ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুই ঈদের নামাজের নিয়ম
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুই ঈদের নামাজের নিয়ম আমরা অনেকেই ভুলে যাই। এজন্য আমি আজকে আপনাদের সাথে সহজ
ভাবে আলোচনা করব কিভাবে আপনারা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাজ সঠিক পদ্ধতিতে
আদায় করবেন।
তাই আপনারা যদি দুই ঈদের নামাজের সঠিক নিয়মে শিখতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। ইনশাআল্লাহ আজকের পর থেকে আপনারা আর
ঈদের নামাজ ভুলে যাবেন না।
সূচিপত্রঃ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুই ঈদের নামাজের নিয়ম
এই আর্টিকেলে দুই ঈদের নামাজ সম্পর্কে আপনি যা যা তথ্য পাবেন তা এক নজরে দেখে
নিন-
দুই ঈদের নামাজের নিয়ম
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের নিয়ম
যেকোনো নামাজ আদায় করার পূর্বেই আমাদের ওযু করতে হবে। সুতরাং ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল
আযহা উভয়ই নামাজ আদায় করার পূর্বে আপনাকে ওযু করে যেতে হবে। এজন্য সর্বপ্রথম
ওযু করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। 👇
ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত
ঈদুল ফিতরের নামাজের বাংলা নিয়ত
আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঈদুল ফিতর এর ওয়াজিব নামাজ আদায় করার জন্য ছয় তাকবীরের
সাথে ইমামের পিছনে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালাম, আল্লাহু আকবার।
ঈদুল ফিতর নামাজ আদায় করার পদ্ধতি
বছরে দুইবার ঈদের নামাজ আদায় করা হয় এজন্য এই নামাজ আদায় করতে অনেকেই অতিরিক্ত
তাকবীর দিতে গিয়ে ভুল করে বসে। এজন্য আমি আজকে আপনাদের সাথে সঠিক নিয়ম পদ্ধতি
উল্লেখ করে দিব।
* প্রথমে নিয়ত করতে হবে আরবি অথবা বাংলা যে কোন ভাষায় নিয়ত করলেও হবে।
* নিয়ত করার পরে উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে “তাকবীরে তাহরীমা = আল্লাহু আকবার” বলে উভয় হাত বাঁধতে হবে।
* এরপর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়কেই ছানা পড়তে হবে।
* ছানা পড়া শেষ হয়ে গেলে ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবেন।
* এখন প্রথম তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত ওপরে উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
* দ্বিতীয় তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত ওপরে উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিতে হবে।
* তৃতীয় তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত উপরে উঠিয়ে আস্তে আস্তে নিছে নামিয়ে বাধতে হবে।
* এখন আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
* সূরা ফাতিহা পড়া শেষ হয়ে গেলে আরেকটি সূরা পড়ে মিলিয়ে নিতে হবে।
* এরপর রুকু করতে হবে এবং সিজদা দিতে হবে। অন্যান্য সকল নামাজের মত একই নিয়মে এটা করতে হবে।
* সিজদা করা হয়ে গেলে পুনরায় আপনাকে উঠে দাঁড়াতে হবে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য এবং হাত বাঁধতে হবে।
* আবার আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে এবং সুরা ফাতিহা শেষে যেকোনো একটি দোয়া পড়ে মিলিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ প্রথম রাখাতে তিনটি তাকবীর দেওয়া হয়েছিল। তাই এখন দ্বিতীয় রাকাতেও তিনটি থাকবে দেওয়া হবে। আরো জেনে রাখুন- প্রত্যেক তাকবীরের মধ্যখানে তিনবার “সুবহানাল্লাহ” পড়ার সমপরিমাণ সময় থাকতে হবে।
* এখন প্রথম তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত ওপরে উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
* এখন দ্বিতীয় তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে হাত ওপরে উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
