ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ভাইভা প্রশ্ন

ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন গুলো আপনারা এই আর্টিকেলে পেয়ে যাবেন। ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এর ভাইভা পরীক্ষায় সাধারণত বেসিক বিষয় থেকে প্রশ্ন করে থাকে। আপনি যদি ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এর স্টুডেন্ট হয়ে এই বেসিক বিষয়গুলো না পারেন, তাহলে ভাইভাতে আপনার রেজাল্ট ভালো হবে না। দেখুন ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ভাইভা প্রশ্ন কমন পাবার জন্য একটি সম্পূর্ণ বই পড়া কখনোই সম্ভব নয়।

ফিন্যান্স-ও-ব্যাংকিং-ভাইভা-প্রশ্ন
তাই আমাদের বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ ফিন্যান্স সম্পর্কে ভাইভা প্রশ্নগুলো পড়ে গেলেই ভাইভা বোর্ডে আমরা ভালো করতে পারব। আমি আজকে আপনাদের যে প্রশ্নগুলো দিব, এই প্রশ্নগুলো যদি আপনারা শেষ করতে পারেন তাহলে ইনশাল্লাহ ১০ টা ভাইভার মধ্যে ০৬ থেকে ০৮ টা অনায়াসে পারবেন।

সূচিপত্রঃ ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ভাইভা প্রশ্ন

এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যা যা জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

প্রথম ২০টি ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

আমি এই ওয়েবসাইটে আরো শেয়ার করেছি-
এই উপরের ভাইভা প্রশ্ন গুলো পড়ে আপনারা অনেকেই ভাইভাতে ভালো করেছেন এবং কমন পেয়েছেন, এটা শুনে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আসলে মূল বিষয় হলো ভাইভা পরীক্ষাতে সবসময় বেসিক বিষয় থেকে ছোট ছোট প্রশ্ন করে। তাই আপনাকে সম্পূর্ণ বই না পড়ে বেসিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো পড়তে হবে।

বই খুঁজে খুঁজে এই বেসিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো বের করার আপনার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ আমি ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এর সম্পূর্ণ বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বেসিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো এখানে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ভাইভা প্রশ্নগুলো দেওয়ার পরে আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আমি বলব। তাই ফিন্যান্স সম্পর্কে ভাইভা প্রশ্নগুলো পাওয়ার পরে নিচের কিছু কথা অবশ্যই পড়ে নিবেন। 


এই কথাগুলো ভাইভা সম্পর্কে আপনাদের বলা হবে এবং এই কথাগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, আমার পরিচিত এক বড় ভাই, যিনি বর্তমানে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন।
ফিন্যান্স-সম্পর্কে-ভাইভা-প্রশ্ন
শুধু বিসিএস পরীক্ষার জন্য আপনাদের এই প্রশ্নগুলো কাজে লাগবে বিষয়টি এমন নয়। আপনারা যদি এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলেন তাহলে, আপনারা যে কোন চাকরির পরীক্ষায় আপনার ফিন্যান্স সাবজেক্ট থেকে যেকোন প্রশ্ন ভাইভাতে কমন পাবেন।

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত বেসিক ভাইভা প্রশ্ন নিমরূপ নিচে দেওয়া হল যা অবশ্যই ভাইবার আগে আপনাকে পড়ে যেতে হবেঃ

১) অর্থায়ন কাকে বলে?
উত্তরঃ প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কলাকৌশল ও বিজ্ঞান কে বলা হয় অর্থায়ন।

২) ব্যবসায় অর্থায়ন কাকে বলে?
উত্তরঃ কারবারের ব্যবহৃত যে তহবিল রয়েছে, এই তহবিলের পরিকল্পনা, সংগ্রহ, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসন সংক্রান্ত কার্যাবলী গুলোকে বলা হয় ব্যবসায় অর্থায়ন।

৩) কর্পোরেট অর্থায়ন কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন কোন যৌথ প্রতিষ্ঠান ব্যবসার বিভিন্ন কার্যাবলী পরিচালনার উদ্দেশ্যে অর্থসংস্থান করে তখন তাকে বলা হয় কর্পোরেট অর্থায়ন।

