নতুনদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইডলাইন

পড়ালেখা শেষ করার পরে অথবা পড়ালেখা চলাকালীন সময়ে যারা সরকারি জবের জন্য শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করতে চান তাদের এই আর্টিকেলটি অনেক সহায়তা করবে। কারণ এখানে আমি নতুনদের চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন পর্যায়ক্রমিকভাবে আলোচনা করব।

নতুনদের-শূন্য-থেকে-চাকরির-প্রস্তুতি
তাই আপনারা যদি একদমই নতুন চাকরিপ্রার্থী হয়ে থাকেন এবং কিভাবে প্রথম থেকে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন সে সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে অবশ্যই পড়ুন। আমি কথা দিচ্ছি আপনি এই আর্টিকেল থেকে অনেক তথ্য জানতে পারবেন যা চাকরির প্রিপারেশন নিতে আপনাকে অনেক সহায়তা করবে।

সূচিপত্রঃ নতুনদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইডলাইন

এই আর্টিকেল থেকে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক যে সমস্ত তথ্য গুলো জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

নতুনদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতি

যেকোনো সরকারি চাকরিতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম বিসিএস এর সিলেবাস ফলো করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। কারণ বিসিএস এর সিলেবাসে যে টপিকগুলো থাকে এই টপিকগুলো থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন হয়ে থাকে।

আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তাহলে আপনার সময় নষ্ট হবে। আর আপনি যদি বিসিএস নির্ভর চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তাহলে আপনি বাংলাদেশের যে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

সুতরাং পরিশ্রম করলে একবারই করবেন এবং এই পরিশ্রমটি ব্যয় করবেন বিসিএস সিলেবাস শেষ করার জন্য। ধরুন আপনি একসঙ্গে তিন থেকে চারটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনার চাকরির প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে যাবে।

তাই আপনাকে গুছিয়ে চাকরির প্রিপারেশন নিতে হবে। এজন্য সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সিলেবাসটি সংগ্রহ করুন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সিলেবাসটি ইংরেজি ভাষায় দেওয়া রয়েছে। তাই আমি আপনাদের সুবিধার্থে এই সিলেবাসটি বাংলায় প্রদান করছি। প্রথমে এই আর্টিকেলটি পড়ে আসুন।


বিসিএস এর সিলেবাস শেষ হওয়ার পর কি করবেন?

যখন আপনার বিসিএস এর সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে তখন আপনি অন্যান্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস গুলো সংগ্রহ করবেন। কারণ বিসিএস এর সিলেবাসে যে টপিকগুলো থাকে, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে আরো কম টপিক থাকে।

সেক্ষেত্রে আপনি যদি বিসিএস এর প্রিপারেশন একবার ভালো করে নিয়ে নিতে পারেন, তাহলে পরবর্তীতে আপনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারবেন সহজেই। কারণ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস বিসিএস এর তুলনায় কম দেওয়া থাকে।

একটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন- যারা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তারা বাংলাদেশের সকল চাকরির পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে। এর মূল কারণ হচ্ছে তারা বিসিএস নির্ভর পিপারেশন নেয়। আপনি যদি বিসিএস নির্ভর পিপারেশন নেন তাহলে আপনি প্রাইমারি শিক্ষক নিবন্ধন বা এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন অথবা পিএসসি কর্তৃক সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আপনি ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন।

তাই আমি আপনাদের প্রথমে সাজেস্ট করবো কোন একটি স্পেসিফিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস নির্ভর চাকরির প্রস্তুতি না নিয়ে, বিসিএস নির্ভর চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। প্রথম থেকেই এই কাজটি যদি আপনি সময়মতো করে ফেলতে পারেন, তাহলে পড়াশোনা শেষে অথবা চাকরির প্রস্তুতির এক থেকে দেড় বছর পরে ইনশাল্লাহ আপনি ভালো একটি সরকারি চাকরি পাবেন।

কখন সরকারি চাকরির প্রিপারেশন শুরু করতে হয়

সরকারি চাকরির প্রিপারেশন শুরু করার সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে অনার্স শেষে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তবে আপনি যদি আগে থেকেই সরকারি চাকরির পড়া কিছু কিছু করে এগিয়ে নিতে চান সেক্ষেত্রে অনার্সের প্রথম বর্ষ থেকেও প্রিপারেশন শুরু করতে পারেন।