* এখন তৃতীয় তাকবীরেও “আল্লাহু আকবার” বলে হাত ওপরে উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
* এখন চতুর্থ তাকবীরে “আল্লাহু আকবার” বলে রুকু করতে হবে এবং সিজদা দিতে হবে। নিয়ম মতো তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা পাঠ করে ঈদের নামাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ অন্য নামাজের মতই একই নিয়ম অবলম্বন করে এই নামাজ শেষ করতে হবে।
* সবশেষে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
সবশেষে ইমাম সাহেব দুটি খুতবা পাঠ করবেন। মুক্তাদীগণকে এই দুইটি খুতবা মনোযোগ
সহকারে শুনতে হবে কারণ ঈদের নামাজ শেষে খুতবা শোনা ওয়াজিব।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ঈদের নামাজের জন্য আযান এবং ইকামতের প্রয়োজন নেই। ঈদুল
ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাজ একই রকম হয়। শুধুমাত্র নিয়ত বাধার সময় ঈদুল ফিতর
অথবা ঈদুল আযহার নাম পরিবর্তন করতে হবে।
ঈদুল ফিতরের মর্মকথা
মহান আল্লাহতালা মুসলিম জাতির আনন্দ ও খুশি করার জন্য বছরে দুটি দিন নির্ধারণ করে
দিয়েছেন। প্রথমটি ঈদুল ফিতর এবং দ্বিতীয়টি ঈদুল আযহা। পবিত্র শাওয়াল মাসের
প্রথম তারিখে মুসলমান জাতি ঈদুল ফিতরের উৎসব পালন করে থাকে।
কারণ পবিত্র মাহে রমজানে আল্লাহর নির্ধারিত ইবাদত যেসব বান্দারা যথারীতি পালন
করেছেন, তাদের জন্য সত্যিকার খুশি প্রকাশের জন্য এই ঈদুল ফিতরের উৎসব পালন করা
হয়।
ঈদুল ফিতরের সুন্নত সমূহ
ঈদুল ফিতরের যে সমস্ত সুন্নত সমূহ রয়েছে তা নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হল-
- প্রত্যুষে ঘুম থেকে ওঠা।
- মেসওয়াক করা।
- ফজরের নামাজ আদায়ের পর ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা।
- সাধ্যমত নতুন বা পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা।
- নিজেকে সুন্দর রাখা।
- যত সম্ভব তাড়াতাড়ি ঈদগাহে গমন করা।
- ফিতরা আদায় করা।
- ঈদগাহ ময়দানে গমনের পূর্বে কিছু মিষ্টি খাবার খাওয়া।
- ঈদের নামাজ পড়া।
- ঈদের নামাজ শেষে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ঘোরাফেরা করা। অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে নামাজ পড়তে গেলে অন্য রাস্তা দিয়ে বাসায় আসা ভালো।
এছাড়া যাত্রা পথে আস্তে আস্তে নিচের এই তাকবীরটি পড়তে হবে-
ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের নিয়ম
যেকোনো নামাজের পূর্বে যেহেতু ওযু করতে হয় সেহেতু বরাবরের মতোই ঈদুল আযহা
নামাজের আগে আপনাকে ওযু করতে হবে।
ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত
ঈদুল আযহার নামাজের বাংলা নিয়ত
আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঈদুল আযহার ওয়াজিব নামাজ আদায় করার জন্য ছয় তাকবীরের
সাথে ইমামের পিছনে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালাম, আল্লাহু আকবার।
ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করার পদ্ধতি
উপরে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার যে পদ্ধতিটি দেখানো হয়েছে সে একই পদ্ধতিতে
ঈদুল আযহার নামাজ আপনারা আদায় করবেন। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে দুই ঈদের নামাজের নিয়ম
একই শুধুমাত্র নিয়ত সামান্য আলাদা।
উপরের নিয়মটি পড়ে তারপর আপনি ইয়টিউবে দেওয়া ভিডিওগুলো দেখুন।
তাহলে আপনি সম্পূর্ণ বুঝতে পারবেন ইনশাল্লাহ। কারণ এসন বিষয় পড়ার পাশাপাশি প্র্যাক্টিকেলি দেখে শিখতে হয়।
ঈদুল আযহার মর্মকথা
জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে মুসলমানরা ঈদুল আযহার উৎসব পালন করে থাকেন। এই উৎসব
প্রকৃতপক্ষে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতি বাহক। তিনি তার পুত্র
হযরত ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর দরবারে কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত
হয়েছিলেন।
আল্লাহতালা সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরকে নিজ হতে
রক্ষা করেছিলেন। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি একটি স্মরণীয় ইতিহাস। এরপর হতেই
মানুষের পরিবর্তে আল্লাহর নির্দেশে উঠ, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি কোরবানি করা
হয়। হযরত ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিবাহক দিনটিকেই ঈদুল আযহা বলা হয়।
ঈদুল আযহার সুন্নত সমূহ
ঈদুল আযহার যে সমস্ত সুন্নাতগুলো রয়েছে তা জেনে নিন-
- সকালে ঘুম থেকে ওঠা।
- মেসওয়াক করা।
- ফজরের নামাজের পর ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা।
- সাধ্যমত নতুন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- মাঠে যাওয়ার পূর্বে কোন কিছু না খাওয়া।
- যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঈদগাহের ময়দানে উপস্থিত হওয়া।
- ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা।
- ঈদের নামাজ শেষে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ঘোরাফেরা করা। অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতে হবে এবং অন্য রাস্তা দিয়ে বাসায় আসতে হবে।
এছাড়া ঈদগাহে যাত্রা পথে নিচের তাকবীরটি উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে-
কোরবানির দোয়া
আইয়ামে তাশরীক
৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্জ আছর পর্যন্ত এই পাঁচ দিনকে আইয়ামে তাশরিক বলা
হয়। এই দিন সমূহে প্রতি ফজর নামাজের পর উপরের তাকবীরটি পড়া ওয়াজিব। একে
তাকবীরে তাশরিক বলে।
ছেলে ও মেয়েদের দুই ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম
ছেলেরা ছেলেদের নিয়ম অনুযায়ী উপরের পদ্ধতি দেখে নামাজ পড়বেন এবং মেয়েরা
মেয়েদের নিয়ম অনুযায়ী উপরের পদ্ধতি দেখে নামাজ পড়বেন। সুতরাং আপনারা ছেলেরা
এবং মেয়েরা প্রথমে প্রতিদিনের নামাজ পড়ার নিয়ম জেনে নিন। 👇
আর্টিকেলঃ
ছেলেদের এবং মেয়েদের নামাজ পড়ার নিয়ম
এরপর উপরের পদ্ধতি অনুসরণ করে দুই ঈদের নামাজ পড়ুন।
ঈদের নামাজ শেষে কবর জিয়ারত করার দোয়া
বছরে দুইটা ঈদের নামাজ পর আমাদের অবশ্যই কবর জিয়ারত করা উচিত। আমাদের
আত্মীয়-স্বজনরা কবরে কেমন আছে তা আমরা জানিনা। তাই আমাদের তাদের জন্য দোয়া করা
উচিত।
কবর জিয়ারতের দোয়া
এরপরে সূরাতুল ফাতেহা, সূরা এখলাস, সুরা ইয়াসিন (১১ বার) এবং দুরুদ শরীফ (১০
বার) পাঠ করে মৃত ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফিরাতে দোয়া করতে হবে।
কবর জিয়ারতের সময় ও নিয়ম
দিনে অথবা রাতে যে কোন সময়ে আপনি কবর জিয়ারত করতে পারবেন। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে
এতে শরীয়ত সম্মত কোন বাধা নেই। তবে শুক্রবারের দিন অথবা রাতে কবর জিয়ারত করা
অতি উত্তম (মুস্তাহাব)। এছাড়া শাবানের চাঁদের ১৪ ও ১৫ই দিবাগত রাতে বাবা-মা,
আত্মীয়-স্বজন অথবা যে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য কবর জিয়ারত করা সুন্নত।
হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে- আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই রাতে মদিনা শরীফের কবর স্থান জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে মৃত
আত্মার জন্য দোয়া করেছিলেন। ওই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঈদের গুরুত্ব ও ফজিলত
মুসলিম বিশ্বের মানুষদের জন্য ২ ঈদ আনন্দ ও সম্প্রীতির একটি দিন। ঈদ ধনী গরিবদের
মধ্যে সুনিবিড়। সুসম্পর্ক ও মিলবন্ধন তৈরি করে। ঈদ সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
মুসলমানদের ঈদ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য একটি মাধ্যম। ঈদের দিনে ভালো
ভালো কাজ করলে এবং গরিবদের সাহায্য সহযোগিতা করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।
