ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার উপায়

ওয়েবসাইট তৈরি করার পর আর্টিকেল পাবলিশ করার পূর্বে অবশ্যই ওয়েবসাইটকে সর্বপ্রথম এসইও করতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটের এসইও স্কোর যখন ভালো হবে তখন আপনি আর্টিকেল লিখতে শুরু করবেন। ওয়েবসাইট সঠিকভাবে প্রস্তুত করার পূর্বেই ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লেখা উচিত নয়।
ওয়েবসাইটের-এসইও-বৃদ্ধি-করার-উপায়
তাই আমরা আজকে এই আর্টিকেলে শিখব কিভাবে আপনারা ব্লগার অথবা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের এসইও স্কোর বৃদ্ধি করবেন সেই সম্পর্কে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার উপায়

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যে সমস্ত তথ্য পাবেন তা একজনে দেখে নিন-

ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার উপায়

ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করার পূর্বে এবং ওয়েবসাইট এসইও করার পূর্বে আপনাকে একটি কাস্টম ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হবে। অবশ্যই ডোমেইন এবং হোস্টিং ভালো একটি কোম্পানি থেকে কেনার চেষ্টা করবেন। ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন ও হোস্টিং দুইটাই প্রয়োজন। কিন্তু গুগলের ব্লগারের শুধুমাত্র ডমেইন কিনলেই হয়। এরপর আমরা ওয়েবসাইট এসইও করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করব।

ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার উপায় নিম্নরুপঃ

* ওয়েবসাইট সেটিংস এসইও-

এসইও অপটিমাইজ কাস্টম ডোমেইনঃ যখন কাস্টম ডোমেইন কিনবেন তখন আপনার নিশ রিলেটেড কাস্টম ডোমেন কেনার চেষ্টা করবেন এবং ডোমেইন অবশ্যই দশ ওয়ার্ডের মধ্যে হওয়া ভালো।

ডেসক্রিপশনঃ আপনার ওয়েবসাইটটি যে ধরনের ওয়েবসাইট তার ডেসক্রিপশন দিতে হবে।

ফেভিকন আইকনঃ ওয়েবসাইটে আপনার ব্রেন্ডিং এর জন্য একটি ফেভিকন আপলোড করতে হবে। অবশ্যই এইচডি কোয়ালিটির হতে হবে এবং ফেভিকনের সাইজ ১০ থেকে ২০ কিলোবাইট মধ্যে হতে হবে। ফেভিকনের সাইজ যত ছোট থাকবে এবং যত বেশি এইচডি হবে তত ভালো।

গুগল সার্চ কনসোলঃ গুগল সার্চ কনসোলের সাথে ওয়েবসাইট কানেক্ট করতে হবে।

গুগল এনালাইটিক্সঃ গুগল এনালাইটিক্স এর সাথে ওয়েবসাইট কানেক্ট করতে হবে।

ভিজিবুল টু সার্চ ইঞ্জিনঃ আপনার ওয়েবসাইটটি যেন গুগলে দেখা যায় এজন্য ভিজিবুল টু সার্চ ইঞ্জিন অন করে দিতে হবে।

HTTPS: ওয়েবসাইটে অবশ্যই HTTPS অপশনটি অন করে রাখতে হবে।

SSL Certificate: ওয়েবসাইটে অবশ্যই এসএসএল সার্টিফিকেট একটিভ করে নিতে হবে। অনেক সময় ডোমেইনের সাথে ডিফল্টভাবে এসএসএল সার্টিফিকেট থাকে। যদি ডোমেইনের সাথে SSL সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে ক্লাউড ফায়ারের মাধ্যমে এসএসএল সার্টিফিকেট একটিভ করে নিবেন।

Image lightbox: ওয়েবসাইটে Image lightbox অপশনটি অন করে রাখতে হবে।

Lazy load images: ওয়েবসাইটে Lazy load images অপশনটি অন করে রাখতে হবে।

WebP image serving: ওয়েবসাইটে WebP image serving অপশনটি অন করে রাখতে হবে।

Meta tags: মেটা ট্যাগ অপশন থেকে Enable search description অন করে দিতে হবে এবং এখানে আপনার ওয়েবসাইটের নিশ রিলেটেড ট্যাগগুলো দিয়ে দিতে হবে।

Enable custom robots.txt: Crawlers and indexing অপশন থেকে আপনাকে Enable custom robots.txt অন করতে হবে এবং robot.txt ফাইল যুক্ত করতে হবে।