অনেকে রয়েছেন যারা সম্পূর্ণ পড়াশোনা শেষে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে একদম মাস্টার্স শেষ করার পরে অনেকেই চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। কিন্তু তখন বয়স বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে ডিপ্রেশনের মধ্যে পড়ে যান। তাই আমি সাজেস্ট করব অনার্স প্রথম বর্ষ থাকাকালীন সময়ে অল্প অল্প করে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং অনার্স শেষ করার পরে পুরোদমে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

চাকরির প্রস্তুতি নিতে কত দিন সময় লাগে

চাকরির প্রস্তুতি নিতে কত দিন সময় লাগবে এটি নির্ভর করে আপনার উপর। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির পড়া মনে রাখার ব্রেইন এক হয় না। এজন্য সকল ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখায় ভালো করতে পারে না। আপনি যদি অনার্সে থাকাকালীন অবস্থায় চাকরির প্রিপারেশন শুরু করেন তাহলে আস্তে আস্তে এই প্রিপারেশন নিবেন।
চাকরির-প্রস্তুতি-নিতে-কত-দিন-সময়-লাগে
কারণ সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আপনার একাডেমিক পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করা যাবে না। তাই একাডেমিক পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি অল্প অল্প করে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আপনার একাডেমিক পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে এরপরে সম্পূর্ণভাবে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

তবে মনে রাখবেন চাকরির পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে। এটি ছাত্রছাত্রীদের পরিশ্রমের উপরে নির্ভর করে। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি ৬ মাস আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এটি দেড় থেকে দুই বছর লাগতে পারে। তবে এভারেজে এক বছরের মধ্যেই ভালোভাবে পড়াশোনা করলে সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য ভালো প্রিপারেশন হয়ে যায়।

চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার কতদিন পরে সরকারি জব পাওয়া যায়

আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন কতদিন প্রিপারেশন নেওয়ার পরে একটি ভালো চাকরি পাওয়া যাবে। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই সরকারি চাকরির প্রিপারেশন নেওয়ার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম এক বছর থেকে দেড় বছর ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে হবে। কারণ সরকারি চাকরির প্রিপারেশন নিতে হলে আপনারা যে সমস্ত বিষয়গুলো পড়বেন এগুলো প্রথমে মনে থাকবে না।

একবার অথবা দুইবার সিলেবাস শেষ করার পরে অনেকের পূর্বের পড়া গুলো মনে থাকে না বলে আস্তে আস্তে চাকরির প্রস্তুতি থেকে দূরে চলে যায়। কিন্তু আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না কারণ চাকরির প্রস্তুতির পড়া এমনি।

এটা শুধু আপনার ক্ষেত্রেই হচ্ছে বিষয়টি এমন নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এটি হচ্ছে। আপনি যখন কোন একটি সিলেবাস ১ থেকে ২ বার শেষ করবেন তখন সেটি মনে থাকবে না এটা স্বাভাবিক বিষয়। তাই আপনাকে বারবার রিভিশন দিতে হবে।

আপনি যখন বারবার কোন একটি বিষয়ে রিভিশন দিতে থাকবেন তখন একটি নির্দিষ্ট সময় পরে দেখবেন আপনি সেই তথ্য আর ভুলছেন না। আর আপনি কোন তথ্য যদি ভুলে যান বারবার বলার পরেও, তাহলে সেই তথ্যগুলো নোট করে রাখুন। এজন্য আমি আপনাকে বলছি এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করতে।


তবে যারা ছোট থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করেন তাদের চাকরির প্রস্তুতি নিতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে। তারা অনেক এডভান্স লেভেলের স্টুডেন্ট। কিন্তু আপনি মধ্যম লেভেলের স্টুডেন্ট তাই আপনি আপনাকে তাদের সাথে তুলনা করবেন না।

ভালো স্টুডেন্টরা যদি পাঁচ ঘণ্টায় কোন টপিক শেষ করতে পারে তাহলে আপনি দুই দিনে সেই টপিক শেষ করুন। অর্থাৎ হতাশ হবেন না। যারা ভালো স্টুডেন্ট এবং খুব ভালো পিপারেশন নেয় তাদেরকে দেখে মধ্যম মানের স্টুডেন্টরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়।