৪) ব্যাংক কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্যাংক হল একটি মধ্যস্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা সাধারণত জনগণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করে, সেই নগদ অর্থ গুলো দিয়ে আবার ঋণ প্রদান করে। অর্থাৎ ব্যাংকে যে টাকা গুলো থাকে এগুলো আসলে ব্যাংকের টাকা নয় এগুলো বিভিন্ন জনগণ এবং প্রতিষ্ঠানের জমা রাখা টাকা।

৫) বাণিজ্যিক ব্যাংক কাকে বলে?
উত্তরঃ যে ব্যাংক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং সেই জমাকৃত টাকার উপর কম হারে সুদ প্রদান করে তখন তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। এই বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন, ঠিক এজন্যই বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত কৃত টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদান করে।

৬) ব্যাংকিং কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্যাংকের সকল কার্যক্রম কে একসঙ্গে বলা হয় ব্যাংকিং।

৭) ফার্মের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ একটি ফার্মের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদ সর্বাধিকরণ করা।

৮) মুদ্রা বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস্ত বাজারে ঋণ হিসাবে অর্থের লেনদেনসমূহ সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় মুদ্রা বাজার।

৯) মূলধন বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস্ত বাজারে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসেবে অর্থের লেনদেনসমূহ সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় মূলধন বাজার।

১০) প্রাথমিক বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির নতুন নতুন শেয়ার সমূহ ইস্যু করা হয় তখন সেই বাজারকে বলা হয় প্রাথমিক বাজার।

১১) মাধ্যমিক বা মধ্যম বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস্ত বাজারে প্রাথমিক বাজারের ইস্যুকিত শেয়ারসমূহ ইস্যু করা হয় এবং সেই সাথে বিভিন্ন আর্থিক  হাতিয়ার ক্রয় বিক্রয় করা হয় তখন সেই বাজারকে বলা হয় মাধ্যমিক বাজার।

১২) শেয়ার বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ যেখানে শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে বলা হয় শেয়ার বাজার।

১৩) আর্থিক বাজার কাকে বলে?
উত্তরঃ মূলধন বাজার এবং মুদ্রা বাজারের সমষ্টিকে বলা হয় আর্থিক বাজার।

১৪) জিরো কুপন বন্ড কি?
উত্তরঃ জিরো কুপন বন্ড হচ্ছে সেই সমস্ত বন্ড যা সম্পূর্ণ সুদবিহীন হয়ে থাকে।

১৫) মুদ্রাস্ফীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে যখন দেশের সমগ্র অর্থনীতিতে মুদ্রা বা টাকার সরবরাহ বেড়ে যায়।

১৬) মূল্যস্ফীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ যখন সমগ্র অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি অর্থাৎ মুদ্রা বা টাকার সরবরাহ বেড়ে যায় কিন্তু পণ্য বা সেবার সরবরাহ বাড়ে না অর্থাৎ সমান থাকে, ঠিক তখনই মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়। 

অর্থাৎ আপনি পূর্বে ১০০ টাকা দিয়ে যে পণ্য কিনতে পারতেন, এখন আপনাকে বর্তমানে ১০০ টাকা দিয়ে সেই পণ্য কম পরিমাণ কিনতে হবে। কারণ পন্যের সরবরাহ না বাড়ার কারণে+ দেশের অর্থনীতির কাছে সরবরাহকৃত টাকা বেশি থাকার কারণে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ঠিক তখনই পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ মুদ্রাস্ফীতির কারণেই মূল্যস্ফীতি হয়ে থাকে)

ঠিক এই কারণেই আপনি পূর্বে ১০০ টাকায় যে পণ্য পেতেন বর্তমানে আপনি ১০০ টাকায় সেই পণ্য কম পাবেন। অর্থাৎ অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে আপনার কাছে বেশি টাকা থাকার পরেও আপনি পূর্বের মতো ১০০ টাকায় যতগুলো পণ্য পেতেন ততগুলো পণ্য কিনতে পারছেন না।

