নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ | নামাজ ভঙ্গের ৩১টি কারণ

আপনি কি নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ দেখতে চান? তাহলে আপনি আজকে ঠিক জায়গায় এসেছেন কারণ এখানে আমি চিত্রের মাধ্যমে সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করব কিভাবে আপনারা নামাজ আদায় করবেন। চিত্রের মাধ্যমে নামাজ পড়ার নিয়ম শিখলে নামাজ শুদ্ধভাবে আপনি পড়তে পারবেন। আপনি নামাজ আদায় করলেন কিন্তু নামাজ সঠিকভাবে না হলে আপনার নামাজ কবুল হবে না।

নামাজ-পড়ার-নিয়ম-ছবি-সহ
ঠিক এজন্যই আমি এই আর্টিকেলে ছেলে এবং মেয়ের উভয়ের নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ তুলে ধরব। এখান থেকে আপনি আরো জানবেন নামাজ ভঙ্গের ৩১টি কারণ। তাই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন যদি আপনি সালাত আদায়ের সবচেয়ে সঠিক এবং কার্যকর পদ্ধতি জানতে চান।

সূচিপত্রঃ নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ | নামাজ ভঙ্গের ৩১টি কারণ

এই আর্টিকেল থেকে নামাজ সম্পর্কে আপনি যা কিছু জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন অথবা যেখান থেকে পড়তে চান সেখানে ক্লিক করুন-

ছেলে এবং মেয়েদের নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ দেখে নিন

আমরা মুসলমানরা সকলেই নামাজ পড়ি কিন্তু আমাদের নামাজ পড়া কি আসলেই সঠিকভাবে হয়? নামাজ পড়ার পর নামাজ যদি সঠিক নিয়মে না হয় তাহলে সেই নামাজ থেকে নেকি পাওয়া যায় না। তাই সঠিকভাবে নামাজ পড়ার উপায় আমাদের ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। তবেই আমরা নামাজ পড়ে নেকি অর্জন করতে পারব। অন্যথায় অযথা নামাজ পড়ে কোন লাভ নেই।
ছেলে-এবং-মেয়েদের-নামাজ-পড়ার-নিয়ম
নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের এবং মেয়েদের নিয়ম একই রকম নয়। এজন্য আপনাদের চিত্রের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা শিখতে হবে। নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ প্রদান করার পর আমি নামাজের নিয়ত এবং দোয়া সমূহ আপনাদের নিচে দিয়ে দিব। তাই চিত্রসহ সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করার সঠিক নিয়ম প্রথমে জেনে নিন।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের নামাজ আদায়ের করার সঠিক নিয়ম চিত্রসহ-

নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে অবশ্যই আগে অজু করে আসতে হবে এবং নামাজের দাড়ানোর পর নিয়ত করতে হবে। কোন নামাজের পূর্বে কোন নিয়ত পড়তে হবে তা আমি এই আর্টিকেলে নিচে দিয়ে দিব। আর অজু করার সঠিক নিয়ম জানতে নিচের এই আর্টিকেলটি আগে পড়ুন।


এরপর নিচের স্টেপ গুলো অবলম্বন করতে হবে-

১) এক নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ সর্বপ্রথম কিবলামুখী হয়ে শান্তভাবে দাঁড়াতে হবে। প্রথমে ছেলেরা সোজা হয়ে উভয় পা সমান্তরাল রেখে দাঁড়াতে হবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে দুই পা কমপক্ষে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক করে দাঁড়াতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরা সোজা হয়ে উভয় পা মিশিয়ে দাঁড়াতে হবে। মেয়েদের দুই পা একসাথে থাকবে অর্থাৎ ফাঁকা থাকবে না।
কিবলামুখী-হয়ে-শান্তভাবে-দাঁড়ানো
মনে রাখবেন দাঁড়ানোর সময় এমন ভাবে দাঁড়াতে হবে যেন পায়ের আকৃতি ইংরেজি “V” অক্ষরের মতো হয়ে না যায়।