আপনি হতাশাগ্রস্ত না হয়ে সময় বেশি নিয়ে সিলেবাস শেষ করুন। ভালো স্টুডেন্টের যদি চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে তাহলে আপনার এক থেকে দেড় বছর সময় লাগলেও কোন সমস্যা নেই। দেরি করে হলেও আপনাকে সিলেবাস অবশ্যই শেষ করতে হবে।

কেউ খুব তাড়াতাড়ি চাকরি পেয়ে গেলে আপনারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং এটা আমার ক্ষেত্রেও হয়েছিল। শুনুন কার ভাগ্যে কি আছে এটা কেউ বলতে পারবে না। কেউ যদি খুব তাড়াতাড়ি চাকরি পেয়ে যায় তাহলে আপনাকে ভেবে নিতে হবে সে অনেক আগে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাই হতাশাগ্রস্ত না হয়ে এখন থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

চাকরির প্রস্তুতির জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ

মানসিক প্রস্তুতিঃ সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আপনাকে একটি স্থির সংকল্প পোষণ করতে হবে যে, আপনাকে এই চাকরিটি পেতেই হবে। চাকরির প্রস্তুতি মানে শুধুমাত্র প্রিলিমিনারি বিষয়টি এমন নয়।

চাকরির প্রস্তুতি নিতে হলে আপনাকে একসঙ্গে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভার প্রস্তুতি নিতে হবে। তবেই আপনি চাকরির বিভিন্ন স্টেজে পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যেতে পারবেন। ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং কোন ভাবেই হোপলেস হওয়া যাবে না। আপনি যখনই হোপলেস হয়ে যাবেন তখনই আপনি পড়াশোনায় মন দিতে পারবেন না।

পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন এবং মনে মনে বিশ্বাস রাখবেন আজ না হোক এক বছর পর আপনার চাকরি হবেই এবং আপনি যতদিন চাকরি না পাবেন আপনি চেষ্টা করে যাবেন। পড়াশোনা করে আপনি সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য যখন নিজের জীবন দিয়ে দিতেও তৈরি থাকবেন, তখনই আপনি সরকারি চাকরি পাবেন। সুতরাং বুঝতে পারছেন আপনাকে কোন লেভেলের পড়াশোনা করতে হবে।

পজিটিভ থিংকিংঃ যারা নতুন অবস্থায় চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পড়ার পরে হোপলেস হয়ে যান তাদের কে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই- আপনারা সবসময় পজিটিভ চিন্তাভাবনা করবেন। নেগেটিভ চিন্তাভাবনা কখনোই মাথায় আনা যাবে না।

হ্যাঁ আপনি যখন চাকরির প্রিপারেশন নিতে নিতে অধৈর্য হয়ে যাবেন তখন আপনার নেগেটিভ চিন্তাভাবনা আসতে পারে। এজন্য আমি আগেই বলে দিলাম এই নেগেটিভ চিন্তাভাবনা মাথায় আনা জানেন না।


আর আপনার মাথায় যদি এই নেগেটিভ চিন্তা আসেও তাহলে আপনাকে তা ঝেড়ে ফেলতে হবে এবং পুনঃউদ্যমে নতুনভাবে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। মনে রাখবেন কষ্ট ব্যতীত কোন কিছু পাওয়া যায় না।

মনে রাখবেন ঘরের মধ্যে শুয়ে থেকে খেয়ে এবং ঘুমিয়ে কখনো সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। সরকারি চাকরি পাওয়া যদি এতই সহজ হতো তাহলে সবাই সরকারি চাকরি করতো, কেউ শ্রমিকের কাজ করতো না। 

সুতরাং বুঝতে পারছেন আপনি যদি মাত্র এক থেকে দুই বছর ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে পারেন তাহলে সারা জীবন আপনি পরিশ্রম না করে সরকারি চাকরি করতে পারবেন। তাই সারা জীবনে ভালো থাকার জন্য অন্তত এই কষ্টটুকু আপনাকে করতে হবে।

চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার উপায়

১) চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে যে কোন এক সেট বই শেষ করা। আমরা যারা নতুন চাকরির প্রিপারেশন গ্রহণ করি তারা কোন বই কিনবো সে বিষয়ে ধারণা থাকে না। যার ফলে আমরা বাজার থেকে একটি বিষয়ের উপরে অনেকগুলো প্রকাশনীর বই কিনে টাকা নষ্ট করি। সবশেষে আমরা অনেকগুলো বই কোনটাই শেষ করতে পারি না।
চাকরির-পরীক্ষায়-ভালো-করার-উপায়
ফলে আমাদের টাকা এবং সময় দুটোই নষ্ট হয় এবং আমরা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে প্রতিযোগিতায় হেরে যাই। তাই আমি বলব আপনারা একটি বিষয় এর জন্য শুধুমাত্র একটি বই পড়বেন। আপনি যখন বারবার একটি বই রিভিশন দিবেন তখন সেই বিষয় আপনার কাছে ধীরে ধীরে পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।

