ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভাইভা প্রশ্ন

ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন শুলো খুব সহজ ভাষায় আপনারা এই আর্টিকেলে পেয়ে যাবেন। আপনি যদি ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভাইভা প্রশ্ন গুলো অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে।
ইসলামের-ইতিহাস-সম্পর্কিত-ভাইভা-প্রশ্ন
চাকরির ভাইভা পরীক্ষাতে যখন স্যারেরা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় থেকে আপনাকে প্রশ্ন করবে, তখন আপনি এই বেসিক প্রশ্নগুলো না পারলে স্যারেরা আপনার ওপর বিরক্ত হতে পারে। তাই অবশ্যই এই আর্টিকেল থেকে আপনি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্নগুলো মুখস্ত করে নিন।

সূচিপত্রঃ ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন | ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভাইভা প্রশ্ন

এই আর্টিকেল থেকে আপনি যা যা জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-

প্রথম ৫০টি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

ভাইভা পরীক্ষায় সাধারণত সম্পূর্ণ বই থেকে প্রশ্ন করে না। তাই আপনি যদি সম্পূর্ণ বই পড়ে যান তাহলে আপনার মাথায় কিছুই থাকবে না এবং আপনি ভাইভা বোর্ডে কিছুই পারবেন না। আপনাকে ভাইভা বোর্ডে আপনার সাবজেক্ট থেকে ৮ থেকে ১০ টি প্রশ্ন করতে পারে। এই ৮ থেকে ১০ টি প্রশ্নের জন্য আপনি যদি সম্পূর্ণ বই পড়ে যান তাহলে আপনি ভাইভাতে কখনোই ভালো করতে পারবেন না।

আপনি যদি কম পড়ে অন্যান্যদের চেয়ে ভাইভাতে ভালো করতে পারেন তাহলে আপনি তাদের থেকে এগিয়ে যাবেন। যারা বুদ্ধিমান এবং কৌশলগতভাবে পড়াশোনা করে তারা বেশি পড়াশোনা করে না। তারা সিস্টেমেটিক ভাবে সবকিছু তৈরি করে এবং প্রিপারেশন নেয়।


তাই আপনাকেও কৌশলী হতে হবে। আপনি সম্পূর্ণ বই পড়ে কয়টি প্রশ্ন মনে রাখতে পারবেন বলেন? তার চেয়ে আপনি যদি বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ বেসিক প্রশ্নগুলো ইসলামের ইতিহাসের জন্য পড়ে যান তাহলে আপনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন।

ইনশাহাল্লাহ আপনাকে যদি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ১০ টি ভাইভা প্রশ্ন করে তাহলে আপনি অনায়াসেই এখান থেকে অনেকগুলো প্রশ্ন কমন পাবেন। তাই আমি আপনাদের সুবিধার জন্য ইসলামের ইতিহাস বইগুলো থেকে ভাইভার গুরুত্বপূর্ণ ব্যসিক প্রশ্নগুলো এখন শেয়ার করব।

ইসলামের ইতিহাস ভাইভা প্রশ্নগুলো আমি ইসলামের ইতিহাস বইগুলো থেকে বাছাই করে সংগ্রহ করেছি। আমি সকল সাবজেক্টের ভাইভা প্রশ্ন সমূহ অনেক সোর্স থেকে বাছাই করে সংগ্রহ করি, তাই আপনারা আমার ওয়েবসাইটে সকল সাবজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ ভাইভা প্রশ্ন গুলো পেয়ে যাবেন। আমার এই আর্টিকেলের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভাইভা প্রশ্ন গুলো ভাইভা বোর্ডে আপনাকে অবশ্যই ধরবে।
ইসলামের-ইতিহাস-ও-সংস্কৃতি-ভাইভা-প্রশ্ন
এই প্রশ্নগুলো একবার বা দুইবার পড়লে মনে থাকবে না এটা স্বাভাবিক, তাই চেষ্টা করুন বারবার প্রশ্নগুলো রিভিশন দিতে। রিভিশন দিতে দিতে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, আস্তে আস্তে প্রশ্নগুলো আপনার আয়ত্তে চলে আসছে।

তাহলে চলুন আমরা এখন জেনে নিই ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ সম্পর্কেঃ

১) ইসলামের ইতিহাস কাকে বলে?
উত্তরঃ ইসলামিক সভ্যতার রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের যে ইতিহাস রয়েছে তাকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাস।

২) ইতিহাস কাকে বলে?
উত্তরঃ মানব সভ্যতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিজ্ঞান সম্মত অধ্যায়ন এবং দলিলকে বলা হয় ইতিহাস।

৩) ইসলামের ইতিহাস কখন থেকে শুরু হয়েছিল?
উত্তরঃ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম সাল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইসলামের ইতিহাস শুরু হয়েছিল।

৪) ইতিহাস ও ইসলামের ইতিহাসের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ ইতিহাসঃ ইতিহাস বলতে সম্পূর্ণ মানব সভ্যতার ইতিহাস কে বোঝায়।

ইসলামের ইতিহাসঃ ইসলামের রাজনৈতিক সামরিক এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের ইতিহাসকে বলা হয় ইসলামের ইতিহাস।  জেনে রাখুন- ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাসের একটি অংশ।

৫) খুলাফায়ে রাশেদুন কাকে বলে অথবা খোলাফায়ে রাশেদুন কারা?
উত্তরঃ আমাদের বিশ্বনবী এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছিল বা ইসলাম রাষ্ট্রের শাসন কার্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছিল তাদেরকে বলা হয় খুলাফায়ে রাশেদুন। যারা খুলাফায়ে রাশেদুন ছিলেন তারা, একধারে ইসলামের রাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।

৬) খুলাফায়ে রাশেদুন এর শাসনকাল কত থেকে কত সাল পর্যন্ত ছিল?
উত্তরঃ খুলাফায়ে রাশেদুন এর শাসনকাল ছিল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৭) খুলাফায়ে রাশেদুন কতজন ছিলেন?
উত্তরঃ খুলাফায়ে রাশেদুন চার জন ছিলেন।

৮) ইসলামের পঞ্চম খলিফা কে? বা ইসলামের পঞ্চম খলিফা কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ ইসলামের পঞ্চম খলিফার নাম হচ্ছে উমর বিন আব্দুল আজিজ।

৯) কেন উমর বিন আব্দুল আজিজ কে ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়?
উত্তরঃ ইসলামী শাসনকারদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা কে অনুসরণ করে, উমর বিন আব্দুল আজিজ ইসলামের শাসন কার্য পরিচালনা করেছিলেন এবং ইসলামের বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করেছিলেন বলে তাকে ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়।

১০) খুলাফায়ে রাশেদুনের কোন খলিফা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করেছিলেন?
উত্তরঃ খুলাফায়ে রাশেদুনের খলিফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করেছিলেন।

১১) খোলাফায়ে রাশেদনের খলিফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা সবচেয়ে বেশি কত থেকে কত সময় পর্যন্ত শাসন করেছিলেন?
উত্তরঃ খোলাফায়ে রাশেদনের খলিফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা সবচেয়ে বেশি ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই ১২ বছর শাসন করেছিলেন।

১২) Savior Of Islam অর্থ কি?
উত্তরঃ Savior Of Islam এর অর্থ হলো ইসলামের ত্রাণকর্তা।

১৩) Savior Of Islam অর্থাৎ ইসলামের ত্রাণকর্তা কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা কে Savior Of Islam অর্থাৎ ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

১৪) উমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ সুমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা।

১৫) কত খ্রিস্টাব্দে হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা সুমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তরঃ ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা সুমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৬) কোন যুদ্ধে সর্বপ্রথম মুসলমানদের রক্তপাত ঘটেছিল?
উত্তরঃ উষ্ট্রের যুদ্ধে সর্বপ্রথম মুসলমানদের রক্তপাত ঘটেছিল।

১৭) উষ্ট্রের যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
উত্তরঃ উষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছিল ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

