সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | Sociology Viva Questions
সমাজবিজ্ঞান
সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন গুলো আপনারা এই আর্টিকেলে পেয়ে যাবেন। আপনারা যখন
এনটিআরসিএ বা যেকোনো ভাইভা পরীক্ষা দিতে যাবেন তখন আপনাকে আপনার বিষয় ভিত্তিক
সাবজেক্ট থেকে ভাইভা ধরবেই। তাই আপনাকে আপনার বিষয় ভিত্তিক সাবজেক্টের বেসিক
কিছু প্রশ্ন পড়ে যেতে হবে।
আপনি যদি খুব সহজভাবে ভাইভাতে আসা বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ সমাজবিজ্ঞানের
ভাইভা প্রশ্ন গুলো এক জায়গায় পেয়ে যান তাহলে কেমন হয়? আমি আজকে আপনাদের সাথে
মোস্ট ইম্পরট্যান্ট সমাজবিজ্ঞান বেসিক প্রশ্ন গুলো, আপনাদের সামনে তুলে ধরব
যা সকলের ভাইভা প্রস্তুতিকে আরো উন্নত করবে।
সূচিপত্রঃ সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | Sociology Viva Questions
এই আর্টিকেল থেকে আপনি যা কিছু শিখতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-
Sociology Viva Questions
আপনি যদি সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী হয়ে সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা
প্রশ্নগুলো না পারেন তাহলে স্যারেরা আপনার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করবে। তাই
আপনি আর কোন প্রশ্ন পারেন আর না পারেন আপনাকে অবশ্যই আপনার ডিপার্টমেন্টের
প্রশ্নগুলো পারতে হবে।
এখন আমার প্রশ্ন হল আপনাকে আপনার ডিপার্টমেন্টের সাবজেক্টের ভাইভাতে ভালো করার
জন্য সম্পূর্ণ বই পড়তে হবে? না মোটেই সম্পূর্ণ বই পড়তে হবে না, কারণ সম্পূর্ণ
বই পড়ে আপনি কিছুই মনে রাখতে পারবেন না। তাছাড়া স্যারেরা শুধুমাত্র বেসিক থেকে
ইম্পরট্যান্ট জায়গা গুলো থেকে প্রশ্ন করে।
সেই প্রশ্নগুলোই আমি এখানে আপনাদের সংযোজন করে দিয়েছি। তাই আপনাদের আর আলাদাভাবে
সমাজবিজ্ঞান ভাইভার জন্য নোট করার প্রয়োজন নেই। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে
আপনাদের এখন আমি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে ভাইভা প্রশ্ন গুলো দিয়ে দিই।
প্রথম ৫০টি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন
সমাজবিজ্ঞান ভাইভা প্রশ্নগুলো নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হল-
১) সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তরঃ সমাজ বিজ্ঞান হচ্ছে সমাজ সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞান। অর্থাৎ যে বিজ্ঞান
সমাজের গঠন, বিবর্তন, সামাজিক গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে বলা হয় সমাজবিজ্ঞান।
২) সমাজবিজ্ঞানীদের মূল বিষয়বস্তু কি?
উত্তরঃ সমাজ বিজ্ঞানীদের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- সমাজকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানা।
৩) কোন দুইটা বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে আমরা সমাজ বলে অভিহিত করতে পারি?
উত্তরঃ বহু লোকের সঙ্গবদ্ধ বসবাস, এই সঙ্গবদ্ধের পেছনে কোন স্বার্থ বা উদ্দেশ্য
থাকে।
৪) সমাজবিজ্ঞানের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানের জনক হচ্ছে - ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ।
৫) কত সালে ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞান শব্দটি ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ ১৮৩৯ সালে ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞান শব্দটি ব্যবহার করেন।
৬) ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ এর সম্পূর্ণ নাম কি?
উত্তরঃ ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ এর সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে- ইসিডোর মেরি অগাস্ট
ফ্রাংকইস জাভিয়াল কোঁৎ।
৭) ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ কোন দেশের বিজ্ঞানী ছিলেন?
উত্তরঃ তিনি ছিলেন ফরাসি লেখক এবং সমাজবিজ্ঞানী।
৮) অগাস্ট কোঁৎকে সমাজ বিজ্ঞানের জনক বলা হয় কেন?
উত্তরঃ অগাস্ট কোঁৎ সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানসম্মত শাখা হিসেবে আলোচনা
করেছিলেন। এছাড়া বিজ্ঞানসম্মত সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় অনেক ভূমিকা পালন
করেছিলেন। এছাড়া তিনিই প্রথম Sociology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
৯) সমাজ কাকে বলে?
উত্তরঃ মানুষ দলবদ্ধ হয়ে যেখানে বসবাস করে তাকেই সমাজ বলে।
১০) সামাজিক অসমতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ সমাজের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা তে বিদ্যমান অসম অধিকার বা অসম ভোগ এগুলোকে
বলা হয় সামাজিক অসমতা।
১১) সামাজিক অসমতা নিয়ে এরিস্টটল কি বলেছেন?
উত্তরঃ সামাজিক অসমতা নিয়ে এরিস্টটল বলেছেন-
প্রাকৃতিকভাবেই কিছু মানুষ স্বাধীন এবং কিছু মানুষ দাস।
১২) মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে পরিবারে কর্তা স্ত্রী লোক এবং স্ত্রী লোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয়
নির্ধারণ হয়ে থাকে, সেই পরিবারকে বলা হয় মাতৃতান্ত্রিক পরিবার।
১৩) সমাজবিজ্ঞানের ইংরেজি কোনটি?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানের ইংরেজি হচ্ছে- Sociology।
১৪) Sociology শব্দটি কোন দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
উত্তরঃ Socius এবং Logos ল্যাটিন ও গ্রিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে Sociology
শব্দটি। Socius শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এবং Logos শব্দটি গ্রিক শব্দ।
১৫) Socius শব্দটি কোন ভাষার শব্দ এবং এই শব্দটির অর্থ কি?
উত্তরঃ Socius শব্দটি ল্যাটিন ভাষার শব্দ এবং এই শব্দটির অর্থ হচ্ছে- সমাজ।
১৬) সমাজবিজ্ঞান কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৯ সালে।
১৭) সমাজবিজ্ঞান কি বিষয়?
উত্তরঃ সমাজ বিজ্ঞান হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র বিষয়।
১৮) ক্রিয়া বাদের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ ক্রিয়া বাদের জনক বলা হয় বিখ্যাত দার্শনিক ডেকার্টকে।
১৯) দুইজন ক্রিয়াবাদী সমাজবিজ্ঞানীর নাম কি কি?
উত্তরঃ দুইজন ক্রিয়া আমাদের সমাজবিজ্ঞানীর নাম হচ্ছে- মেলিনষ্কি এবং রেডক্লিফ
ব্রাউন।
২০) ‘সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান’ এই উক্তিটি কে দিয়েছেন?
উত্তরঃ ‘সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান’ এই উক্তিটি দিয়েছেন- সমাজ
বিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম।
২১) ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞানকে কোন দুটি ভাগে বিভক্ত
করেছেন?