Enable custom robots header tags: Crawlers and indexing অপশন থেকে আপনাকে Enable custom robots header tags অন করে নিতে হবে এবং Home page tags, Archive and search page tags, Post and page tags সেটাপ করে নিতে হবে।

Sitemap এবং RSS Feed: ওয়েবসাইটের নেভিগেশনে Sitemap এবং RSS Feed যুক্ত করতে হবে।

থীমঃ ওয়েবসাইটে অবশ্যই লাইট ওয়েট থিম ব্যবহার করতে হবে। ভালো থিম ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের স্পিড বৃদ্ধি পায়।

ওয়েবসাইট ডিজাইনঃ ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও স্ট্রাকচার খুবই সাধারণ রাখতে হবে এবং ওয়েবসাইটে নেভিগেশন সুনির্দিষ্ট ভাবে তৈরি করে সাজিয়ে রাখতে হবে। মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটের ডিজাইন হতে হবে।

প্লাগিন: যারা ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করেন তারা এসইও করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন।

ম্যানুয়েল এসইওঃ ব্লগার এ যেহেতু প্লাগিন ব্যবহার করা যায় না সেহেতু ব্লগার এ ম্যানুয়াল ভাবে এসইও করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া: ওয়েবসাইটের সাথে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক গুলো লিংকিং করে রাখতে হবে। এটিও আপনার ওয়েবসাইটের এসইও বাড়াতে সহায়তা করবে।

* ওয়েবসাইট পেজ-

গুরুত্বপূর্ণ পেজ তৈরিঃ আপনার ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পেজ তৈরি করতে হবে। এই পেজগুলোতে আপনার নিজের ভাষায় লিখতে হবে এবং আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বর্ণনা করতে হবে। একটি ওয়েবসাইটের জন্য যে সমস্ত পেজগুলো তৈরি করতে হয় তাহলো-
  • About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Terms & Conditions
  • Privacy Policy
* আর্টিকেল এসইও-

উপরের সমস্ত কাজ শেষ হয়ে গেলে আপনাকে আর্টিকেল লিখতে হবে। আর্টিকেলের মধ্যে সমস্ত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য এসইও করতে হবে। কিভাবে একটি আর্টিকেল লিখবেন এবং আর্টিকেল এসইও করবেন তা জানার জন্য নিচের আর্টিকেলটি পড়ুন-

ওয়েবসাইট কি কি কাজে লাগে?

আধুনিক সময়ে এসে একটি ওয়েবসাইট শুধুমাত্র অনলাইন ঠিকানা নয় বরং এটি বিভিন্ন ধরনের বিনোদন, তথ্য প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং শিক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যেকোন ব্যক্তি বর্তমানে অনলাইনে সার্চ করার মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সকল তথ্য পেয়ে থাকে।

এছাড়া একটি ওয়েবসাইট বর্তমানে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা আজকে এখন আলোচনা করব ওয়েবসাইটের বহুমুখী ব্যবহার, বহুমুখী সুবিধা এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে।

ওয়েবসাইটের প্রধান কাজসমূহ

১. ব্যবসায়িক প্রসার ও ব্র্যান্ডিংঃ আপনি যদি বর্তমান সময়ে ব্যবসার প্রসার বাড়াতে চান তাহলে আপনাকে ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে হবে। আপনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লোকাল এরিয়াতে আপনার ব্যবসায়ের ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে পারবেন। এছাড়া আপনি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি বৃদ্ধি করতে পারবেন ও কাস্টমার বৃদ্ধি করতে পারবেন।

২. তথ্য ও জ্ঞান শেয়ারিংঃ বিভিন্ন ধরনের ব্লগিং ওয়েবসাইট রয়েছে যারা মাল্টি নিশ নিয়ে কাজ করে এবং অনেক ধরনের তথ্য ও জ্ঞান শেয়ার করে। আপনি চাইলে এ সমস্ত ওয়েবসাইট থেকে তথ্য পেতে পারেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান সংগ্রহ করতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ: শিক্ষামূলক ব্লগ এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, সংবাদ ও ম্যাগাজিন সাইট, গবেষণা প্রকাশনা ও তথ্যভাণ্ডার ইত্যাদি।

৩. অনলাইন শপিং ও ই-কমার্সঃ আধুনিক যুগে মানুষজন ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমেই পণ্য বেশি বিক্রি করে থাকে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ইন্টারনেটের স্পিড বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সারা বিশ্বে অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষরা কোন কিছু কিনলে সর্বপ্রথম অনলাইনে সার্চ করে এবং ঘরে বসেই তার কাঙ্খিত পণ্যটি হাতে পেয়ে যায়।

