লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাতের ফজিলত-নিয়ত-নিয়ম ও দোয়া

আজকে আমি খুব সহজভাবে লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাত নামাজের ফজিলত, নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া সমূহ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আপনারা যারা এই দুইটা নামাজ সম্পর্কে কোন কিছুই জানেন না তারা এই আর্টিকেল থেকে সবকিছু জানতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

লাইলাতুল-কদর-ও-লাইলাতুল-বরাতের-ফজিলত-নিয়ত-নিয়ম-ও-দোয়া
তাই আপনারা যদি লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাত নামাজের ফজিলত, নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া সম্পূর্ণভাবে জানতে চান তাহলে আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

সূচিপত্রঃ লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাতের ফজিলত-নিয়ত-নিয়ম ও দোয়া

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাত সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য গুলো জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

লাইলাতুল কদর নামাজের ফজিলত, নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া

রমজানের প্রতিটি রাতে ইবাদতের জন্য সুবর্ণ সময়। তার পরেও আল্লাহতালা অনুগ্রহ করে এই মাসে শবে কদর নামে একটি মর্যাদাপূর্ণ বরকতময় রজনী দান করেছেন। এই রজনীতে কোরআন মাজীদ অবতীর্ণ হয়েছিল। যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের নিয়তে ইবাদতে দন্ডায়মান হয় তার পিছনের সব গুনা মাফ করে দেওয়া হয় (সুবআহান আল্লাহ)।
লাইলাতুল-কদর-নামাজের-ফজিলত-নিয়ত-নিয়ম-ও-দোয়া
শবে কদরের তারিখ অনির্দিষ্ট। তবে রমজানের শেষ দশকের যে কোন বেজোড় রাত্রিতে শবে কদরকে তালাশ করার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। শবে বরাতের মত শবে কদরেও ইবাদতের কোন বিশেষ পদ্ধতি নেই। এই দুই রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদত অর্থাৎ নামাজ, জিকির, তেলাওয়াত, ইস্তেগফার, দুরুদ শরীফ ও দোয়ার আমল করতে হবে।

লাইলাতুল কদরের নামাজের ফজিলত

হাদিসে বর্ণিত রয়েছে- আমাদের মহানবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি চার রাকাত নামাজ কদরের রাতে আদায় করবে এবং উক্ত নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ২১ বার করে সূরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তা'আলা ওই ব্যক্তিকে সদ্য ভুমিষ্ট শিশুর নেয় নিষ্পাপ করে দিবেন। এছাড়া বেহেশতের মধ্যে এক সহস্র মনোমুগ্ধকর মহল তৈরি করে দিবেন (সুবআহান আল্লাহ)।

আল-কদর সূরায় বলা হয়েছে- "লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম" (সূরা আল-কদর: ৩)। এই রাতে ফেরেশতারা জিবরাইল (আ.) এর নেতৃত্বে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং মুসলমানদের জন্য শান্তি ও রহমত নিয়ে আসেন। এটি গুনাহ মাফের জন্য একটি বরকতময় রাত।

আরেক হাদিসে বর্ণিত রয়েছে- আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাতে চার রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং তার প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে সূরা কদর ও সূরা এখলাস তিনবার করে পড়বে, তার প্রতি আল্লাহ অসংখ্য রহমত বর্ষণ করবেন।

এছাড়া নামাজ শেষে সিজদায় গিয়ে নিম্নের দোয়াটি কিছু সময় পাঠ করে আল্লাহর দরবারে যা প্রার্থনা করবে তিনি তাই কবুল করবেন (ইনশাআল্লাহ)।
পিক১
উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়া লা–ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।