উত্তরঃ ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন।
যেমনঃ
Social staties এবং Social dynamics.
২২) দৃষ্টবাদ এর প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ দৃষ্টবাদ এর প্রবক্তা হচ্ছে- ওগ্যুস্ত কোঁৎ বা অগাস্ট কোঁৎ।
২৩) সমাজবিজ্ঞান বিকাশে কোন দুইটি বিপ্লব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান বিকাশে ফরাসি বিপ্লব এবং শিল্প বিপ্লব, এই দুইটি বিপ্লব
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
২৪) সামাজিক বিবর্তন তত্ত্ব কে দিয়েছেন?
উত্তরঃ সামাজিক বিবর্তন তত্ত্ব দিয়েছেন- সমাজবিজ্ঞানী হারবার্ট স্পেনসার।
২৫) দুইজন জার্মান সমাজ বিজ্ঞানীর নাম কি কি?
উত্তরঃ দুজন জার্মান সমাজ বিজ্ঞানীর নাম হচ্ছে- কাল মার্কস ও ম্যাক্স ওয়েবার।
২৬) কাল মার্কস এর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ রয়েছে সে গ্রন্থটির নাম কি?
উত্তরঃ কাল মার্কস এর বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হচ্ছে- Das Capital।
২৭) কাল মার্কস এর দুইটা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কি কি?
উত্তরঃ কাল মার্কসের দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হচ্ছে- দাস ক্যাপিটাল এবং
কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো।
২৮) দাস ক্যাপিটালে কোন দুইটা শ্রেণীর নাম বলা রয়েছে?
উত্তরঃ বুর্জোয়া ও প্রোলেতারিয়াত
২৯) বুর্জোয়া ও প্রোলেতারিয়াত শ্রেণীদের দ্বন্দ্ব কি ছিল?
উত্তরঃ বুর্জোয়া শ্রেণীর লোকেরা বেশি মুনাফা চাইত কিন্তু প্রোলেতারিয়াত শ্রেণীর
লোকেরা শ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক পেতনা। এটা নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।
৩০) সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার প্রথম পর্যায়ে কোনটি?
উত্তরঃ সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার প্রথম পর্যায়ে হচ্ছে- সমস্যা নির্বাচন করা।
৩১) শিল্প সমাজ কাকে বলে?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময়কে শিল্প সমাজ বলা হয়।
৩২) শিল্প সমাজের আবির্ভাব ঘটে কিভাবে?
উত্তরঃ ১৮ শতকে শিল্প বিপ্লব ফরাসি বিপ্লব সংগঠনের মাধ্যমে কৃষি ভিত্তিক সমাজের
আবির্ভাব এর ফলেই শিল্প সমাজের আবির্ভাব ঘটে।
৩৩) সংস্কৃতি কাকে বলে?
উত্তরঃ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জিত আচার-আচরণ, রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ
ইত্যাদির সমষ্টিকে বলা হয় সংস্কৃতি।
৩৪) সংস্কৃতের জনক কে?
উত্তরঃ সংস্কৃতির জনক হচ্ছে- ই বি টেইলর।
৩৫) সংস্কৃতির জন্ম কোথায়?
উত্তরঃ সংস্কৃতের জন্ম গ্রামে।
৩৬) সংস্কৃতিকে বাংলায় কি বলা হয়?
উত্তরঃ সংস্কৃতিকে বাংলায় বলা হয় কৃষ্টি।
৩৭) বাংলায় সংস্কৃত শব্দটি কে চালু করেছিলেন?
উত্তরঃ বাংলায় সংস্কৃত শব্দটি চালু করেছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩৮) সংস্কৃতির আগ্রাসন বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ এক দেশের সংস্কৃতি দ্বারা অন্য দেশের সংস্কৃতিকে গ্রাস করার যে প্রক্রিয়া
তাকে বলা হয় সংস্কৃতির আগ্রাসন।
৩৯) হাইব্রিড সংস্কৃতি কি?
উত্তরঃ হঠাৎ করে কোনো সংস্কৃতি যদি আবির্ভাব হয় এবং মূল সংস্কৃতির ওপরে ব্যাপক
প্রভাব বিস্তার করে তখন তাকে বলা হয় হাইব্রিড সংস্কৃতি।
৪০) সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বটির প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বটির প্রবক্তা হচ্ছে- সমাজ বিজ্ঞানী অগবার্ন এবং
নিমকফ।
৪১) সংস্কৃতির উপাদান সমূহ কি কি?
উত্তরঃ সংস্কৃতির উপাদান সমূহ হচ্ছে-
ভাষা, কথা বিহীন যোগাযোগ, আদর্শ ও শ্রেয়বোধ, নৈতিক অনুমোদন এবং মূল্যবোধ।
৪২) সভ্যতা কাকে বলে?
উত্তরঃ সভ্যতা (Civilization) হলো একটি উচ্চতর সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং
অর্থনৈতিক স্তরের উন্নতি, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা সংগঠিত, উন্নত এবং সমৃদ্ধ
হয়। সভ্যতা সাধারণত একটি সমাজের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও প্রগতির ফলে গড়ে ওঠে, যা
তাদের সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, শিক্ষা, আইন এবং সামাজিক
প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
৪৩) কালচার শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেছেন?
উত্তরঃ কালচার শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছেন ফ্রান্সিস বেকন।
৪৪) সিভিক কালচার কি?
উত্তরঃ সিভিক কালচার বলতে এমন এক ধরনের কৃষ্টির অস্তিত্বকে বোঝায় যেখানে একটি
বিশেষ নিয়মে ও মাত্রায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক কৃষ্টির সাথে সংকীর্ণতমুখী ও
নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক কৃষ্টির সমন্বয় ঘটে।
৪৫) ফ্রান্সিস বেকন কত শতকে কালচার শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তরঃ ফ্রান্সিস বেকন ১৬ শতকের শেষার্ধে কালচার শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
৪৬) আদর্শ বা Norms কি?
উত্তরঃ আদর্শ বা Norms হচ্ছে- গোষ্ঠীর বা সমাজের আচরণের মানদন্ড।
৪৭) মর্যাদা কাকে বলে?
উত্তরঃ সমাজের সদস্যদের দ্বারা সমষ্টিগত ভাবে সমর্থিত একটি মাপকাঠি, যার সাহায্যে
সমাজের সদস্যরা নিজেদের আবেগ আচার ব্যবহারের যোগ্যতার মূল্যায়ন করে তাকে সামাজিক
দৃষ্টিতে মর্যাদা বলা হয়।
৪৮) লোকাচার বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ প্রচলিত আচার-আচরণ কে বলা হয় লোকাচার।
৪৯) সামাজিক মূল্যবোধ কাকে বলে?
উত্তরঃ সমাজ রাষ্ট্র ব্যক্তি বর্গের সত্য-মিথ্যা, অন্যায়, উচিত-অনুচিত
কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ধারণার আদর্শ রূপ হচ্ছে সামাজিক
মূল্যবোধ।
৫০) পাল্টা সংস্কৃতি কাকে বলে?