১৮) খারেজী কাদের বলা হয়?
উত্তরঃ যারা দুম্মাতুল জান্দালেরসালিশ না মেনে এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালার পক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বলা হয় খারেজী।

১৯) খারেজীদের নেতার নাম কি ছিল?
উত্তরঃ খারেজীদের নেতার নাম ছিল আব্দুর রহমান ইবনে মুজলাম।

২০) ইসলামের ইতিহাসে একমাত্র শিয়া প্রধান খিলাফতের নাম কি?
উত্তরঃ উত্তর আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত ফাতেমীয় খিলাফতটি ইসলামের ইতিহাসে একমাত্র শিয়া খিলাফত হিসেবে পরিচিত।

২১) ফাতেমীয় খিলাফাত কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তরঃ ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ওবায়দুল্লাহ আল মাহদি।

২২) বর্তমান বিশ্বে শিয়া প্রধান মুসলিম রাষ্ট্র কোনটি?
উত্তরঃ বর্তমান বিশ্বে সেরা প্রধান মুসলিম রাষ্ট্র হচ্ছে ইরান।

২৩) আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে আবুল আব্বাস আস সাফফা। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৪) আব্বাসীয়দের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তরঃ আব্বাসিয়াদের রাজধানী ছিল ইরাকের বাগদাদ শহরে।

২৫) আব্বাসীয়দের রাজধানী বাগদাদ নগরী কে ধ্বংস করেছিল?
উত্তরঃ আব্বাসীয়দের রাজধানী বাগদাদ নগরী ধ্বংস করেছিল হালাকু খান।

২৬) হালাকু খান কত খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয়দের রাজধানী বাগদাদ নগরী ধ্বংস করেছিল?
উত্তরঃ হালাকু খান ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয়দের রাজধানী বাগদান নগরী ধ্বংস করেছিল।

২৭) হাউস অফ উইজডম কাকে বলে?
উত্তরঃ আব্বাসীয় খিলাফতের সময় জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যার নাম ছিল বায়তুল হিকমা। এই বায়তুল হিকমাকে বলা হয় হাউজ অফ উইজডম।

২৮) অটোম্যান সাম্রাজ্য কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ অটোম্যান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তুরস্কে।

২৯) অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন উসমান বিন আততুগরুল।

৩০) উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছিল কত সালে?
উত্তরঃ উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছিল ১৯২২ সালে।

৩১) উসমানীয় খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা কে ছিলেন?
উত্তরঃ উসমানীয় খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় আব্দুল মজিদ।

৩২) উপমহাদেশে খিলাফত আন্দোলন কত সালে শুরু হয়েছিল?
উত্তরঃ উপমহাদেশে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯১৮ সালে।

৩৩) খিলাফত আন্দোলনে কারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ খিলাফত আন্দোলনে মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ব্রিটিশ বিরোধিতার অংশ হিসেবে মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনে সমর্থন প্রদান করেছিলেন।

৩৪) দিল্লি সালতানাদের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ দিল্লি সালতানাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতুব উদ্দিন আইবেক।

৩৫) কোন মুসলিম বিজেতা সর্বপ্রথম উপমহাদেশে ইসলামের সূচনা করেছিলেন?
উত্তরঃ মইজ উদ্দিন মোহাম্মদ ঘুরি সর্বপ্রথম উপমহাদেশে ইসলামের সূচনা করেছিলেন।

৩৬) উসমানী খেলাফত কেন বিলুপ্ত হয়েছিল? 
উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য অক্ষশক্তি হেরে যাওয়ার কারণে উসমানী খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছিল।

৩৭) শিয়া শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ শিয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে অনুসারী।

৩৮) শিয়া কাদের বলা হয়?
উত্তরঃ খেলাফতের জন্য যারা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা এবং তার বংশধরদের সমর্থন করেছিল তাদের বলা হয় শিয়া বা অনুসারী।

৩৯) শিয়ারা কাদেরকে অবৈধ খলিফা মনে করে?
উত্তরঃ অন্যান্য তিনজন খলিফাদের শিয়া রা অবৈধ মনে করে।

৪০) জাযিরাতুল আরবের আধুনিক রাষ্ট্রগুলো কি কি?
উত্তরঃ জাযিরাতুল আরবের আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর নাম হচ্ছে- কাতার, কুয়েত, ওমান, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহারাইন, ইয়েমেন, ইরাক এবং জর্ডান।

৪১) আধুনিক ইতিহাসের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন রাংকে।

৪২) মিশরকে নীলনদের দান কে বলেছেন?
উত্তরঃ মিশরকে নীলনদের দান বলেছেন গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস।

৪৩) মদিনা সনদ কি বা কাকে বলে?
উত্তরঃ মদিনা সনদ হচ্ছে একটি সমঝোতা চুক্তি। মদিনার বিভিন্ন গোত্র এবং বসবাসকারী সকল নাগরিকদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই চুক্তিটি করেছিলেন।

৪৪) পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান এর নাম কি?
উত্তরঃ পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধানের নাম মদিনা সনদ।

৪৫) মদিনা সনদ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ মদিনা সনদ ৬২২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪৬) মদিনা সনদ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তরঃ মদিনা সনদ ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

৪৭) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম রাজতন্ত্র কোনটি ছিল?
উত্তরঃ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম রাজতন্ত্র ছিল উমাইয়া রাজতন্ত্র।

৪৮) দিল্লির মুসলিম শাসনামলকে কেনো সালতানাবাদ বলা হয়?
উত্তরঃ দিল্লির মুসলিম শাসনামল কে সালতানাবাদ বলা হয় কারণ শাসকরা সুলতান উপাধি ধারণ করে শাসন পরিচালনা করতেন।

৪৯) কোন শহরকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়?
উত্তরঃ স্পেনের কর্ডোভা শহরকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়।

৫০) তুরস্কের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ তুরস্কের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোস্তফা কামাল পাশা।

দ্বিতীয় ৫০টি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) কোন ব্যক্তিকে আতাতুর্ক বা তুর্কি জাতির পিতা বলা হয়?
উত্তরঃ মোস্তফা কামাল পাশাকে আতাতুর্ক বা তুর্কি জাতির পিতা বলা হয়।

২) খারেজিরা কোন যুদ্ধে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা কে পরাজিত করেছিল?
উত্তরঃ খারেজিরা নাহরাওয়া এর যুদ্ধে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা কে পরাজিত করেছিল।

৩) কত খ্রিস্টাব্দে খারেজিরা যুদ্ধে হযরত আলী রাঃ কে পরাজিত করেছিল?
উত্তরঃ ৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে খারেজিরা যুদ্ধে হযরত আলী রাঃ কে পরাজিত করেছিল।

৪) খারিজিদের নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ খারিজিদের নেতা ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে বুঝলাম।

৫) Blood and Iron Policy নীতি কোন সুলতান গ্রহণ করেছিল?
উত্তরঃ Blood and Iron Policy নীতি গ্রহণ করেছিল সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন।

৬) বাংলা অঞ্চলের মুসলিম বিজেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ বাংলা অঞ্চলের মুসলিম বিজেতা ছিলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি।

৭) উপমহাদেশে সর্বপ্রথম কে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন?
উত্তরঃ উপমহাদেশে সর্বপ্রথম অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

৮) মুহাম্মদ বিন কাসিম উপমহাদেশে সর্বপ্রথম অভিযান পরিচালনা করেছিলেন কত খ্রিস্টাব্দে?
উত্তরঃ মুহাম্মদ বিন কাসিম উপমহাদেশের সর্বপ্রথম অভিযান পরিচালনা করেছিলেন ৭১২ খ্রিস্টাব্দে।

৯) Father of king বা রাজেন্দ্র বলা হয় কোন শাসক কে?
উত্তরঃ খলিফা আব্দুল মালিককে Father of king বা রাজেন্দ্র বলা হয়। কারণ তার চার পুত্র উমাইয়া খলিফা হয়েছিল।

১০) প্রাক ইসলামী আরব কে কি বলা হয়?
উত্তরঃ প্রাক ইসলামী আরব কে আইয়্যামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগ বলা হয়।