আরো সহজ ভাবে জানুন- 

যখন অর্থনীতিতে মুদ্রা বা টাকা বেড়ে যাচ্ছে তখন মানুষের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। আর সেই চাহিদা অনুযায়ী মানুষ যখন দ্রব্যমূল্য কিনতে যাচ্ছে তখন, সে দ্রব্যমূল্য গুলো কম সরবরাহ এর কারণে কিনতে পারছে না। ঠিক তখনই পূর্বের তুলনায় আপনাকে বেশি টাকা দিয়ে সেই পণ্যটি কিনতে হচ্ছে।  টাকার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি মার্কেটে যদি পণ্য সরবরাহ বেড়ে যেত তাহলে এই মূল্যস্ফীতি হতো না।

উদাহরণের সাহায্যে বুঝে নিন-

*ধরুন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২০০ টাকা রয়েছে। এবং এই টাকাটি চাল কেনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এখন ধরুন আপনার অর্থনীতিতে ১০ কেজি চাউল রয়েছে।
  • এক্ষেত্রে আপনাকে ১ কেজি চাউল কিনতে খরচ করতে হবে ২০ টাকা।
*এখন ধরুন আপনার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৪০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে চাউলের জন্য। এখন ধরুন আপনার অর্থনীতিতে ১০ কেজি চাউল রয়েছে।
  • এক্ষেত্রে আপনাকে ১ কেজি চাউল কিনতে খরচ করতে হবে ৪০ টাকা।
 আশা করছি এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন মূল্যস্ফীতি কি।

১৭) মুদ্রা সংকোচন কাকে বলে?
উত্তরঃ মুদ্রা সংকোচন হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির ঠিক উল্টো। অর্থাৎ এখানে বোঝানো হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থনীতিতে টাকার পরিমান বা সরবরাহ যেমন বেড়ে যায়, ঠিক তেমনি মুদ্রা সংকোচন এর সময় অর্থনীতিতে টাকার পরিমাণ বা সরবরাহ কমে যায়।

মুদ্রা সংকোচনের সময় যেহেতু টাকার সরবরাহ কমে যায় সেহেতু মানুষের চাহিদা একটু কম থাকে এবং এই কারণেই দ্রব্যমূল্যের দাম হ্রাস পেতে থাকে। এই অবস্থায় মানুষ ১০০ টাকায় পূর্বে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা ক্রয় করত, তার চেয়ে আরো অধিক পন্য বা সেবা ১০০ টাকায় ক্রয় করতে পারে।

নোটঃ মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি, মুদ্রা সংকোচন এই তিনটি বিষয় খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিবেন কারণ ভাইভাতে এই তিনটি বিষয় থেকে অবশ্যই আপনাকে প্রশ্ন করবে। এবং আপনাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অবশ্যই গুছিয়ে আপনার স্যারকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে।

১৮) ঝুঁকি বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ভবিষ্যৎ কোন অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে তাই এটাকে বলা হয় ঝুঁকি।

১৯) লিভারেজ কাকে বলে?
উত্তরঃ নগদ উত্তোলনের জন্য যখন দীর্ঘমেয়াদী ঋণ ব্যবহার করা হয় তখন তাকে বলা হয় লিভারেজ।

২০) অর্থের সময় মূল্য কাকে বলে?
উত্তরঃ সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থের মূল্যের যে তারতম্য বা পরিবর্তন ঘটে তখন তাকে বলা হয় অর্থের সময় মূল্য।

দ্বিতীয় ২০টি ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) অর্থের সময় মূল্যের কারণ গুলো কি কি?
উত্তরঃ অর্থের সময় মূল্যের কারণ গুলো হচ্ছে-
  • মুদ্রাস্ফীতি
  • অনিশ্চয়তা
  • বিনিয়োগের সুযোগ 
  • বর্তমান ভোগ
২) লভ্যাংশ কি বা কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন যৌথ মূলধনী কোম্পানির অর্জিত লাভের একটি অংশ শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে বন্টন করা হয় তখন তাকে বলা হয় লভ্যাংশ।

