গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | Mathematics viva questions

গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন গুলো আমি এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। আপনারা যারা গণিত বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন তারা অবশ্যই নিচের এই বেসিক প্রশ্নগুলো পড়ে যাবেন। কারণ চাকরির ভাইভা বোর্ডে আপনাকে গণিত বিষয়ের উপর নিচের এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই ধরবে।
গণিত-সম্পর্কিত-ভাইভা-প্রশ্ন
গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন ভালোভাবে আয়ত্ত করার জন্য আপনাকে বাস্তব সংখ্যা অধ্যায়টি খুব গুরুত্ব সহকারে অধ্যায়ন করতে হবে। কারণ ভাইভা পরীক্ষাতে এই অধ্যায় থেকেই ৯০% প্রশ্ন করা হয়।

সূচিপত্রঃ গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

গণিত বিষয় থেকে এই আর্টিকেলে আপনি যে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন তা একন ধরে দেখে নিন-

ভূমিকা

গণিত বিষয়ের উপরে ভাইভা প্রশ্নগুলো খুব কম হয়ে থাকে। কারণ গণিত বিষয়ে ব্যাখ্যা মূলক প্রশ্ন থাকে না। গণিত বিষয়ের উপর যে ভাইভা গুলো আপনাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে সেগুলো বেশিরভাগই বাস্তব সংখ্যা অধ্যায়ের।
Mathematics-viva-questions
তাই বাস্তব সংখ্যা অধ্যায়টি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে আপনাকে মনোযোগ দিয়ে পড়ে ফেলতে হবে। আমি এই আর্টিকেলে বাস্তব সংখ্যা অধ্যায় থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাসিক তথ্যগুলো দিয়ে দিয়েছি।


কিন্তু তারপরেও আপনাকে বেশি বেশি প্র্যাকটিস করতে হবে, কারণ এই অধ্যায়ের প্রশ্নগুলো মনে রাখা একটু জটিল। তাই খাতায় নোট করে করে বাস্তব সংখ্যা অধ্যায়টি নিজের মত করে সাজিয়ে নিন এতে করে আপনার ভাইভা পরীক্ষা অনেক ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।

যারা গণিত বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স কমপ্লিট করেছেন তাদের ভাইভা পরীক্ষাগুলোতে কিছু স্পেসিফিক জায়গা থেকে প্রশ্ন করা হয়। এগুলো সাধারণত সংজ্ঞা প্রকৃতির হয়ে থাকে অথবা ছোট ছোট অংকের বিষয়বস্তু হয়ে থাকে।

প্রথম ৩০টি গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) অংক (Digit) কাকে বলে?
উত্তরঃ শূন্য থেকে নয় পর্যন্ত অর্থাৎ ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ এই দশটি প্রতীককে বলা হয় অংক (Digit)।

২) সার্থক অংক কাকে বলে?
উত্তরঃ ১ থেকে ৯ পর্যন্ত এ সকলকে বলা হয় সার্থক অংক।

৩) সাহায্যকারী অংক কাকে বলে?
উত্তরঃ শূণ্যকে সাহায্যকারী অংক বলা হয়। কারণ শূন্য অন্যের সাহায্য ছাড়া একা একা বসে না বা সংখ্যা গঠন করতে পারে না।

৪) সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ অনেকগুলো অংকের সমন্বয়ে যা গঠিত হয় সেটি সংখ্যা। বিস্তারিতভাবে বললে বলা যায়= দশটি অংক সহ আরো কতগুলো চিহ্ন যেমনঃ দশমিক বিন্দু, বর্গ, বর্গমূল ইত্যাদির সাহায্যের যা তৈরি হয় তাকে বলা হয় সংখ্যা।

৫) সংখ্যা এবং অংকের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ সংখ্যা হচ্ছে- ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২,১৩, ২০, ১৩২৬৭৪ ইত্যাদি।
অংক হচ্ছে- ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯। অর্থাৎ অংক শুধুমাত্র শূন্য থেকে নয় পর্যন্ত এই দশটা।

অর্থাৎ এই উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে সব অংক সংখ্যা হতে পারে কিন্তু সব সংখ্যা অংক হতে পারে না। শুধুমাত্র কিছু সংখ্যা অংক হয় যেমন ০ থেকে ৯ পর্যন্ত।