১১) ইসলামের প্রধান কয়েকটি যুদ্ধের নাম কি কি এবং কত সালে হয়েছিল? 
উত্তরঃ ইসলামের প্রধান কয়েকটি যুদ্ধের নাম হচ্ছে-
  • বদরের যুদ্ধ - ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ওহুদ যুদ্ধ - ৬২৫ খ্রিস্টাব্দ
  • খন্দকের যুদ্ধ - ৬২৭ খ্রিস্টাব্দ
  • খায়বারের যুদ্ধ - ৬২৮ খ্রিস্টাব্দ
  • মুতার যুদ্ধ - ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ 
  • হুনাইনের যুদ্ধ - ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ
  • তাবুকের যুদ্ধ - ৬৩১ খ্রিস্টাব্দ
১২) হুদাইবিয়ার সন্ধি কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
উত্তরঃ হুদাইবিয়ার সন্ধি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল।

১৩) আমাদের শেষ নবী এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম সাল কবে?
উত্তরঃ আমাদের শেষ নবী এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম সাল হচ্ছে ১২ রবিউল আউয়াল, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে।

১৪) আমাদের শেষ নবী এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু সাল কবে?
উত্তরঃ আমাদের শেষ নবী এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু বরণ করেছিলেন ১২ রবিউল আওয়াল, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে।

১৫) কোন খলিফা মজলিসে শূরা প্রচলন শুরু করেছিলেন?
উত্তরঃ খলিফা হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা মজলিসে শূরা প্রচলন শুরু করেছিলেন।

১৬) উপমহাদেশে মুসলিম শাসন আমলের সময়ে রাজ ভাষা কি ছিল?
উত্তরঃ উপমহাদেশে মুসলিম শাসন আমলের সময় রাজ ভাষা ছিল ফারসি।

১৭) মুঘল সম্রাট বাবরের সময়ে রাজ ভাষা কি ছিল?
উত্তরঃ মুঘল সম্রাট বাবরের সময়ে রাজ ভাষা ছিল তুর্কি।


১৮) সম্রাট বাবর নিজেকে কি হিসেবে পরিচয় দিতেন?
উত্তরঃ সম্রাট বাবর নিজেকে তুর্কি হিসেবে পরিচয় দিতেন।

১৯) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ কে ছিলেন?
উত্তরঃ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ছিলেন ১৪ শতকে বাংলার সার্বভৌম একজন শাসক।

২০) স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ স্বাধীন মুসলিম সালাতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ।

২১) বাংলার সার্বভৌম সুলতান কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ বাংলার সার্বভৌম সুলতান বলা হয় ফখরুদ্দিন মোবারক শাহকে।

২২) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ কোথাকার শাসক ছিলেন?
উত্তরঃ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ সোনারগাঁয়ের শাসক ছিলেন।

২৩) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ কোন গোত্রের ছিলেন?
উত্তরঃ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ জাতিতে  তুর্কি এবং তিনি কারাউনা গোত্রের ছিলেন।

২৪) সোনারগাঁয়ের পূর্ব নাম কি ছিল?
উত্তরঃ সোনারগাঁয়ের পূর্ব নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

২৫) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর আমলে একজন পর্যটক বাংলা বাংলাদেশে আসেন তার নাম কি?
উত্তরঃ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর আমলে ইবনে বতুতা বাংলাদেশে আসেন।

২৬) ইবনে বতুতা কে?
উত্তরঃ ইবনে বতুতা মরক্কোর একজন বিখ্যাত পরিব্রাজক।

২৭) ইবনে বতুতার একটি বিখ্যাত গ্রন্থ আছে এই গ্রন্থটির নাম কি?
উত্তরঃ ইবনে বতুতার একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হচ্ছে আল রিহলা।

২৮) আল রিহলা বইয়ের বিষয়বস্তু কি?
উত্তরঃ মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা উত্তর আমেরিকা থেকে চীন পর্যন্ত ৭৫ হাজার মাইল সফর করেন।তিনি এই ৭৫ হাজার মাইল পথ সফর করে যে সমস্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন সে সমস্ত অভিজ্ঞতা সমূহ এই বইতে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সভ্যতা, সংস্কৃতি এই বইতে তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

২৯) ইবনে বতুতার আল রিহলা গ্রন্থে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি কথা লিখা আছে এই কথাটির বাংলা অর্থ কি?
উত্তরঃ ইবনে বতুতার আল রিহলা গ্রন্থে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি কথা লিখা আছে এই কথাটির বাংলা অর্থ- হচ্ছে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দোযখপুরী বাংলাদেশ।

৩০) ৬৫৬ কিসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তরঃ সিফফিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

৩১) সিফফিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ কার কার সাথে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ সিফিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা ও হযরত মুয়াবিয়া এর সঙ্গে।

৩২) হযরত মুয়াবিয়া কে ছিলেন?
উত্তরঃ হযরত মুয়াবিয়া ছিলেন সিরিয়ার শাসনকর্তা।

৩৩) সিফফিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ হওয়ার ফলে কি হয়েছিল? বা সিফফেনের ঐতিহাসিক যুদ্ধের ফলাফল কি?
উত্তরঃ সিফফিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধের ফলে ইসলামী খিলাফত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছিল।

৩৪) ইসলামের কয়েকটি সম্প্রদায়ের নাম কি কি?
উত্তরঃ ইসলামের কয়েকটি সম্প্রদায়ের নাম হচ্ছে-
  • শিয়া
  • সূন্নি
  • খারেজী
  • মোতাজিলা
  • আশারিয়া
৩৫) শিয়া কি? বা কারা?
উত্তরঃ শিয়া অর্থ দল। যারা খেলাফত প্রশ্নে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা এর বংশধরদের সমর্থন করেন তারা হচ্ছে শিয়া।

৩৬) সূন্নি কি?
উত্তরঃ সুন্নি হল ইসলামের বৃহত্তম একটি শাখা। সুন্নি শব্দটি থেকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুকরণীয় ইসলাম ধর্মেকে বোঝায়।

৩৭) খারেজী কি?
উত্তরঃ ৬৫৬ সালে দুমার মীমাংসা কে কেন্দ্র করে একদল লোক হযরত আলী রাঃ এর দল ত্যাগ করেছিল তারাই হচ্ছে খারেজি।

৩৮) মোতাজিলা কি?
উত্তরঃ মোতাজিলা যুক্তি ও কারণ আলোচনার উপর প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের শাখা।

৩৯) আশারিয়া কি?
উত্তরঃ আশারিয়া হচ্ছে শিয়া ইসলামের বৃহত্তম একটি শাখা।

৪০) মদিনা সনদ কি?
উত্তরঃ আমাদের শেষ নবী এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা নগরীতে হিজরত করেছিলেন। তখন সেখানে বসবাসরত বানু আউস এবং বানু খাযরাজসম্প্রদ সম্প্রদায়ের দুটির মধ্যে ছিল হিংসা-বিদ্বেষ। ঠিক এজন্যই সেই সময় আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪৭ ধারার একটি লিখিত সনদ প্রণয়ন করেছিলেন। এটিকেই বলা হয় মদিনা সনদ। এটি প্রথম পৃথিবীর লিখিত সনদ।

৪১) মদিনা সনদ কত ধারার ছিল?
উত্তরঃ মদিনা সনদটি ৪৭ ধারার ছিল।

৪২) পৃথিবীর প্রথম লিখিত সনদ কত ধারার ছিল?
উত্তরঃ পৃথিবীর প্রথম লিখিত সনদ ৪৭ ধারার ছিল।

৪৩) মদিনার পূর্ব নাম কি ছিল?
উত্তরঃ মদিনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব।

৪৪) মদিনা সনদ কি ধর্মনিরপেক্ষ ছিল?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মদিনা সনদ ধর্মনিরপেক্ষ ছিল কারণ মদিনা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র।

৪৫) মদিনা সনদ ধর্মনিরপেক্ষ ছিল তার প্রমাণ কি?
উত্তরঃ মদিনা সনদ ধর্মনিরপেক্ষ ছিল তার প্রমাণ হচ্ছে- উক্ত ধারার ৪ নম্বর, ৯ নম্বর এবং ১০ নম্বর ধারা।