৩) মূলধন বাজেটিং কাকে বলে?
উত্তরঃ বিনিয়োগ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া কে বলা হয় মূলধন বাজেটিং।

৪) বন্ড কি বা কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন কোন ব্যবসা কোম্পানি কোন প্রতিষ্ঠাপত্র বিলি বা ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তখন তাকে বলা হয় বন্ড।

৫) জিরো কুপন বন্ড কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বন্ডে কোন কুপন থাকে না এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে কোন সুদ প্রদান করেনা তাকে বলা হয় জিরো কুপন বন্ড। জিরো কুপন বন্ডে শুধুমাত্র ম্যাচুরিটির সময় অভিহিত মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

৬) ব্যাংক রেট বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমূহ যখন তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ কে ঋণ দেয় তখন সেটি হচ্ছে ব্যাংক রেট। ব্যাংক রেটের অন্য নাম হচ্ছে ডিসকাউন্ট রেট।

৭) তারল্য কি বা কাকে বলে?
উত্তরঃ গ্রাহকদের চাহিবা মাত্র পাওয়ার জন্য ব্যাংক সমূহ যে অর্থ বরাদ্দ রেখে দেয় সেটি হচ্ছে তারল্য।

৮) স্টক এক্সচেঞ্জ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ স্টক এক্সচেঞ্জ বলতে এমন একটি স্থান বা জায়গা কে বোঝায় যেখানে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ ঋণপত্র সমূহ ক্রয় বিক্রয় করে।

৯) সুদ কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্যাংক সমূহ যখন জনগণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে টাকা ব্যাংকে জমা রাখে এবং প্রতিবছর সেই জমাকৃত টাকার উপর ধার্যকৃত সুদ প্রদান করে তখন তাকে বলা হয় সুদ।

১০) সরল সুদ কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন কোন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে টাকা জমা রাখে এবং সেই টাকার উপর ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট হারে প্রতিবছর সুদ প্রদান করে তখন সেটিকেই বলা হয় সরল সুদ।

১১) চক্রবৃদ্ধি সুদ বা মুনাফা কাকে বলে?
উত্তরঃ সুদ আসলের ওপর প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে সুদ ধার্য করাকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধি সুদ বা মুনাফা।

১২) IPO এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ IPO এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Initial Public Offerings।

১৩) CAPO এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ CAPO এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Capital Assets Pricing Model।

১৪) Three C’s কি?
উত্তরঃ Three C’s হচ্ছে-
  • Capital
  • Capacity
  • Character
১৫) NPV এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ NPV এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Net Present Value।

১৬) IP এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ IP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Profitability Index।

১৭) ARR এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ ARR এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Average Rate Of Return।

১৮) IRR এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ IRR এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Internal Rate Of Return।

১৯) MIRR এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ MIRR এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Modified Internal Rate Of Return।

২০) TT এর পূর্ণরূপ কি?
উত্তরঃ TT এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Telegraphic Transfer।

উপরের এই সংক্ষিপ্ত বেসিক প্রশ্ন গুলো ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং এর ভাইভার জন্য অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা অবশ্যই আপনাকে জেনে রাখা লাগবে।

তৃতীয় ২১টি ফিন্যান্স সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং ভাইভার জন্য এখন আপনাদের সঙ্গে যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো শেয়ার করবো এগুলো একটু কম গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই প্রশ্নগুলো পড়ে হালকা ধারণা নিয়ে যাবেন।

নিম্নে এই প্রশ্নগুলো নিচে দেওয়া হলঃ

১) বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ আমানত সৃষ্টি করে কিভাবে?
উত্তরঃ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ আমানত সৃষ্টি করে বিল বাট্টা করনের মাধ্যমে।