৬) সংখ্যা কত প্রকার?
উত্তরঃ সংখ্যা দুই প্রকার। যেমনঃ 
  • বাস্তব সংখ্যা এবং 
  • অবাস্তব সংখ্যা।
১০) বাস্তব সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ সকল মূলদ এবং অমূলদ সংখ্যাগুলোকে বলা হয় বাস্তব সংখ্যা। অথবা ধনাত্মক সংখ্যা, ঋণাত্মক সংখ্যা এবং শূন্য এগুলোকে বলা হয় বাস্তব সংখ্যা।

১১) বাস্তব সংখ্যা কত প্রকার?
উত্তরঃ বাস্তব সংখ্যা দুই প্রকার। যেমনঃ 
  • মূলদ সংখ্যা এবং 
  • অমূলদ।
১২) বাস্তব সংখ্যার উদাহরণ কি কি?
উত্তরঃ বাস্তব সংখ্যার উদাহরণ হচ্ছে- ১, ২, ৬, ১০, ১২, -১, -২, -৫, ০ ইত্যাদি।

১৩) মূলদ সংখ্যা কত প্রকার?
উত্তরঃ মূলদ সংখ্যা দুই প্রকার। যেমনঃ 
  • পূর্ণ সংখ্যা এবং 
  • ভগ্নাংশ সংখ্যা।
১৪) মূলদ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যাকে লব এবং হর দিয়ে প্রকাশ করা যায় তাকে মূলদ সংখ্যা বলে। অর্থাৎ সহজ ভাবে বলতে গেলে যে সংখ্যা ভাগ করা যায় তাকে মূলদ সংখ্যা বলে। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে যে সংখ্যাগুলোর শেষ আছে সেগুলোকে মূলদ সংখ্যা বলে। যেমনঃ
  • ৪.৫ = ৯/২
  • √২ = (√২)২ = ২
উপরের এই সংখ্যাগুলোর শেষ আমরা জানতে পারি।

১৫) মূলদ সংখ্যা চেনার উপায় গুলো কি কি?
উত্তরঃ প্রত্যেক পূর্ণ সংখ্যা একটি মূলদ সংখ্যা। যেমনঃ ৫ একটি মূলদ সংখ্যা কারণ এই পাঁচকে আমরা ভগ্নাংশ আকারে লিখতে পারবো।
  • স্বাভাবিক সংখ্যা, ০, প্রকৃত ও অপ্রকৃত ভগ্নাংশ এগুলোই মূলদ সংখ্যা।
  • যদি দশমিকের পরের ঘর গুলো গণনা করা যায় অর্থাৎ সসীম হয় তাহলে সেটি মূলদ সংখ্যা। যেমনঃ ৫.৪৩, ৪৫৬.৬৫ ইত্যাদি।
  • সকল পৌনঃকোণিক সংখ্যা হচ্ছে মূলদ সংখ্যা।
  • দশমিকের পরের ঘর গুলো যদি অভিন্ন আকারে অসীম হয় অর্থাৎ দশমিকের পরের সংখ্যাগুলো একই রকম হলে তা মূলদ সংখ্যা। যেমনঃ ৭.৫৫৫৫৫………।
  • যেকোনো পূর্ণবর্গ সংখ্যার বর্গমূল হচ্ছে মূলদ সংখ্যা। যেমনঃ রুট ১৬, রুট ৬৪ ইত্যাদি।
১৬) অমূলদ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যাগুলো ভাগ করা যাবে না সেগুলোই হচ্ছে অমূলদ সংখ্যা। যেমন √২, √৩, √৫। √২, √৩, √৫ এগুলোর শেষ আমরা জানতে পারি না। এছাড়া 'পাই এবং e' এই দুইটা অমূলদ সংখ্যা।
  • উদাহরণঃ √২, √৩, √৫, ২.৫৬৭………. চলতেই থাকে যার কোন শেষ নেই।
১৭) পূর্ণ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যাগুলো পূর্ণ থাকে অর্থাৎ মৌলিক ও যৌগিক হয় এগুলোই পূর্ণ সংখ্যা। এখানে দশমিক আসবে না এবং ভগ্নাংশ আসবেনা। পূর্ণ সংখ্যার মধ্যে আরও রয়েছে-
  • ধনাত্মক সংখ্যা
  • ঋণাত্মক সংখ্যা এবং 
  • অধানাত্মক সংখ্যা।
যেমনঃ +১, +২, +৩ এগুলো ধনাত্মক সংখ্যা, ০ হচ্ছে অঋণাত্মক সংখ্যা, -১ , -২, -৩ হচ্ছে ঋণাত্মক সংখ্যা। ০ ধনাত্মকও নয় আবার ঋণাত্মকও নয়।