৪৬) মদিনা সনদ ধর্ম নিরপেক্ষতার চার নম্বর ধারায় কি কি ছিল?
উত্তরঃ মুসলিম, খৃষ্টান, ইহুদী, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায় ধর্মীয় ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। কেউ কারো ধর্মের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

৪৭) মদিনা সনদ ধর্মনিরপেক্ষতার নয় নম্বর ধারায় কি কি ছিল?
উত্তরঃ কোন লোক ব্যক্তিগত অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ বলেই বিবেচনা করা হবে। সেই ব্যক্তিগত অপরাধকৃত ব্যক্তির জন্য সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।

৪৮) মদিনা সনদ ধর্মনিরপেক্ষতার ১০ নম্বর ধারায় কি কি ছিল?
উত্তরঃ মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা পরস্পর বন্ধুসুলভ আচরণ করবে।

৪৯) ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জর্জ জ্যাকব হলিওক ১৮৫১ সালে।

৫০) বায়তুল মাল কি?
উত্তরঃ ইসলামী রাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারকে বলা হয় বায়তুল মাল।

তৃতীয় ৫০টি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) উমাইয়া খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ উমাইয়া খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা।

২) উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?
উত্তরঃ মারওয়ান ইবনে মোঃ ইবনে মারওয়ান বা দ্বিতীয় মারওয়ান ছিলেন উমাইয়াদের শেষ খলিফা।

৩) মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তায়ালাকে আরবের প্রথম রাজা কেন বলা হয়?
উত্তরঃ মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে বংশাক্রমিকভাবে রাজতন্ত্র প্রচলনের ব্যবস্থা করেন তাই তাকে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়।

৪) কে সর্বপ্রথম আরবে সাধারণতন্ত্রের পরিবর্তে বংশক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন?
উত্তরঃ মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তায়ালা সর্বপ্রথম আরবে সাধারণতন্ত্রের পরিবর্তে বংশক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন করেন।

৫) কত সাল থেকে মুয়াবিয়া বংশাক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন শুরু করেন?
উত্তরঃ ৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে থেকে মুয়াবিয়া বংশাক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রচলন শুরু করেন।

৬) সংস্কৃতি কাকে বলে?
উত্তরঃ সংস্কৃতি হল মানুষের জীবনযাপন, মূল্যবোধ,বিশ্বাস, ভাষা পদ্ধতি, যোগাযোগ এবং আচার-আচরণ এই সমস্ত বিষয়ের সমষ্টি।

৭) জাজিরাতুল আরব কি?
উত্তরঃ জাজিরা অর্থ উপদ্বীপ। জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ।

৮) জাজিরাতুল আরব ভূখণ্ডে বর্তমানে কোন কোন দেশ রয়েছে? 
উত্তরঃ জাজিরাতুল আরব ভূখণ্ডের বর্তমানে যে সমস্ত দেশগুলো রয়েছে- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, ইয়েমেন, জর্ডান ও ইরাক।

৯) মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন?
উত্তরঃ মিশরের সভ্যতা নীলনদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর নীল নদের দুই তীরে পুলিশ জমা হতো। যার ফলে এই করুবার জমিতে কৃষি উৎপাদন মাছ শিকার পশুপালন এবং তৃণভূমের সহজলভ্যতা সভ্যতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। এজন্য মিশরকে নীলনদের দান বলা হয়।

১০) মিশরকে নীলনদের দান এটিকে ঐতিহাসিক কি বলা হয়?
উত্তরঃ মিশরকে নীলনদের দান এটিকে ঐতিহাসিক হেরোটাস মিশরীয় সভ্যতা বলা হয়।

১১) GIFT OF THE NILE কি?
উত্তরঃ GIFT OF THE NILE হচ্ছে ঐতিহাসিক হেরোটাস মিশরীয় সভ্যতা বা নীলনদের দান।

১২) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তরঃ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ বংশের জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

১৩) জিজিয়া কি?
উত্তরঃ জিজিয়া হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ও মুসলিম নাগরিক কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা কর।

১৪) ইসলামে প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন কে?
উত্তরঃ ইসলামে প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা।

১৫) পঞ্চম খলিফা কে?
উত্তরঃ পঞ্চম খলিফা হচ্ছে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ।

১৬) আব্বাসীয় খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ আব্বাসীয় খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে- আবুল আব্বাস আস-সাফফা।

১৭) রূপকথার নায়ক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ রূপকথার নায়ক বলা হয় খলিফা হারুন-অর রশিদকে।

১৮) ফাতিমীয় খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ ফাতিমীয় খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে- ওবায়দুল্লাহ আল মাহাদী।

১৯) খারাজ কি?
উত্তরঃ খারাজ হচ্ছে কৃষি জমির উপর আরোপিত কর।

২০) আত-তুর্ক কে ছিলেন?
উত্তরঃ তুরস্কের জাতীয়বাদী সংস্কারপন্থী নেতা মোস্তফা কামাল পাশা ছিলেন আত-তুর্ক।

২১) বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান কে ছিলেন?
উত্তরঃ বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান ছিলেন গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ।

২২) ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।

২৩) মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কে প্রবর্তন করেছিলেন?
উত্তরঃ মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রবর্তক হচ্ছে দিল্লির মুলতান আলাউদ্দিন খলজী।

২৪) আইয়ামে জাহিলিয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ আইয়ামে জাহিলিয়া বলতে বর্বরতা এবং অজ্ঞতার যুগকে বোঝায়। প্রকৃতপক্ষে যে যুগে কোন নিয়ম কানুন ছিল না, কোন নবীর আবির্ভাব ঘটেনি এবং কোন আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়নি সেই যুগকে বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়া।

২৫) জাহিলিয়া যুগের ব্যাপটিক্যাল কত?
উত্তরঃ জাহিলিয়া যুগের ব্যাপ্তিকাল ৫১০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ৬১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ ১০০ বছর।
নিকলসনের মতে ইসলামের আবির্ভাব বা নবুওয়াত লাভেরপূর্বে ১০০ বছরের যুগকে জাহেলিয়া যুগ বলে।

২৬) আল্লার কন্যা ও হুবলের পরিচয় কি?
উত্তরঃ কাবা গৃহের ৩৬০ টি দেব দেবীর মধ্যে তিনজন প্রধান দেবী আল নাথ, আল-মানাত এবংআল ও চাঁদ আল্লার কন্যা হিসেবে পরিচিত ছিল। হুবল ছিল আরবদের সর্ব প্রধান দেবতা।

২৭) উকাজ মেলা কি?
উত্তরঃ প্রতি বছর যুদ্ধ নিষিদ্ধ, জিলকদ, জিলহজ্জ্ব ও মহররম মাসে মক্কায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উৎসব বসতো যা উকাজ মেলা নাম হিসেবে পরিচিত।

২৮) কাসিদা কি ও এর বিষয়বস্তু কি?
উত্তরঃ কাশিদা হলো আরবীয় গীতিকাব্য বা ওডস। মদ, নারী ও যুদ্ধ ছিল এর বিষয়বস্তু।

২৯) সবঅ মুয়াল্লাকাত কি?
উত্তরঃ উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতা যা স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করে কাবা ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়, এটাকেই বলা হয় সবঅ মুয়াল্লাকাত।

৩০) ইমরুল কায়েস কে এবং আরবের শেক্সপিয়ার নামে পরিচিত কে?
উত্তরঃ ইমরুল কায়েস আরবীয় গীতিকবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। ইমরুল কায়েস কে আরবের শেক্সপিয়ার নামে অভিহিত করা হয়।

৩১) বেদুইন কার?
উত্তরঃ আরবের মরুচারী যাযাবর জাতিকে বলা হয় বেদুইন। এরা সাধারণত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায় এবং তাঁবুতে বসবাস করে।