২) মুদ্রা বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে হলে অনুমতি কেন নিতে হয়?
উত্তরঃ মুদ্রা বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে হলে অনুমতি নিতে হয় সিকিউরিটি এন্ড এক্স কমিশনের জন্য।

৩) বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলো কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত হয়?
উত্তরঃ বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত হয়।

৪) মূলধন বাজেটিং এর প্রবীণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ পরিশোধকাল পদ্ধতিকে মূলধন বাজেটিং এর প্রবীণ পদ্ধতি বলে।

৫) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বল্প মেয়াদী অর্থ সংস্থানের উৎস কোনটিকে বলা হয়?
উত্তরঃ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বল্প মেয়াদী অর্থসংস্থানের উৎস হচ্ছে ট্রেড ক্রেডিট।

৬) ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য যখন অবন্টিত মুনাফা তহবিলে জমা রাখা হয় তখন তাকে কি বলে?
উত্তরঃ ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য যখন অবন্টিত মুনাফা তহবিলে জমা রাখা হয় তখন তাকে বলে সঞ্চিতি তহবিল।

৭) মূলধন বাজেটিং এর বাট্টাবিহীণ নগদ প্রবাহ কাকে বলে?
উত্তরঃ মূলধন বাজেটিং এর বাট্টাবিহীণ নগদ প্রবাহ বলে "Payback Period" কে।

৮) পূর্ণ উৎপাদিত পণ্য কাকে বলে?
উত্তরঃ পণ্য ক্রয় বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রয় করার জন্য যে সমস্ত পণ্যগুলো সংরক্ষণ করে তখন তাকে  বলা হয় পূর্ণ উৎপাদিত পণ্য।

৯) বীমার প্রধান কাজ কি?
উত্তরঃ বীমার প্রধান কাজ হচ্ছে আর্থিক, মালামাল এবং জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করা।

১০) বীমার প্রধান উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ বীমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ঝুঁকি বন্টন করা।

১১) ব্যাংকের দায় পরিশোধের সামর্থ্যকে কি বলা হয়? 
উত্তরঃ ব্যাংকের দায় পরিশোধের সামর্থ্যকে বলা হয় সচ্ছলতার নীতি।

১২) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নোট ও মুদ্রা সরবরাহ করা।

১৩) স্বল্প মেয়াদী অর্থসংস্থান কাকে বলে?
উত্তরঃ এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য যখন অর্থসংস্থান করা হয় তখন তাকে বলা হয় স্বল্প মেয়াদী অর্থসংস্থান।

১৪) দীর্ঘমেয়াদী অর্থসংস্থান কাকে বলে?
উত্তরঃ সাধারণত ৫ বছর বা তার অধিক সময়ের জন্য যখন অর্থসংস্থান করা হয় তখন তাকে বলা হয় দীর্ঘমেয়াদী অর্থসংস্থান।

১৫) আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুদের হারকে কী বলে?
উত্তরঃ আন্তঃব্যাংক লেনদেনের সুদের হারকে বলে কল মানি রেট।

১৬) নৌ-ভাটক পত্র কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন রপ্তানি কারক জাহাজের প্রধান অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ ভাড়া দেয় তখন তাকে বলা হয় নৌ-ভাটক পত্র।

১৭) কোম্পানির কম তরল সম্পদ কোনটি?
উত্তরঃ কোম্পানির সবচেয়ে কম তরল সম্পদ হচ্ছে ইনভেন্টরি।

১৮) বাংলাদেশে ইস্যু করা প্রথম নোট কোনটি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের ইস্যু করা সর্বপ্রথম নোট হচ্ছে ১ ও ১০০ টাকার নোট।

১৯) মিউটিলেটেড চেক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ যখন কোন একটি চেক দুই বা ততোধিক অংশে বিভক্ত হয়ে যায় তখন সেই চেক কে বলা হয় মিউটিলেটেড চেক।