১৮) পূর্ণ সংখ্যা কত প্রকার?
উত্তরঃ পূর্ণ সংখ্যা তিন প্রকার। যেমনঃ
  • ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যা
  • ঋণাত্মক পূর্ণ সংখ্যা এবং
  • নিরপেক্ষ পূর্ণ সংখ্যা
১৯) ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ এক থেকে অসীম পর্যন্ত সকল ধনাত্মক সংখ্যাকে বলা হয় ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যা।

২০) ঋণাত্মক পূর্ণ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ এক থেকে অসীম পর্যন্ত সকল ঋণাত্মক সংখ্যা কে বলা হয় ঋণাত্মক পূর্ণ সংখ্যা।

২১) নিরপেক্ষ পূর্ণ সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ যে পূর্ণ সংখ্যার উপর ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক শূন্যের কোন প্রভাব পড়ে না তাকে বলা হয় নিরপেক্ষ পূর্ণ সংখ্যা। যেমনঃ শুন্য।

২২) নিরপেক্ষ সংখ্যা কয়টি?
উত্তরঃ নিরপেক্ষ সংখ্যা একটি। যেমনঃ শূন্য (০)।

২৩) শূন্য কেমন সংখ্যা?
উত্তরঃ শূন্য একটি পূর্ণ সংখ্যা।

২৪) ভগ্নাংশ সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যা ভগ্নাংশ আকারে বা দশমিক আকারে থাকবে সেগুলোই ভগ্নাংশ সংখ্যা।

২৫) যৌগিক সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যাগুলোকে একের অধিক সংখ্যা দিয়ে ভাঙ্গা যায় বা ভাগ করা যায় তাদেরকে বলা হয় যৌগিক সংখ্যা। যেমনঃ ৪,৬,৮,৯,১০,১২………অসীম।

২৬) মৌলিক সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সংখ্যাকে এক এবং শুধুমাত্র ওই সংখ্যা ছাড়া আর অন্য কোন সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা যায় না তাকেই মৌলিক সংখ্যা বলে। যেমনঃ ২, ৫, ৩, ৭ ইত্যাদি।

২৭) মৌলিক সংখ্যা কখনো কি হয় না?
উত্তরঃ মৌলিক সংখ্যা কখনো ঋণাত্মক হয় না।

২৮) মৌলিক সংখ্যার সেট কিরূপ হয়?
উত্তরঃ মৌলিক সংখ্যার সংখ্যা সমূহ নির্দিষ্ট নয় অর্থাৎ মৌলিক সংখ্যা অসীম।

২৯) ১ সংখ্যাটি কি সংখ্যা?
উত্তরঃ ১ সংখ্যাটি মৌলিকও না আবার যৌগিকও নয়।
  • ১ হচ্ছে সবচেয়ে আদি সংখ্যা।
  • ১ হচ্ছে স্বাভাবিক সংখ্যা।
  • ১ হচ্ছে স্বাভাবিক সংখ্যার ক্ষুদ্রতম সদস্য।
৩০) শূন্য শব্দটির আবিষ্কারক কে?
উত্তরঃ শূন্য শব্দটির আবিষ্কারক আর্যভট্ট এবং ব্রহ্মগুপ্ত। তবে অনেকেই আর্যভট্টকে শুন্য আবিষ্কারক বলেন না কারণ ব্রহ্মগুপ্ত সর্বপ্রথম শূন্যের তত্ত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্যভট্ট কোন তত্ত্ব দেয়নি।