আর আপনি যখন অনেকগুলো বই কিনে সেই বইগুলো শেষ করবেন এবং সবশেষে রিভিশন দিতে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কিছুই মনে নেই। এজন্য টেকনিক খাটিয়ে আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে এবং যে কোন একটি বই পড়তে হবে। এজন্য সর্বপ্রথম ভালো একটি বই নির্বাচন করুন।

২) চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে বিগত বছরের চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ঠাডা মুখস্ত করে ফেলতে হবে। অর্থাৎ একটানা মুখস্ত করে যাবেন। চাকরির পরীক্ষায় বিগত সালে আসা কোন প্রশ্ন যদি পরীক্ষায় আসে তবে সেই প্রশ্ন আপনাকে অবশ্যই পারতে হবে।

আপনাকে এখন আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি সেটা হচ্ছে- যে কোন চাকরির পরীক্ষায় ১০০ টি এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০টা বিগত বছরের প্রশ্নের রিপিট হয়। আপনি যদি ১০০টা প্রশ্নের মধ্যে ৭০ টাও কারেক্ট করতে পারেন তাহলেও আপনি সরকারি চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন।

অর্থাৎ বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আপনি নিজেই এখন উপলব্ধি করতে পারছেন।

অথচ আমরা বিগত বছরের প্রশ্নতে সময় না দিয়ে শুধুমাত্র অন্যান্য বইগুলো দাগানো ও নোট করা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই আজ থেকেই আপনি অন্যান্য বই দাগানো ও নোট করার পাশাপাশি বিগত সালের প্রশ্নগুলোকে বেশি বেশি গুরুত্ব দিন।

নতুনদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতির টিপস

বাংলা

বাংলার জন্য বাংলা বানানের নিয়ম নীতিগুলো আপনাকে সর্বপ্রথম বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কারণ এটি বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং লিখিত দুই জায়গাতেই রয়েছে। প্রথমে সিলেবাস ঠিক করে নিন এবং এরপর টপিক ধরে ধরে শেষ করুন। যে জিনিস বুঝতে পারবেন না সেটি বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে সার্চ করুন।

যদি কোন টপিক বুঝতে না পারেন তাহলে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য স্কিপ করতে পারেন কিন্তু আজীবনের জন্য সেই টপিক বাদ দেওয়া যাবে না। প্রতিদিন বিগত সালের পরীক্ষায় আসা বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ কিছু কিছু করে শেষ করুন।

বাংলা ব্যাকরণের যেই টপিকগুলো আপনার বেশি কঠিন মনে হয় সেগুলো নিজের মতো করে নোট করে রাখুন। তাহলে পরবর্তীতে আপনার সেই টপিক বুঝতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে সমাস, কারক, সন্ধি ইত্যাদি।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের পড়া কম এবং আধুনিক যুগের পড়া অনেক বেশি। তবে আধুনিক যুগে অনেক মার্ক প্রিলিমিনারিতে আসে। বাংলায় প্রিলিমিনারি এবং লিখিততে ভালো করার জন্য বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ ভালো করে পড়তে হবে। আর আধুনিক যুগের জন্য নবম দশম শ্রেণীর ১১ জন লেখকের তথ্যগুলো পড়লেই হবে।

বাংলা একাডেমি এবং একুশে পদক সম্পর্কিত তথ্য জানার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম গুলো জেনে রাখতে হবে। প্রতিটি অধ্যায় শেষে বিগত সালের প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলতে হবে।

বাংলা প্রস্তুতিতে সহায়ক গ্রন্থ সমূহঃ
  • নবম দশম শ্রেণীর বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই
  • লহরি - শামসুল আলম
  • লাল নীল দীপাবলি -হুমায়ুন আজাদ
  • যে কোন একটা গাইড
  • ডাইজেস্ট