৩২) কুরাইশ শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ কুরাইশ শব্দের অর্থ সওদাগর বা বনিক। এই বংশেই হযরত মুহাম্মদ সাঃ জন্মগ্রহণ করেছেন।

৩৩) হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পিতা, মাতা, মাতৃ মাতা, চাচা, দাদা, নানা ও সহধর্মিনী নাম কি?
উত্তরঃ 
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ।
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাতার নাম আমিনা।
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাতৃ মাতার নাম হালিমা। 
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর চাচার নাম আবু তালিব। 
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দাদার নাম মুত্তালিব।
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নানার নাম আব্দুল ওহাব।
  • হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর সহধর্মিনীর নাম খাদিজা রা. ও আয়েশা রা.।
৩৪) হারবুল ফিজার কি? এ যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ হারবুল ফিজার বা ফুজার এর অর্থ হল অপবিত্র বা অন্যায় যুদ্ধ। ৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাস বা পবিত্র মাস জিলকদ মাসে যে যুদ্ধ হয়েছিল সেটি হারবুল ফিজার নামে পরিচিত। এই যুদ্ধ কোরাইশ এবং হাওয়াজিন গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

৩৫) হিলফ-উল-ফুজুল কি?
উত্তরঃ হারবুল ফিজারের ভয়াবহ পরিণতি দেখে আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ পরিহার করে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হিলফ-উল-ফুজুলনামে একটি শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্ব ইতিহাসে এটি প্রথম শান্তি সংগঠন।

৩৬) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় কখন নবুয়ত লাভ করেন? 
উত্তরঃ ৬১০ খ্রিস্টাব্দে চল্লিশ বছর বয়সে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা পর্বতের গুহায় নবুয়ত লাভ করেন। সূরা আলাক এর প্রথম ৫ আয়াত সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়।

৩৭) হিজরত কি?
উত্তরঃ হিজরত অর্থ দেশ ত্যাগ। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে কুরাইশদের অত্যাচারে ও আল্লাহর নির্দেশেহযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় গমন করেন। এটাই ইতিহাসে হিজরত নামে পরিচিত।

৩৮) হুদায়বিয়ার সন্ধি কি ও এর লেখক কে?
উত্তরঃ ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান এবং কুরাইশদের মধ্যে হুদায়বিয়ার নামক স্থানে যে সন্ধি হয় তাকে বলা হয় হুদায়বিয়ার সন্ধি। হুদায়বিয়ার সন্ধির লেখক ছিলেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা।

৩৯) হুদায়বিয়ার সন্ধির গুরুত্ব কি?
উত্তরঃ পবিত্র আল-কুরআনে এই সন্ধিকে প্রকাশ্যে বিজয় বা নিশ্চিত বিজয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সন্ধির শর্ত অনুসারে দশ বছরের যুদ্ধ স্থগিত ছিল। যে কারণে মুসলমানরা নিশ্চিন্তে ইসলাম প্রচার করতে পেরেছিল। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ১০ হাজারের অধিক লোক ইসলাম গ্রহণ করে এবং ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ বিনা বাধায় মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়।

৪০) বিদায় হজ্জ্বের ভাষণের সামাজিক গুরুত্ব কি?
উত্তরঃ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে হজ শেষ হওয়ার পরে আরাফাতের ময়দানে যে ভাষণ প্রদান করেন সেটাই বিদায় হজ্জ্বের ভাষণ নামে পরিচিত। এই ভাষণে মহানবী মানুষ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলেন।  মহানবী নারী-পুরুষের সমান অধিকার, দাস দাসীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে নির্দেশ দেন। এছাড়া মহানবী সুদ, মাদক ও মহাজনী ব্যবসা বন্ধ করে দেন।

৪১) খলিফা ও খিলাফত কি?
উত্তরঃ খলিফা অর্থ উত্তরাধিকারী এবং খিলাফত অর্থ খলিফাদের দপ্তর।

৪২) খোলাফায়ে রাশেদিন বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ খোলাফায়ে রাশেদিন শব্দের অর্থ হল সত্য ও ন্যায় পথগামী। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর পর চার খলিফা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে শাসন কার্য পরিচালনা করতেন বিধায় তাদেরকে খোলাফায়ে রাশেদিন বলা হয়।

৪৩) ৪ খলিফার নাম কি?
উত্তরঃ খলিফার নামগুলো হচ্ছে-
  • হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
  • হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
  • হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
  • হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা
৪৪) খিলাফতের ব্যাপ্তিকাল কত?
উত্তরঃ খিলাফতের ব্যাপ্তিকাল ছিল ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে৬৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বা ৩২ বছর।

৪৫) কাকে ইসলামে ত্রাণকর্তা বলা হয়? 
উত্তরঃ হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তায়ালাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

৪৬) কেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তালাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়? 
উত্তরঃ হযরত আবু বকর ভন্ড নবীদের দমন ও স্বধর্ম ত্যাগীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইসলামকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

৪৭) ভন্ড নবীদের নাম কি?
উত্তরঃ ভন্ড নবীদের নামগুলো হচ্ছে-
  • আসাদ আনাসী
  • মুসায়লামা
  • তুলায়হা
৪৮) নারী ভন্ড নবীর নাম কি?
উত্তরঃ নারী ভন্ড নবীর নাম হচ্ছে- সাজাহ।

৪৯) ইয়মামার যুদ্ধের গুরুত্ব কি?
উত্তরঃ ইয়মামার যুদ্ধে ভন্ড নবী মুসায়লামা পরাজিত ও নিহত হলে যুদ্ধ শেষ হয়। এই যুদ্ধে ৩০০ হাফিজ শহীদ হয়েছিল।

৫০) কোন খলিফার সময় মুসলিম রাজ্য বিস্তার শুরু হয়?
উত্তরঃ ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর এর সময় মুসলিম রাজ্য বিস্তার শুরু হয়।

চতুর্থ ৬৬টি ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভা প্রশ্ন

১) ওমর ফারুক কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ওমর ফারুক কবিতার রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

২) ওমর ফারুক কবিতার দুটি লাইন বলুন-
উত্তরঃ ভৃ’ত্য চলিল উটের পৃষ্ঠে ওমর ধরিল রশি 
মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী।

৩) খলিফা ওমর এর সময় কোন কোন এলাকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তরঃ পারস্য, ইরাক, কনষ্টান্টিনোপল, জেরুজালেম, সিরিয়া, মিশর ইত্যাদি।

৪) খলিফা ওমর এর শ্রেষ্ঠ সেনাপতি কে ছিলেন?
উত্তরঃ খলিফা ওমর এর শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ। 

৫) খালিদ বিন ওয়ালিদ কে?
উত্তরঃ তাবুক অভিযান, ইয়ামামার যুদ্ধ, এবং ইয়ারমুকের যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ অসামান্য বীরত্বের মাধ্যমে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। খালি বিন ওয়ালিদ, খলিফা ওমরের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ছিলেন।

৬) সাইফুল্লাহ শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ সাইফুল্লাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর তরবারি।

৭) সাইফুল্লাহ উপাধি কাকে দেওয়া হয়?
উত্তরঃ খালিদ বিন ওয়ালিদকে মুতার যুদ্ধে জয় লাভের কারণে সাইফুল্লাহ উপাধি দেওয়া হয়।

৮) মজলিস-উশ-সূরা কি?
উত্তরঃ মজলিস-উশ-সূরা অর্থ হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদ। এটা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার সুবিধার জন্য কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য মজলিস-উশ-সূরা গঠন করা হয়।

৯) মজলিস-উশ-সূরা কয় ভাগে বিভক্ত?
উত্তরঃ মজলিস-উশ-সূরা দুই ভাগে বিভক্ত। যেমনঃ
  • মজলিস-উশ-খাস
  • মজলিস-উশ-আম।
১০) বিশ্বের সর্বপ্রথম আদমশুমারি চালু করেছিলেন কে?
উত্তরঃ বিশ্বের সর্বপ্রথম আদর্শ সম্বন্ধে চালু করেছিলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা।