দ্বিতীয় ২০টি গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) সহমৌলিক কি?
উত্তরঃ যদি দুইটা সংখ্যার মধ্যে উৎপাদকের মিল থাকে তখন তাকে সহমৌলিক বলে। অর্থাৎ অংক করার সময় এক কমন থাকলে ঐটাই সহ মৌলিক সংখ্যা হবে। আরো ভালোভাবে বলা যায়- যখন দুটি সংখ্যার গসাগু এক হয় তখন সেটিকে সহ মৌলিক সংখ্যা বলা হয়।

২) গসাগু এর ইংরেজি অর্থ কি?
উত্তরঃ গসাগু এর ইংরেজি অর্থ হচ্ছে HCF (Highest Common Factor)।

৩) লসাগু এর ইংরেজি অর্থ কি?
উত্তরঃ লসাগু এর ইংরেজি অর্থ হচ্ছে LCM (Least Common Multiple)।

৪) ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সর্বমোট কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সর্বমোট ২৫ টি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে।

৫) ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা চারটি। যেমনঃ ২, ৩, ৫, ৭।

৬) ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা চারটি। যেমনঃ ১১, ১৩, ১৭, ১৯।

৭) ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা দুইটি। যেমনঃ ২৩, ২৯।

৮) ৩১ থেকে ৪০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কয়টি?
উত্তরঃ ৩১ থেকে ৪০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা দুইটি। যেমনঃ ৩১, ৩৭।

৯) ৪১ থেকে ৫০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কয়টি?
উত্তরঃ ৪১ থেকে ৫০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা ৩টি। যেমনঃ ৪১, ৪৩, ৪৭।

১০) ৫১ থেকে ৬০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৫১ থেকে ৬০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে দুইটি। যেমনঃ ৫৩, ৫৯।

১১) ৬১ থেকে ৭০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৬১ থেকে ৭০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে দুইটি। যেমনঃ ৬১, ৬৭।

১২) ৭১ থেকে ৮০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে কতটি?
উত্তরঃ ৭১ থেকে ৮০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে তিনটি। যেমনঃ ৭১, ৭৩, ৭৯।

১৩) ৮১ থেকে ৯০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৮১ থেকে ৯০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে দুইটি। যেমনঃ ৮৩, ৮৯।

১৪) ৯১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৯১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে ১টি। যেমনঃ ৯৭।

১৫) সর্বপ্রথম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ সর্বপ্রথম মৌলিক সংখ্যা হচ্ছে ২।

১৬) সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম বা সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা হচ্ছে ২।

১৭) একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ সকল মৌলিক সংখ্যা বিজড়। কিন্তু ২ শুধুমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা।

১৮) দুই অঙ্কের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ দুই অঙ্কের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা হচ্ছে ১১।

১৯) দুই অঙ্কের সবচেয়ে বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ দুই অঙ্কের সবচেয়ে বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা হচ্ছে ৯৭।

২০) দুই অঙ্কের বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা এবং দুই অঙ্কের ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যার পার্থক্য কত?
উত্তরঃ দুই অঙ্কের বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা এবং দুই অঙ্কের ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যার পার্থক্য হচ্ছে ৯৭-১১ = ৮৬।

তৃতীয় ২০টি গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) ১০১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সর্বমোট কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১০১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সর্বমোট ২১টি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে।

২) ১০১ থেকে ১১০ পর্যন্ত কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১০১ থেকে ১১০ পর্যন্ত চারটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে। যেমনঃ ১০১, ১০৩, ১০৭, ১০৯।

৩) ১১১ থেকে ১২০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১১১ থেকে ১২০ পর্যন্ত একটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে। যেমনঃ ১১৩।

৪) ১২১ থেকে ১৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১২১ থেকে ১৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে একটি। যেমনঃ ১২৭।

৫) ১৩১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১৩১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে। যেমনঃ ১৩১, ১৩৭, ১৩৯।

৬) ১৪১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১৪১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত একটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে। যেমনঃ ১৪৯।

৭) ১৫১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১৫১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে ২টি। যেমনঃ ১৫১, ১৫৭।

৮) ১৬১ থেকে ১৭০ পর্যন্ত কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১৬১ থেকে ১৭০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে ২টি। যেমনঃ ১৬৩, ১৬৭।