ইংরেজি

সরকারি চাকরি না পাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ইংরেজি ভালো না পারা। শুনুন ইংরেজি কেউ ভালো পারেনা আর যারা ভালো পারে তারা একটু বেশি পারে। তাই ইংরেজিতে ভালো না পারলেও আপনাকে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হবে। ইংরেজি ভালো করার বা ইংরেজি শেখার মূল কাজ হচ্ছে প্রতিদিন কিছু না কিছু ইংরেজি শেখা ও প্রতিদিন প্র্যাকটিস করা।

চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো করার জন্য আপনাকে ইংরেজি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক সম্পর্কে জানতে হবে এবং বিগত বছরের সকল প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলতে হবে। গ্রামারের ক্ষেত্রেও বিগত বছরের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো এবং সেই প্রশ্নগুলোর নিয়ম আপনাকে জেনে বুঝে পড়তে হবে। অনেকেই ভোকাবুলারি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।

এত ভোকাবুলারি মনে রাখা আসলেই সহজ কাজ নয় এজন্য আপনাকে বিগত বছরের ভোকাবুলারিগুলো শুধুমাত্র পড়ে যেতে হবে। পত্রিকা থেকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পড়তে হবে। একটা ভালো বই থেকে ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন টার্মগুলো পড়তে হবে। আপনি চাইলে গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি সাহিত্যিকদের তথ্য নোট করে রাখতে পারেন।

ইংরেজি প্রস্তুতিতে সহায়ক গ্রন্থ সমূহঃ
  • ABC of English Literature
  • Common Mistakes in English - TJ Fitikides
  • Digest
  • NEED English Grammar

বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ভালো করার জন্য আপনাকে নিয়মিত পত্রিকার নিউজগুলো পড়তে হবে। কারণ সাম্প্রতিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইভাতে বেশি ধরে। তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাগুলোতে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো থেকেই অধিকাংশ প্রশ্ন হয়ে থাকে। ১০০ এর মধ্যে ৯০ অথবা ৮০ ভাগ প্রশ্ন বিগত বছর থেকে হয় এবং ১০ থেকে ২০ ভাগ প্রশ্ন সাম্প্রতিক থেকে হয়।

সংবিধান ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে কারণ এটি প্রিলিমিনারি এবং লিখিত উভয় সিলেবাসে রয়েছে। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ে সময় নষ্ট না করে টপিকভিত্তিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলির সিলেবাস শেষ করুন এবং প্রতিদিন পত্রিকা পড়তে থাকুন।

বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ধারণা রাখতে হবে কারণ এটি লিখিততে প্রচুর আসে এবং ভাইভাতেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে অনেক প্রশ্ন করে। যেমনঃ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত।

বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সহায়ক বইসমূহ
  • Mp3 অথবা জর্জ এর বই
  • যে কোন প্রকাশনীর ডাইজেস্ট

গণিত ও মানসিক দক্ষতা

গণিত অংশের ভালো করার জন্য আপনাকে প্রথম থেকেই প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ধরুন আপনি প্রথমে প্রিলিমিনারের জন্য শর্টকাট নিয়ম শিখলেন তবে পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষার সময় আপনার পুনরায় গণিত ডিটেলস সহ পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনার সময় অপচয় হবে এবং আপনি অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন।
নতুনদের-শূন্য-থেকে-চাকরির-প্রস্তুতির-টিপস
এজন্য প্রথম থেকেই শর্টকাট শেখার পাশাপাশি ডিটেইলসহ অংক করা শিখুন। এর জন্য আপনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের সাহায্য নিতে পারেন। অংক করার সময় প্রতিটি অধ্যায়ে অবশ্যই টাইপ ভাগ করে অংক করে রাখবেন। অবশ্যই ডিটেলস এবং শর্টকাটসহ টাইপ ভিত্তিক অংক গুলো নোট করে রাখবেন।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকাশনীর গণিত বই আপনাকে সহায়তা করতে পারি কিন্তু লিখিত পরীক্ষার জন্য অবশ্যই আপনাকে নবম দশম শ্রেণীর গণিত বইয়ের অংকগুলো করে যেতে হবে। আপনি চাইলেই সিলেবাস ভিত্তিক অধ্যায় শেষ করার সময় নবম দশম শ্রেণীর বই থেকে অংক গুলো নোট করে রাখতে পারেন।