২) দুই নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ এরপর ছেলেরা দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে হবে এবং উভয় হাতের তালু কিবলামুখী রাখতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরা উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে হবে অর্থাৎ ছেলেদের কানের লতি পর্যন্ত এবং মেয়েদের কাঁধ পর্যন্ত।
উভয়-হাত-উঠানো
* যখন উভয় হাত কিবলার দিকে রেখে উঠাবেন তখন তাকবীরে তাহরীমা “আল্লাহু আকবার” বলতে হবে

মনে রাখবেন- উভয় হাত কিবলার দিকে রেখে তাকবীরে তাহরীমা “আল্লাহু আকবার” বলা ফরজ।

৩) তিন নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ এরপর ছেলেরা নাভির ঠিক নিচে হাত বাঁধবেন। হাত বাধার সময় প্রথমে বাম হাত রাখবেন এবং বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখবেন। ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল বাম হাতের কব্জি ধরবে এবং বাম হাতের পিঠের ওপর ডান হাতের বাকি তিন আঙ্গুল থাকবে। বুঝতে না পারলে চিত্র দেখুন।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরা হাত বাধার ক্ষেত্রে বুকের উপর হাত বাঁধবে এবং হালকাভাবে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখতে হবে।
বুকের-উপর-হাত-বাঁধা
* দাঁড়ানো অবস্থায় চোখের দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখতে হবে। তারপর ছানা পড়তে হবে, আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে, বিসমিল্লাহ পড়তে হবে, সূরা ফাতিহা সম্পূর্ণটা পড়তে হবে, সূরা ফাতিহার শেষে আমিন বলতে হবে। এরপর পুনরায় বিসমিল্লাহ বলে যেকোনো একটি সূরা আপনাকে পড়তে হবে।

আপনি কোন সূরা পড়বেন তা দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন- সূরা

মনে রাখবেন- ছানা পড়া সুন্নত, আউযুবিল্লাহ পড়া সুন্নত, বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত, সম্পূর্ণ সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব, সূরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা সুন্নত, সূরা মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত, সূরা মিলানো ওয়াজিব।

৪) চার নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ সুরা পড়া শেষ হয়ে গেলে “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যেতে হবে। এক্ষেত্রে ছেলেদের পিঠ, কোমর ও মাথা একই সমান রাখতে হবে অর্থাৎ সোজাভাবে রাখতে হবে এবং উভয় হাতের আঙ্গুলি ফাঁকা রেখে হাটু ধরে থাকতে হবে। বুঝতে না পারলে চিত্র দেখুন।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরা যখন রুকুতে যাবেন তখন সামান্য ঝুঁকে রুকু আদায় করবেন। অর্থাৎ মেয়েদের বেশি নিচু হয়ে ঝুঁকে রুকু আদায় করা যাবেনা।
রুকু-দেওয়া
* “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যাবার পর রুকুতে কমপক্ষে তিনবার তাছবিহ “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” পড়তে হবে। তবে আপনি চাইলে বিজোড় সংখ্যায় পাঁচ বার কিংবা সাতবার পড়তে পারেন। অর্থাৎ আপনি যতবারই পড়েন সেটা যেন বিজোড় সংখ্যায় হয়। যখন রুকু অবস্থায় থাকবেন তখন আপনার চোখের দৃষ্টি অবশ্যই দুই পায়ের মাঝখানে রাখবেন।

মনে রাখবেন- রুকুতে যাওয়ার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নত এবং রুকু করা ফরজ। “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” পড়া সুন্নত।

৫) পাঁচ নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ রুকু শেষ হয়ে গেলে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” এবং “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ এক্ষেত্রে ছেলেদের এবং মেয়েদের একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে অর্থাৎ এখানে কোন অমিল নেই।

* "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা" বলার এক সেকেন্ড বা দুই সেকেন্ড পর “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলতে হবে।