আরো একটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে- আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজান মাসের ২৭ তারিখ রজনীকে জীবিত রাখবে, অর্থাৎ সমস্ত রজনী ইবাদতে কাটাবে, তার আমলনামায় আল্লাহতালা ২৭ হাজার বছরের ইবাদতের তুল্য সওয়াব প্রদান করবেন এবং বেহেশতের মধ্যে অসংখ্য মনোরম বালাখানা নির্মাণ করবেন যার সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউই অবগত নন (সুবআহান আল্লাহ)।

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে সর্বপ্রথম নিয়ত করে নিতে হবে। নিয়ত করার দোয়াটি আমি এখন নিচে আলোচনা করছি।

লাইলাতুল কদরের নামাজের আরবি নিয়ত

লাইলাতুল-কদরের-নামাজের-আরবি-নিয়ত
উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা’আলা রাকাতাই ছলাতি লাইলাতিল ক্বদরি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।

লাইলাতুল কদরের নামাজের বাংলা নিয়ত

আমি ক্বেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত কদরের নফল নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম ও দোয়া

আমরা উপরের আলোচনা থেকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও নিয়ত জানলাম। এখন আমরা এই নামাজ কিভাবে পড়তে হয় সেটি জেনে নিব।

এই নামাজ পড়ার পূর্বে আপনাকে সর্বপ্রথম প্রতিদিনের নামাজ পড়ার নিয়ম জানতে হবে। তাই সর্বপ্রথম এই আর্টিকেলটি পড়ে আসুন। 👇


কদরের রাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো-
  • আমরা জানি এশার নামাজের পর তারাবি নামাজ পড়তে হয় এবং এরপরে বিতের নামাজ আদায় করতে হয়।
  • কিন্তু শবে কদরের রাতে এশার নামাজ পড়ে তারাবি নামাজ আদায় করতে হবে এবং এরপরে বিতের নামাজ বাদ রেখে দু রাকাতের নিয়তে যত বেশি সম্ভব নামাজ আদায় করতে হবে।
  • এরপর সেহেরির পূর্বে বিতের নামাজ আদায় করে সেহরি খেতে হবে।
  • সেহেরি খাওয়া হয়ে গেলে কিছু সময় তাসবিহ-তাহলিল ও জিকির করতে হবে।
  • সবশেষে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে।
লাইলাতুল কদরের রাতে নামাজ পড়ার এটাই হচ্ছে নিয়ম যা আমি খুব সহজভাবে আপনাদের বলে দিলাম।

লাইলাতুল কদরের নামাজের দোয়া

লাইলাতুল কদরের রাতে প্রতি চার রাকাত অন্তর অন্তর নিচের এই দোয়াটি ১০০ বার করে পড়তে হবে।
পিক২
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন থিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।

আরো একটি হাদিসে বলা রয়েছে যে শবে কদরের রাতে প্রতি চার রাকাত নামাজের পরে নিম্নের এই দোয়াটি ১০০ বার পড়লে অসংখ্য সোয়াব পাওয়া যায়।
পিক৩
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আনতা আফুয়্যুন তুহিব্বল আফওয়া ফাফু আন্নী ইয়া গাফুরু।

লাইলাতুল কদরের রাত চেনার উপায়

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কিছু নিদর্শন উল্লেখ করেছেন, যা দেখে লাইলাতুল কদর চেনার সম্ভাবনা থাকে। তবে নির্দিষ্টভাবে এই রাত চেনার কোনো নিশ্চিত উপায় নেই। তবুও হাদিসের আলোকে কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করা যায়। যেমনঃ

* শবে কদরের রাতটি হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, প্রশান্তির ও রহমতের বর্ষণময় একটি রাত।

* লাইলাতুল কদরের রাতের আবহাওয়া হবে অত্যন্ত মনোরম। এই বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে- লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি ঠান্ডা থাকবে না আবার বেশি গরম থাকবে না এবং এই রাত হবে প্রশান্ত, উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ রাত। (ইবনে খুজাইমাঃ ২১৯২)