উত্তরঃ সংস্কৃতি যখন সংস্কৃতির বিরোধিতা করে, প্রধান মূল্যবোধ এর নীতিমালা কে
বাতিল করে, বিপরীত মূল্যবোধ ও জীবনাচরণ কে গ্রহণ করে তখন তাকে পাল্টা সংস্কৃতি
বলা হয়।
দ্বিতীয় ৫০টি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন
১) সংস্কৃতির ভিন্নতা কি?
উত্তরঃ স্থান-কাল এবং জাতি ভেদে মানুষের জীবনযাত্রার ভিন্নতা হচ্ছে সংস্কৃতির
ভিন্নতা।
২) বস্তুগত সংস্কৃতি কাকে বলে?
উত্তরঃ মানুষের অর্জিত কিংবা তৈরিকৃত দ্রব্যের সমষ্টিকে বলা হয় বস্তুগত
সংস্কৃতি।
৩) সামাজিক ইতিহাস কাকে বলে?
উত্তরঃ সামাজিক ইতিহাস হচ্ছে সমাজের মানুষের আর্থ সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক
কার্যকলাপ, পরিবর্তনশীল সমাজ কাঠামো এবং বিশ্বাস ও মূল্যবোধের যুক্তি-প্রমাণ
নির্ভর ভিত্তিক অধ্যায়ন।
৪) Political Economy এই বইটি কার লেখা?
উত্তরঃ Political Economy এই বইটি লিখেছেন- কার্ল মার্কস।
৫) প্রস্তর যুগ কি?
উত্তরঃ সমাজ বিবর্তনের যে যুগে মানুষ পাথরের হাতিয়ার এর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতো,
সেই যুগকে বলা হয় প্রস্তর যুগ।
৬) কখন তামা আবিষ্কার হয়েছিল?
উত্তরঃ তামা আবিষ্কার হয়েছিল নব্য প্রস্তর যুগের শেষের দিকে।
৭) কৃষি কাজের আবিষ্কারক কারা?
উত্তরঃ কৃষি কাজের আবিষ্কারক হচ্ছে নারীরা।
৮) Civitas শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ Civitas শব্দের অর্থ হচ্ছে- নগর বা নাগরিক।
৯) ভারতীয় উপমহাদেশের দুইটি প্রাচীন সভ্যতার নাম কি কি?
উত্তরঃ ভারতে উপমহাদেশের দুইটি প্রাচীন সভ্যতার নাম হচ্ছে- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।
১০) মিশরীয়দের প্রধান ভাষার নাম কি?
উত্তরঃ মিশরীয়দের প্রধান ভাষার নাম হচ্ছে- আরবি ভাষা।
১১) মিশরীয় আরবি ভাষার লিখন পদ্ধতি কোনটি?
উত্তরঃ মিশরীয় আরবি ভাষার লিখন পদ্ধতি হচ্ছে- হায়ারোগ্লিফিক।
১২) মিশরে এখন পর্যন্ত কতটি পিরামিড টিকে রয়েছে?
উত্তরঃ মিশরে এখন পর্যন্ত ৭০ টি পিরামিড টিকে রয়েছে।
১৩) পিরামিড শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ গ্রিক ভাষায় পিরামিড শব্দের অর্থ হলো খুব উচ্চ।
১৪) ব্যাবিলন শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ ব্যাবিলন শব্দের অর্থ হচ্ছে দেবতার নগর।
১৫) ব্যাবলিনীয়দের প্রধান দেবতার নাম কি ছিল?
উত্তরঃ ব্যাবলিনীয়দের প্রধান দেবতার নাম ছিল- মারডক।
১৬) চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক কে?
উত্তরঃ চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক হচ্ছে- কনফুসিয়াস।
১৭) হোমার কে ছিলেন?
উত্তরঃ হোমার ছিলেন গ্রিক মহাকবি ও সাহিত্যিক।
১৮) এপিটাফ কি?
উত্তরঃ এপিটাপ হচ্ছে- জীবনধারার সাক্ষী, সমাজ চিত্রের দর্শন।
১৯) Manorial System বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ Manorial System হচ্ছে- শান্তযুগের কৃষিভিত্তিক সমাজের একটি অর্থনৈতিক
সংগঠন।
২০) রেনেসাঁ কি?
উত্তরঃ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতে যে পুনর্জাগরণ শুরু হয়,
তাকেই ইতিহাসের রেনেসাঁ বলা হয়।
২১) রেনেসাঁ শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ রেনেসাঁ শব্দের অর্থ হচ্ছে পুনর্জাগরণ।
২২) পুঁজিবাদ কি বা কাকে বলে?
উত্তরঃ পুঁজিবাদ হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যক্তিগত
মালিকানার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
২৩) রুশো কে?
উত্তরঃ রুশো হচ্ছে ফরাসি বিপ্লবের জনক বা নায়ক।
২৪) ফরাসি বিপ্লবের জনক কে?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের জনক হচ্ছে রুশো।
২৫) রুশোর সম্পূর্ণ নাম কি?
উত্তরঃ রুশোর সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে- জাঁ জ্যাকুয়েশ রুশো (Jean-Jacques Rousseau)।
২৬) রুশোর দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কি কি?
উত্তরঃ রুশোর দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হচ্ছে-
- Du Contrat Social
- Less Confessions
২৭) Less Confessions গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ Less Confessions গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে।
২৮) নৃ-বিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বিজ্ঞান মানুষের দৈহিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে তাকে
বলা হয় নৃ-বিজ্ঞান।
২৯) নৃ-বিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তরঃ নৃ-বিজ্ঞানের জনক হচ্ছে- ই বি টেইলর।
৩০) আধুনিক নৃ-বিজ্ঞানের জনক বলা হয় কাকে?
উত্তরঃ আধুনিক নৃ-বিজ্ঞানের জনক হচ্ছে- এল এইচ মর্গান।
৩১) নৃ-বিজ্ঞান শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ নৃ-বিজ্ঞান শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন- জার্মান দার্শনিক ইম্যানুয়েল
কান্ট।
৩২) সমাজবিজ্ঞান এবং নৃ-বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান এবং নৃ-বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে-
- দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য
- প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে পার্থক্য
- ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পার্থক্য
- প্রয়োগিক পার্থক্য।
৩৩) সম্পত্তি কাকে বলে?
উত্তরঃ কোন কিছুর মালিকানার অধিকার কে বলা হয় সম্পত্তি।
৩৪) কারা সর্বপ্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করেছিল?
উত্তরঃ রাজা হাম্বুরাবি সর্বপ্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করেছিল।
৩৫) রাজা হাম্বুরাবি কোন সভ্যতায় সর্বপ্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করেছিল?
উত্তরঃ রাজা হাম্বুরাবি ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় সর্বপ্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন
করেছিল।
৩৬) ‘আমিই রাষ্ট্র’ এটি কার উক্তি?
উত্তরঃ ‘আমিই রাষ্ট্র’ এই উক্তিটি করেছেন ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই।
৩৭) ফ্রান্সের বংশানুক্রমিক অভিজাতরা কি নামে পরিচিত ছিল?
