বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ | ঈমান সম্পর্কে বিবরন

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপদেশ সমূহ আমাদের সকলের জানা উচিত এবং সেই মোতাবেক মেনে জীবনধারণ করা উচিত। আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক ইসলামিক উপদেশ রয়েছে যা আপনারা বিভিন্ন হাদিসের বইতে সুন্দরভাবে পেয়ে যাবেন। আমি এখানে আজকে, আমাদের বিশ্বনবীর গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি উপদেশ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।
বিশ্বনবী-হযরত-মুহাম্মদ-(সাঃ)-এর-উপদেশ
তাই আপনারা যদি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপদেশ গুলো সহজ ভাষায় বুঝে নিতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। এছাড়া উপদেশগুলো দেওয়ার পাশাপাশি আমি এখানে ঈমান সম্পর্কে বিবরণ নিয়ে কিছু আলোচনা করব।

সূচিপত্রঃ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ | ঈমান সম্পর্কে বিবরন

বিশ্বনবীর উপদেশ ও ঈমান সম্পর্কে আপনি এই আর্টিকেলে যে সমস্ত তথ্য পাবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপদেশ

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপদেশ মানুষের জীবনের সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক। তিনি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও বিনয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। অন্যের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির শিক্ষা দিয়েছেন। সত্য কথা বলা ও আমানত রক্ষা করার উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণেই রয়েছে শান্তিময় জীবন।
বিশ্বনবী-হযরত-মুহাম্মদ-(সাঃ)-এর-৪০টি-গুরুত্বপূর্ণ-উপদেশ
আমরা জানি মহানবী অনেক উপদেশ দিয়ে গেছেন। এ সমস্ত উপদেশগুলো আমাদের প্রতিদিনের চলার পথের পাথেয়। সবার উচিত কম করে হলেও মহানবীর এই চল্লিশটি বাণী বা উপদেশ মনে রাখা।ঠিক এজন্যই আমরা এখন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ জেনে নেব যেগুলো আপনাদের অবশ্যই জানা উচিত।


এখানে হাদিস থেকে আমাদের বিশ্ব নবীর ৪০টি উপদেশ তুলে ধরা হলো-
  • যে লোক দয়া করে না, সে দয়া পায় না।
  • কোমল হও কিন্তু কঠোর হইয়ো না।
  • তোমরা হিংসা বিবাদ থেকে দূরে থাকো অর্থাৎ হিংসা বিবাদ করোনা।
  • সকল ধরনের ভালো কাজ সমূহ দান হিসেবে পরিগণিত হয়।
  • আল্লাহতালা তোমার ধন দৌলত এবং চেহারা দেখবেন না, তিনি দেখেন তোমার মন, নিয়ত এবং কাজ।
  • যে মানুষজনকে ধোকা দেয়, সে আমার দলে নয়।
  • যে সমস্ত লোকেরা জুলুম করে জমি দখল করবে, সে সমস্ত লোকদের আল্লাহ কঠোর শাস্তি দিবেন।
  • তোমরা সমস্ত কাজে সবর ধারণ করো। কারণ যারা সবর ধারণ করেন আল্লাহ তাআলা তাদের ভালোবাসেন।
  • সব ধরনের লোভ থেকে দূরে থাকো কারণ লোভী ব্যক্তিরা দোজখে যাবে।
  • যে সমস্ত মানুষ পরিমিত পরিমাণ খরচ করে তারা অভাবে পড়ে না।
  • যার খাবার নেই তাকে খাবার দাও। পীড়িতদের সেবা করো। যার কাপড় নেই তাকে কাপড় দাও।
  • যে পেট ভরে খায় এবং তার পাড়া পড়শিরা অনাহারে থাকে সে আমার দলে নেই।
  • দাসদের আজাদ করো এবং মজলুমদের ফরিয়াদ শোনো।
  • মজলুমের বদ দোয়া থেকে বাঁচো কারণ মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে আড়াল নেই।
  • বেশি কথা বলো না কারণ কম কথা বলা উত্তম।
  • বিধবা এবং এতিমদের হক কেড়ে নিও না।
  • তোমরা সব সময় হালাল খাবে।
  • কেউ কাউকে হিংসা করো না। কারণ আগুন যেমন শুকনো কাঠ পুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি হিংসা সদ গুণাবলী কে পুড়িয়ে দেয়।
  • যা নিজে ভালবাসবে না তা অপর মানুষকে দিবে না।
  • তোমরা কখনো একে অপরের গীবত করো না।
  • ভালো আচরণের বদলে ভালো আচরণ পাওয়া যায়, আর ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা।
  • তোমরা একজন আরেকজনের দোষ খুঁজে বের করো না।
  • যে ব্যক্তির একমুখে দুই কথা সে সবচেয়ে খারাপ মানুষ।
  • আল্লাহ তাআলা তিনজন ব্যক্তির দোয়া সবচেয়ে বেশি শোনেন। যেমনঃ পিতা-মাতার দোয়া, মজলুমের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।
  • ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করোনা।
  • যে অধিক ঝগড়া করে, তাকে আল্লাহতালা ভালোবাসেন না।
  • গরিব ব্যক্তিদের খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকল ব্যক্তিদের সালাম দেওয়া সবচেয়ে ভালো কাজ।
  • যে ঘুষ খায় এবং যে ঘুষ দেয় উভয় ব্যক্তি দোযখের আগুনে পুড়বে।
  • দরকারের বেশি সবকিছু পরিহার করা ভালো।
  • মুনাফা করবে এমন আশায় কোন কিছু দীর্ঘদিন ধরে গুদামজাতকরণ করো না।
  • তোমাদের ভেতর সেই সবচেয়ে ভালো যে নিজের পরিবারের কাছেও ভালো।
  • যে লোক নিজেকে আরেক বংশের বলে দাবি করে এবং নিজের বংশের কথা গোপন রাখে সে আল্লাহর সাথে নাফরমানি করল।
  • যে জালিমকে সহায়তা করে সে ইসলাম থেকে বাদ হয়ে যায়।
  • যে লোক অহেতুক মামলা করে সে আল্লাহর কাছে খুব খারাপ একজন ব্যক্তি।
  • যে লোক আরেকজনকে উপদেশ দেয় কিন্তু নিজেই সে উপদেশ মেনে চলে না, কিয়ামতের দিন তার কঠোর শাস্তি হবে।
  • যার মুখের কথা আরেকজনকে আঘাত দেয়, সে আল্লাহতালার নাফরমানি করল।
  • যে ব্যক্তি পাড়াপড়শি ও পরিবার পরিজনের সাথে ভালো আচরণ করে, আল্লাহতালা তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। ভাই ভাই ঠাই ঠাই হইয়ো না অর্থাৎ মিলেমিশে থাকো।
আমাদের বিশ্বনবী আমাদের অনেক দরদীর একজন নবী। সেই নবীর কথা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। আমাদের কথায়-কাজে চলনে-বলনে তার আদেশ ও উপদেশ মেনে চলতে হবে। তবেই আমরা আমাদের মহানবীকে ভালোবাসতে পারবো।