২০) (NPV)এনপিভি এর বাংলা পূর্ণরূপ কী?
উত্তরঃ (NPV)এনপিভি এর বাংলা পূর্ণরূপ হচ্ছে নিট বর্তমান মূল্য।

২১) নগদ প্রবাহ বিবরণী কাকে বলে?
উত্তরঃ যে বিবরণীতে কোনো কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিচালন, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন কার্যাবলি হতে নগদ প্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা যায় তখন তাকে বলা হয় নগদ প্রবাহ বিবরণী।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

আপনারা যখন ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং থেকে ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ারের এবং ফোর্থ ইয়ারের পরীক্ষা দিবেন অথবা মাস্টার্স পরীক্ষা দিবেন তখন আপনাদের কোন প্রশ্নগুলো ভাইভাতে আসবে সেই বিষয় নিয়ে আমি এখন আলোচনা করব।

অর্থাৎ আমি বোঝাতে চাচ্ছি আপনার ফার্স্ট ইয়ারে পরীক্ষা দেওয়ার পরে যে ভাইভাটা হয় সেই ভাইভাতে কোথায় থেকে স্যারেরা প্রশ্ন করে সে বিষয়ে আমি এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব।
বিবিএ-এবং-এমবিএ-ফিন্যান্স-ও-ব্যাংকিং-ছাত্র-ছাত্রীদের-জন্য-গুরুত্বপূর্ণ-কিছু-কথা
ধরুন আপনি ফার্স্ট ইয়ারে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ থেকে ৮ টা সাবজেক্টে পরীক্ষা দিলেন। এই ৮ টা সাবজেক্টের কোশ্চিনে "ক বিভাগে" যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো আসে এই প্রশ্নগুলো থেকেই মূলত স্যারেরা কোশ্চিন করে। এভাবে সেকেন্ড ইয়ারে আপনি যখন পরীক্ষা দিবেন তখন সেম ভাবে সেকেন্ড ইয়ারের সাবজেক্টে "ক বিভাগে" আসা প্রশ্নগুলো পড়ে যাবেন।

পাশাপাশি আপনারা যদি আমার এই আর্টিকেল থেকে মোস্ট ইম্পরট্যান্ট প্রশ্নগুলো পড়ে যান তাহলে আপনার ভাইবা ১০০% ভালো হবে গ্যারান্টি দিচ্ছি। আপনি যদি ভাইবা পরীক্ষার সময় কোন প্রশ্নের উত্তর না পারেন তাহলেও আপনি এই প্রশ্নগুলো থেকে ধারনা নিয়ে স্যারকে বোঝাতে পারবেন।

একাডেমিক পরীক্ষার ভাইভাতে প্রশ্নের উত্তর না পারলে কি বলবে?

আপনি যদি বিবিএ, এমবিএ তে পড়ে থাকেন এবং আপনি যদি একাডেমিক পরীক্ষার ভাইবাতে কোন প্রশ্নের উত্তর না পারেন তাহলে আপনাকে বলতে হবে "এই প্রশ্নের উত্তর আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না"।

আপনি যদি কোন প্রশ্নের উত্তর না পারেন এবং স্যারকে বলেন "এই প্রশ্ন আপনার জানা নেই" তাহলে স্যার আপনাকে বলতে পারে- আপনি ফিনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের স্টুডেন্ট হয়ে এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না?

ঠিক তখনই আপনার উপর স্যারের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলে সুন্দরভাবে সঠিকভাবে তা স্যারকে বলতে হবে।

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভাতে প্রশ্নের উত্তর না পারলে কি বলবেন?