উত্তরঃ ফ্রান্সের বংশানুক্রমিক অভিজাতরা পরিচিত ছিল নবিলিটি অব দ্যা সোড নামে।
৩৮) ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা কে ছিলেন?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
৩৯) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা হচ্ছে- মন্টেস্কু।
৪০) প্রাক বিপ্লবকালের ফ্রান্সকে রাজনৈতিক কারাগার বলে অভিহিত করেছেন কে?
উত্তরঃ প্রাক বিপ্লবকালের ফ্রান্সকে রাজনৈতিক কারাগার বলে অভিহিত করেছেন-
দার্শনিক ভলতেয়ার।
৪১) ভলতেয়ারের লেখা দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কি কি?
উত্তরঃ ভলতেয়ারের লেখা দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হচ্ছে-
- কাদিদ
- ফিলোসফিক্যাল ডিকশনারি
৪২) ফরাসি বিপ্লবের তিনটি নীতি কি কি?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের তিনটি নীতি ছিল- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা।
৪৩) সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরি কি?
উত্তরঃ রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় বিধির বিকাশ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে
সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিউরি।
৪৪) সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির মূল বক্তব্য কি?
উত্তরঃ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির মূল বক্তব্য হচ্ছে- রাজনৈতিক সমাজ বা রাষ্ট্রের
উদ্ভব হয়েছে সামাজিক চুক্তির ফলস্বরূপ।
৪৫) সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির উদাহরণ কি?
উত্তরঃ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির উদাহরণ হচ্ছে- একটি পুরুষ এবং একটি নারীর মধ্যে
বৈধ চুক্তির মাধ্যমে একটি পরিবার গড়ে ওঠে এবং এই পরিবার গুলোই সমাজ তৈরি করে।
৪৬) সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট তত্ত্বের প্রবক্তা কয়জন?
উত্তরঃ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট তত্ত্বের প্রবক্তা তিনজন। যেমনঃ
- টমাস হবস
- জন লক
- জাঁ জ্যাকুয়েশ রুশো
৪৭) আপনি সমাজবিজ্ঞানের কি কি বই পড়েছেন?
উত্তরঃ আপনি যে সমস্ত সমাজবিজ্ঞানের বইগুলো পড়েছেন সেগুলোর নাম গুলো বলবেন।
অবশ্যই লেখকের নাম সহ বলবেন।
৪৮) শিল্প বিপ্লব কত সালে শুরু হয়?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৬০ সালে।
৪৯) শিল্প বিপ্লব কত সালে শেষ হয়?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব শেষ হয়েছিল ১৮৪০ সালে।
৫০) শিল্প বিপ্লব কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত চলেছিল?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত মোট ৮০ বছর চলেছিল।
তৃতীয় ৫০টি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন
১) ফরাসি বিপ্লব কত সালে সংঘটিত হয়?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৭৮৯ সালে।
২) সাম্যবাদের জনক কে?
উত্তরঃ সাম্যবাদের জনক হচ্ছে কাল মার্কস।
৩) সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্র একই জিনিস। সমাজতন্ত্রের উঁচু ও সেরা রূপের নাম
হচ্ছে সাম্যবাদ। এখানে কোন ব্যক্তি মালিকানার নিয়ম নেই এবং রাষ্ট্র বলে কিছু
থাকেনা। প্রলেতেরিয়াত শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধিরা সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন করে।
সাম্যবাদ বা সমাজতন্ত্রে যে যতটুকু শ্রম দেবে সে ততটুকুই মুনাফা অর্জন করবে।
অন্যদিকে পুঁজিবাদ মানে নিয়ন্ত্রণহীন ভোগ। যার সবকিছুতে রয়েছে শুধু মুনাফা
অর্জন করা। অর্থাৎ এখানে যতটুকু শ্রম দেওয়া হয় ততটুকু পারিশ্রমিক দেওয়া হয়
না।
৪) সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র এবং গণতন্ত্র এই শব্দগুলির ব্যাখ্যা কি কি?
উত্তরঃ সমাজতন্ত্রঃ সমাজতন্ত্র একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতবাদ যা
সমাজের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে বিভক্ত করার ধারণাকে সমর্থন
করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের মধ্যে বৈষম্য দূর করা এবং সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
আরও ন্যায্য করা। সমাজতন্ত্রে রাষ্ট্র বা জনগণ সাধারণত উৎপাদন উপকরণগুলোর ওপর
নিয়ন্ত্রণ রাখে, যেমন ভূমি, কল-কারখানা, খনি ইত্যাদি, এবং এইসব উপকরণের লাভ
জনগণের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করার চেষ্টা করা হয়।
সমাজতন্ত্রের মূলে রয়েছে সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং মানুষের মৌলিক অধিকার
রক্ষা করা। তবে, সমাজতন্ত্রের বিভিন্ন শাখা ও রূপ রয়েছে, যেমন মার্কসবাদী
সমাজতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্র, ইত্যাদি, যেগুলোর লক্ষ্য ও পন্থা কিছুটা
আলাদা হতে পারে।
একনায়কতন্ত্রঃ একনায়কতন্ত্র (Autocracy) হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার
ধরণ যেখানে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
এই শাসক বা একনায়ক সাধারণত নিজের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন এবং তার
বিরুদ্ধে কোন আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা থাকে না। একনায়কতন্ত্রে গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়া বা জনগণের মতামত কোনো ভূমিকা রাখে না।
একনায়কতন্ত্রে শাসক সাধারণত নিজেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ক্ষমতা দখলে রাখতে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন বা চিরস্থায়ী শাসন
ব্যবস্থা প্রয়োগ করেন। একনায়কতন্ত্রে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক বিরোধী দল এবং নাগরিক
অধিকার প্রায়ই সীমিত বা বন্ধ থাকে।
এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা ইতিহাসে যেমন কিছু রাজতন্ত্র বা আধুনিক কিছু স্বৈরশাসক
শাসনব্যবস্থায় দেখা গেছে, তেমনি এটি অনেক সময় "স্বৈরাচার" বা "স্বৈরশাসন" নামেও
পরিচিত।
গণতন্ত্রঃ গণতন্ত্র (Democracy) হলো একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধরণ, যেখানে
জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ভোগ করে। গণতন্ত্রের মূল ধারণা
হলো, জনগণই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্র
পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় জনগণ নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, নির্বাচন
মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করতে পারে এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা সমালোচনা করতে
পারে।
৫) সমাজতন্ত্রের ভালো দিনগুলো কি কি?
উত্তরঃ সমাজতন্ত্রের ভালো দিনগুলো হচ্ছে-
*এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পদ ও মুনাফা অর্জুন নিষিদ্ধ। সম্পদ ও
উৎপাদনের উপকরণের উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে সম্পদের সুষম বন্টন
নিশ্চিত হবে। যার ফলে সমাজে শ্রেণী বৈষম্য ও শ্রেণী শোষণ বিলুপ্ত হবে।
*এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দেশের উৎপাদন বন্টন ব্যবস্থা দেশ বা সমাজের কল্যাণের
দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়। অর্থাৎ সামাজিক কল্যাণ সাধন করাই সমাজতন্ত্রের মূল
উদ্দেশ্য।
*সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শ্রমিকদের শোষণের কোন সুযোগ থাকে না। যার ফলে প্রত্যেক
শ্রমিক সমান সুবিধা ভোগ করে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হয়।
*সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে মানুষের সকল মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা যেমনঃ
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির নিশ্চয়তা বিধান করা হয়।
*সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি
সকল খাতে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে উন্নয়ন করা হয়।
*এই উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিকল্পিত উপায়ে উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
যার কারণে অতি উৎপাদন বা কম উৎপাদন জনিত সংকট দেখা দেয় না।
৬) পুঁজিবাদের চেয়ে সমাজতন্ত্র কেন ভালো?