এজন্য আসুন আমরা সবাই তার নামে দরুদ পড়ি-
সকল মহৎ গুণের যিনি আঁধার,
সীমাহীন রূপে যার দূর হয় আঁধার,
মনোহর যার আচার-আচরণ,
এসো সবাই দরুদ পড়ি তার নামে।

---- বলেছেন শেখ সাদী ----

ঈমান সম্পর্কে বিবরণ

ঈমান-সম্পর্কে-বিবরন

ঈমান কাকে বলে?

ঈমান আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে মুখে স্বীকৃতি ও অন্তরে বিশ্বাস এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন। অর্থাৎ মহান আল্লাহতালার যাবতীয় আদেশ এবং নিষেধ সমূহের উপর ও আল্লাহর প্রেরিত নবী, রাসুল, ফেরেশতা, আখেরাত ইত্যাদির উপর বিশ্বাস রেখে কাজে পরিণত করাকে ঈমান বলে। মনে রাখবেন ঈমান ছাড়া মুসলমান হওয়া যায় না।

ঈমানে মুজমাল

ঈমানে-মুজমাল
বাংলা উচ্চারণঃ আ-আম্নতু বিল্লা-হি কামাহুয়া বিয়াস্মা-ইহী ওয়া ছিফা-তিহী ওয়া ক্বাবিলতু জামি'আ আহকা-মিহী ওয়া আরকা-নিহী।

বাংলায় অনুবাদঃ আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর প্রতি ও তার নাম সমূহ ও গুণাবলীর প্রতি এবং তার সকল প্রকার নির্দেশাবলী ও বিধানসমূহ মেনে নিলাম।

ঈমানে মুফাচ্ছাল

ঈমানে-মুফাচ্ছাল
বাংলা উচ্চারণঃ আ-আম্নতু বিল্লা-হি ওয়া মালা যিকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়াল ক্বাদরি খাইরিহী ওয়া শাররিহী মিনাল্লা-হি তা'আলা ওয়াল বা'ছি বা'দাল মাউত।

বাংলায় অনুবাদঃ আমি ঈমান আনয়ন করলাম মহান আল্লাহতালার উপর, তার ফেরেশতাদের ওপর, তার কিতাব সমূহের উপর এবং তার রাসূলগণের উপর ও পরকালের মহা বিচার দিনের উপর এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দ একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার উপর।

আল্লাহর প্রতি ঈমান

আল্লাহ সম্পর্কে তিনি নিজেই পবিত্র কালামে এরশাদ করেছেন যে- তিনি আল্লাহ, যিনি ব্যতিত অন্য কেউ মাবুদ (উপাস্য) নেই। তিনি জীবন্ত প্রতিষ্ঠিত, তাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারেনা। আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সমস্ত তার জন্য।

কে এমন আছে, যে তার নির্দেশ ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে?