১১) হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ ছিল?
উত্তরঃ হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ ছিল তা নিম্নরূপঃ
  • স্বজন প্রীতি( মবিয়াকে সিরিয়ার শাসনকর্তা নিয়োগ)
  • আবুজর গিফারির নির্বাসন
  • সরকারি চরণভূমি নিজস্বার্থে ব্যবহার
  • কোরআন শরীফের দগ্ধি করুন ইত্যাদি।
১২) জামিউল কুরআন এবং জুন্নুরাইন কাকে বলে?
উত্তরঃ জামিউল কুরআন এবং জুন্নুরাইন বলা হয় হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তালাকে। তিনি কোরআন সংকলন করেছিলেন বলে তাকে বলা হয় জামিউল কুরআন এবং তিনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুই কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন বলে তাকে বলা হয় জুন্নুরাইন বা দুই জ্যোতির অধিকারী।

১৩) কার সময়ে উমাইয়া হাসিমি দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছিল?
উত্তরঃ হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা এর সময়ে উমাইয়া হাসিমি দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছিল।

১৪) বদরের যুদ্ধে পারদর্শিতা প্রদর্শনের জন্য জুলফিকার তরবারি কে পেয়েছিল?
উত্তরঃ বদরের যুদ্ধে পারদর্শিতা প্রদর্শনের জন্য জুলফিকার তরবারি পেয়েছিল হযরত আলী রাঃ।

১৫) কার সময়ে মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তরঃ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা এর সময়ে মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

১৬) সর্বপ্রথম কোন যুদ্ধে মুসলিমরাই মুসলিমদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিল?
উত্তরঃ উষ্ট্রের যুদ্ধে মুসলিমরাই মুসলিমদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিল।

১৭) উষ্ট্রের যুদ্ধের নামকরণের কারণ কি?
উত্তরঃ হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা উটের পিঠে চড়ে যুদ্ধ করেছিল বলে এই যুদ্ধের নামকরণ হয় উষ্ট্রের যুদ্ধ।

১৮) সিফফিনির যুদ্ধ কখন এবং কাঁধের মধ্যে হয়েছিল?
উত্তরঃ সিফফিনির যুদ্ধহয়েছিল ৬৯৭ খ্রিস্টাব্দে এবং এটি হয়েছিল হযরত আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে।

১৯) খারিজি কারা? কিভাবে এরা উদ্ধার হয়? 
উত্তরঃ খারিজি শব্দের অর্থ হচ্ছে দল ত্যাগকারী। সিফফিনের যুদ্ধের সময় দুমার সালিশ মানতে না পেরে আলীর সেনাবাহিনী থেকে ১২০০০ সৈন্য বেরিয়ে যায়। এরাই ইতিহাসে খারিজি নামে পরিচিত।

২০) চার খলিফার পদবী ও খেতাব কি কি?
উত্তরঃ চার খলিফার পদবী ও খেতাব নিম্নরূপঃ
  • হযরত আবু বকরের = সিদ্দিক ও আতিক
  • হযরত ওমর এর = ফারুক (সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী)
  • হযরত ওসমানের = জুন্নুরায়েন (দুই রশ্মির অধিকারী)
  • গণি = ধনি
  • হযরত আলী =  আসাদুল্লাহ (আল্লাহর সিংহ)
২১) খলিফাদের ঘাতকদের নাম কি?
উত্তরঃ খলিফাদের ঘাতকদের নাম নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হলঃ

হযরত ওমর এর ঘাতকের নাম আবু লুলু ফিরোজ (পারসিক)। হযরত আলীর ঘাতকের নাম রহমান ইবনে মুজলাম (একজন খারেজি)।

২২) খলিফাগনদের সাথে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তরঃ হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রাঃ ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শশুর। হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা ও হযরত আলী রাঃ ছিলেন তার কন্যার জামাত।

২৩) যাকাত কি?
উত্তরঃ ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর গরিব ব্যক্তিদের হককে যাকাত বলা হয়। যাকাত আদায় করা ফরজ কাজ। এক বছরের উদ্বৃত্ত সম্পদের আড়াই শতাংশ যাকাত দিতে হয়।

২৪) খারাজ কাকে বলে?
উত্তরঃ মুসলিমদের বিজিত এলাকায় অমুসলিমদের কিসে জমির উপর আরোপিত ভূমি করকে খারাজ বলে।

২৫) উশর কি?
উত্তরঃ মুসলিম ভূমি মালিকরা ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর দিত সেটাই উশর।

২৬) আল ফে কি?
উত্তরঃ সরকারি, খাসবা দাবিদার হীন জমি কে বলা হয় আল ফে।

২৭) গনিমত বা খুমস কি?
উত্তরঃ যুদ্ধে লব্ধ সম্পদকে গনিমত বা খুমস বলে।

২৮) জিজিয়া কি?
উত্তরঃ মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের সামরিক কর্তব্যের পরিবর্তে নিরাপত্তাকর কে জিজিয়া বলে।

২৯) মাওয়ালী কারা?
উত্তরঃ অন আরব মুসলিমরা মাওয়ালী নামে পরিচিত।

৩০) খারেজি কারা ও কখন এদের উদ্ভব হয়েছিল?
উত্তরঃ খারেজি ইসলামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। খারেজি অর্থ দল ত্যাগকারী।৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিফফিনের যুদ্ধের সময় দুমার সালিশ না মেনে হযরত আলীর ১২ হাজার সৈন্য তার পক্ষ ত্যাগ করে চলে যায়। এরাই খারেজি নামে পরিচিত।

৩১) মুতাজিলা কারা? কোন খলিফা মুতাজিলা মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন?
উত্তরঃ মুতাজিলা ইসলামের একটি উপ ধর্মের সম্প্রদায়। মুতাজিলা শব্দের অর্থ- যে সমাজ ছেড়ে গেছে। মুতাজিলা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে ওয়াসিল বিন আতা। মুতাজিলা মতবাদ যুক্তি-তর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। মুতাজিল মতবাদ হিসেবে কোরআন সৃষ্ঠ। খলিফা আল মামুন মুতাজিলা মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।

৩২) গুপ্তঘাতক সম্প্রদায় কারা?
উত্তরঃ পারস্যের একটি ইসমাইলি সম্প্রদায় যারা হাশিশ নামে এক ধরনের মদ তৈরি করত এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকত। হাসান বিন সাবা ছিলেন এই গুপ্তঘাতক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। ইতিহাসে তিনি পর্বতের বৃদ্ধ লোক নামে পরিচিত। ক্রুসেডাররা হাশিশিন শব্দের অপব্যাখ্যা করে এদের এসাসিনবা গুপ্তঘাতক নাম দেয়।

৩৩) জিম্মি (Dhimmis) কারা?
উত্তরঃ ইসলামী রাষ্ট্র মুসলমানদের রক্ষণাবেক্ষণাধীন অমুসলমানদের জিম্মি বলা হত।

৩৪) শিয়া কারা ও এর বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ শিয়া অর্থ হচ্ছে দল। যারা খিলাফত প্রশ্নে হযরত আলী ও তার উত্তরসূরীদের সমর্থন করেন তারা শিয়া নামে পরিচিত। এ মতবাদ অনুসারে ইমামত বা নেতৃত্ব হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর বংশধরদের বংশগত অধিকার,আলী ব্যতীত সকল খলিফা অবৈধ, কালেমার সাথে আলী খলিফাতুল্লাহ সংযোগ এবং ইমাম মাহাদির আবির্ভাব।

৩৫) উমাউয়া খিলাফাত কে প্রতিষ্ঠা করেন এর রাজধানী কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ উমাউয়া খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেন খলিফা মুয়াবিয়া এবং এর রাজধানী হচ্ছে সিরিয়ার দামাস্কে।

৩৬) ইসলামে রাজতন্ত্র চালু করেন কে?
উত্তরঃ ইসলামের রাজতন্ত্র চালু করেন খলিফা মুয়াবিয়া।