উত্তরঃ পুঁজিবাদ মজ্জাগতভাবে অসাধু। শ্রেণী শোষণ ছাড়া পুঁজিবাদ সমাজে বাঁচা যায়
না। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক সমাজে গরিব দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সূচক, ধন
তান্ত্রিক গরিব দেশগুলার থেকে ভালো।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশসমূহে যাদের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভালো তাদের
স্বাস্থ্য পরিষেবা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো এবং এদের গড় আয়ু বেশি। এছাড়া
এদের সাক্ষরতার হার অনেক বেশি, উচ্চ শিক্ষার হার অনেক বেশি।
৭) সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ তন্ত্রের উদাহরণ কি কি?
উত্তরঃ
# সমাজতন্ত্রের উদাহরণ:
সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পদের সমান বণ্টন এবং রাষ্ট্র বা জনগণের মাধ্যমে
উৎপাদন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ। এটি সাধারণত জনগণের বা রাষ্ট্রের মালিকানাধীন
উৎপাদন উপকরণের মাধ্যমে কাজ করে। সমাজতন্ত্রের বাস্তব উদাহরণ:
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (Soviet Union): ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর কমিউনিস্ট
পার্টি সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন করে, যেখানে রাষ্ট্রের মাধ্যমে সমস্ত উৎপাদন উপকরণ
(যেমন, শিল্প, কৃষি, খনি) পরিচালিত হত। এখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তুলনায় সম্পদের
বণ্টন ও শ্রমিকদের অধিকার বেশি গুরুত্ব পেত।
চীন (চীনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা): চীনও ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও পরে চীনে কিছু অর্থনৈতিক
সংস্কার ও বাজার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি পায়, তবুও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে একাধিক
প্রতিষ্ঠান এখনও পরিচালিত হয়।
কিউবা: ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
এখানে রাষ্ট্রের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত
পরিচালিত হয়। কিউবা একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
# পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উদাহরণ:
পুঁজিবাদ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং
মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়। পুঁজিবাদী
ব্যবস্থার কিছু উদাহরণ:
যুক্তরাষ্ট্র (USA): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পুঁজিবাদী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে
অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতি বেসরকারি মালিকানাধীন। বাজারের স্বাধীন
প্রতিযোগিতা ও মুনাফা সর্বাধিক করার চেষ্টা এখানে মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাজ্য (UK): যুক্তরাজ্যও একটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পসমূহ বেসরকারি মালিকানাধীন এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা
তুলনামূলকভাবে সীমিত।
জার্মানি (Germany): জার্মানিও একটি উন্নত পুঁজিবাদী দেশ, যেখানে শিল্প, বাণিজ্য
ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রগুলো বেসরকারি মালিকানাধীন, কিন্তু সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ
খাতের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
৮) বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের পঠন ও পাঠন শুরু হয় কত সালে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের পঠন ও পাঠন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
৯) সমাজবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে কত সালে?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৮৯০ সালে।
১০) সমাজবিজ্ঞানকে কেন বিজ্ঞান বলা হয়?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার কারণ হচ্ছে- সমাজবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক
পদ্ধতি অনুসরণ করে তার গবেষণা কাজ পরিচালনা করে। যেহেতু সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞানসম্মত
উপায়ে সবকিছু বিশ্লেষণ করে সেজন্য একে বিজ্ঞান বলা হয়।
১১) সমাজবিজ্ঞান কি কি বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান যে সমস্ত বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তা নিম্নরূপ নিচে
দেওয়া হল-
- গবেষণার বিষয় নির্বাচন করে
- নির্বাচিত বিষয়ের উপর তথ্য সংগ্রহ করে
- তথ্যগুলোকে যুক্তিসংগত শ্রেণীবিভাগ করে
- সবশেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১২) সমাজকল্যাণ কাকে বলে?
উত্তরঃ সমাজ কল্যাণ এমন কিছু সামাজিক প্রচেষ্টা, ব্যবস্থা,পদ্ধতি বা সংগঠিত
কার্যাবলীর সমষ্টি যার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ বিধান হয়।
অথবা সমাজ বা জন সমষ্টির সার্বিক মঙ্গল সাধন করাই হলো সমাজ কল্যাণ।
১৩) সমাজবিজ্ঞান এবং সমাজকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য কি কি?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান এবং সমাজকল্যাণের মধ্যে পার্থক্যগুলো হচ্ছে-
- আলোচনার ভিন্নতা
- পরিধিগত ভিন্নতা
- লক্ষ্যগত ভিন্নতা
- কার্যকারিতার ভিন্নতা
১৪) Law of the three stages এর প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ Law of the three stages এর প্রবক্তা হচ্ছে- অগাস্ট কোঁৎ।
১৫) ‘অন্যের জন্য বাঁচো’ এই উক্তিটি কার বিখ্যাত উক্তি?
উত্তরঃ ‘অন্যের জন্য বাঁচো’ এই এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন অগাস্ট কোঁৎ।
১৬) সামাজিক বিবর্তনের প্রধান প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ সামাজিক বিবর্তনের প্রধান প্রবক্তা হচ্ছে- হারবার্ট স্পেন্সার।
১৭) কয়েকজন সমাজ দার্শনিকের নাম কি কি?
উত্তরঃ কয়েকজন সমাজ দার্শনিকের নাম হচ্ছে-
- অগাস্ট কোঁৎ
- হারবার্ট স্পেন্সার
- কাল মার্ক্স
- ম্যাক্স ওয়েবার
১৮) পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা কিসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল?
উত্তরঃ পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা দাস প্রথার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
১৯) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কাকে বলে?
উত্তরঃ সকল ধর্ম-বর্ণ ও জাতি একত্রে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন এবং
শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলে।
২০) সামাজিক প্রতিষ্ঠান কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং এর কার্যক্রম পরিচালিত
হয় তাকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলে।
২১) সুশীল সমাজ কাকে বলে?
উত্তরঃ তাদেরকে সুশীল সমাজ বলা হয় যারা রাষ্ট্র এবং জনসমষ্টির মধ্যে স্থানে
অবস্থান করে এবং সমাজকে বা জনসমষ্টিকে রাষ্ট্রের দুঃশাসন থেকে রক্ষা করে।
২২) যাযাবার মতবাদ কি?