তিনি অগ্রপশ্চাত্যের সমস্ত কিছু জানেন। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তার ইলমের সামান্যতম অংশ কেউ আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়। তার জ্ঞানের সিংহাসন সমস্ত আসমান জমিন ব্যাপী পরিব্যপ্ত। তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে তার একটুও বেগ পেতে হয় না। তিনি বিরাট ও মহান। -- (সূরা বাকারা আয়াত ২৫৫)

মহান প্রতিপালক আল্লাহতালা সমস্ত প্রাণী জগতের হায়াত ও মৃত্যু দানকারী ও পানাহার প্রদানকারী। তিনি আইন কানুন ও বিধি-বিধান দাতা। জ্বীন ও ইনসান যা কিছু করে ও বলে থাকে এবং যা কিছু অন্তরে গোপন করে রাখে, তিনি সবই জানেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই। তার ইচ্ছার প্রতিবাদ বা মোকাবিলা করার সাহস বা শক্তি কারো নেই। সকল মহান গুণাবলীর অধিকারী একমাত্র আল্লাহতালা, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়। তিনি সব কিছুর প্রতিপালক ও ইবাদতের মালিক।


তিনি চিরস্থায়ী, তার গুণাবলী ও চিরস্থায়ী, তিনি অনন্তকাল ব্যাপী আছেন ও থাকবেন। তার কোন শরিক নেই এবং তিনি অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার ও নিরাহার, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন বরং জগতবাসী তার মুখাপেক্ষী।

তিনি দাতা, দয়ালু, ধৈর্যশীল ও ক্ষমাশীল। আল্লাহর কোন বান্দা অন্যায় করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেন না বরং বান্দা ক্ষমা ভিক্ষা চাইলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। অতএব মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান স্থাপন করা প্রত্যেক মানুষের ফরজ।

আল্লাহর প্রতি ঈমানের তাৎপর্য হল- আল্লাহতালার জাত সত্তা ও তার সমস্ত সেফাতী নাম সমূহের এবং গুণাবলীর প্রতি জবানের স্বীকৃতি সহ অন্তরের সাথে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র উপাস্য এবং ইবাদতের যোগ্য। অতঃপর তার বিধান মত আমল করা।

অর্থাৎ কালেমা তাইয়্যেবা মুখে পাঠ করা, তা অন্তরে বিশ্বাস করা এবং আমলের দ্বারা কার্যে পরিণত করা। একেই আল্লাহর প্রতি ঈমান বলা হয়।

ফেরেশতাদের উপর ঈমান

আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনা বা বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অবিচ্ছেদ অঙ্গ। ফেরেশতাদেরকে আল্লাহপাক স্বীয় আজ্ঞাবহ হিসেবে নুর দ্বারা পয়দা করেছেন। আমরা যদিও তাদেরকে দেখতে পাই না, তবুও তাদের প্রতি ঈমান রাখতে হবে। তাদেরকে অবিশ্বাস করা আল্লাহ তালাকে অবিশ্বাস করার সমান।

কিতাবসমূহের উপর ঈমান

মহান পালনকর্তা আল্লাহতালা যুগে যুগে তার প্রেরিত নবী-রাসূলদের নিকট ফেরেশতাদের মাধ্যমে জ্বীন ও ইনসানের হেদায়েতের জন্য তার অনুমোদিত পথে জীবন নির্বাহের জন্য যে সকল হুকুম আহকাম পাঠিয়েছেন তাকেই আসমানী কিতাব বলা হয়।

আল্লাহ পাক যুগে যুগে নবীদের প্রতি মোট ১০৪ খানা কিতাব নাজিল করেছেন। এগুলোর মধ্যে চারখানা কিতাব প্রধান। যেমনঃ
  • যাবুর
  • তাওরাত
  • ইঞ্জিল ও
  • কোরআন

নবী-রাসূলদের উপর ঈমান

নবী শব্দের অর্থ সংবাদদাতা। আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়- আল্লাহ পাক তার বান্দাদের হেদায়েতের জন্য সর্বপ্রকার গুণে গুণান্বিত করে সৎ স্বভাব ও সৎ চরিত্রে অলংকৃত করে যাবতীয় জ্ঞান বুদ্ধিতে পরিপূর্ণ করে 'অহী' প্রেরণ করত। জ্বীন ও মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য যাদেরকে মনোনীত করেছেন বা প্রেরণ করেছেন তাদেরকেই নবী বলা হয়।