মনে রাখবেন- রুকু শেষে দাঁড়ানো ওয়াজিব, “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” এবং “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা সুন্নত।

৬) ছয় নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদায় যেতে হবে। সিজদাতে যাওয়ার সময় প্রথমে মাটিতে হাঁটু লাগবে, এরপরে হাত, তারপরে নাক এবং সবশেষে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। সেজদার সময়ও উভয় পা মাটির সাথে লাগানো থাকবে এবং পা দুইটা মিলিয়ে আঙ্গুলি সমূহ কেবলার দিকে রেখে পায়ের পাতা খাড়া করে রাখতে হবে।

পেট রান থেকে আলাদা রাখতে হবে। হাটু থেকে মাথা যথেষ্ট দূরে রাখতে হবে এবং কোনোই মাটির সাথে লাগিয়ে রাখা যাবে না অর্থাৎ কোনই মাটি থেকে উপরে থাকবে। এমন ভাবে সিজদা দিতে হবে যেন উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কান বরাবর থাকে এবং নাক বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বয়ের মাঝখানে থাকে। হাতের আঙ্গুলগুলি একটি অপরটির সাথে মিশিয়ে রাখতে হবে।

যখন সিজদা দিবেন তখন আপনাকে সর্বনিম্ন তিনবার বলতে হবে “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”। আপনি চাইলে পাঁচ বার অথবা সাত বার বলতে পারেন। সিজদা থেকে ওঠার সময় আবারও “আল্লাহু আকবার” বলতে হবে। সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম কপাল উপরে তুলবেন, তারপরে নাক, তারপরে হাত মাটি থেকে তুলতে হবে।

প্রথম সিজদা দেওয়া হয়ে গেলে দ্বিতীয় সিজদা দেওয়ার আগে এই দোয়াটি পড়তে হবে।

"আল্লা-হুম্মাগাফেরলী ওয়ার হামনী ওয়া আফেনী ওয়ার যুক্বনী ওয়াহ দিনী"।

তারপর আবার পুনরায় সেজদা দিয়ে তিনবার বা পাচবার বা সাতবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” বলতে হবে। এভাবে দুইবার সিজদা দিতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েদেরও সেম একই পদ্ধতিতে সিজদা দিতে হবে কিন্তু এক্ষেত্রে মেয়েদের হাতের উভয় কোনোই মাটির সাথে লাগানো থাকবে। কিন্তু ছেলেদের উভয় কোনোই মাটির সাথে লাগানো থাকবে না। 

এছাড়া মেয়েদের দু পায়ের পাতা ডানদিকে মাটিতে বিছিয়ে রাখতে হবে এবং যতদূর সম্ভব আঙ্গুলের মাথাগুলো কেবলামুখি রাখার চেষ্টা করতে হবে। মেয়েদের মাথা হাটুর নিকটবর্তী রাখতে হবে এবং উরু পায়ের নলার সাথে ও হাতের বাজু দেহের সাথে মিলিয়ে রাখতে হবে। সিজদাতে ছেলেদের এবং মেয়েদের শুধু এটুকুই পার্থক্য রয়েছে।
সিজদা-দেওয়া
* যখন সিজদা দিয়ে থাকবেন তখন চোখের দৃষ্টি নাকের দিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে।

মনে রাখবেন- দুই সিজদা করা ফরজ, সিজদা দেওয়ার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নত।

৭) সাত নম্বর স্টেপঃ

এক রাকাত নামাজ শেষ হলো। এখন আপনাকে পুনরায় “আল্লাহু আকবার” বলে উঠে দাঁড়াতে হবে দ্বিতীয় রাকাত নামাজ পড়ার জন্য এবং এক থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত স্টেপ গুলো পুনরায় পর্যায়ক্রমিক ভাবে শেষ করতে হবে।