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যদি ভাইভাতে আপনাকে আপনার একাডেমিক বিষয় থেকে প্রশ্ন করে তাহলে সেম আগের মতই আপনাকে বলতে হবে "এই প্রশ্নের উত্তর আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না"।


কিন্তু যদি বাংলা, ইংরেজি বা সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন করে এবং আপনি যদি সেই প্রশ্নের উত্তর না পারেন তাহলে এবার আপনি বলতে পারেন "এই প্রশ্নটি আপনার জানা নেই"। কারণ আপনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এর বাইরে থেকে যে প্রশ্নগুলো করবে এগুলো সব আপনার জানা থাকবে না।

FAQ

১) ফাইন্যান্স এর কাজ কি?
উত্তরঃ ফাইন্যান্স এর কাজগুলো হচ্ছে- রাজস্ব হিসাব, ব্যবসায়ী ঋণ, সম্পদের পুনঃবন্টন, দায় পরিমাপ ইত্যাদি।

২) ফাইন্যান্স এর প্রকারভেদ কি কি?
উত্তরঃ ফাইন্যান্সের প্রকারভেদ হচ্ছে-ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স, সরকারি বা বেসরকারি ফাইনান্স ও কর্পোরেট ফাইন্যান্স।

৩) ফিন্যান্স পড়ে কি হওয়া যায়?
উত্তরঃ ফিন্যান্স সাবজেক্টে পড়াশোনা করলে নিরীক্ষক, ফিন্যান্স ও বাজেট বিশ্লেষক, ফাইন্যান্স পরিকল্পনাকারি, ডেবিট ক্রেডিট বিশ্লেষক এবং চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া যায়।

৪) অর্থায়ন কি বিজ্ঞান নাকি শিল্প?
উত্তরঃ অর্থায়ন শিল্প এবং বিজ্ঞান উভয়ই।

৫) কোন ডিগ্রি ফিনান্স করা ভালো? 
উত্তরঃ ফিন্যান্স থেকে পড়ার পর সিএ করা সবচেয়ে ভালো।

৬) ব্যাংকিং কি বিজ্ঞান নাকি আর্ট?
উত্তরঃ ব্যাংকিং বিজ্ঞান এবং আর্ট উভয়ই।

৭) Finance এর প্রধান বিষয় কি?
উত্তরঃ Finance এর প্রধান বিষয় হচ্ছে- আর্থিক বাজার। এছাড়া আরো রয়েছে বিনিয়োগ, পোর্টফলিও বিশ্লেষণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আর্থিক পরিকল্পনা ইত্যাদি।

৮) ফিনান্স ম্যানেজারের জন্য কোন কোর্স ভালো?
উত্তরঃ ফিনান্স ম্যানেজারের জন্য এমবিএ শেষ করার পর সিএ কোর্স করা সবচেয়ে ভালো।

৯) ফিনান্স কি ভালো ক্যারিয়ার?
উত্তরঃ অবশ্যই ফিনান্স একটি ভালো ক্যারিয়ার কারণ এখানে উজ্জ্বল একটি ভবিষ্যৎ রয়েছে।

১০) ফিন্যান্স ম্যানেজার হতে কি কি লাগে?
উত্তরঃ ফিন্যান্স ম্যানেজার হতে এমবিএ অথবা স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন হতে হবে এবং পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

১১) ফিনান্স করতে কতদিন লাগে?
উত্তরঃ ফিন্যান্স করতে বিবিএ এবং এমবিএ সহ সর্বমোট চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

শেষ মন্তব্য

এই ছিল আজকের আলোচনা। আমি আশা করছি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে ফিন্যান্স ব্যাংকিং বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইম্পরট্যান্ট প্রশ্নগুলো পেয়ে গেছেন। ভাইভা পরীক্ষার জন্য একটি সম্পূর্ণ বই পড়ে ভাইভা দিতে গেলে আপনি বোকা সেজে যাবেন, কারণ সম্পূর্ণ বই পড়ে আপনার কোন কিছুই মনে থাকবে না।

তাছাড়া স্যারেরাও আপনাকে এত ভেতর থেকে প্রশ্ন করবে না, স্যারেরা ভাইভাতে সাধারণত বেসিক থেকে প্রশ্ন করে। তাই আপনারা যদি এই আর্টিকেলের বেসিক প্রশ্ন গুলো পড়ে যান, তাহলে ১০ টা প্রশ্নের মধ্যে ৬ থেকে ৮ টি প্রশ্ন কমন পাবেন ইনশাল্লাহ।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url