৪. ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনঃ আপনি Google Ads এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন এছাড়া বিজ্ঞাপনের জন্য এই দুইটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাছাড়া আপনার ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ড প্রচার করতে এটি সহায়ক। আবার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারবেন। তাছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সরশিপ পাবেন।

৫. সামাজিক সংযোগ ও কমিউনিটি তৈরিঃ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনারা সামাজিক সংযোগ ও কমিউনিটি তৈরি করতে পারবেন। বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো এ কাজ করে। যেমনঃ
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ফোরাম
  • ব্লগ এবং 
  • নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইট
৬. বিনোদন ও মাল্টিমিডিয়াঃ যারা বিনোদনপ্রেমী মানুষ রয়েছেন তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরনের মিউজিক, মুভি বা লাইভ ইভেন্ট দেখতে পান। এছাড়া আরো রয়েছে অনলাইন গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং ইত্যাদি।

SEO ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটের গুরুত্ব

একটি ওয়েবসাইট ভালোভাবে এসইও করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে করে গুগলের রেংকিং এ সহজেই আসা যায়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ইউনিক ও তথ্য বহুল কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে যা কপি পেস্ট করা যাবে না এবং নিজের ভাষায় লিখতে হবে।
SEO-ফ্রেন্ডলি-ওয়েবসাইটের-গুরুত্ব
আপনি যে টপিক নিয়ে লিখছেন তার উপর ভিত্তি করে সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে এবং সেই কি ওয়ার্ডের সকল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে গুগলের EEAT গাইডলাইন মেনে চলতে হবে।

কারণ আপনার যদি কোন বিষয়ে Experience, Expertise, Authoritativeness, Trustworthiness না থাকে তাহলে আপনি সেই টপিকে ভালো লিখতে পারবেন না এবং ভিজিটর কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারবেন না।

ফাস্ট লোডিং ও মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন থিম ব্যবহার করলে আর্টিকেল রেঙ্ক হতে সহায়তা হয় এবং আর্টিকেল খুব দ্রুত ইনডেক্স হয়। সেই সাথে আপনাকে ব্যাকলিংক এবং অথরিটি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ভালো ভালো কনটেন্ট লিখলে আস্তে আস্তে আপনার ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ডিং বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাকলিঙ্ক ও অথরিটি বৃদ্ধি পাবে।

উপরের এই আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ওয়েবসাইট কেবলমাত্র একটি ডিজিটাল ঠিকানা নয়, বরং এটি তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্য জানা, বিভিন্ন বিষয় শেখা ও যোগাযোগের একটি অপরিহার্য মাধ্যম। ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন, তথ্য ও গবেষণা, ডিজিটাল মার্কেটিং সবকিছুতেই ওয়েবসাইটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কোনটি?

এখন আমি বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় পাঁচটি ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা করব।

১. গুগল (Google): বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে গুগল। এটিকে সার্চ ইঞ্জিনের রাজা বলা হয়। বর্তমানে প্রায় ৮.৫ বিলিয়নের বেশি প্রতিদিন সার্চ করা হয় এখানে। এর পাশাপাশি Google- গুগল অ্যাডস, গুগল নিউজ, গুগল ডকুমেন্ট, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদির মতো সুবিধা মানুষকে প্রদান করছে।

২. ইউটিউব (YouTube): বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। এটি ভিডিও কনটেন্ট পাবলিশ করার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ একটি মাধ্যম। এখানে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও, বিনোদনমূলক ভিডিও, টিউটোরিয়াল মুলক ভিডিও, লাইভ স্ট্রিমিংয় ইত্যাদি ভিডিও প্রতিদিন ১ বিলিয়নের বেশি ঘন্টা দেখা হয়।

৩. ফেসবুক (Facebook): বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ তাদের পারিবারিক লোকজনের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এটি ব্যবহার করে। এছাড়া মার্কেটিং, ব্যবসা এবং বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যাপকভাবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

৪. উইকিপিডিয়া (Wikipedia): উইকিপিডিয়াকে বলা হয় সর্ববৃহৎ মুক্ত বিশ্বকোষ। কারণ এখানে ৩০০+ ভাষায় ৬০ মিলিয়নের বেশি নিবন্ধ রয়েছে। এই ওয়েবসাইট থেকে আপনি সকল ধরনের তথ্যগুলো জানতে পারবেন। এখান থেকে অনেক তথ্য নিয়ে জ্ঞান অর্জন করা যায়।

৫. অ্যামাজন (Amazon): অ্যামাজন হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট। এখানে প্রতিদিন অনলাইনে লক্ষ লক্ষ কেনাবেচা হয়। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনারা খুব দ্রুত অনলাইনে পণ্য কিনতে পারবেন।

ওয়েবসাইট তৈরিতে সাধারণত কোন কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?