৮) আট নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ এক রাকাত শেষ হওয়ার পরে যখন পুনরায় উপরের স্টেপ গুলো করে দ্বিতীয়বার সিজদা দেওয়ার জন্য বসবেন, তখন বসা অবস্থায় চোখের দৃষ্টি হাতের উপর থাকবে এবং বাম পা বিছিয়ে দিয়ে বাম পায়ের উপর বসে, ডান পা খাড়া করে আঙ্গুলগুলি ভাঁজ করে কিবলামুখী করে রাখতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরা যখন এক রাকাত পড়ে পুনরায় উপরের স্টেপ গুলো করে বসবেন, তখন নিতম্বের উপরে বসবেন এবং উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবেন।
বসে-থাকা
* এখন বসে থেকে আপনাকে "তাশাহুদ" পড়তে হবে। তাশাহুদ পড়ার সময় যখন শাহাদাত শব্দে পৌঁছবে তখন “লা” বলার সাথে সাথে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল কে উপরের দিকে ওঠাতে হবে এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমা গুলি হালকা গোল বানিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল গুটিয়ে রাখতে হবে। যখন “ইল্লাল্লাহ” বলবে তখন শাহাদাত আঙ্গুলী পুনরায় নিচে নামিয়ে নিতে হবে।

আপনি যদি ৩ রাকাত বা ৪ রাকাত নামাজ পড়েন তবে “আবদুহু ওয়ারাসুলূহু” পর্যন্ত পাঠ করে আপনাকে পুনরায় "আল্লাহু আকবার" বলে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত শেষ করতে হবে।

এভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত শেষে আবারো বসবেন এবং পুনরায় "তাশাহুদ" পড়তে হবে। তাশাহুদ শেষ হয়ে গেলে এখন দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে। এরপর দোয়া মাসূরা পড়তে হবে।

মনে রাখবেন- সিজদার হওয়ার পর সোজা হয়ে বসা ওয়াজিব। তারপর দ্বিতীয় সিজদা করা ফরজ এবং এইভাবে দুই রাকাত পূর্ণ হলে বসে আত্তাহিয়াতু পাঠ করা ওয়াজিব। যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয় তবে আত্তাহিয়াতুর পর দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পড়া সুন্নত।

৯) নয় নম্বর স্টেপঃ

ছেলেদের পদ্ধতিঃ এখন ডান দিকে মাথা নিয়ে চোখের দৃষ্টি ডান হাতের ওপর রেখে ঘাড় পর্যন্ত আস্তে আস্তে নিয়ে এসে কাঁধের উপর দৃষ্টি রেখে শেষ করতে হবে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলতে হবে এবং এর পরে বাম দিকে মাথা নিয়ে পুনরায় একই পদ্ধতিতে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে সালাম ফেরাতে হবে। সালাম ফেরানোর সময় মুসল্লী এবং ফেরেশতাদের নিয়ত করতে হবে। সালাম ফেরানো হয়ে গেলে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

মেয়েদের পদ্ধতিঃ মেয়েরাও একই পদ্ধতিতে সালাম ফিরাবে।
সালাম-ফেরানো
মনে রাখবেন- সালাম ফেরানো ওয়াজিব।

নামাজে ভুল হলে কি করতে হবে?

নামাজ আদায় করার সময় কিছু ফরজ, কিছু ওয়াজিব, কিছু সুন্নত এবং কিছু মোস্তাহাব রয়েছে। যেকোনো একটি ফরজ যদি কারো বাদ পড়ে যায় তাহলে তাকে পুনরায় নতুনভাবে নামাজ আদায় করতে হবে।


আর স্বেচ্ছায় যদি কেউ ওয়াজিব বাদ দেয় তবে সে বড় গুনাহের কাজ করবে এবং নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।

আর যদি ওয়াজিব ভুল হয় তাহলে “সহু সেজদা” দিতে হবে। সুন্নত সমূহ বাদ পড়লে নামাজ হয়ে যায় কিন্তু নেকি কম হবে।

