুমিয়ে সকালে উঠতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার শরীর
অনেক ফ্রেশ দেখাচ্ছে। সুতরাং সকালে বেশি ঘুমাবেন না সকালে বেশি ঘুমালে শরীর
দুর্বল হয়ে যায় এবং ঘুম পূরণ হয় না। এছাড়া সকালে বেশি ঘুমালে খাবার অনিয়ম
হয় এবং পেটের ডাইজেস্ট সিস্টেমে সমস্যা করে।
ঘুম না আসা কিসের লক্ষণ
ঘুম না আসার লক্ষণ হচ্ছে ইনসমিয়া। এর বাংলা অর্থ হচ্ছে অনিদ্রা। যাদের ঘুমের
সমস্যা হয় তাদের সাধারণত এক মাস দুই মাস বা ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সুতরাং ধরন অনুযায়ী ঘুম না হওয়ার লক্ষণকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে।
যেমন কম সময়ের জন্য ঘুম না আসা যা সাধারণত কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে,
আবার যদি এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত আপনার ঘুম কম হয় তাহলে সেটিকে ধরা হয় স্বল্প
স্থায়ী ঘুমের সমস্যা এবং যদি ঘুমের সমস্যা ছয় মাস পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে
এটাকে বলা হয় দীর্ঘস্থায়ী ইনসমিয়া।
ঘুম না আসার কিছু লক্ষণঃ
আপনি যখন দেখবেন আপনার ঘুম একটু পর পর ভেঙে যাচ্ছে তখন আপনাকে বুঝতে হবে আপনার
ঘুমের সমস্যা হয়েছে। রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পরে আপনার যদি আর ঘুম আসতে না চায়
তাহলে বুঝতে হবে আপনার ঘুমের সমস্যা হয়েছে। দিনের বেলা যদি ক্লান্তি অনুভূতি হয়
তাহলে বুঝতে হবে আপনার ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।
আপনার যদি মাথা ব্যথা হয় এবং চোখের পাতার নিচে ব্যথা হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার
ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। আপনি যদি ঘুমের জন্য বিছানায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন কিন্তু
বারবার ডানে এবং বামে ঘুরেন কিন্তু আপনার ঘুম আসতে চায়না তাহলে বুঝতে হবে আপনার
ঘুমের সমস্যা হয়েছে।
ঘুম না আসার কিছু কারণঃ
ঘুম না আসার প্রধান কারণ হচ্ছে চিন্তা, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা। বর্তমান সময়ে ১৫
থেকে ৩০ বছরের ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি দেখা যাচ্ছে প্রেম ঘটিত কারণে।
বাংলাদেশের ১৫ থেকে ৩০ বছরের ১০০ জন ব্যক্তির মধ্যে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে ৮০ জন
ব্যক্তির মধ্যে এই সমস্যার কারণে তাদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া যে সমস্ত ব্যক্তিরা বিবাহিত তাদের ঘুম না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে
ধার-দেনা, ঋণ এবং টাকার সমস্যা। ঘুম না আসার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে জায়গা
পরিবর্তন করা। অর্থাৎ আপনি যে জায়গায় শুয়ে শুয়ে অভ্যস্ত হঠাৎ করে সেই জায়গা
পরিবর্তন করলে আপনার ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
আপনি যদি বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার ঘুমের সমস্যা
হবে। মোটকথা আপনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত যদি সুস্থ না থাকে তাহলে আপনার ঘুম ভালো
হবে না।
FAQs
১) অনিদ্রা অর্থ কি?
উত্তরঃ অনিদ্রা হচ্ছে একটি রোগ, যাদের অনিদ্রা রয়েছে তাদের রাতে ঘুম হয় না।
২) ঘুম না হলে ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
৩) ঘুম ভালো হওয়ার জন্য ব্যায়াম কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ শুধু ঘুম ভালো হওয়ার জন্য নয় বরং শরীরের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে এবং খুব ভালো
ঘুম হবে।
৪) রাত কয়টায় ঘুমানো উচিত?
উত্তরঃ অবশ্যই রাত বারোটার ভেতরেই ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত। তবে আমাদের মহানবী হযরত
মুহাম্মদ সাঃ এশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যেতেন।
৫) সকাল কয়টায় ঘুম থেকে ওঠা উচিত?
উত্তরঃ মুসলিম ব্যক্তিদের অবশ্যই ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়া উচিত। তবে ঘুম
থেকে ওঠার সবচেয়ে সঠিক সময় হচ্ছে সকাল ছয়টা থেকে সাতটা।
শেষ আলোচনা
আমি আশা করছি এই আর্টিকেল থেকে আপনাদের বেশি ঘুম কিসের লক্ষণ এবং ঘুম না আসা
কিসের লক্ষণ এই দুটি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করেছি একটি
ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে ঘুম সম্পর্কিত সকল বিষয় আপনাদের সঙ্গে উপস্থাপনা করার।
দেখুন ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
বর্তমান সময়ে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষই ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এর প্রধান
কারণ হচ্ছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তাতে থাকা এবং শরীরের প্রতি যত্ন না নেওয়া।
আপনি একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আগের সময়ের মানুষরা দিনে যা ইনকাম করেছে তা নিয়েই
সন্তুষ্ট থেকে গেছে এবং তা নিয়েই পরিবারের সবাই মিলে খেয়ে রাতে আরামে
ঘুমিয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে শুধু টাকা আর টাকা। টাকা থাকলে আপনি টেনশনে থাকবেন না এবং টাকা
না থাকলে আপনি টেনশনে পড়ে যাবেন। রিজিকের মালিক আল্লাহর হাতে তাই আপনি যতটুকু
ইনকাম করছেন ততটুকু নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন এবং বাইরে থেকে টাকা পয়সা ধার করা থেকে
বিরত থাকুন।
নিজের যতটুকু ইনকাম হচ্ছে ততটুকু ইনকাম দিয়ে পরিবার চালানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহ
যদি কোন সমস্যা দেয় তাহলে সেটি আল্লাহই ঠিক করে দিবে কারণ ভাগ্য আপনি বদলাতে
পারবেন না।