ওয়েবসাইট তৈরি করতে অনেক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং এই প্রযুক্তি গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া ওয়েবসাইটের গঠন ও নকশা তৈরিতে এটি সহায়তা করে।
ওয়েবসাইট-তৈরিতে-সাধারণত-কোন-কোন-প্রযুক্তি-ব্যবহার-করা-হয়
ওয়েবসাইট তৈরিতে কোন ধরনের প্রযুক্তি গুলো ব্যবহৃত হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. ফ্রন্টএন্ড (Frontend) প্রযুক্তিঃ

ফ্রন্টএন্ড বলতে ওয়েবসাইটের সেই অংশকে বোঝায় যা ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারে এবং সরাসরি দেখতে পারে। যেমনঃ

* HTML এর পূর্ণরূপ হচ্ছে - Hyper Text Markup Language। ওয়েবসাইটের স্ট্রাকচার তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

* CSS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Cascading Style Sheets। ওয়েবসাইটের ডিজাইন তৈরি করতে ও লেআউট নির্ধারণ করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

* JavaScript (JS)- ওয়েবসাইটে ইন্টারেকটিভ ফিচার যোগ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

* ফ্রেমওয়ার্ক ও লাইব্রেরি। যেমনঃ

ফ্রেমওয়ার্ক ও লাইব্রেরি বৈশিষ্ট্য
Vue.js লাইটওয়েট ওয়েব অ্যাপ তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
Bootstrap রেসপন্সিভ ডিজাইনের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
Angular বড় স্কেলের ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
React.js ডায়নামিক এবং ইন্টারেক্টিভ UI তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

২. ব্যাকএন্ড (Backend) প্রযুক্তিঃ

সার্ভার সাইটের অংশটি হচ্ছে ব্যাকএন্ড যা মূলত ডেটাবেজের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে এবং ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীদের অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করে।

* প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেমনঃ

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বৈশিষ্ট্য
Python (Django, Flask) স্কেলেবল ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
Node.js রিয়েল-টাইম অ্যাপ স্পিড বৃদ্ধি ও ফাস্ট পারফরম্যান্সের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
Java (Spring Boot) এন্টারপ্রাইজ-লেভেলের অ্যাপ তৈরি করতে এটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
PHP ওয়ার্ডপ্রেস ও ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুলভাবে এটি ব্যবহৃত হয়।

* ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)। যেমনঃ

ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS) বৈশিষ্ট্য
PostgreSQL অ্যাডভান্সড ডাটাবেস সল্যুশন এর জন্য।
MySQL এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় রিলেশনাল ডাটাবেস।
Firebase Google এর ক্লাউড ভিত্তিক রিয়েল টাইম ডাটাবেস।
MongoDB NoSQL ডাটাবেস, যা স্কেলযোগ্য ও দ্রুতগতির জন্য ব্যবহৃত হয়।

৩. ওয়েব সার্ভার ও হোস্টিং প্রযুক্তি

ওয়েব সার্ভার ও হোস্টিং ডোমেইন সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যেই "ফ্রিতে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করা" এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে তথ্য প্রদান করেছি। তারপরও সংক্ষিপ্তভাবে আপনাদের বলে দিচ্ছি যে- ওয়েবসাইটকে অনলাইনে রাখার জন্য সার্ভার এবং হোস্টিং ব্যবহৃত হয়।

* ওয়েব সার্ভার। যেমনঃ

ওয়েব সার্ভার বৈশিষ্ট্য
Nginx দ্রুত লোড ও ব্যালেন্সিং সুবিধাযুক্ত।
LiteSpeed পারফরম্যান্স বুস্টিং এবং দ্রুত লোডিং সুবিধাযুক্ত।
Apache এটি ওপেন সোর্স এবং জনপ্রিয়ভাবে বহুল ব্যবহৃত।

* হোস্টিং পরিষেবা। যেমনঃ

হোস্টিং পরিষেবা বৈশিষ্ট্য
Cloud Hosting (AWS, Google Cloud, Digital Ocean) স্কেলেবল এবং নিরাপদ।
Shared Hosting এটি ছোট ওয়েবসাইটের জন্য বেশি উপযুক্ত।
VPS (Virtual Private Server) বড় ওয়েবসাইট এবং ট্রাফিক বেশি হলে উপযুক্ত।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ব্লগারের হোস্টিং সেবার প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য হোস্টিং পরিষেবার প্রয়োজন। কারণ ব্লগার নিজেই google এর মাধ্যমে হোস্টিং সরবরাহ করে থাকে।