৩৭) কারবালার ঘটনা কখন কোথায় কাদের সঙ্গে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ৬১ হিজরির ১০ই মহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) কুফায় ফুরাত নদীর পশ্চিম তীরে ইমাম হুসেন (হাসিম গোত্র) ও ইয়াজিদ (উমাইয়া গোত্র) এরমধ্যে সংঘটিত হয়।

৩৮) কারবালার ঘটনা কে উপজীব্য করে কে কোন গ্রন্থ রচনা করেছিলেন?
উত্তরঃ মীর মোশারফ হোসেন কারবালার ঘটনাকে উপজীব্য করে বিষাদ সিন্ধু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

৩৯) রাজেন্দ্র বলা হয় কাকে?
উত্তরঃ উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক কে রাজেন্দ্র বলা হয়। কারণ তার মৃত্যুর পর তার চার পুত্র- ওয়ালিদ, সুলাইমান, দ্বিতীয় ইয়াজিদ এবং হিসাম খলিফা হয়েছিলেন।

৪০) খলিফা আব্দুল মালিক স্মরণীয় স্মৃতিগুলো কি কি?
উত্তরঃ খলিফা আব্দুল মালিক স্মরণীয় স্মৃতিগুলো হচ্ছে-
  • আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান
  • সর্বপ্রথম আরবি মুদ্রা ও টাকশাল নির্মাণ
  • আরবি লিপির উন্নয়ন
  • কুববাতুল সাকরা নির্মাণ ইত্যাদি।
৪১) কুববাতুল সাকরার বিশেষত্ব কি?
উত্তরঃ কুববাতুল সাকরা প্রথম গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। হজ্জ্ব যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য কাবার বিকল্প হিসেবে নির্মাণ করা হয়। এটি ৭৯১ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমে নির্মাণ করা হয়।

৪২) কোন খলিফার সময় মুসলিমরা স্পেন ও সিন্ধু জয় করে?
উত্তরঃ খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময়ে মুসলিমরা স্পেন ও সিন্ধু জয় করে। তারিকের নেতৃত্বে স্পেন জয় করা হয়েছিল এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধু জয় করা হয়েছিল।

৪৩) ইসলামের ইতিহাসে কে দ্বিতীয় ওমর-পঞ্চম খলিফা-মাইয়া সাধু নামে পরিচিত ছিল?
উত্তরঃ ইসলামের ইতিহাসে খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ দ্বিতীয় ওমর-পঞ্চম খলিফা-মাইয়া সাধু নামে পরিচিত ছিল।

৪৪) আস সাফাহ শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আস সাফাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রতিশোধ গ্রহণকারী বা রক্তপাতকারী বা রক্তপিসাচু।

৪৫) আবু মুসলিম কে ছিলেন?
উত্তরঃ আবু মুসলিম খোরাসানের শাসনকর্তা ছিলেন। আব্বাসীয় বংশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তবে খলিফা আল মনসুর তাকে প্রাসাদে ডেকে এনে হত্যা করেছিলেন।

৪৬) আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও বাগদান নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তরঃ আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও বাগদান নগরীর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে খলিফা আল মনসুর।

৪৭) আব্বাসীয়দের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তরঃ আব্বাসীদের রাজধানী ছিল ইরাকের বাগদাদ নগরীতে।

৪৮) কুরাইশদের বাজপাখি বলা হয় কাকে?
উত্তরঃ কুরাইশদের বাজপাখি বলা হয় আব্দুর রহমানকে। তিনি স্পেনে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

৪৯) আরব্য উপন্যাসের (আলিফ লায়লা) নায়ক কে এবং তার শাসনকাল কত?
উত্তরঃ আরব্য উপন্যাসের (আলিফ লায়লা) নায়ক খলিফা হারুন আর রশিদ। শাসন কাল ৭৮৬ থেকে ৮০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

৫০) খলিফা হারুনের রাজত্বকালে কোন বংশের উত্থান ও পতন ঘটেছিল?
উত্তরঃ খলিফা হারুনের রাজত্বকালে বার্মাকি বংশের উত্থান ও পতন ঘটেছিল।

৫১) বার্মাকি বংশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কারা ছিল?
উত্তরঃ বার্মাকি বংশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ছিল-
  • খালিদ 
  • ইয়াহিয়া 
  • ফজল 
  • জাফর প্রমুখ
৫২) ইসলামের আগাস্টান যুগ নামে পরিচিত কোন সময় বা কার সময়?
উত্তরঃ খলিফা মামুনের সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হলে এই যুগকে ইসলামের আগাস্টান যুগ নামে অভিহিত করা হয়।

৫৩) বায়তুল হিকমা কি? এটি কে প্রতিষ্ঠা করেছেন?
উত্তরঃ বায়তুল হিকমা হচ্ছে জ্ঞানের নিকেতন। খলিফা আল মামুন এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গ্রিক ল্যাটিন সংস্কৃত ও পার্সিক ভাষার পুস্তকাদি আরবিতে অনুবাদ করার জন্য ১৯৩০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিখ্যাত মনীষী হুনাইন বিন ইসহাক এটির পরিচালক ছিলেন। 

৫৪) সালাউদ্দিন আইয়ুবি কে?
উত্তরঃ মিশরে আইয়ুবি বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট ক্রুসেডর ছিলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবি। তৃতীয় ক্রুসেডে ক্রিশ্চিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করে উদ্ধার করেন সালাউদ্দিন আইয়ুবি।

৫৫) বাগদাদ নগরী ধ্বংস করেছিল কে?
উত্তরঃ বাগদাদ নগরী ধ্বংস করেছিল হালাগু খান ১২৫৮ সালে। এই সময় আব্বাসীদের শেষ খলিফা মুসতাসিন শাসন করতেন।

৫৬) আব্বাসীয় আমলের কয়েকজন পন্ডিত ব্যক্তির নাম কি কি?
উত্তরঃ আব্বাসীয় আমলের কয়েকজন পন্ডিত ব্যক্তির নাম হচ্ছে-
  • চিকিৎসাবিদ আল রাজি ও ইবনে সিনা ( বইঃ আলল কানুন ফিততিব)
  • দার্শনিক আলকিন্দি, আল ফারাবি, ইবনে সিনা, ইমাম গাজ্জালি, গণিতবিদ আল খাওয়া রিজমি ( বইঃ কিতাবুল জবর আল মোকাবিলা) 
  • ঐতিহাসিক আল বালাজুরি, আত তারাবি, আল মাসুদি ( আরবের হিরো ডোটাস )
  • মুহম্মদ ইবনে ইসহাক ( বইঃ সিরাতে রাসুলুল্লাহ )
৫৭) ক্রুসেড কি ও কাদের মধ্যে একটি সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ক্রুসেড হল একটি ধর্মযুদ্ধ। এই যুদ্ধটি হয়েছিল খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে। জেরুজালেম কে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল। ১০৯৬ থেকে ১২৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট আটটি ক্রুসেড যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল।

৫৮) মুজাহির কারা?
উত্তরঃ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করার সময় সকল অনুসারী তার সাথে মক্কার নিজ বাসস্থান ও পরিবার পরিজন ছেড়ে মদিনায় গমন করে তাদেরকে বলা হয় মুজাহির।

৫৯) আনসার কারা?
উত্তরঃ যে সকল মদিনা বাসী মুজাহেরদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং নিজ সম্পত্তির ভাগ দিয়েছিলেন তাদেরকে আনসার বলা হয়। আনসার শব্দের অর্থ সাহায্যকার।

৬০) সিফফিন নামক স্থানটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ সিফফিন নামক স্থানটি তীরবর্তী একটি স্থানের নাম।

৬১) নহর-ই-জুবাইদা কি?
উত্তরঃ খলিফা হারুন অর রশিদের স্ত্রী হচ্ছে জুবাইদা। তিনি পবিত্র হজ্জ্ব ব্রত পালন করতে আসা হাজীদের খাবার পানির ব্যবস্থা করতে যে খাল খনন করেছিলেন তা বিশ্বে নহর-ই-জুবাইদা নামে পরিচিত। 