৯) ১৭১ থেকে ১৮০ পর্যন্ত কতটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে?
উত্তরঃ ১৭১ থেকে ১৮০ পর্যন্ত দুইটি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে। যেমনঃ ১৭৩, ১৭৯।

১০) ১৮১ থেকে ১৯০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১৮১ থেকে ১৯০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা ১টি। যেমনঃ ১৮১।

১১) ১৯১ থেকে ২০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১৯১ থেকে ২০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা রয়েছে চারটি। যেমনঃ ১৯১, ১৯৩, ১৯৭, ১৯৯।

১২) তিন সংখ্যার ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ তিন সংখ্যার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যাটি হচ্ছে ১০১।

১৩) তিন সংখ্যার বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা কোনটি?
উত্তরঃ তিন সংখ্যার বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা হচ্ছে ৯৯৭।

১৪) তিন সংখ্যার বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা এবং ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যার পার্থক্য কত?
উত্তরঃ তিন সংখ্যার বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা এবং ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা পার্থক্য হচ্ছে ৯৯৭-১০১ = ৮৯৬।

১৫) বর্গমূল কয়টি পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায়?
উত্তরঃ বর্গমূল দুটি পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায়। যেমনঃ 
  • উৎপাদকের সাহায্য এবং 
  • ভাগের সাহায্যে।
১৬) প্রাকৃতিক সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ গণনার জন্য ব্যবহৃত সমস্ত ধরনের সংখ্যাকে বলা হয় প্রাকৃতিক সংখ্যা। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক সংখ্যায় ০ আসবে না। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সংখ্যা এক থেকে শুরু হয়ে অসীম পর্যন্ত চলতে থাকে। যেমনঃ ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১........................অসীম।

১৭) অসীম এর ইংরেজি অর্থ কি?
উত্তরঃ অসীম এর ইংরেজি অর্থ হচ্ছে The infinite.

১৮) জোড় সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ দুই দ্বারা বিভাজ্য সকল প্রাকৃতিক সংখ্যাকে বলা হয় জোড় সংখ্যা। যেমনঃ
২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২, ১৪...............অসীম।

১৯) বিজোড় সংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ দুই দ্বারা বিভাজ্য নয় এমন সকল প্রাকৃতিক সংখ্যাকে বলা হয় বিজোড় সংখ্যা। যেমনঃ
১, ৩, ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩……………অসীম।

২০) বাংলাদেশে গণিতের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ বাংলাদেশে গণিতের জনক বলা হয় মোহাম্মদ কায়কোবাদকে।

ভগ্নাংশের গণিত সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) ভগ্নাংশ কাকে বলে?
উত্তরঃ দুটি পূর্ণ সংখ্যাকে অনুপাত বা ভাগ করার মাধ্যমে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ভগ্নাংশ। সাধারণ গণিত বই এর তথ্য মোতাবেক আরো সহজ ভাবে বললে বলা যায়- যার লব এবং হর রয়েছে সেটিই ভগ্নাংশ।
শেষ-১০টি-গণিত-সম্পর্কিত-ভাইভা-প্রশ্ন
২) ভগ্নাংশ কত প্রকার?
উত্তরঃ ভগ্নাংশ ২ প্রকার। যেমনঃ 
  • সাধারণ ভগ্নাংশ এবং 
  • দশমিক ভগ্নাংশ।
৩) সাধারণ ভগ্নাংশ কত প্রকার?
উত্তরঃ সাধারণ ভগ্নাংশ তিন প্রকার। যেমনঃ প্রকৃত ভগ্নাংশ, অপ্রকৃত ভগ্নাংশ এবং মিশ্র ভগ্নাংশ।
প্রকৃত-অপ্রকৃত এবং মিশ্র ভগ্নাংশের উদাহরণঃ
  • প্রকৃত ভগ্নাংশ = ২/৩ লব যদি হর থেকে ছোট হয়।
  • অপ্রকৃত ভগ্নাংশ = ৩/২ লব যদি হর থেকে বড় হয়।
  • মিশ্র ভগ্নাংশ = ১ ১/২, ৫ ৪/৫, ৭ ৩/৫।
৪) দশমিক ভগ্নাংশ কত প্রকার?
উত্তরঃ দশমিক ভগ্নাংশ দুই প্রকার। যেমনঃ সসীম এবং অসীম।
সসীম এবং অসীম ভগ্নাংশের উদাহরণঃ
  • সসীম ভগ্নাংশ= যার শেষ আছে অর্থাৎ যেটা একসময় শেষ হয়ে যায় এটা সসীম ভগ্নাংশ। যেমনঃ ৪.৪৫।
  • অসীম ভগ্নাংশ= যার কোন শেষ নাই অর্থাৎ চলতেই থাকে সেটা হচ্ছে সসীম ভগ্নাংশ। যেমনঃ ২.৪৬৭...।
৫) অসীম ভগ্নাংশ কত প্রকার?
উত্তরঃ অসীম ভগ্নাংশ দুই প্রকার। যেমনঃ অসীম আবৃত এবং অসীম অনাবৃত।
অসীম আবৃত এবং অসীম অনাবৃত ভগ্নাংশের উদাহরণঃ
  • অসীম আবৃতঃ যাকে পৌনঃপুনিকভাবে প্রকাশ করা যায়। যেমনঃ ২.৫৫৫৫৫।
  • অসীম অনাবৃতঃ ২.৫৬৭……।