* ঐদিন পৃথিবীর বুকে সূর্য উঠবে কিরণহীন ভাবে এবং সূর্যের আলো হবে অত্যন্ত কোমল। এই বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন- যেদিন লাইলাতুল কদর হবে সেদিন সকালে সূর্য অত্যন্ত কোমল ভাবে উদিত হবে কোন উজ্জ্বলতা ছাড়াই। (মুসলিমঃ ৭৬২)

* শবে কদরের রাতে সম্পূর্ণ পৃথিবীর বুকে এক বিশেষ প্রশান্তি নেমে আসবে কারণ এই রাতে ফেরেশতারা নেমে আসবে। এই বিষয়ে সূরা আল-কদরে উল্লেখ রয়েছে- "এই রাতে আল্লাহর আদেশক্রমে পৃথিবীতে ফজর পর্যন্ত শান্তি বর্ষিত করার জন্য ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) পৃথিবীতে অবতরণ করেন।" (সূরা আল-কদরঃ ৪-৫)

* শবে কদরের রাত্রি হবে রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোন বিজোড় একটি রাত। এই বিষয়ে আমাদের শেষ নবী বলে গিয়েছেন- তোমরা লাইলাতুল কদরের রাত চিহ্নিত করার জন্য রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো।" (বুখারিঃ ২০১৭)

লাইলাতুল বরাত নামাজের ফজিলত, নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া

শবে বরাতে বিশেষ ধরনের নামাজের কোন শর্ত নাই। ইবাদতকারীর নিকট যেভাবে সহজ মনে হবে সেভাবে ইবাদত করতে হবে। অর্থাৎ শুধু লাইলাতুল বরাতের নিয়ত করে অন্যান্য নফল নামাজের মতই এই নামাজ আদায় করতে হবে।
লাইলাতুল-বরাত-নামাজের-ফজিলত-নিয়ত-নিয়ম-ও-দোয়া

লাইলাতুল বরাত নামাজের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন- যখন শাবানের ১৫ তম রাত্রি আগমন করে তখন রাতেস ইবাদত করো এবং পরের দিন রোজা রাখো। এই রাতে, এই বছর যতগুলি সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়।


আবার এই রাতে, এই বছরে কতগুলো মানুষ মৃত্যুবরণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এই রাতে বান্দাদের আমল উঠানো হয় আর এই রাতেই মানুষের রিজিক নির্ধারিত হয়। এই রজনী এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত রয়েছে।

এই রাতে নামাজ ব্যতীত অন্য ইবাদত করলেও অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই রজনী ইবাদত ও আমলের মধ্যে কাটানো উচিত এবং এই রজনীতে নিচের আমলগুলো করা সুন্নত-
  • রাত জেগে নামাজ আদায় করা।
  • কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা।
  • জিকির আযকার।
  • তাওবায়ে ইস্তেগফার পাঠ করা।
  • দোয়া করা।
  • দুরুদ শরীফ পাঠ করা।
  • কবর জিয়ারত করা ইত্যাদি।
শবে বরাত উপলক্ষে বেদআতি রুসম রেওয়াজ পরিহার করতে হবে। যেমনঃ
  • পটকা ফুটানো যাবেনা।
  • আতশবাজি করা যাবেনা।
  • কবরস্থানে মোমবাতি জ্বালানো বর্জন করা ইত্যাদি।
এগুলো করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হয়।

লাইলাতুল বরাত নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল বরাত নামাজের পূর্বে নিচের এই নিয়ত টি প্রথমে আপনাকে করে নিতে হবে এরপরে নামাজ শুরু করতে হবে।

লাইলাতুল বরাত নামাজের আরবি নিয়ত

লাইলাতুল-বরাত-নামাজের-আরবি-নিয়ত
উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা’আলা রাকাতাই ছলাতি লাইলাতিল বারা-য়াতিন নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।

লাইলাতুল বরাত নামাজের বাংলা নিয়ত

আমি ক্বেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত শবে বরাতের নফল নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।