উত্তরঃ মানুষের আদিম জনগোষ্ঠী ছিল যাযবার। পর্যায়ক্রমিকভাবে যাযাবর শ্রেণীর
রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করে। তারা নিজেদের প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে
পাড়ি জমায়। সময়ের প্রয়োজনে যাযাবর শ্রেণীরাই স্থায়ী সমাজ সৃষ্টি করেছিল। এটাই
হচ্ছে যাযাবার মতবাদ।
২৩) যাযাবর মতবাদের প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ যাযাবার মতবাদের প্রবক্তা হচ্ছে- জার্মান পন্ডিত ওপেন হেইমার।
২৪) সুশাসন কাকে বলে?
উত্তরঃ শাসন ব্যবস্থায় সরকার এবং জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কই হচ্ছে
সুশাসন।
২৫) সুশাসনের বৈশিষ্ট্য কি কি?
উত্তরঃ সুশাসনের বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে-
- গণতন্ত্র
- সরকারের স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
- স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি
২৬) ফ্যাসিবাদের জনক কে?
উত্তরঃ ফ্যাসিবাদের জনক হচ্ছে মুসোলিনি।
২৭) নাৎসিবাদের জনক কে?
উত্তরঃ নাৎসিবাদের জনক হচ্ছে- হিটলার।
২৮) সামাজিক সমস্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ সামাজিক সমস্যা হলো জনগণের মধ্যে বিদ্যমান এমন এক ধরনের অবস্থা, যা কিছু
লোকের আদর্শ, বা মূল্যবোধের অবক্ষয় অথবা আর্থিক ক্ষতির কারণ রূপে দেখা দেয়।
২৯) বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক সমস্যা গুলো কি কি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের সামাজিক সমস্যাগুলো হচ্ছে-
- নারী নির্যাতন
- এসিড নিক্ষেপ
- বাল্য বিবাহ
- নারী পাচার
- যৌতুক প্রথা ইত্যাদি
৩০) সামাজিক সমস্যা কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তরঃ সামাজিক সমস্যা তৈরি হয় সমাজের বিদ্যমান আইন, সংস্কৃতি, ধর্ম, পরিবার
ইত্যাদি থেকে।
৩১) বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা গুলো কি কি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা গুলো হচ্ছে-
- দারিদ্র
- বেকারত্ব
- অধিক জনসংখ্যা
- ভিক্ষাবৃত্তি
- কিশোর অপরাধ ইত্যাদি
৩২) নগর পরিকল্পনা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সকল পরিকল্পনা দ্বারা কোন শহর বা নগর পরিকল্পিত উপায়ে গড়ে ওঠে তাকে
নগর পরিকল্পনা বলা হয়।
৩৩) সামাজিক ব্যাধি কাকে বলে?
উত্তরঃ প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান মানুষের রীতিনীতি, আচার-আচরণ, পরিবেশ,
ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি উপাদান গুলোর মধ্যে যখন বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগের সৃষ্টি হয়,
এবং তা ব্যাপকভাবে ব্যক্তি জীবন থেকে সমাজ ব্যবস্থার উপর ছড়িয়ে পড়ে তাকে
সামাজিক ব্যাধি বলে।
৩৪) সামাজিক বিবর্তন কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন সমাজের কোন বিষয় লোপ পায় আবার সাথে সাথে অন্য কোন বিষয়ের বিকাশ ঘটে
এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় সামাজিক বিবর্তন।
৩৫) সামাজিক বিবর্তনের জনক কে?
উত্তরঃ সামাজিক বিবর্তনের জনক হচ্ছে হারবার্ট স্পেন্সার।
৩৬) পরিবার কাকে বলে?
উত্তরঃ পরিবার হচ্ছে এমন একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত একক যেখানে প্রত্যেক সদস্যরা
রক্তের বন্ধন, বৈবাহিক ও আইনানক সম্পর্কের মধ্যে ভূমিকা পালন করে।
৩৭) যৌথ পরিবার বিলুপ্তির কারণ কি কি?
উত্তরঃ যৌথ পরিবার বিলুপ্তির কারণগুলো হচ্ছে-
- শিক্ষার প্রসার
- নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
- পশ্চিমা সংস্কৃতি আগ্রাসন
- কলহ বিবাদ ও ঝগড়াঝাঁটি
- স্থান সংকুলানের অভাব
৩৮) সামাজিকীকরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে সামাজিক পরিবেশের সাথে খারাপ খাইয়ে
টিকে থাকার প্রয়োজনে অনেক কিছু শিখতে হয়। এ শিক্ষণ প্রক্রিয়া জন্মের পর থেকে
শুরু হয় এবং তার জীবনব্যাপী চলতে থাকে। জীবনব্যাপী চলতে থাকা এই শিক্ষণ
প্রক্রিয়াকেই সামাজিকীকরণ বলা হয়।
৩৯) নৈতিক চেতনা কি?
উত্তরঃ নৈতিক চেতনা এমন এক বিশেষ ধরনের মানসিক ক্রিয়া যা আমাদেরকে আমাদের ইচ্ছা
প্রসুত কার্যাবলী ন্যায়-অন্যায় বা উচিত অনুচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করে
তোলে।
৪০) সামাজিক স্তরবিন্যাস কাকে বলে?
উত্তরঃ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ পদমর্যাদার নিরিখে সমাজের মানুষকে স্তরে
স্তরে বিন্যাস করা হয়, তাকেই সামাজিক স্তরবিন্যাস বলা হয়।
৪১) Pool Factors কি?
উত্তরঃ শহরের সুযোগ-সুবিধা বৈচিত্র ও চাকচিক্য ইত্যাদি যখন গ্রামের মানুষকে
আকর্ষণ করে, তখন তারা গ্রাম থেকে শহরের দিকে ধাবিত হয়, তখন তাকে বলা হয় Pool
Factors।
৪২) Push Factors কি?
উত্তরঃ গ্রামীণ দারিদ্র, কাজের অভাব বা অন্যান্য আর্থিক ও সামাজিক সংকট গ্রামীণ
জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে শহরের দিকে ধাবিত করছে, এটাকে বলা হয় Push
Factors।
৪৩) জেন্ডার কাকে বলে?
উত্তরঃ একজন নারী পুরুষ অথবা ছেলে-মেয়ে কি করবে এবং কি করতে পারবে না সমাজ
কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়াই সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় জেন্ডার।
৪৪) জেন্ডার সমতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সম্পদের অধিকার ও সুযোগ সুবিধার সম
বন্টন কে বলা হয় জেন্ডার সমতা।
৪৫) শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি কি?
উত্তরঃ শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি বলতে বোঝায়- যখন জন্ম ও বহিরাগতদের সমষ্টি এবং
মৃত্যু ও বহির্গমনের সমষ্টি সমান হয়।
৪৬) বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত পারসেন্ট?
উত্তরঃ বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%।
৪৭) দারিদ্র রেখা কি?
উত্তরঃ জীবনধারণের জন্য দৈনিক নূন্যতম যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা প্রয়োজন,
এটিকে যে রেখার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে দারিদ্র লেখা বলে।
৫০) সংখ্যালঘু কারা?
উত্তরঃ কোন দেশের বা সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম সংখ্যক জনগোষ্ঠী তাদের
পৃথক ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা বিরাজমান, তাদের সংখ্যালঘু বলে।
চতুর্থ ৪০টি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন
১) লাইফস্টাইল ডিজিজ কি?