নামাজ ভঙ্গের ৩১টি কারণ

কি কি কারণে নামাজ ভঙ্গ হতে পারে সেগুলো আমাদের জানা প্রয়োজন। এজন্য আমি এখন নামাজ ভঙ্গের কারণগুলো আলোচনা করব।
নামাজ-ভঙ্গের-৩১টি-কারণ
  • নামাজ আদায়রত অবস্থায় কথা বললে।
  • নামাজের মধ্যে স্বেচ্ছায় কিংবা ভুলে পানাহার করলে।
  • নামাজে থাকা অবস্থায় কাউকে সালাম দিলে।
  • কারো সালামের উত্তর দিলে।
  • অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাশি দিলে।
  • অনর্থকভাবে নামাজের মধ্যে উফ, আহ শব্দ করলে।
  • দেখে দেখে কোরআন পড়লে।
  • নিষ্প্রয়োজনে কান্নাকাটি করলে।
  • শাস্তির ভয়ে যদি নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলে তবে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে।
  • নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসলে।
  • নামাজের মধ্যে পার্থিব কোন কিছু প্রার্থনা করলে।
  • নামাজের কোন ফরজ কাজ পরিত্যাগ করলে।
  • সতরের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ খুলে গেলে।
  • নামাজের মধ্যে কোন লেখা দেখে পড়লে। তা কোরআন শরীফ হোক অথবা অন্য কোন লেখা হোক।
  • কিবলার দিকে হতে অন্যদিকে ছিনা ঘুরে গেলে।
  • কারো সুসংবাদ শুনে সুবহানাল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ বললে।
  • কারো দুঃসংবাদ শুনে ইন্নালিল্লাহ বললে।
  • বিনা অজুতে নামাজ আদায় করলে।
  • নামাজের কোন কাজ বেশি সময় ধরে করলে। যেমনঃ অনেক সময় ধরে শরীর চুলকালে।
  • কোন হাচি দাতার আলহামদু লিল্লাহর উত্তরে ইয়ার হামুকাল্লাহ বললে।
  • মোক্তাদী ব্যতীত অন্য লোকের লোকমা গ্রহণ করলে।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের মধ্যে কোরআন শরীফ ভুল পড়লে।
  • নাপাক জায়গায় সিজদা করলে।
  • নামাজের মধ্যে নিদ্রায় ঢলে পড়লে।
  • সিজদা অবস্থায় দুই পা ভূমি হতে উঠিয়ে ফেললে।
  • নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়লে।
  • নামাজের মধ্যে ছোট শিশুকে দূরে ঠেলে দিলে অথবা ছোট শিশুকে কোলে তুলে দুগ্ধ পান করালে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
  • নামাজের মধ্যে চুল বাধলে অথবা কোন কাজ করলে কিংবা তাসবীহ পরিমাণ দেরি করলে।
  • পকেটে নাপাক বস্ত্র থাকলে।
  • ইমামের নামাজ নষ্ট হলে যদি ইমাম না বদলিয়ে বের হয়ে যান তাহলে মুক্তাদির নামাজ নষ্ট হবে।
  • কোরআন ভুল পড়লে।
  • ইমামের আগে পড়লে মুক্তাদির নামাজ নষ্ট হবে।
  • ইমাম লোকমা গ্রহণ না করলে, ইমাম ও মুক্তাদির সকলের সালাত নষ্ট হবে।

নামাজের নিয়্যত সমূহ

ফজরের নামাজ
ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত। প্রথমে দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তারপর দুই রাকাত ফরজ।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
ফজরের-দুই-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
ফজরের দুই রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
1ফজরের-দুই-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
2ফজরের-দুই-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
যোহরের নামাজ
যোহরের নামাজ মোট ১০ রাকাত। প্রথম চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তারপর চার রাকাত ফরজ। আবার দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এরপরে দুই রাকাত নফল পড়া ভালো।

যোহরের চার রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
যোহরের-চার-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
যোহরের চার রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
যোহরের-চার-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
যোহরের দুই রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
যোহরের-দুই রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
আছরের নামাজ
আসরের নামাজ মোট আট রাকাত। প্রথম চার রাকাত সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা, তারপর চার রাকাত ফরজ। তবে গাইরে মুয়াক্কাদা আদায় না করলে ক্ষতি নেই। কিন্তু আদায় করলে সওয়াব আছে।