৬২) ক্রসেড যুদ্ধের নাম ক্রসেড রাখা হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ দীর্ঘ ২০০ বছর ধরে ক্রসেড যুদ্ধ হয়েছিল।মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে ক্রুশের যুদ্ধ হওয়ার সময় তারা বুকে ক্রস লাল চিহ্ন ব্যবহার করতে বলেই এই যুদ্ধের নাম হয়েছে ক্রুসেড।

৬৩) দ্বীন-ই-ইলাহি কি?
উত্তরঃ মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত একটি নতুন ধর্মমত হলো দ্বীন-ই-ইলাহি।

৬৪) জিন্দা পীর কাকে বলে?
উত্তরঃ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কে জিন্দা পীর বলা হয়। কারণ তিনি নিজেই ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতেন এবং রাজ্য শাসনে শরিয়া আইন প্রয়োগ করতেন। এইজন্য তাকে জিন্দা পীর বলা হয়।

৬৫) যাকাত কাদের দেওয়া যাবে?
উত্তরঃ যাদের যাকাত দেয়া যাবে তা নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হল?
  • ফকির, গরিব বা দরিদ্র ব্যক্তি
  • মিসকিন বা নিজস্ব 
  • মুসাফির বা পথিক
  • অমুসলিমদের হৃদয় জয় করার জন্য
  • আল্লাহ এর রাস্তায়
  • যাকাত আদায়কারী ও হেফাজতকারী।
৬৬) বাংলার প্রথম মুসলিম স্বাধীন সুলতান কে?
উত্তরঃ বাংলার প্রথম মুসলিম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ।

ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বই ও লেখক

ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই এবং লেখক সমূহ নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হলঃ

১) হিস্ট্রি অফ আরব এই গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ হিস্ট্রি অফ আরব এর গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে পি কে হিট্টি।

২) স্পিরিট অফ ইসলাম এবং এ শর্ট হিস্ট্রি অফ দি স্যারাসিন গ্রন্থের লেখক?
উত্তরঃ স্পিরিট অফ ইসলাম এবং এ শর্ট হিস্ট্রি অফ দি স্যারাসিন গ্রন্থের লেখক সৈয়দ আমির আলী।

৩) এ লিটারেরি হিস্ট্রি অফ আরব গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
উত্তরঃ এ লিটারেরি হিস্ট্রি অফ আরব গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে আর এ নিকলসন।

৪) দি লাইফ অফ মোহাম্মদ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ দি লাইফ অফ মোহাম্মদ গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে উইলিয়াম মুর।

৫) মুহাম্মদ এ্যাট মক্কা এবং মুহাম্মদ এ্যাট মদিনা গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ মুহাম্মদ এ্যাট মক্কা এবং মুহাম্মদ এ্যাট মদিনা গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে মন্টেগোমারি ওয়াট।

৬) ইসলাম ও খেলাফত এবং ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণসূত্র গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তরঃ ইসলাম ও খেলাফত এবং ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণসূত্র গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে ডক্টর মফিজুললা কবির।

ভাইভা প্রশ্ন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

উপরের ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত ভাইভার বেসিক প্রশ্নগুলো আপনি যেকোনো চাকরির পরীক্ষার ভাইবার প্রস্তুতির জন্য পড়ে নিবেন। কিন্তু অনার্স বা মাস্টার্সে যে পরীক্ষাগুলো হয় প্রতিবছর, সেই পরীক্ষাগুলোতে এই প্রশ্নগুলোর পাশাপাশি আপনাকে আরো কিছু প্রশ্ন পড়তে হবে। 

অনার্স বা মাস্টার্সে আপনারা ইসলামের ইতিহাস থেকে যতটা সাবজেক্ট এর পরীক্ষা দিবেন, সেই সকল সাবজেক্টের প্রশ্নপত্রে "ক বিভাগে" যে প্রশ্নগুলো আসবে সেগুলো অনার্স বা মাস্টার্স পরীক্ষার ভাইভাতে ধরে থাকে। তাই আপনারা সেই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো পড়ে নিবেন। কোন কোন সময় সেই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো চাকরির ভাইভা বোর্ডেও ধরে থাকে। তাই সেই প্রশ্নগুলো আমার এই আর্টিকেলের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন গুলোর সাথে সংযোগ করে নিন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমি আমার এই ওয়েবসাইটে হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্স, অর্থনীতি বিষয়ে যে সকল ভাইভা প্রশ্ন গুলো দিয়েছি তা অনেকেরই কমন পড়েছে। তাই আপনারা অবহেলা না করে এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই পড়ে যাবেন। আপনারাও এই প্রশ্নগুলো থেকেই ভাইভা বোর্ডে কমন পাবেন ইনশাল্লাহ। সামনে আরো বিভিন্ন সাবজেক্টের ভাইভা প্রশ্ন এই ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা হবে।

FAQ

১) ইসলামের ইতিহাস ইংরেজি কি?
উত্তরঃ ইসলামের ইতিহাসের ইংরেজি হচ্ছে- History of Islam।

২) মুসলমান শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ মুসলমান শব্দের অর্থ হলো যিনি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং ইসলামিক নিয়ম কানুন পন্থাগুলো মেনে চলে।

৩) ইসলামের ইতিহাসে মহাসনদ কোনটি?
উত্তরঃ ইসলামের ইতিহাসের মহাসনদ হচ্ছে মদিনা সনদ।

৪) মদিনা সনদের কয়টি ধারা রয়েছে?
উত্তরঃ মদিনা সনদের ৪৭ টি ধারা রয়েছে। তবে ইবনে হিশাম মনে করেন মদিনা সনদের ৫৩ টি ধারা রয়েছে।

৫) কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত কোনটি?
উত্তরঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হচ্ছে- সূরা আয়াতুল কুরসি।

৬) মুসলিমরা কত বছর বিশ্ব শাসন করে?
উত্তরঃ মুসলিমরা কত বছর বিশ্বাস শাসন করে এর উত্তর দিয়েছে অক্সফোর্ড রেফারেন্স। অক্সফোর্ড রেফারেন্স এর মতে ৬৩৪ থেকে ১৯২২ পর্যন্ত মুসলিমরা বিশ্ব শাসন করেছিল।

৭) সবচেয়ে বেশি মুসলিম কোথায় বসবাস করে?
উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করে ইন্দোনেশিয়া দেশে।

৮) ভারতের মুসলমানরা শিয়া নাকি সুন্নি?
উত্তরঃ ভারতে যে সমস্ত মুসলমানের বসবাস করে তাদের অধিকাংশ সুন্নি সম্প্রদায়ের। তবে কিছু সংখ্যক শিয়া সম্প্রদায় রয়েছে। আবার অনেক ভারতীয় মুসলিম রয়েছে যারা নিজেদেরকে কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে রাখতে চান না।

৯) মুসলিমদের কয়টি সম্প্রদায় রয়েছে?
 উত্তরঃ মুসলিমদের সাতটি সম্প্রদায় রয়েছে।

১০) ইউরোপের বৃহত্তম ধর্ম কোনটি?
উত্তরঃ ইউরোপের বৃহত্তম ধর্ম গোষ্ঠীরা খ্রিস্টান ধর্ম পালন করে।

শেষ মন্তব্য

আমি আশা করছি আপনারা ইসলামের ইতিহাস ভাইভা প্রশ্নগুলো পেয়ে অনেক উপকৃত হবেন। আমি পূর্বে বলেছি এবং আবারো বলছি- ভাইভা পরীক্ষার জন্য এত বেশি পড়ে যাবেন না। কারণ ভাইভা বোর্ড মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের একটি সময়, এই পাশ থেকে দশ মিনিট আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং এই সময়ে আপনাকে দশটার বেশি প্রশ্ন করবে না। 

আপনি যদি এই দশটা প্রশ্নের মধ্যে আটটি প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিতে পারেন তাও আপনি সবার থেকে অনেক এগিয়ে থাকবেন। তাই অবশ্যই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বেসিক প্রশ্নগুলো এই আর্টিকেল থেকে পড়ে ফেলুন।
এই পোস্ট শেয়ার করুন
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url