উত্তরঃ মানুষ তার কাজকর্মের ত্রুটির কারণে যেসব রোগে আক্রান্ত হয় সে জীবনাচরণকে
লাইফস্টাইল ডিজিস বলে।
২) প্রাগৈতিহাসিক যুগ কি?
উত্তরঃ মানব ইতিহাসের যে অংশের কোন লিখিত বিবরণ নেই বা পাওয়া যায় না তাকে
প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলে।
৩) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কারা?
উত্তরঃ সাধারণত যে সংগঠন বা গোষ্ঠীর সদস্যরা একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে আবদ্ধ এবং
যারা নীতি নির্ধারণের বিষয়টিকে প্রভাবিত করে নিজেদের অনুকূলে আনতে উদ্যোগী হয়,
মূলত তারাই চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।
৪) সামাজিক গোষ্ঠী কি?
উত্তরঃ সামাজিক গোষ্ঠী বলতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সমষ্টিকে বোঝায় যারা একটি
স্বীকৃত সংগঠনের মাধ্যমে পরস্পরের ওপর কাজ করে।
৫) এথনিসিটি কি?
উত্তরঃ এথনিসিটি বলতে এমন একটি জনগোষ্ঠী বা সামাজিক গোষ্ঠীকে বোঝায় যাদের নিজস্ব
ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে এবং অন্য জাতি থেকে ভিন্নতর।
৬) বর্ণবাদ কি?
উত্তরঃ বর্ণবাদ একটি চরমপন্থী ধারণা, যেখানে মনে করা হয় মানুষের দৈহিক গঠন শৈলী
পার্থক্যের কারণে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
৭) অভিবাসন কি?
উত্তরঃ অভিবাসন হচ্ছে কোন বিশেষ দেশ ছেড়ে অন্য দেশের এলাকার উদ্দেশ্যে গমন করা।
৮) প্রাইমেট সিটি কি?
উত্তরঃ যখন একটি দেশের অনেকগুলো শহরের মধ্যে একটি শহর, নগর হিসেবে বিকাশ লাভ করে
তখন তাকে প্রাইমেট সিটি বলে।
৯) সামন্তবাদ কি?
উত্তরঃ ইউরোপে ভূমি নির্ভরযোগ্য বিশেষ ধরনের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার
বিকাশ ঘটেছিল, ইতিহাসে তাকেই সামন্তবাদ বলে।
৬) ব্রাহ্মসমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেছেন?
উত্তরঃ রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৭) ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ ফরায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে হাজী শরীয়তুল্লাহ।
৮) চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় কবে?
উত্তরঃ চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬৬ সালে।
৯) নারীর ক্ষমতায়ন বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ বস্তুগত, মানবিক, বুদ্ধিভিত্তিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পেশাগত ও সম্পদের
উপর নারীদের নিয়ন্ত্রণপ্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন।
১০) কোন সালে CEDAW গৃহীত হয়?
উত্তরঃ CEDAW গৃহীত হয় ১৮৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর।
১১) চরম দারিদ্র কাকে বলে?
উত্তরঃ চরম দারিদ্র হলো দৈনিক ১৮০৫ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহণের সমর্থ্য নেই।
১২) বাংলাদেশ সরকার কখন বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিল?
উত্তরঃ বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিল।
১৩) নারীবাদ এর প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ নারীবাদ এর প্রবক্তা হচ্ছে- বিশিষ্ট ব্রিটিশ নারীবাদী মেরী ওলস্টোনক্রাফট।
১৪) ট্যাবু কি?
উত্তরঃ সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ প্রথা বা আচার হচ্ছে ট্যাবু।
১৫) কৃষ্ণাঙ্গ নারীবাদ কি?
উত্তরঃ কৃষ্ণাঙ্গ নারীবাদ হল কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জাতিগত, লিঙ্গগত ও শ্রেণীগত
বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির আন্দোলন বা দৃষ্টিভঙ্গি।
১৬) ২ জন পরিবেশ নারীবাদীর নাম কি?
উত্তরঃ দুইজন পরিবেশ নারীবাদের নাম হচ্ছে- বন্দনা শিবা ও মারিয়া মিজ।
১৭) স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য কোন দুজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধি দেওয়া
হয়েছে?
উত্তরঃ ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম এবং তার আমার বিবিকে স্বাধীনতার যুদ্ধে ভারতের জন্য
বীর প্রতীক উপাধি দেওয়া হয়েছে।
১৮) বাংলাদেশের নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন দুটি সংগঠনের নাম কি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন দুটি সংগঠনের নাম হচ্ছে-
- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
১৯) সহিংসতা কি?
উত্তরঃ সহিংসতা বলতে কোন ব্যক্তি বা গুষ্টির ওপর অন্য কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর
হুমকি বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে ইচ্ছানুসারে কাজ করাকে বোঝায়।
২০) ইভটিজিং কি?
উত্তরঃ ইভটিজিং হলো নারীদের প্রতি ব্যক্তির এমন সব অনভিপ্রেত অশ্লীল মন্তব্য বা
অঙ্গভঙ্গি যা একজন নারীর মানসিকতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হানে।
২১) কত সালে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন পাস হয়?
উত্তরঃ ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন পাশ হয়।
২২) আন্তর্জাতিক নারী দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তরঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ই মার্চ পালিত হয়।
২৩) সিডও বা CEDAW কি?
উত্তরঃ সিডও বা CEDAW হলো- জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য
বিলোপের সনদ।
২৪) CEDAW সমঝোতা কখন পাশ হয়?
উত্তরঃ CEDAW সমঝোতা পাশ হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
২৫) জনসংখ্যা কি?
উত্তরঃ জনসংখ্যা হল একটি নির্দিষ্ট পরিসীমায় বসবাসকারী মানব গোষ্ঠী।
২৬) কাম্য জনসংখ্যা কি?
উত্তরঃ একটি দেশের যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আই নিশ্চিত করা
যায় তাই হচ্ছে কাম্য জনসংখ্যা।
২৭) শিল্পায়ন কি?
উত্তরঃ শিল্পায়ন বলতে শিল্প কলকারখানা তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন
কাজের যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে বোঝায়।
২৮) শিল্পনীতি কি?
উত্তরঃ শিল্প নীতি বলতে কোন দেশের শিল্প হাতের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত
সরকারি নীতিমালা কে বোঝায়।
২৯) মেগা সিটি কাকে বলে?
উত্তরঃ সাধারণত কোন বৃহত্তম শহরে এক কোটি কিংবা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যা বাস করলে ওই
শহরকে বলা হয় মেগাসিটি।
৩০) পৃথিবীর বৃহত্তম মেগাসিটি কোনটি?
উত্তরঃ পৃথিবীর বৃহত্তম মেগাসিটি জাপানের রাজধানী টোকিও শহর।
৩১) দারিদ্রের দুষ্টচক্র এই ধারণাটির প্রবক্তা কে?