নবী শব্দের বহুবচন হল আম্বিয়া। নবীদের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, কারো মতে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, আবার কারো মতে ২ লক্ষ ২৪ হাজার। এই নবীদের মধ্যে যাদের নিকট আল্লাহতালা অহীর মাধ্যমে কিতাব প্রেরণ করেছেন তারা হচ্ছেন রাসুল। সকল নবী রাসূলদের প্রতি ঈমান রাখা ফরজ।

আখেরাত বা পরকালের উপর ঈমান

আখেরাত বা পরকালের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ। দুনিয়ায় মানুষের সুখ দুঃখের সীমা আছে এবং শেষেও আছে কিন্তু পরকালে অর্থাৎ আখেরাতে সুখ শান্তি ও দুঃখ কষ্টের কোনো সীমা নেই। পরকালে হাশরের ময়দানে শেষ বিচারের পরে যারা বেহেস্তে প্রবেশ করবে তারা অনন্তকাল সীমাহীন সুখ শান্তি ভোগ করতে থাকবে।

আর যে সমস্ত কাফের বেইমান শেষ বিচারের পরে দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে, তারা চিরদিন কঠোর আযাব ভোগ করতে থাকবে। দুনিয়াবী জিন্দেগি ও স্থায়ী আর আখেরাতের জিন্দেগি চিরস্থায়ী। এ নশ্বর দুনিয়া হচ্ছে পান্তশালা, এটা আখেরাতের কৃষি ক্ষেত্র। ইহকাল হচ্ছে নেকি কামাই এর কর্মস্থল ও সঞ্চয়ের স্থান। আর পরকাল হচ্ছে ভোগ করার স্থান।

তাকদীরের উপর ঈমান

হাদিস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলাহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমার উম্মতের মধ্যে হতে যারা তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস করে না, তারা অগ্নিপূজক সমতুল্য। এই শ্রেণীর মানুষেরা রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না। এরা মৃত্যুবরণ করলে তোমরা তাদের জানাজায় শরিক হবে না। - (মেশকাত)

FAQs

প্রশঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে ছিলেন?
উত্তরঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হচ্ছে মুসলমানদের বিশ্বনবী এবং শেষ নবী। আমাদের বিশ্বনবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে মানুষদের ভেতরে ইসলামের বার্তা গুলো প্রচার করতেন।

প্রশঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে ‘আল-আমিন’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ আল-আমিন শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। যেহেতু আমাদের মহানবী ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বাসী ও সততা ছিলেন সেহেতু তাকে আল আমিন বলা হয়।

প্রশঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রধান শিক্ষা কী?
উত্তরঃ হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রধান শিক্ষা হচ্ছে তাওহীদ অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর উপাসনা করা। এছাড়া একে অন্যের প্রতি পারস্পারিক ভালোবাসা, সাহায্য-সহযোগিতা, দয়া, মানবতা, ন্যায় বিচার করার শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়বিচারের ধর্ম হিসেবে প্রচার করেছেন আমাদের বিশ্বনবী।

প্রশঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী কোন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে?
উত্তরঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী সিরাত গ্রন্থ গুলোতে সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ সিরাত গ্রন্থ হচ্ছে-সিরাতুন নবী" (ইবনে হিশাম), "আল-রাহীকুল মাখতুম" (সফিউর রহমান মুবারকপুরী)। এছাড়া কিছু হাদিস গ্রন্থ যেমনঃ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী সংরক্ষিত আছে।

প্রশঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শেষ বিদায় হজ ভাষণ কী শিক্ষা দেয়?
উত্তরঃ আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শেষ বিদায় হজের ভাষণে মানবাধিকার, সততা, সাম্য, নারী ও পুরুষের সম্মান এবং ইসলামিক আদর্শের গুরুত্ব গুলোর উপরে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন- কোন আরবের ওপর অ-আরবের এবং কোন অ-আরবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্ব শুধুমাত্র তাকওয়ার ভিত্তিতে।

শেষ আলোচনা

সর্বোপরি বলতে চাই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপদেশ গুলো আমাদের সকলের মান্য অবশ্যই করতে হবে। কারণ আমরা হচ্ছি নবী রাসুলদের উম্মত। তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমাদের আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে অন্যথায় আমরা জান্নাত লাভ করতে পারব না। আমাদের বিশ্বনবীর অনেক উপদেশ থাকলেও আমি এখানে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি উপদেশ আপনাদের দিয়ে দিলাম। আপনারা আমাদের নবী সম্পর্কে আরো উপদেশ জানার জন্য হাদিসের বই থেকে সাহায্য নিতে পারেন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url