৪. CMS (Content Management System) প্রযুক্তি

কোনো কোডিং ছাড়াই সহজে ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য CMS ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ

CMS (Content Management System) প্রযুক্তি বৈশিষ্ট্য
WordPress এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় CMS। এটি ব্লগার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
Shopify ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির জন্য এটি খুব জনপ্রিয়।
Magento বড় ই-কমার্স সাইটের জন্য বহুলভাবে এটি ব্যবহৃত হয়।
Drupal এটি অনেক উন্নত এবং কাস্টমাইজেবল CMS।

৫. API এবং অন্যান্য প্রযুক্তি

* API এবং অন্যান্য প্রযুক্তি। যেমনঃ

API এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সমূহ বৈশিষ্ট্য
JSON & XML ডাটা ফরম্যাট হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
OAuth & JWT ইউজার অথেনটিকেশন এবং সিকিউরিটির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
REST API & GraphQL ডাটা আদান প্রদানের জন্য এট ব্যবহৃত হয়।

মনে রাখবেন একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য যে সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা নির্ভর করে ওয়েবসাইটের ধরণের ওপর। যদি কেউ প্রথম অবস্থায় ওয়েবসাইট তৈরি করে শিখতে চায় তাহলে তাকে ব্লগার এ ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।

আর আপনি যদি ছোটখাটো বা মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন তবে আপনার WordPress, PHP এবং MySQL যথেষ্ট। যারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্লগিং করেন তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে ভালো এবং এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

আরো মনে রাখবেন- বড় ও কাস্টম ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য React.js, Node.js এবং MongoDB বা Python (Django/Flask) ব্যবহার করা হয়।

FAQs

প্রশ্নঃ ওয়েবসাইট কি এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ সহজ ভাষায় বলতে গেলে- আপনার বাসার যেমন একটি ঠিকানা রয়েছে ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট হল একটি ডিজিটাল ঠিকানা যা ইন্টারনেটে সার্চ করার মাধ্যমে খুজে পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্লগিং এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বানানোর জন্য ওয়েবসাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নঃ একটি ওয়েবসাইট কত দিনে তৈরি করা যায়?
উত্তরঃ একটি ওয়েবসাইট কতদিনের মধ্যে তৈরি করা যাবে তা নির্ভর করে ওয়েবসাইট ডেভেলপারের অভিজ্ঞতার ওপর এবং ওয়েবসাইটের ধরনের উপর। তবে সাধারণত একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে তিন থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

প্রশ্নঃ ফ্রি ওয়েবসাইট এবং প্রিমিয়াম ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ ফ্রি ওয়েবসাইটে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না, অন্যদিকে প্রিমিয়াম ওয়েবসাইটে সকল সুবিধা পাওয়া যায়। যেমনঃ কাস্টম ডোমেইন, অধিক নিরাপত্তা, এসইও করার সুবিধা ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড কীভাবে বাড়ানো যায়?
উত্তরঃ ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়ানোর জন্য আপনাকে ইমেজের সাইজ কমপ্রেশন করতে হবে, ক্যাশিং প্লাগিন এর সহায়তা নিতে হবে, ভালো কোম্পানি থেকে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে, মিনিফাইড CSS/JavaScript ব্যবহার করতে হবে।

প্রশ্নঃ ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করা উচিত?
উত্তরঃ ওয়েবসাইট নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে এসএসএল সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া আপনি আপনার ডোমেইন ও হোস্টিং এ লগইন করার জন্য টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করবেন। আপনি আরো সিকিউরিটি বাড়ানোর জন্য ইমেইল লগইন করতে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করতে পারেন।

শেষ আলোচনা

ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার উপায় সম্পর্কে এই ছিল আজকের বিস্তারিত আলোচনা। আমি আশা করছি আপনারা এখান থেকে ওয়েবসাইটের এসইও বৃদ্ধি করার সকল উপায় গুলো জানতে পেরেছেন। এই সম্পর্কিত আরো কোন তথ্য যদি জানতে চান তাহলে কমেন্টে মতামত জানাবেন। মনে রাখবেন এসইও সময়ের সাথে সাথে আপনাকে আরও বেশি শিখতে হবে এবং গুগলের আপডেট এর সাথে আপনাকে এসইও আপডেট করতে হবে।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url