আছরের চার রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
আছরের-চার-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
2আছরের-চার-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
আছরের চার রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
আছরের-চার-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
মাগরিবের নামাজ
মাগরিবের নামাজ মোট পাঁচ রাকাত। প্রথম তিন রাকাত ফরজ এবং পরের দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এরপরে দুই রাকাত নফল পড়া ভালো।

মাগরিবের তিন রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
মাগরিবের-তিন-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
মাগরিবের-দুই-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
এশার নামাজ 
এশার নামাজ মোট ৬ রাকাত। অবশ্য বেতর নফল ও অন্যান্য মিলিয়ে কেউ কেউ ১৭ রাকাতের কথা বলেছেন।

সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা চার রাকাত যা না পড়লে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। ফরজ চার রাকাত। তারপর সুন্নাতে মুয়াক্কাদা দুই রাকাত যা অবশ্যই আদায় করতে হবে। এরপর নফল দুই রাকাত। এর পরে কেউ কেউ দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নেওয়াকে উত্তম বলেছেন। বিতর নামাজ তিন রাকাত।

এশার চার রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
1এশার-চার-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
2এশার-চার-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
এশার চার রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
এশার-চার-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
এশার দু রাকাত সুন্নতের নিয়্যতঃ
এশার-দু-রাকাত-সুন্নতের-নিয়্যত
বিতরের তিন রাকাত ওয়াজিবের নিয়্যতঃ
বিতরের-তিন-রাকাত-ওয়াজিবের-নিয়্যত
জুম্মা
জুম্মার নামাজ মোট ১০ রাকাত। চার রাকাত কাবলাল মুজুয়া। দুই রাকাত ফরজ। চার রাকাত বা'দাল মুজুয়া।

জুম্মার চার রাকাত ক্বাবালাল জুম্মার নিয়্যতঃ
জুম্মার-চার-রাকাত-ক্বাবালাল-জুম্মার-নিয়্যত
জুম্মার দুই রাকাত ফরজের নিয়্যতঃ
জুম্মার-দুই-রাকাত-ফরজের-নিয়্যত
জুম্মার চার রাকাত বা'দাল জুম্মার সুন্নতের নিয়্যতঃ
জুম্মার-চার-রাকাত-বা'দাল-জুম্মার-সুন্নতের-নিয়্যত
ক্বাযা
ক্বাযা নামাজের নিয়্যতঃ
ক্বাযা-নামাজের-নিয়্যত

নামাজের দোয়া সমূহ

নামাজের-দোয়া-চিত্র1
নামাজের-দোয়া-চিত্র2
নামাজের-দোয়া-চিত্র3
সূরা সমূহ
নামাজের-দোয়া-চিত্র4
নামাজের-দোয়া-চিত্র5
নামাজের-দোয়া-চিত্র6
নামাজের-দোয়া-চিত্র7

নামাজের ফরজ সমূহ

নামাজে মোট ১৩টি ফরজ। এদের মধ্যে বাইরে ফরজ ৭টি। যেমনঃ
  • শরীর পাক
  • পোশাক পাক
  • নামাজের স্থান পাক
  • সতর ঢেকে রাখা
  • নামাজের সময় হওয়া
  • কেবলামুখী হওয়া
  • নিয়্যত করা
নামাজের ভিতরে ফরজ ৬টি। যেমনঃ
  • তাকবীরে তাহরিমা বলা
  • দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা
  • নামাজে কিরায়াত পাঠ করা
  • রুকু করা
  • সিজদা করা
  • শেষ বৈঠক