লাইলাতুল বরাত নামাজের নিয়ম ও দোয়া

শবে বরাতের রাতে দু রাকাত নিয়তে যত বেশি সম্ভব নামাজ আদায় করতে হয়। এ নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সূরা ইখলাস ৩ বার বা ১০ বার বা ২১ বার বা ২৭ বার বা ৩৩ বার বা ৫০ বার পর্যন্ত পড়া যায়।

তবে কম সূরা পড়ে বেশি নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবেন। সমস্ত রাতব্যাপি ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে ফজরের নামায আদায় করে নিদ্রা যাওয়া উচিত। আর নফল ইবাদত করে ফজরের নামায যেনো কাযা না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিভিন্ন প্রকার নফল নামাজের বিবরণ

নফল নামাজ চার প্রকার। যেমনঃ
  • ১ম প্রকার নফল নামাজগুলি হল- সময় নির্দিষ্ট এবং রাকাত ও নির্দিষ্ট।
  • ২য় প্রকার নফল নামাজ গুলি হল- সময় নির্দিষ্ট কিন্তু রাকাত অনির্দিষ্ট।
  • ৩য় প্রকার নফল নামাজগুলি হল- রাকাত নির্দিষ্ট কিন্তু সময় অনির্দিষ্ট।
  • ৪র্থ প্রকার নফল নামাজগুলি হল- সময় অনির্দিষ্ট এবং রাকাত ও অনির্দিষ্ট।
প্রথম প্রকার নফল নামাজগুলির মধ্যে- এশরাক, চাশত, আউয়াবিন, কুছুফ, খুসুফের এবং ইস্তেখারার নামায।

জুম্মার নামাজের বিবরন

জুম্মার দিন যোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাত জুম্মার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। ইহার ওয়াক্ত জোহরের ওয়াক্তের সময়। জুম্মার দিন দুপুরে গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে, আযানের সাথে সাথে মসজিদে উপস্থিত হয়ে যদি সময় থাকে তাহলে তাহিয়াতুল অজু, দুখলুল মসজিদ, সুন্নতুল ওয়াক্ত ও নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।

কিন্তু মনে রাখবেন এই নামাজগুলো জুম্মার নামাজের সাথে সম্পৃক্ত নয়। জুম্মার নামাজ মোট ১০ রাকাত। যেমনঃ
  • চার রাকাত কাবলাল মুজুয়া।
  • দুই রাকাত ফরজ।
  • চার রাকাত বাদাল মুজুয়া।

FAQs

প্রশ্নঃ লাইলাতুল কদর কাকে বলে?
উত্তরঃ ইসলামী শরীয়া মোতাবেক যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত, সেই রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর। এই রাত রমজান মাসে হয়।

প্রশ্নঃ লাইলাতুল কদর কবে?
উত্তরঃ লাইলাতুল কদর প্রতি রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলিতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় ২৭ রমজানের দিন এই রাত হয়ে থাকে। এছাড়াও রমজান মাসের শেষ দশ দিনের ২১, ২৩, ২৫ এবং ২৯ রমজান এই তারিখগুলোতেও লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রশ্নঃ লাইলাতুল বরাত কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থীর জন্য প্রতিবছর আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে যে বিশেষ ইবাদত করা হয় সে রাতকে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। এই রাতে জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, রিজিক ইত্যাদি বিষয়গুলো তাকদিরে লিখা হয়।

শেষ আলোচনা

আমি চেষ্টা করেছি অত্যন্ত সহজ ভাবে লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল বরাত নামাজের ফজিলত, নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া সমূহ বোঝানোর জন্য। তারপরেও আপনাদের যদি এই বিষয় সম্পর্কে কোন সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। লাইলাতুল কদর এবং লাইলাতুল বরাত সম্পর্কে যেকোনো ধরনের সমস্যার সমাধান বা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারব ইনশাল্লাহ।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url