উত্তরঃ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র এ ধারণাটির প্রবক্তা হচ্ছে- র্যাগনার নার্কস।
৩২) সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে?
উত্তরঃ সাধারণভাবে বলতে গেলে সমাজ কাঠামোর পুনর্গঠন, রুপান্তর বা পরিবর্তনই হলো
সামাজিক পরিবর্তন।
৩৩) উপনিবেশবাদ কি?
উত্তরঃ সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক প্রেক্ষিত দুর্বল
রাষ্ট্রকে শাসন ও শোষণই হচ্ছে উপনিবেশবাদ।
৩৪) রুশ বিপ্লব কখন সংঘটিত হয়?
উত্তরঃ রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ১৯১৭ সালে।
৩৫) ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র কি ছিল?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা।
৩৬) জমিদারি প্রথা কত সালে বিলুপ্ত হয়?
উত্তরঃ জমিদারি প্রথা ১৯৫০ সালে বিলুপ্তি হয়।
৩৭) জন বিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তরঃ জন বিজ্ঞানের জনক হচ্ছে- জনতাত্ত্বিক জন গ্রান্ট।
৩৮) আদমশুমারি কাকে বলে?
উত্তরঃ একটি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, পেশাগত এবং জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কিত যাবতীয়
তথ্য সংগ্রহ করাকে আদমশুমারি বলা হয়।
৩৯) জনসংখ্যা নীতি কাকে বলে?
উত্তরঃ জনসংখ্যা নীতি হলো পরিকল্পিত উপায়ে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রভাবিত
করা, যাতে করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে না পারে।
৪০) টেকসই উন্নয়ন কি?
উত্তরঃ টেকসই উন্নয়ন হল এমন এক ধরনের উন্নয়ন যা অধিকতর নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক
অগ্রগতি আনয়নে অবদান রাখে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী ও বিশ্ব পরিবেশকে
সংরক্ষণ করে জীবন মানের উন্নয়ন ঘটায়।
Bachelor of Social Science (BSS) ভাইভা প্রস্তুতি
আপনারা যারা সমাজবিজ্ঞান সাবজেক্টে ব্যাচেলর অফ সোশ্যাল সাইন্স করছেন তাদের
প্রতিবছর পরীক্ষা হয় এবং ভাইভা হয়। এই ভাইভা গুলোতে কোন প্রশ্নগুলো আসে জানেন?
তাহলে শুনুন আমি আপনাদের বলে দিই।
এই ভাইভা গুলোতে সাধারণত পরীক্ষার "ক বিভাগের" ১ মার্কের যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো
আসে, এই প্রশ্নগুলো থেকেই ব্যাচেলর অফ সোশ্যাল সাইন্স এর ভাইভা গুলোতে প্রশ্ন
করে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারেরা বলে দেয় কোশ্চেনের ক বিভাগের প্রশ্নগুলো
পড়ে আসতে। কিন্তু আপনাকে যদি কিছু না বলে তবুও আপনি এই প্রশ্নগুলোই পড়ে
যাবেন।
তাহলে দেখবেন আপনার একাডেমিক পরীক্ষার ভাইভা গুলো অনেক ভালো হবে। এই প্রশ্নগুলো
একবার দুইবার পড়ে মনে থাকবে না তাই বারবার করে রিভিশন দিন। তাহলে দেখবেন এক সময়
আপনার কাছে সবগুলো প্রশ্ন এই যে হয়ে গেছে।
আর আপনারা যদি প্রাইমারি, নিবন্ধন অথবা যে কোন চাকরির পরীক্ষায় আপনার
সমাজবিজ্ঞান সাবজেক্ট থেকে ভালো ভাইভা দিতে চান তাহলে অবশ্যই উপরে
দেওয়া সমাজবিজ্ঞানের ভাইভা প্রশ্ন গুলো পড়ুন। আপনি উপরে
দেওয়া সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন গুলো না পড়লে ভাইভাতে ১০০% সিওর
খারাপ করবেন।
তাই আমার দেওয়া ২০০ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন অবশ্যই আপনাকে পড়ে যেতে হবে। আপনি যদি
এগুলো পড়ে যান তাহলেই ভাইভা বোর্ডে আপনি শিওর ধরে রাখেন ৮ থেকে ১০ টির মধ্যে ৫
থেকে ৬ টি প্রশ্ন কমন পেতে পারেন। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে সবগুলো প্রশ্ন কমন পেতে
পারেন।
FAQs
এই আর্টিকেলের কিছু ফ্রিকোয়েন্টলি আস্ক কোশ্চেন-
১) সমাজবিজ্ঞানের পরিধি কেমন?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।
২) সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা কি?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক কারণ সমাজবিজ্ঞান
পাঠের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন পারিপার্শিক সম্পর্ক।
বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন উন্নতর দেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে
নিয়েছে।
৩) বর্তমান বিশ্বের সমাজ বিজ্ঞানের গুরুত্ব কেমন?
উত্তরঃ বর্তমান বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
৪) সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য কি?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের কাঠামো সামঞ্জস্য রাখা।
৫) সমাজবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানীদের মূল বিষয়বস্তু হলো সমাজের গঠন, সামাজিক সম্পর্ক,
প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পরিবর্তন।
৬) সমাজবিজ্ঞানকে কেন বিজ্ঞান বলা হয়?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে গবেষণা করে, তাই একে
বিজ্ঞান বলা হয়।
৭) সমাজবিজ্ঞানের প্রধান শাখা কী কী?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞানের দুটি প্রধান শাখা হলো সামাজিক স্থিতিবিদ্যা (Social
Statics) এবং সামাজিক গতিবিদ্যা (Social Dynamics)।
৮) সমাজবিজ্ঞান কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ সমাজবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
৯) সমাজতত্ত্বের জনক কে?
উত্তরঃ সমাজতত্ত্বের জনক হচ্ছে- ওগ্যুস্ত কোঁৎ।
১০) বাংলাদেশে সমাজ বিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের জনক হচ্ছে- অধ্যাপক ড. নাজমুল করিম।
শেষ মন্তব্য
ভাইভা পরীক্ষার আরো কিছু কমন প্রশ্ন রয়েছে যা আপনারা এই আর্টিকেলের মধ্যেই পেয়ে
যাবেন। আমি আপনাদের উপরে সেই লিংক গুলো দিয়ে দিয়েছি। এছাড়া যারা ব্যাংকে
প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্যও আমি উপরে লিংক দিয়ে দিয়েছি। আপনাদের আর কোন
বিষয়ে ভাইবা প্রশ্ন প্রয়োজন তা আমাকে অবশ্যই জানাবেন।
আমি বিভিন্ন বই থেকে অনেক যত্ন সহকারে এই প্রশ্নগুলো নোট করে থাকি এবং আমার
পরিচিত একজন বিসিএস ক্যাডার ভাইয়ের কাছ থেকে পিডিএফ সংগ্রহ করে থাকি। তাই
আপনাদের কোন ধরনের পিডিএফ প্রয়োজন তা যদি পেতে চান তবুও আমাকে বলবেন। আমি চেষ্টা
করব আমার সাধ্য মোতাবে আপনাদের সকল ধরনের পিডিএফ দেওয়ার।