তওবার নামাজের বিবরণ ও নিয়ত
কোন মুমিন ব্যক্তি যদি ঘটনাচক্রে কোনো গুনাহের কাজ করে বসে বা কথাবার্তা বলে থাকে
যা কবিরা গুনাহের মধ্যে শামিল হয়, তখন দেরি না করে ওযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ
আদায় করতে হবে।এরপর তওবা করে কান্নাকাটি করে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের জন্য
দোয়া প্রার্থনা করতে হবে।
আর অন্তরে এভাবে শপথ গ্রহণ করতে হবে যে- জীবনে এরূপ কাজ করবো না ও বলবো না। এভাবে
দোয়া করলে আল্লাহ গাফূরুর রাহীম বান্দার গুনাহ খাতা মাফ করে দেবেন। যেহেতু তিনি
তওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।
এই সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
হাদিসঃ কখনো কোন বান্দা যদি গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় তবে সে সঙ্গে সঙ্গে ওযু করে
দু রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে এবং তওবা করবে, হয়তো আল্লাহতালা গুনাহ ক্ষমা করে
দেবেন। (তিরমিজি ও ইবনে হাব্বান)
তওবা নামাজের নিয়ত
তওবা নামাজের বাংলা নিয়ত
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু রাকাত তওবার নামাজ আদায় করার নিয়ত
করলাম, আল্লাহু আকবার।
সফরে যাত্রাকালে নফল নামাজের বিবরণ ও নিয়ত
আপনারা অনেকেই রয়েছেন যারা দুই ঈদের সময় বাসায় এসে ঈদ করেন। এই অবস্থায়
আপনাদের গ্রামের বাসায় আসার জন্য সফর করতে হয়। আপনারা এই সফর করার আগে অবশ্যই
নিয়ত করে নিবেন এবং নফল নামাজ পড়ে নিবেন।
কারণ আমরা সকলেই চাই ভালোভাবে আমাদের গন্তব্যস্থলে গিয়ে পরিবারের সাথে ঈদ করতে।
সফরের নিয়তে বিদেশে বা দূরে কোথাও রওনা করার পূর্বে দু'রাকাত নফল নামাজ আদায়
করা নবীর সুন্নত।
যাত্রাকালে নফল নামাজের নিয়ত
মান্নত নামাজের বিবরণ
যদি কোন বান্দা নামাজ মান্নত করে থাকে তবে মান্নতের শর্ত পুরন হলে এই নামাজ আদায়
করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর এ নামাজ আদায় না করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহে লিপ্ত
হবেন। অতএব মান্নত পূরণ হলে এই নামাজ আদায় করতেই হবে। এই নামাজ যে কোন সময় যে
কোন সূরা মিলিয়ে আদায় করা যায়।
মান্নত নামাজের নিয়ত
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য দুই রাকাত বা চার রাকাত মান্নতের নামাজ আদায়
করার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।
FAQs
প্রশ্নঃ ঈদ অর্থ কি?
উত্তরঃ সাধারণ অর্থে ঈদ বলতে আমরা উৎসব বা আনন্দের দিনকে বুঝি। কিন্তু ঈদ শব্দের
মূল অর্থ হচ্ছে- "ফিরে আসা" বা "পুনরাগমন"।
প্রশ্নঃ ঈদ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তরঃ ঈদ একটি আরবি শব্দ।
প্রশ্নঃ মুসলমান ধর্মে দুইটি প্রধান ঈদ কি কি?
উত্তরঃ মুসলমান ধর্মে দুইটি প্রধান ঈদ হচ্ছে- ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা।
প্রশ্নঃ ঈদুল ফিতরের বিশেষ আমল গুলো কি কি?
উত্তরঃ ঈদুল ফিতরের কিছু বিশেষ আমল গুলো হচ্ছে- সাদকাতুল ফিতর, ঈদের নামাজ আদায়
করা, নতুন পোশাক পরিধান ও সুগন্ধি ব্যবহার করা, আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে
আনন্দ ভাগাভাগি করা।
প্রশ্নঃ ঈদুল আযহার বিশেষ আমল গুলো কি কি?
উত্তরঃ ঈদুল আযহার কিছু বিশেষ আমল হচ্ছে- ঈদের নামাজ আদায় করা, সামর্থ্য
অনুযায়ী পশু কুরবানি করা, কুরবানির মাংস গরিব, আত্মীয় ও নিজের মধ্যে বণ্টন করা।
প্রশ্নঃ ঈদ মোবারক অর্থ কি?
উত্তরঃ ঈদ অর্থ উৎসব বা আনন্দের দিন এবং মোবারক অর্থ বরকতময়। এটি একটি আরবি শব্দ
যা ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে ব্যবহার করা হয়।
শেষ আলোচনা
এটাই ছিল দুই ঈদের নামাজের নিয়ম যা আমি পর্যায়ক্রমিকভাবে আলোচনা করেছি। আপনাদের
যদি লেখাগুলো পড়ে ঈদের নামাজ পড়ার পদ্ধতি বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে আপনারা Youtube এর সাহায্য নিন।