    গণিতে ভাল ভাইভা দেওয়ার জন্য কিছু পরামর্শ

    আপনি যদি গণিতে ভালো ভাইভা পরীক্ষা দিতে চান তাহলে আপনাকে দশমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো জানতে হবে। এছাড়া বীজগণিতের বিভিন্ন সূত্র গুলো দেখে যেতে হবে। এছাড়া ভগ্নাংশ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য এবং অংক আপনাকে দেখে যেতে হবে।


    কারণ ভাইভা বোর্ডে ছোট ছোট বিভিন্ন ধরনের অংক গুলো আপনাকে করতে বলতে পারে। আপনি গণিত বিভাগের স্টুডেন্ট হয়ে যদি এই ছোট ছোট অংক গুলো না পারেন তাহলে আপনি চাকরির পরীক্ষায় টিকবেন না।

    সুতরাং আপনি যদি গণিত বিভাগের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে ভাইভা বোর্ডে আপনাকে যে সমস্ত ছোট ছোট অংক গুলো দিতে পারে সেগুলো হলো-
    • দশমিকের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ
    • ভগ্নাংশের যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ
    • বর্গমূল
    • ঘনমূল
    • লসাগু এবং লসাগু
    • ত্রিকোণমিতির সূত্র সমূহ
    • বীজগণিতের সূত্র সমূহ

    FAQs

    প্রশ্নঃ গণিত শব্দের অর্থ কি?
    উত্তরঃ গণিত শব্দের অর্থ হচ্ছে- বিজ্ঞান, জ্ঞান ও শিক্ষণ।

    প্রশ্নঃ কাকে গণিতের জনক বলা হয়?
    উত্তরঃ গণিতের জনক বলা হয়- আর্কিমিডিসকে।

    প্রশ্নঃ পার্টিগণিতের জনক কে?
    উত্তরঃ পার্টিগণিতের জনক হচ্ছে- আর্যভট্ট।

    প্রশ্নঃ বীজগণিতের জনক কে?
    উত্তরঃ বীজগণিতের জনক হচ্ছে- আল-খাওয়ারিজমি।

    শেষ আলোচনা

    আমি উপরে গণিত সম্পর্কিত যে সকল প্রশ্ন গুলো দিয়েছি এগুলো এগুলো গণিতের বেসিক সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন। উপরের এই প্রশ্নগুলো ছাড়া গণিতের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আর নেই। যদিও থাকে সেগুলো ভাইভা পরীক্ষায় ধরবে না। ভাইভা পরীক্ষায় ওপরের এই বেশি প্রশ্নগুলো থেকেই ৯০% প্রশ্ন আসবে। উপরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পারার জন্য আপনাকে বাস্তব সংখ্যা ভালোভাবে পড়তে হবে যা আমি ইতিমধ্যেই আপনাদের বলে দিয়েছি।
    এই পোস্ট শেয়ার করুন
    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url