তাহলে আপনার এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে যাবে অর্থাৎ প্রিলিমিনারির প্রিপারেশন এবং লিখিত প্রিপারেশন একবারই হয়ে যাবে। হ্যাঁ নোট করতে আপনার একটু সময় লাগবে এটা ঠিক কিন্তু একবার যদি নোট করা হয়ে যায় তবে আপনি এর সুফল বুঝতে পারবেন।

মানসিক দক্ষতা নিয়ে বেশি টেনশন করার দরকার নেই কারণ মানসিক দক্ষতা পূর্বের বিগত সালের প্রশ্নগুলো থেকেই বারবার রিপিট করে। নতুন করে কোন কিছু এখানে যুক্ত হয় না এজন্য যেকোনো প্রকাশনীর বই কিনে মানসিক দক্ষতা সম্পর্কে পড়ে ফেলুন ও নোট করে রাখুন।

ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব),পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোলে ভালো করার জন্য আপনাকে নবম দশম শ্রেণীর ভূগোল বইটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। তবে আপনি চাইলে বাজারের বিভিন্ন গাইড বই থেকেও অথবা ডাইলেস্ট থেকেও এই অংশটুকু পড়ে কভার করতে পারবেন।

মোটকথা আপনি যেখান থেকেই পড়েন না কেন, আপনাকে অবশ্যই যে কোন সাবজেক্ট এর জন্য যে কোন একটি বই শেষ করতে হবে। একই সাবজেক্টের উপর একাধিক বই পড়া যাবে না।

সাধারণ বিজ্ঞান - কম্পিউটার ও তথ্য

সাধারণ বিজ্ঞান আপনাকে নবম দশম শ্রেণীর বই থেকে প্রিপারেশন নিতে হবে। কম্পিউটারের জন্য আপনি ইজি কম্পিউটার বইটি পড়তে পারেন। সাধারণ বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার যেহেতু লিখিত পরীক্ষাতেও আসে সেহেতু প্রিলিমিনারি এবং লিখিত বেজ প্রিপারেশন নিতে হবে।

অবশ্যই সম্পূর্ণ বই পড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয় এজন্য সিলেবাস দেখে টপিক বাছাই করে, যে টপিকগুলো পরীক্ষায় বেশি আসে সেগুলো নির্ধারণ করুন ও পড়তে থাকুন। লিখিত পরীক্ষায় কিভাবে প্রশ্নগুলো লিখবেন তার জন্য নোট খাতা তৈরি করুন।

নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন অনেকেরই বুঝতে অনেক সমস্যা হয় এজন্য কেউ কেউ এই সাবজেক্টটা বাদ দিয়ে থাকেন। মনে রাখবেন কোন সাবজেক্ট বাদ দিয়ে প্রিপারেশন নিতে হয় না। তাই আপনি এই সাবজেক্টের কিছু কিছু অংশ পড়ে ফেলতে পারেন। 

কারণ নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন থেকে স্পেসিফিক কিছু জায়গায় শুধুমাত্র প্রশ্ন হয়ে থাকে। ভালো একটি ডাইজেস্ট কিনুন এবং বিগত বছরের প্রশ্নগুলো এনালাইসিস করে নোট করে পড়াশোনা করুন।

FAQs

প্রশ্নঃ বিসিএস এর প্রিপারেশন জন্য সবচেয়ে ভালো ডাইজেস্ট কোনটি?
উত্তরঃ বিসিএস এর প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে ভালো ডাইজেস্ট হচ্ছে- Preceptors digest এবং Unique digest।

প্রশ্নঃ চাকরির প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে ভালো গণিত বই কোনটি?
উত্তরঃ চাকরির প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে ভালো গণিত বই হচ্ছে- ম্যাথ ককটেল।

প্রশ্নঃ ইংরেজি বেসিক থেকে শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো চাকরির বই কোনটি?
উত্তরঃ ইংরেজি বেসিক থেকে শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো চাকরির বই হচ্ছে- NEED ইংলিশ গ্রামার।

শেষ আলোচনা

নতুনদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে এই ছিল আজকের আলোচনা। আমি আশা করছি আপনাদের বোঝাতে পেরেছি কিভাবে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সরকারি চাকরির প্রস্তুতি গ্রহণে যে সমস্ত বাধা গুলো আসতে পারে সেগুলো আমি এখানে আলোচনা করেছি যেন আপনারা সেই সমস্যাগুলো ওভারকাম করতে পারেন এবং পুনঃউদ্যমে আসা ও ভরসা রেখে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url