নামাজের ১৪টি ওয়াজিব

নামাজের ১৪টি ওয়াজিব রয়েছে। যেমনঃ
  • সুরা ফাতিহা পড়া।
  • সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যে কোন সূরা পড়া।
  • রুকু ও সিজদায় এক তাজবীহ পরিমাণ দেরি করা।
  • রুকু হতে সোজা হয়ে খাড়া হওয়া।
  • দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা।
  • তিন অথবা চার রাকাত নামাজের দুই রাকাতের পরে বসা।
  • উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়াতু পাঠ করা।
  • ফরজ, মাগরিব, এশা ও জুম্মার ফরজ নামাজ এবং ঈদের নামাজে জোরে সুরা কেরাত। এছাড়া জোহর, আছর নামাজে সুরা কেরাত নিরবে পাঠ করা।
  • বিতরের নামাজে দোয়ায়ে কুন্নত পড়া।
  • দুই ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।
  • চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাত কেরাতের জন্য নির্দিষ্ট করা।
  • নামাজের ভিতরে ফরজ গুলো ধীরে সুস্থে আদায় করা।
  • মোক্তাদীগণের ইমামকে অনুসরণ করা।
  • সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

মাসআলা

সূর্যোদয়ের সময়, দুপুর বেলা মাথার উপর সূর্য থাকার সময় এবং সূর্যাস্তের সময় কোন প্রকার নামাজ পড়া জায়েজ নাই। তবে বিশেষ কারণে ওই দিনের আসর নামাজ সূর্যাস্তের সময় পড়া যায় কিন্তু মাকরূহ হবে।


নামাজে যদি উক্ত ফরজ সমূহের মধ্য হতে কোনটি ছুটে যায় তাহলে ওই নামাজ বাতিল হয়ে যায়। পুনরায় ওই নামাজ পড়তে হবে।

নামাজে ওয়াজিব সমূহের মধ্য হতে ভুলবশত কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে অথবা কোন ওয়াজিব তার নির্ধারিত জায়গা থেকে সরে গেলে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়।

নামাজের সুন্নত সমূহ

নামাজের সুন্নতে মুয়াক্কাদা ১২টি। যেমনঃ
  • দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠানো
  • দুই হাত বাধা
  • সানা পড়া
  • আউযুবিল্লাহ পড়া
  • বিসমিল্লাহ পড়া
  • আলহামদুর শেষে আমিন বলা
  • প্রত্যেক উঠা বসায় আল্লাহু আকবর বলা
  • রুকুর তাসবীহ পড়া
  • রুকু হতে ওঠার সময় সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদাহ বলা
  • সিজদার তাসবীহ পড়া
  • দুরুদ শরীফ পড়া
  • দোয়ায়ে মাসুরা পাড়া

FAQs

Q. সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদাহ এর অর্থ কি?
A. সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদাহ এর অর্থ হচ্ছে- যে কেউ আল্লাহর প্রশংসা করবে, আল্লাহ পাক তা শুনবেন।

Q. রাব্বানা লাকাল হামদ এর অর্থ কি?
A. রাব্বানা লাকাল হামদ এর অর্থ হচ্ছে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমারই প্রশংসা করছি।

Q. সুবহানা রাব্বিয়াল আলা এর অর্থ কি?
A. সুবহানা রাব্বিয়াল আলা এর অর্থ হচ্ছে- সর্বোপরি আমার প্রতিপালক আল্লাহই, তিনি পবিত্র।

শেষ আলোচনা

নামাজ পড়ার নিয়ম ছবি সহ খুব সুন্দরভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমি এখানে আপনাদের দিয়ে দিলাম। আপনারা যদি এখন থেকে এই নিয়ম অনুসরণ করে নামাজ পড়েন তাহলে ইনশাআল্লাহ নামাজ ভুল হবে না। এছাড়া নামাজ ভঙ্গের কারণগুলো নামাজ পড়ার পূর্বেই আমাদের জানা উচিত। কারণ নামাজ এমন একটি বিষয় যা সামান্য ভুল হলে সেই নামাজ কবুল না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভুলগুলো জেনে সঠিক পদ্ধতিতে আমাদের নামাজ পড়া উচিত।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url